চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১১ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১১ )
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১১ )


চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১১ )
মিশিতা চৌধুরী


চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১০ ) পড়ুন →


হঠাৎ একদিন নীলের সাথে অভিরাজকে দেখে চন্দ্রা অবাক হলো।


"অভিরাজ এখানে কি করছে!!"

অভিরাজকে না দেখার ভান করে চন্দ্রা চলে আসছিল।পেছন থেকে নীলের ডাক শোনে।


"মিস চন্দ্রা উনি হলেন মি.অভিরাজ। আজই অফিস জয়েন করেছেন। ওনাকে আপনার অধীনে দেওয়া হলো।আশা করি উনি তাড়াতাড়ি কাজে পারদর্শী হয়ে উঠবে।

চন্দ্রা বলল,"সরি স্যার আমি ওনাকে ট্রেনিং দিতে পারবো না।আমায় ক্ষমা করবেন।আর এটা  যদি আপনার অর্ডার হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আমার পক্ষে এই চাকরিটা করা সম্ভব হবে না।"

"ওকে প্লীজ শান্ত হোন।মাথা গরম করবেন না।আমি বরং সুমনকে ডাকি।"


সুমনকে ডেকে অভিরাজকে যেতে বলল।অভিরাজ চলে যাওয়ার পর চন্দ্রা মনে মনে ভাবলো,"যার বাবার এতো বড় বড় কোম্পানি সে অন্য কোম্পানিতে চাকরি করছে। অদ্ভুত লাগছে ব্যাপারটা।"


দেরি হয়ে যাওয়া আজ বাসা থেকে খাবার আনতে পারে নি।তাই লাঞ্চের সময় চন্দ্রা কেন্টিনে খেতে গেল। চন্দ্রা খাবার অর্ডার করে অফিসের বাকি দের সাথে কথা বলছে। কিছুক্ষণ পর অভি চন্দ্রার কাছে এলো।অভিকে দেখে চন্দ্রা চলে আসবে এসময় অভি চন্দ্রার হাত ধরে ফেলে। চন্দ্রা খুব রেগে যায়।অভির হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নেয়।


"নেক্সট টাইম এমন দুঃসাহস দেখাবেন না মি.অভি।তাহলে কিন্তু আমি নীল স্যারকে জানাতে বাধ্য হবো। ঘরে এতো সুন্দরী বউ থাকা সত্ত্বেও বাইরের মেয়েদের দিকে হাত বাড়াতে লজ্জা লাগে না। আপনার কি স্বভাবটাই এমন!"


"চাঁদ আসলে আমি..."

"মি.অভি আমি চাঁদ নই।আমি চন্দ্রা। আমায় চন্দ্রা বলে ডাকলেই খুশি হবো।"


অভি মনে মনে বলল,"চাঁদ কতটা পাল্টে গেছে।নরম কোমল স্বভাবের লাজুক মেয়েটা আজ চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে। ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে পাওয়া কষ্ট বোধহয় এমন ভয়ানক।সে কষ্টটা হয় মানুষকে পাথর করে দেয় নয়তো শেষ করে দেয়‌।


"চন্দ্রা তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।আমি সেগুলো বলতে চাই‌।"

"আপনার সাথে আমার সব কথা শেষ।আমি আর নতুন করে কোনো কথা শুনতে চাই না।আমায় বিরক্ত করবেন না।"


কথাগুলো বলে চন্দ্রা না খেয়ে কেবিনে চলে গেল।এক জোড়া চোখ সবকিছু অবলোকন করতে লাগলো‌। ভালোবাসার মানুষকে সবসময় আগলে রাখতে হয়‌। চন্দ্রা কেবিনে ঢোকার কিছুক্ষণ পর নীল আসলো‌।


"মহারানী তুমি কি আমায় মিস করছিলে?"

