তোর সমীপে (পর্ব-০২)

তোর সমীপে (পর্ব-০২)
তোর সমীপে (পর্ব-০২)

তোর সমীপে (পর্ব-০২)
গল্পকন্যা


পর্বঃ ০১ পড়ুন

২.

হাজারি বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে।

বাড়ির ছোটো বড়ো সকলে কাঁদছে।হাজারি বাড়ির বড়ো ছেলে কার এক্সিডেন্টে মারা গেছে।অথচ তার সদ্যবিবাহিতা স্ত্রী বাসরের খাটে শান্তির ঘুম ঘুমাচ্ছে।ফুলে ফুলে সজ্জিত পুরো বিয়ে বাড়ি এই সাত সকালে মৃত্যু পুরী মনে হচ্ছে।


কপাল চাপড়ে কাঁদতে থাকে মৃত প্রান্ত হাজারির মা আসমা বেগম ,বিলাপ করতে করতে বারবার বলছে,"কোন অপয়া অলক্ষুণে মেয়ে ঘরে তুললাম গো....!বাড়িতে পা রাখতে না রাখতেই আমার কলিজা ছেঁড়া ধনকে চিরতরে আমার বুক থেকে কেঁড়ে নিলো!"

পাশেই আহাজারি করছে প্রান্ত হাজারির বোন,চাচি,মামি অন্যান্য মহিলাগণ।কেউ ভাবতে পারছে না!কিভাবে কি হয়ে গেলো!গতরাতেও ছেলেটা সুস্থ সবল ছিলো।সাভাবিক ভাবে বাসর ঘরে ঢুকেছিলো।ভোর হতে না হতেই কিভাবে সেই ছেলের মৃত্যুর খবর এলো।

রেজাউল হাজারি নির্বাক হয়ে বসে আছে।তিন দিন আগেই ছেলেকে নিজের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোর করে বিয়েতে রাজি করিয়েছে।আর আজ ছেলে তাকে ভয় না দেখিয়ে,প্রতিশোাধ নিয়ে একেবারে পরপারে পারি জমিয়েছে?রেজাউল হাজারির বুকে ব্যথা হচ্ছে।সন্তান হারানো স্ত্রীর করুন কান্না যেন ভেতরের ব্যথাটাকে বাড়িয়ে দগদগে ক্ষতে পরিনত করছে।


"পৃথিবীতে সবচেয়ে ভাড়ি জিনিস নাকি বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ।কিন্তু আমি কেমন বাবা সন্তানের লাশটা কাঁধে নেয়ার ভাগ্য-ও হলো না।"হুঁ হুঁ করে কেঁদে সোফায় মাথা ফেলে দিয়েছেন।


সকলের কান্নার রোলে পুষ্পর ঘুম ভাঙে।

গতরাতে পুষ্পর স্বামী প্রান্ত রাত দুটো নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলো।তার পর পরই পাথরের মতো বসে থেকে আল্লাহর কাছে অভিযোগ জানাচ্ছিলো। ক্লান্ত দেহটা কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতে পারেনি।


কান্নার রোলে ঘুম ভাঙতেই আলুথালু অবস্থায় ধীরে ধীরে করিডোর ধরে,সিড়ির কাছে আসে।সকলের মরা কান্না দেখে কিছু বুঝতে না পেরে,সিড়ি ভেঙে নিচে নামে।পুরো বাড়িতে এতো এতো নতুন মুখের ভিরে,একবার দেখা শাশুড়ীর সন্নিকটে  দাঁড়ায়।


পুরো বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের দৃষ্টি নব বঁধু পুষ্পের উপর।সকলেই কিছুটা অবাক।যার স্বামী মারা গেছে সে কিনা সদ্য ঘুম থেকে জেগে এসেছে।

গোটা কয়েক মানুষের আবার আফসোস হচ্ছে।করুণার স্বরে বলছে,"আহারে কি মিষ্টি পুতুলের মতো মুখটা।বিয়ের পরদিন সকালেই বিধবা হলো।"


