চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১০ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১০ )
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১০ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১০ )
মিশিতা চৌধুরী


অভির হাত থেকে খাবারগুলো পড়ে গেল।পড়ে যাওয়ার শব্দে তানিয়া আঁতকে উঠলো।পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে অভি দাঁড়িয়ে আছে।মনে মনে খুব ভয় পাচ্ছিলো।অভির চোখ মুখ দেখে বুঝতে বোঝা যাচ্ছে খুব রেগে আছে।অভির কাছে এসে বলল--

"অ অভি তো তুমি কখন এলে?"


অভি চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। তানিয়া আবার ও বলল--

"কি হলো বেবি কথা বলছো না কেন?এভাবে চুপ করে আছো কেন?দেখো এবার কিন্তু আমি রেগে যাবো।"


অভি রুমে ঢুকে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলো।তানিয়াকে বলল--

"তানিয়া আমার কাছে এসে একটু বসবে?"


তানিয়া অভির পাশে গিয়ে বসলো।অভি তানিয়ার হাত টা ধরে বলল---

"আচ্ছা আমি কি তোমাকে কখনো কোনো কিছুর অভাব রেখেছি?"

"কেন বলছো এসব?"

"কোনো প্রশ্ন করবে না।যা জিজ্ঞেস করলাম তার উত্তর দাও।"

"না কখনো অভাব রাখো নি।"

"হুম।রাখি নি।যখন যা চেয়েছিলে তাই দিয়েছি।ন্যায় অন্যায়ের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম শুধু মাত্র তোমার মুখে এক টুকরো হাসি দেখার জন্য।চন্দ্রার মতো এতো লক্ষ্মী একটা মেয়েকে দিনের পর দিন কষ্ট দিয়ে গেছি তোমায় ভালো রাখার জন্য।কি করি নি তোমার জন্য? মা বাবার বিরুদ্ধে গিয়ে তোমায় বিয়ে করে সংসার করছি। কিন্তু তুমি কি করলে?"


"অভি আমি....।"

"আমার কথা এখনো শেষ হয়নি। তুমি আমার আড়ালে আমারই বন্ধুর সাথে মিলে ঠকিয়ে যাচ্ছো।আচ্ছা তুমি কি কখনো আমায় ভালোবাসো নি? এত্তো গুলা বছর একসাথে থাকার পর ও আমার জন্য একটু মায়া জন্মায় নি?"

"অভি তুমি যা ভাবছো সবটা ভুল ভাবছো! বিশ্বাস করো আমি কিছু করি নি।"

"হুম বিশ্বাস তো করেছিলাম নিজের চেয়েও বেশি ভরসা করেছি।আজ তার প্রতিদান পাচ্ছি। সবার অমতে গিয়ে তোমার সাথে থাকার মূল্য পাচ্ছি।"

"অভি আমার কথা টা একবার শোনো!আচ্ছা তুমি যে কথাগুলো বলছো তার তো কোনো প্রমাণ নেই।অভি বেবি আমি এসব কিচ্ছু করি নি।"

"হাহাহা সো সুইট ডার্লিং। তোমার প্রমাণ চাই তাই তো"


"হ্যাঁ চাই "

"ওকে একটু ওয়েট দেখাচ্ছি প্রমাণ।"


একটু পর অভি একটা ল্যাপটপ নিয়ে এলো।তানিয়া বলল,"এসব কি?"

"এই ভিডিও গুলো দেখো বেবি।"


স্ক্রিনে তাকাতেই তানিয়ার পায়ের নিচের মাটির সরে গেল।এগুলো তো ওর আর তুহিনের একসাথে থাকার সময়কার। এগুলো অভি কোথায় পেল!! ওহ গড!!সব প্ল্যান ভেস্তে গেল।অভিকে যেভাবেই হোক বোঝাতে হবে।

"কি হলো তানিয়া চুপ করে আছো যে কিছু বলো!"

"অভি এগুলো সব মিথ্যা। তুমি তো জানো আজকাল ছবিগুলো কতরকম করা যায়। বিশ্বাস করো এটা আমি নই।যে তোমায় পাঠিয়েছে সে আমার ক্ষতি চায়।বেবি আমার কি মনে হয় জানো এগুলো চন্দ্রার কাজ।ও তো আমাদের সহ্য করতে পারে না তাই আমাদের আলাদা করার জন্য এসব করে....!"