"আমি আপনাকে মিস করতে যাবো কোন দুঃখে। আমার অনেক কাজ বাকি। সেগুলো শেষ করতে হবে।তাই দয়া করে আমায় কাজ করতে দিন।"


নীল মুখ ফুলিয়ে"তুমি  মিস করো নি!!তাহলে না খেয়ে আছো কেন?আমি তো ভাবলাম আমায় মিস করছো তাই তোমার গলা দিয়ে খাবার নামছে না।"


"এসব আবোল তাবোল না বকে নিজের কাজ করুন।আমি খাই নি সেটা কে বলল?"

"বলেছে...।না কেউ বলে নি।আমি কিন্তু খাই নি।"


চন্দ্রা বিড়বিড় করে বলল,"সারাদিন আমার মাথা খেয়ে যাচ্ছে।এখন বলছে খায় নি।"


"কিছু বললে?"

"গিয়ে খেয়ে নিন।না খেলে শরীর খারাপ করবে।"

"খাবারটা রাখলাম আগে তুমি খাবে আমি দেখবো তারপর খাবো‌। তুমি না খাওয়া অবধি আমি এখানেই থাকবো।"

"কি মুশকিল আমার খিদে না থাকলে খাবো কিভাবে?"

"আমি কিচ্ছু শুনবো না।"

"এই লোকটাকে ঘাটানো যাবে না।কি না কি করে বসে।তার চেয়ে ভালো খেয়ে নেই।"

"কি এতো ভাবছো মহারানী।"

"কিছু না।এই যে খাচ্ছি। আপনিও গিয়ে খেয়ে নিন।"

"অনেক ভালোবাসি তোমায় মহারানী।"


অভি দূর থেকে সবটা দেখছে‌। চন্দ্রা আর নীলকে একসাথে দেখে বুকের ভেতর কেমন করে উঠলো‌।


অফিস ছুটির পর চন্দ্রা গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছে। অভি বলল---


"চন্দ্রা আমায় তুমি মাফ করে দাও। তোমায় কষ্ট দেওয়ার শাস্তি আমি পাচ্ছি। তুমি ঠিক বলেছ সেদিন।আমি নিজের ভুল বুঝতে পারছি কিন্তু এখন আফসোস করা ছাড়া উপায় নেই। একটা ভুলের জন্য এতো গুলো মানুষ কষ্ট পেয়েছে। তাদের  হাহাকার, দীর্ঘশ্বাস ,আর কান্না গুলো আমার জীবনের অভিশাপ হয়ে গেছে।"


"আমি তোমায় কখনো মাফ করবো না। তোমার জন্য এই একটা বছর আমায় মৃত্যুর চেয়েও ভয়ঙ্কর কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। আত্নীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, আশেপাশের মানুষ নানা বাজে কথা বলেছে। আমি সেসবে পরোয়া করি নি কারন দোষটা আমার ছিল না।যে দোষ করেছে সে দিব্যি সংসার করছে তাহলে আমি কেন পিছিয়ে থাকবো‌।রোজ নিজেকে এটা ওটা বুঝিয়ে উৎসাহ দিতাম‌। সেদিন গুলো এতো সহজে কি করে ভুলি বলো তো।যে মানুষ তার অতীত ভুলে যায় তাকে আমি মানুষ বলে গণ্য করি না। অতীত সুন্দর হোক বা কুৎসিত সেটা আমার জন্য অনেক মূল্যবান।তাই আর কখনো আমার কাছে মাফ চাইতে আসবে না। আমি মাফ করবো না।"


নীল গাড়ি নিয়ে বের হয়ে দূর থেকে দেখে অভি আর চন্দ্রা কথা বলছে।নীলের খুব কষ্ট হচ্ছে।তার মহারানী শুধু তার‌। চন্দ্রার কাছে গিয়ে বলল,"গাড়িতে ওঠো মহারানী তোমায় পৌঁছে দিচ্ছি।"


চন্দ্রা বলল,"আমি যেতে পারব।"


নীল চোখ বড় বড় করে তাকাতেই চন্দ্রা গুটি গুটি পায়ে গাড়িতে বসলো।নীল সিটবেল্ট বেঁধে দিলো।


"মি.অভি আপনি চাইলে আসতে পারেন। আপনাকেও পৌঁছে দেই‌।"

"না স্যার আমার একটা কাজ আছে‌। আপনারা সাবধানে যান"

"আচ্ছা।"


গাড়িতে বসে নীল একটা কথাও বলে নি। চন্দ্রা অবাক হলো,"লোকটা আজ এতো চুপচাপ আছে কেন"


নীল বলে উঠলো,"এমনি চুপ আছি। তুমি ও মনে মনে কথা না বলে জোরে বলো‌।আমি তো তোমার মনের মধ্যে ঢুকতে চাইছি কিন্তু ভেতরে এতো সাউন্ডে আমার সমস্যা হচ্ছে।"


"কি অদ্ভুত আমি কি বলছি আপনি বুঝলেন কি করে?"