একদল আবার সমস্বরে বলছে,"সত্যি...! অপয়া বটে!নয়তো বিয়ের পরদিন ই এভাবে তুলেমূলে স্বামীকে খেয়ে দিলো।"


আরেকজন সুর মিলিয়ে বলে,"যা বলেছো! হাত নয় পা নয়, পুরো মানুষটাকে খেয়ে দিলো।অলুক্ষণে মেয়ে কোথাকার।"


আসমা বেগমের ভাইয়ের বউও চোখ মুছে,নাক টানতে টানতে তাতে সায় দিয়ে বলেন,"এ মেয়ের মুখ দেখলেও অমঙ্গল হবে।আহারে কি ভালো ছেলেটা আমার!রাজপুত্রের মতো দেখতে ছিলো।পৃথিবীতে একমাত্র আসমা আপাই বুঝবেন ছেলে হারানোর  কি জ্বালা।এই মেয়ে তো ঠিকি অন্যত্র সংসার জুড়বে।হায় রে পোড়া কপালি আপাটা আমার।"


একথাটা যেন আগুনে ঘি ঢালার কাজ করেছে।আসমা বেগম অকস্মাৎ সকলের সামনে তেড়ে গিয়ে পুষ্পর চুলের মুঠি টেনে ধরে।


পুষ্প একেই নির্বোধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো।তারপর ওকে ঘিরে একের পর এক বিষাক্ত দৃষ্টি ও ছুরির মতো ধারালো কটুক্তিতে বিস্মিত। কিন্তু হঠাৎ করে শাশুড়ীর এহেন কান্ডে যারপর নাই অবাক।

ঘুমের ঘোরে কোনো বাজে স্বপ্ন দেখছে নাতো!


চুলে গোড়ায়  টান পড়ায় আর আসমা বেগমের কর্কশ গলার উচ্চ বাক্যে স্তম্ভিত ফিরে।

নাহহ কোনো স্বপ্ন নয়।এই-তো ওর পোড়া অদৃষ্টের লিখন।এমন ভাগ্য ও মানুষের হয় বুঝি।


"কি হয়েছিলো গতরাতে বল?কেন আমার ছেলেকে ভোর রাতে বাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বের হতে হয়েছিলো?তুই বের করে দিয়েছিস না?আজ যদি ঘর থেকে না বেড়োতো...!" বলেই হাউমাউ  করে কাঁদতে থাকে।


পুনরায় চুলের মুঠিতে টেনে বলে,"অপয়া মেয়ে!তোর জন্য আমার ছেলেকে হারিয়েছি।তুই মরলি না কেন?কি দোষ করেছিলো আমার কলিজার ধন?কেন? কেন তুই ওকে শেষ করে দিলি?আমার ছেলেকে হারিয়েছি,তোর জীবন আমি নরক করে তুলবো!"


আসপাশের কয়েকজন মিলে টানাটানি করে পুষ্পকে আসমা বেগমের হাত থেকে ছাড়িয়ে নেয়।

লজ্জা অপমানে জর্জরিত হয়ে যায় নির্বোধ পুষ্প।চুলে টান পরে মাথার ঘোমটা সরে গিয়ে কোমড় সমান চুল গুলো আলগা হয়ে পিঠে ছড়িয়ে যায়।


ও তো কিছুই জানে না।ইচ্ছে করছে চিৎকার করে বলে দিতে,"না আমি বের করিনি,আপনার ছেলে পূর্ব থেকে বিবাহিত।আপনারা সবাই মিলে আমাকে নিয়ে পুতুল নাচ খেলেছেন।সবাই মিলে আমার সুন্দর জীবনটাকে বিষাক্ত বানিয়ে দিয়েছেন। "কিন্তু না বলা হয়নি।

প্রান্ত নিষেধ করেছিলো যেন কেউ না জানে।আর আসফাক উদ্দিন,আসফাক উদ্দিনের উপর থাকা রাগের জন্যও পুষ্প মুখ খোলে না। 