"ঠাসসসসসস ঠাসসসসসসস। চন্দ্রার নামে একটা বাজে কথা বলবি না তুই। নিজের দোষ অন্যের উপর চাপিয়ে দিচ্ছিস।তোর মতো খারাপ মেয়েকে ভালোবেসেছি এটা ভাবতেই নিজের উপর ঘৃণা হচ্ছে।এই ভিডিওগুলো কেউ পাঠায় নি। তাহলে শোন....


তোর মনে আছে আমি যখন লন্ডন চলে যাই তোর সাথে থাকার জন্য তখন তুই আমায় বলেছিলি যে আমি যেন চন্দ্রার রুমে একটা হিডেন ক্যামেরা লাগাই।তাতে চন্দ্রা কোনো ভুল কাজ করলে ক্যামেরায় ধরা পড়বে।আর তাকে ডির্ভোস দিতে আমার সুবিধা হবে‌।তোর কথা অনুযায়ী আমি চন্দ্রার রুম ডেকোরেশন করবো বলে আমার বিশ্বস্ত একজনকে দিয়ে ক্যামেরা ফিট করি‌। কিন্তু চন্দ্রার কোনো ভুল ধরতে পারি নি। কিছু মাস পর ক্যামেরার কথা ভুলে যাই।

পরশু দিন রাতে তুই যখন ঘুমাচ্ছিলি আমি পানি খাওয়ার জন্য উঠলাম।তখন তোর ফোনে কয়েকটা মেসেজ আসে।মেসেজটা ছিল তোর প্রেমিক তুহিনের।সে লিখেছে,"জান তোমার শশুর শাশুড়ি কবে বেড়াতে যাবে। তোমার সাথে আজ খুব এনজয় করেছি।"

মেসেজটা পড়ে আমার হাত পা কাঁপতে থাকে। সেদিন বাবা মা বাসায় ছিল না।তুই কি কি করেছিস জানার জন্য ছটফট করতে লাগলাম। তক্ষুনি মনে পড়লো ক্যামেরার কথা।ক্যামেরা অন করতেই তোদের কুকীর্তি সব দেখলাম।আচ্ছা তোর যখন অন্য কাউকে পছন্দ তবে আমার জীবনটা নষ্ট করলি কেন। ভালোবেসেছিলাম তো তোকে।"

তানিয়া বলল,"অফফসসসস অভি বেবি তুমি সব টা জেনে গেলে তাহলে।সো স্যাড।হাহাহা ভালোবাসা।শোনো বেবি আমার কাছে এসব ভালোবাসা টালোবাসার কোনো ভ্যালু নেই।এখন টাকাই সব। ভেবেছিলাম তোমায় বিয়ে করে তোমার সব সম্পত্তি হাতে নিয়ে রানীর মতো জীবন কাটাব। কিন্তু তোমার বুড়ো বাপ তা হতে দিলো না। তুমি তো জানো তুহিনের টাকার অভাব নেই।তাই এখন আমি তার।ভালো তো তোমায় চন্দ্রা ও বেসেছিলো। তুমি তাকে ঠকিয়েছো।এ দিক থেকে তোমার আর আমার কোনো পার্থক্য নেই। তুমি যা আমিও তাই। তুমি চন্দ্রাকে ঠকিয়েছো আর আমি তোমায়।হিসেব বরাবর।"


"যার টাকার জন্য আমায় এভাবে কষ্ট দিলে তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়েছো তো।মানে আদৌও সে...."

"কি বলতে চাও?"

"কিছু না এক্ষুনি আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যাও। তোমায় যেন আমার আশেপাশে আর না দেখি।যদি দেখি  তার ফল কিন্তু ভালো হবে না।"


তানিয়া তার জিনিসপত্র গুছিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। তারপর তুহিন কে কল দিতে লাগল। কিন্তু তুহিন ফোন রিসিভ করছে না‌।কোনো উপায় না পেয়ে নিজের বাবা মায়ের বাসায় গেল।


নীল দৌড়ে এসে মিসেস সাবিনাকে জড়িয়ে ধরলো।

"মম আমি আমার মহারানীর খোঁজ পেয়েছি।"

"আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহ আমার ছেলের মনের কথা শুনেছেন।"

"মম আমি মহারানীকে খুব ভালোবাসি।ওকে ছেড়ে আমি বাঁচবো না। প্লীজ মম আমার মহারানীকে আমার কাছে এনে দাও।ও আমায় মেনে নিচ্ছে না।"

"আব্বা ও তো তোকে এত সহজে মেনে নেবে না।তোকে যে চেনে না জানে না কিভাবে মেনে নেবে। জোর করে কারোর ভালোবাসা পাওয়া যায় না। তুই একটু শান্ত হো।ওকে একটু সময় দে।দেখবি আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।"

"তুমি সত্যি বলছো তো?"