"কাউকে ভালোবাসলে সব বোঝা যায়।কখন কি চায় চোখের দিকে তাকালে তার কথাগুলো ভেসে ওঠে।"

"উল্টো পাল্টা লজিক সব"

"তুমি কাউকে ভালোবেসে দেখো তুমিও বুঝতে পারবে।"

"আমার অতো সময় নেই।সামনে রাখুন।নামব"

"এখানে কেন"

"আশেপাশের মানুষ জন যদি দেখে তবে নানান কথা শোনাবে। আমি চাই না আমার জন্য আপনাকে কেউ খারাপ বলুক।"

"মহারানী আমি ওসবে ভয় পাই না।"

"আমি পাই।"

"ঠিক আছে তুমি যা চাও তাই হবে।"


চন্দ্রা বাসায় এলো।অভির ব্যাপারটা মাথা থেকে সরাতে পারছে না।তাকে সব জানতে হবে। কিন্তু কার থেকে জানবে। তখনই রিমার কথা মনে পড়লো।রিমাকে কল দিল। দুইবার রিং হতেই রিমা বলল,


"বাব্বাহ এতো দিন পর বুঝি আমার কথা মনে পড়লো! এখন আমি খুব পর হয়ে গেলাম!"

"কি যে বলো না। তুমি তো আমার সবচেয়ে আপন।"

"তোমার অফিসের কাজ কেমন যাচ্ছে?"

"হুম ভালো।"

"নীল ভাইয়ার কি খবর?"

"ভালো আছে!"

"ভাবী তুমি নীল ভাইয়াকে মেনে নাও। ছেলেটাকে এভাবে কষ্ট দিও না আর।"

"রিমা আমার সাথে নীলকে জড়িয়ে তার জীবনটা নষ্ট করতে চাই না। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পায়। আমারও সেই অবস্থা। ভালোবাসা যত্ন আমার কপালে বেশিদিন থাকে না‌। আচ্ছা তোমায় একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।"

"কি কথা ভাবী?"

"তোমার ভাইয়ার সাথে তোমার কথা হয়?"

"এতো দিন পর ভাইয়ার কথা জিজ্ঞেস করছো কেন?"

"না এমনি।"

"বলো কি কারন? ভাইয়ার সাথে কি তোমার দেখা হয়েছে?"

"হুম অদ্ভুত ভাবে দেখা হয়েছে।"

"ভাবী তুমি ছিলে আমাদের ঘরের লক্ষ্মী।যে দুহাতে সংসারটাকে আগলে রেখেছো। তুমি চলে যাওয়ার পর সব ওলট পালট হয়ে গেছে।"


"কি হয়েছে রিমা?"

"তুমি তো জানো বাবা মা দুজনেই বিদেশ চলে গেছে একেবারের জন্য। কিন্তু ভাইয়াকে ত্যাজ্য পুত্র করে গেছে। ভাইয়া তোমার সাথে যে অন্যায় করেছে তার শাস্তি দিয়েছে।"

"কি বলছো এসব। তুমি আমায় জানাওনি কেন? সবটা বলো তো।"

"ভাইয়া যে মেয়েটাকে বিয়ে করেছে তার কিছুদিন পর ভাইয়া জানতে পারে মেয়েটার অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক আছে। মেয়েটা সেদিন বাসা থেকে চলে যায়।সম্পত্তির জন্য অভি ভাইয়াকে বিয়ে করেছে। এদিকে বাবা উকিলের সাহায্য ভাইয়াকে দেওয়া সমস্ত সম্পত্তি ফিরিয়ে নেয় এবং বাসা থেকে বের করে দেয়। শুনেছি এখন একটা চাকরি করে আর ভাড়া বাসায় থাকে।"


"এতোসব কান্ড ঘটে গেছে তোমরা কেউ জানালে না আমায়!"