পুষ্প তীব্র অপমানবোধে কাঁদতে ভুলে গেছে।ভুলে গেছে মাথার কাপড় তুলতে।কেবলই ফেলফেল করে চেয়ে নিজের দুরঅবস্থা অবলোকন করছে।


একজন প্রতিবেশি মহিলা পুষ্পকে নিয়ে যায় তার ঘরে।বাসী ফুলের বিছানাতে বসায়।হাতের চুরি নাকের ফুল একে একে সব খুলে দেয়।শাড়ির আচঁলে ধরতেই পুষ্প জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে চায়।


পরপর কয়েকজন কক্ষে প্রবেশ করে।প্রতিবেশি মধ্যবয়স্ক মহিলাটি বলেন,"মাগো গত রাতে তোমার স্বামী মারা গেছে।আর যে রঙিন পোশাক তোমার গায়ে মানায় না।"


পুষ্পর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার যোগার।স্বামী নামক মানুষটাকে মাত্র কয়েকপল দেখেছে।ভালো করে মুখটাও মনে পড়ছে না,তার জন্য নাকি আজকে ওর গায়ে রঙহীন কাপড় উঠে যাবে।নামের আগে পরে বিধবা নামক উপাধি ঘুরাফেরা করবে।এ কি নিয়ম সমাজের! 


বারান্দার খোলা দরজা দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে মনে আওড়ায়,"এমন তো হওয়ার কথা ছিলে না!তার মানে কি তুমি আমাকে,আর আমার পুরো জীবনটাকে অভিশপ্ত করে পাঠিয়েছো? "


চোখের সামনে বিছানার সমস্ত ফুল ঝেড়ে ফেলা হয়।গোসল খানার যেখানে ওর বিয়ের পর প্রথম গোসল করার কথা ছিলো মনে লাজুকতা আর উৎফুল্লতা নিয়ে,সেখানে গোসল করছে বুকে পাথর চাপা দিয়ে।গোসল শেষে পড়িয়ে দেয়া হয়েছে রঙহীন ফিকে সাদা শাড়ি।


ভোর সাড়ে ছয়টায় খবর এসেছে হাজারি বাড়ির একটি সাদা গাড়ি গতরাত সাড়ে তিনটায় ট্রাকের সঙ্গে এক্সিডেন্ট হয়েছে।


এমনি ভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটে যে পুরো গাড়িটি চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে।যার ফলে ভেতরের কিছু সনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।


পুলিশ কর্মকর্তারা খবর পেয়ে গাড়ির দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া নাম্বার প্লেট দেখে হাজারি বাড়ির সন্ধান পায়। বাড়িতে যোগাযোগ করে।প্রথমে সকলেই অবাক হয় কারণ গতকাল সবে এবাড়িতে বিয়ে হয়েছে,এমন ভোর রাতে কে গাড়ি নিয়ে বের হবে?


অতঃপর গেটের দারোয়ান বলে,বাড়ির বড়ো ছেলে প্রান্ত হাজারি আনুমানিক রাত দুটোয় স্যুটবুট পড়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলো।সঙ্গে তাদের ড্রাইভার রফিক মিয়া ছিলো ।


এর পর পরই পুরো বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায়।


বিছানায় বসে তিন দিন ধরে নিজের সাথে কি হচ্ছে  তার হিসেব মেলাচ্ছে পুষ্প।ধ্যান তার পৃথিবী ছেড়ে অন্য জগতে।


ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে চিৎকার করতে করতে পুষ্পর বাবা আসফাক উদ্দিন, মা মাইমুনা বেগম প্রবেশ করেন।


মাইমুনা বেগম মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করতে থাকেন।আসফাক উদ্দিন চোখের সামনে সদ্য বিবাহিতা মেয়েকে রঙিন শাড়ির বদলে ফকফকে সাদা শাড়িতে বিধবার বেশে দেখে কাঁদতে আরম্ভ করেন।