"হুম হুম সত্যি। এবার রুমে গিয়ে একটু বিশ্রাম নে।তোর জীবনের লড়াই কিন্তু শুরু হয়ে গেছে। নিজের ভালোবাসাকে আপন করে নেওয়ার যুদ্ধ‌।এই যুদ্ধে তোকে জিততেই হবে আব্বা।"


নীল রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো।আজ তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিন। এভাবে তার মহারানীর সাথে দেখা হয়ে যাবে ভাবতে পারে নি। ঘটনাগুলো বার বার মনে করছে। 

চন্দ্রা কিছুই বুঝতে পারছে।"ছেলেটা কি বলে গেল এসব! একটা মানুষ এতো গুলো বছর অপেক্ষা করতে পারে তাও শুধু একবার চোখের দেখা দেখে।"


"কি ভাবছিস চন্দ্রা?"

"আম্মু বিকেলের সেই ঘটনা কিছুতেই মাথা থেকে বের হচ্ছে না‌।"

"আমার কি মনে হয় জানিস?"

"কি মনে হয়?"

"ছেলেটা যা বলছে সত্যি বলছে।"

"কি বলছো তুমি!"

"হ্যাঁ।তুই ঘটনাগুলো পর পর সাজিয়ে দেখ।আর ছেলেটা তোকে দেখে নি শুধু জানতো তুই অনুর বন্ধু।যদি জানতো তাহলে তো অনেক আগেই এ বাসায় আসতো।এমন করে অপেক্ষা করতো না খুঁজতো না‌।"

"হুম তুমি হয়তো ঠিক বলছো।"


পরের দিন চন্দ্রা আয়াতকে পৌঁছে দিয়ে স্কুলে যায়। স্কুলের গেটে নীলকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে খুব বিরক্ত হয়।নীলের কাছে গিয়ে বলে,"আপনি এখানে কি করছেন? ঠিকানা কোথায় পেয়েছেন?"

"মহারানী তোমার ঠিকানা পাওয়া খুব কঠিন নয়।তোমায় দেখতে এসেছি। আমি আর এক মুহুর্তের জন্য তোমায় চোখের আড়াল করবো না।"

"দেখুন আপনি যা বলার কাল বলেছেন।এটা আমার কাজের জায়গায় প্লীজ এখানে কোনো ড্রামা করবেন না।আমার ফেসলস করবেন না।দয়া করে এখান থেকে চলে যান।"


হঠাৎ প্রিন্সিপাল ম্যাম এসে বলল"আরে নীল স্যার আপনি এখানে দাঁড়িয়ে কেন?আসুন ভেতরে আসুন। চন্দ্রা স্যারকে নিয়ে ভেতরে আসো।"

"ম্যাম ওনাকে আপনি চেনেন?"

"দেখো মেয়ে কি বলেন।উনি তো আমাদের নতুন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।"

"হায় আল্লাহ আমার কি কোথাও শান্তি নেই!!"

"কিছু বললে চন্দ্রা?"

"না ম্যাম কিছু বলি নি‌। আমি ওনাকে নিয়ে আসছি।"


চন্দ্রা নীলের দিকে তাকাতেই নীল চোখ মারলো। চন্দ্রা দাত কিড়মিড় করতে লাগলো।নীল চন্দ্রার কানের কাছে গিয়ে বলল,"মহারানী এতো তাড়াতাড়ি তোমার কিউট দাঁতগুলো যদি পড়ে যায় তবে আমার বাবুরা তো তোমায় ফোকলা মাম্মা ডাকবে।সেটা কি ভালো লাগবে?"


"আপনি একটা..."

"কি হলো চন্দ্রা নীল স্যারকে নিয়ে আসো।"

"জি ম্যাম আসছি।"

নীলের দিকে চোখ পাকিয়ে বলল,"চলুন স্যার"


নীল স্কুলে গিয়ে মিটিং রুমে ঢুকলো।সবাই সেখানে অপেক্ষা করছে‌। প্রিন্সিপাল ম্যাম বললেন,"স্যার জরুরি মিটিং ডেকেছেন।কারনটা কি জানতে পারি।"

"হ্যাঁ তবে সব স্যার ম্যাম দের আসার পর।"

"এখানে তো সবাই আছে নীল স্যার।"

"সবাই আছে! কই মহারা...!("জিহ্বা কামড় দিয়ে মনে মনে বলল, কন্ট্রোল নীল কন্ট্রোল।)

"বুঝি নি স্যার কি বললেন!"