"বাবাই তোমায় জানাতে দেয় নি।বাবা চেয়েছিলেন ভাইয়া যেন তার ভুলটা বুঝতে পারে। যেদিন ও তোমার কাছে মাফ চাইবে সেদিন বাবা ওকে মেনে নেবে এবং ওরা দেশে ফিরে আসবে।"

"ওহ আচ্ছা‌।"


"চন্দ্রা এই চন্দ্রা"

"রিমা আমার ফ্রেন্ড অনু এসেছে।আমি তোমায় একটু পরে কল দিচ্ছি।"

"আচ্ছা ভাবী।"

"তোকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান আর তুই এখানে বসে আছিস।"

"রিমার সাথে ফোনে কথা বলছিলাম।"

"এসব ফোন টোন রাখ আমার সাথে চল!"

"কোথায় যাবো?"

"ও মা তুই ভুলে গেলি আজ শপিংয়ে যাওয়ার কথা। বিয়ের তো মাত্র দশদিন বাকি। এখনও সব কেনাকাটা বাকি।কি হবে আল্লাহ জানেন।"

"একদম ভুলে গেছি রে‌"

"হুম জানতাম ভুলে যাবি।চল তাড়াতাড়ি রেডি হ। আমার একটা আপুও আসবে।"


চন্দ্রা আর অনু শপিং মলে অপেক্ষা করছে। চন্দ্রা বলল,


"কি রে আপু কখন আসবে?"

"বলল তো পাঁচ মিনিট। আরেকবার কল করে দেখি।"

"কল দিতে হবে না অনু ,এইতো চলে এসেছি।"

"এতো দেরি করলে কেন?আপু এই হচ্ছে চন্দ্রা আমার ফ্রেন্ড। চন্দ্রা ইনি হচ্ছেন নীল ভাইয়ার আর আমার নীলাশা আপু।

"চন্দ্রা তুমি। কতদিন পর দেখা।যাক ভালোই হলো।আড্ডা দেওয়া যাবে।!!!"


অনু বলল,"তোমরা কি আগে থেকে চেনো একে অপরকে?"


নীলাশা বলল,"হ্যাঁ সে অনেক ঘটনা।যেতে যেতে বলছি।"


নীলাশাকে দেখে চন্দ্রা সারপ্রাইজড হলো।

"আরশি মামু তাহলে নীল স্যার।স্যার কি বাসার সবাইকে বলে দিয়েছে!"


কেনাকাটা শেষে সবাই বাসায় চলে আসলো। অনেক রাত হয়ে গেছে।চন্দ্রা  বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়ল। পরের দিন সকালে অফিসে যেতে হবে। চন্দ্রা নীলের পাগলামি গুলোর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো।


সকালে অফিসে যেতে দেরি হয়ে গেছে। অফিসে গিয়ে দেখে পুরো অফিসের ডেকোরেশন চলছে। নীল এখনো আসে নি।


"সুমন ভাই অফিস সাজানো হচ্ছে কেন ?কোনো অনুষ্ঠান আছে নাকি?"

"জানি না রে চন্দ্রা নীল স্যারের নির্দেশ। আজ নাকি সবার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।স্যার বলেছেন ১০টার মধ্যে পুরো অফিস সাজানো শেষ করতে।আমি দেখি সব ঠিক কতটা বাকি।"

"আচ্ছা কোনো সাহায্য লাগলে বলো আমি করে দিচ্ছি।"

"সত্যি করে দিবি।"

"হ্যাঁ সবাই মিলেমিশে করলে তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে।"

"আচ্ছা তাহলে তুই নীল স্যারের রুমে পাশের ফাঁকা কেবিনটা একটু ফুল দিয়ে সাজিয়ে দে। আর টেবিলের ওপর গোলাপের ফুলের তোড়া রেখে দিস।"

"ঠিক আছে।"


চন্দ্রা কেবিনটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিল। সুমন তাকে বোনের মতোই স্নেহ করে। নিজের হাতে চন্দ্রাকে সব কাজ শিখিয়েছে। চন্দ্রাও সুমনকে খুব শ্রদ্ধা করে।বড় ভাইয়ের মতো।


একটু পরে নীল আসলো।এসে সবাইকে তাড়া দিতে লাগল।সুমন এসে বলল,"কি রে তোর সাজানো হলো‌?"