মেয়ের সুখের জন্য এবাড়িতে বিয়ে দিয়েছে এখন তো দেখা যাচ্ছে এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।


আসফাক উদ্দিন মেয়ের কাছে যেয়ে মেয়ের মাথায় হাত রাখতেই,মেয়ে গর্জে উঠে।

পুষ্পর গর্জন শুনে কক্ষে থাকা সকলে এমন কি করিডোরে থাকা সকলে কক্ষে চলে আসে।


পুষ্প গর্জে উঠে বলে,"কি চান?কেন এসেছেন?বেরিয়ে যান!আপনারা আমার কেউ না!আমার সাথে আপনাদের কোনো সম্পর্ক নেই!শুনেছেন আসফাক উদ্দিন!বেরিয়ে যান!"


আসফাক সাহেব মেয়ের এমন ব্যবহারের কারণ বুঝতে পারছেন।কিভাবে মুখ ধরবে এখন।মেয়ের ভালো করতে যেয়ে যে বড্ড ক্ষতি করে দিয়েছে।

কাঁদতে কাঁদতে বলে,"আমার ভুল হয়েছে মা আমাকে ক্ষমা করে দে,চল বাড়ি ফিরে চল!"


পুষ্প একিভাবে চিল্লাতে চিল্লাতে বলে,"এখুনি বেরিয়ে যান এ বাড়ি থেকে।আর কোনোদিন আমার সামনে আসবেন না।নয়তো আমি এ বাড়ি ছেড়ে চলে যাবো,তাতেও যদি শান্তি না পান,এই দুনিয়া ছেড়ে চলে যাবো।"


আসফাক উদ্দিন চোখ মুছতে মুছতে ক্রোন্দনরত স্ত্রীকে নিয়ে হাজারি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।


পুষ্প স্থীর হয়ে বসে।খুব কাঁদতে ইচ্ছে করছে,কিন্তু কিছুতেই কান্না আসছে না।চোখ দিয়ে এক ফোঁটা জল ও পড়ছে না। 


ওর কি পানি শূন্যতা রোগ হয়েছে?ওর ব্ল্যাকবেরি যদি একথা শুনতো তাহলে কি বলতো?


নিশ্চয়ই কোনো অদ্ভুত কথা বলতো! বলতো,"রেড চেরি...!তোমার তো পানিশূন্যতা রোগ হয়েছে।এখুনি দশ গ্লাস পানি খাও।"


পুষ্প তখন মুখে মুখে বলতো," জি না!আমি কি পাগল! আপনার কথায় এতো গুলো পানি খাবো।"কিন্তু ফোন রেখে ঠিকি গুণে গুণে দশ গ্লাস পানি খেয়ে আয়নার সামনে কান্নার প্রেক্টিস করে দেখতো,পানিশূন্যতা দূর হয়েছে কিনা।


সেই মানুষটা যতোদিন ওর জীবনে ছিলো,ততোদিন ওর জীবনটা  অনাবিল অনবদ্য ছিলো।খুশিরা যেন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখেছিলো।সবকিছুতেই যেন এক অন্য রকম ভালো লাগা বিধ্যমান ছিলো।চোখ বন্ধ করলেই মানুষটাকে অনুভব করতে পারতো।তার দুষ্ট মিষ্টি কথা মনে হতেই একাকি অযথা খিলখিল করে হেঁসে উঠতো।এমন করে অযথা হেঁসে উঠার জন্য মাইমুনা বেগম ও আসফাক উদ্দিনের বকা খেতে হয়েছে।


"কই সে মানুষটা এখন?মাত্র চার দিন হলো আমার জীবনে সে নেই,এর মধ্যে সব কিছু কেমন পাল্টে গেলো।সে কি জানে তার রেড চেরির রঙধনু রাঙা জীবনটা সাত রঙে রঙিন হওয়ার বদলে কালো মেঘে ছেয়ে গেছে?জীবনটা কেমন ভয়ংকর দুঃখে জর্জরিত হয়ে গেছে।এসব জানলে বিষয়টাকে সে কিভাবে হ্যান্ডেল করতো?"