"হ্যাঁ সুমন ভাই।"

"বাহ বাহ দারুন হয়েছে তো।"

"সত্যি বলছো।পাম দিবা না কিন্তু"

সুমন হেসে বলল,"সত্যি অনেক সুন্দর হয়েছে।"


ওরা কথা বলতে বলতে অভিও আসলো। নীল সবাইকে বলল,"শুনুন সবাই আজ একটা সারপ্রাইজ আছে সবার জন্য।"

"কি সারপ্রাইজ স্যার?"


এক্ষুনি দেখতে পাবে সুমন।নীল দরজার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলল,"কই ভেতরে এসো!"


 নীল বলল,"পরিচয় করিয়ে দেই সবার সাথে।লেডিস এন্ড জেন্টেলম্যান উনি হচ্ছে মিস বৃষ্টি। সম্পর্কে আমার মামাতো বোন এবং আমার নতুন পিএ। এতো দিন বিদেশে পড়াশোনা করেছে। আশাকরি সবাই ওনাকে সব কাজে সাহায্য করবেন।"


বৃষ্টিকে দেখে সবার চোখ কপালে উঠে গেছে।বেশ খোলামেলা পোশাক পরা বৃষ্টিকে দেখে সবাই অনেক সারপ্রাইজড হয়েছে। মেয়েটা দেখতে যেমন সুন্দর ঠিক তেমনি তার ড্রেস আপ।সব মিলিয়ে অসাধারণ লাগছে।


নীল  বৃষ্টির হাত ধরে সাজানো কেবিনে নিয়ে গেল।


"আজ থেকে এটা তোমার জায়গা। তুমি তোমার মতো সাজিয়ে গুছিয়ে নিতে পারো।"


 বৃষ্টির কেবিন থেকে নীল আর বৃষ্টির হাসির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে যা দেখে চন্দ্রার খুব রাগ হতে লাগলো।


"মিস চন্দ্রা এদিকে আসুন তো।"


নীলের ডাকে বৃষ্টির কেবিনে গেল। গিয়ে বলল--


"জি স্যার বলুন।"

"মিস চন্দ্রা আপনি বৃষ্টির দিকে খেয়াল রাখবেন। ওর যেন কোনো অসুবিধে না হয়।"

"জি স্যার।"

"নীল উনি..."

"উনি মিস চন্দ্রা। আমাদের একজন পারদর্শী এবং কর্মঠ স্টাফ।"


বৃষ্টি বলল"হ্যালো মিস চন্দ্রা নীল বলল রুমটা নাকি আপনি সাজিয়েছে।"


"জি ম্যাম"

"আপনার সাজানোর আইডিয়াটা আমার খুব ভালো লেগেছে।"

"ধন্যবাদ ম্যাম"

"ঠিক আছে আপনি এবার আসুন। আমার নীলের সাথে পার্সোনাল কিছু কথা আছে‌। যাওয়ার সময় দরজা লক করে যাবেন।"


বৃষ্টির কথা শুনে চন্দ্রার বুকের ভেতর চিনচিন করে উঠলো।এর চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছে বৃষ্টির সামনে নীল তাকে স্টাফ বলায়।নিজেকে কোনো রকম সামলে নিজের কেবিনে আসলো। 


" নীল স্যার তো সত্যি কথাই বলেছে। আমি এই কোম্পানির একজন স্টাফ ছাড়া কিছুই নই তাহলে আমার এতো কষ্ট হচ্ছে কেন।"


চন্দ্রার চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। হঠাৎ অনুর........


চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১২ ) পড়ুন →


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।