নিশ্চয়ই কোনো দুষ্টুমি করে ওকে হাসি বলতো,"এই যে রেডচেরি তোমার অদ্ভুত দুঃখ উবে গেছে।"


একজন মহিলা এসে পুষ্পকে খাবার দিয়ে গেছে। খাবার দেখেই গা গুলোচ্ছে।ইচ্ছে করছে ওর প্রিয় মানুষটার কন্ঠ শুনে নিজেকে তৃপ্ত করতে।


সারাদিনের অনাহারী থেকে রাতেরবেলায়  দুর্বলচিত্তে বিছানার এক কিনারে ঘুমিয়ে পড়েছে।খাবারটা আর খাওয়া হয়নি।

___________________


সকাল বেলা ঘুম থেকে জেগে নাজাজ আদায় করে।জায়নামাজে বসে ভাবে,"সে রাতের পুরো ঘটনা তো বলতে পারবে না।তবে এটা তো বলতে পারবে যে ও ঘর থেকে বেরোতে বলেনি।ওনার ছেলেই বেরিয়ে গেছে।এটা ওনার আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিলো।এতে ওর কোন হাত নেই।শাশুড়ীতো মা হোন।তিনি তো নারী জাতি,নরম মনের অধিকারি।বোঝালে ঠিক বুঝতে পারবেন। ছেলেকে হারিয়ে শোকাহত,তাই পাগলের মতো করছেন।আর এটাই তো সাভাবিক।হয়তো উনার ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। কিন্তু একটু তো শান্তনা পাবেন।"


মনে দৃঢ় আশা নিয়ে এসব ভাবতে ভাবতে রুম ছেড়ে বেরিয়ে সিড়ি বেয়ে নামছে।হঠাৎ-ই মাথা চক্কর দিয়ে উঠায়,কাত হয়ে পড়ে যেতে নিচ্ছিলো।তখন সিড়ির অপর পাশ দিয়ে  প্রান্তর ছোটো চাচার মেয়ে বিথী উঠছিলো। পুষ্পকে পড়ে যেতে দেখে বিথী ধরতে যায়,আর তখুনি দুর্ঘটনাবশত নিজের ভারসাম্য না রাখতে পেরে বিথী নিজেই সিঁড়ি থেকে পড়ে যায় ।ডাইনিং এ প্লেট গুছাচ্ছিলেন কলি বেগম।আকস্মিক ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনাটাই অবলোকন করেছেন।


সিঁড়ির গোড়ায় হঠাৎ করে মেয়েকে পড়ে যেতে দেখে তিনি চিৎকার করতে শুরু করেন।চিৎকার করছেন আর বলছেন,"কে কোথায় আছো,এই অপয়াটা আমার মেয়েকে সিঁড়ি থেকে ফেলে মেরে ফেললো গো..."


পুষ্প কোনো রকমে নিজেকে সামলে নিয়েছে ঠিকি।কিন্তু নিজের ভারসাম্য রাখতে না পেরে সিঁড়ি থেকে পড়ে বিথীর হাতের হাত ভেঙে যায়।


পুষ্প দৌঁড়ে যায় বিথীর কাছে।"আমি ইচ্ছে করে করেনি বোন...."


সঙ্গে সঙ্গে পুষ্পর গালে কেউ কষে একটা চড় বসিয়ে দেয়।আরেকটা চড় মারতে যাবে তখনই হাতে ধরে ফেলে বাড়ির ছোটো ছেলে...


চলবে......


#তোর_সমীপে

#গল্পকন্যা


কে হতে যাচ্ছে বাড়ির এই ছোটো ছেলে?

(যেহেতু আমি ক্ষুদ্র একজন লেখিকা,সেহেতু বানানে ভুল থাকতে পারে।মানুষ মাত্রই ভুল ভেবে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।)




Happy reading....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।