"চন্দ্রা ম্যাম কই।ওনাকে তো দেখতে পাচ্ছি না।"

"স্যার উনি ক্লাস নিচ্ছেন।রফিক এই রফিক চন্দ্রাকে মিটিং রুমে আসতে বলো।"

চন্দ্রা এসে বলল,"ম্যাম ডাকছিলেন!"

নীল বলল, "এবার তাহলে শুরু করা যাক। আপনাদের এখানে ডাকা হয়েছে বিশেষ একটি কারণে। আপনারা জানেন যে আমাদের স্কুলে কিছু নিয়মকানুন আছে।স্টুডেন্ট এবং টিচারদের জন্য নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এবার আমরা একটা ব্যতিক্রম ধর্মী প্রতিযোগিতার আয়োজন করবো।সেটা অবশ্য একদিনে হবে।আমরা পাঁচ জনকে পুরষ্কৃত করবো‌।পুরষ্কার প্রাপ্ত প্রথম  তিনজন ব্যাক্তিকে  আমাদের কোম্পানিতে ভালো পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।বাকি দুজনকে আমাদের আরেকটা স্কুল আছে সেখানে বদলি করা হবে।অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে কেন এই উদ্যোগ নেওয়া। কিছুদিন আগে প্রিন্সিপাল ম্যাম আমায় ফোন করে জানালেন যে স্কুলে টিচারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হয়ে গেছে।তাই উনি কয়েকজনকে ছাঁটাই করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু আমার মনে হলো‌ যে এখন যদি ছাঁটাই করে দেই তবে তাদের পরিবারের কি হবে।তাই আমি আর আমার ড্যাড মিলে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আশা করি আপনাদের কারোর কোনো আপত্তি নেই।"


সবাই খুব খুশি হলো।এমন একটা উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়‌।


প্রিন্সিপাল ম্যাম বললেন, প্রতিযোগিতা তিনটা ক্যাটাগরিতে বিভক্ত।প্রথম হচ্ছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।গান ,নাচ। দ্বিতীয় হচ্ছে লিখিত পরীক্ষা।এখানে ২০টা প্রশ্ন দেওয়া থাকবে।।আর তৃতীয় হচ্ছে যেমন খুশি তেমন সাজো। প্রতিযোগিতা শুরু হবে কাল সকাল নয়টায়।"

চন্দ্রা বলে উঠলো,"ম্যাম আমি অংশগ্রহণ করতে পারব না।"

নীল বলল,"মিস চন্দ্রাবতী এটা বাধ্যতামূলক। অংশগ্রহণ করতেই হবে।"


পরের দিন যথাসময়ে প্রতিযোগিতা শুরু হলো। চন্দ্রা ছোট বেলায় নাচ গান শিখেছে।তার গানের গলা খুব একটা খারাপ নয়।আর পড়াশোনায় খুব ভালো।তাই প্রথম দুই রাউন্ড খুব ভালোভাবে পেরিয়ে এসছে।দুই রাউন্ড শেষে বিরতি দেওয়া হলো। চন্দ্রা খুব ভয় পাচ্ছে।ও  কি সাজবে ভেবেই পাচ্ছে।নীল দূর থেকে লক্ষ করলো। চন্দ্রার কাছে এসে বলল,"কোনো সমস্যা হয়েছে মহারানী?"


"না "

"হলে আমায় বলতে পারো"


চন্দ্রা ইতস্তত করতে করতে বলল,"কি সাজবো মাথায় আসছে না।"

"তুমি তো মহারানী।মহারানীকে আবার সাজতে হয় নাকি।"

কথাটা বলে নীল চলে গেল। চন্দ্রা ভেংচি কেটে বলল,"উল্লুকের জামাই একটা"


তৃতীয় রাউন্ড শুরু হলো।একে একে সবাই স্টেজে উঠলো।এবার পালা চন্দ্রার।ভয়ে ভয়ে স্টেজে উঠলো। তাকে দেখে সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।পুরো হল জুড়ে নিরবতা। চন্দ্রা মনে মনে ভাবলো তাকে মনে হয় খুব খারাপ লাগছে। নিজেকে নিজে দোষ দিতে লাগল।


"স্টেজে থাকলে আরো অপমান হতে হবে।তার চেয়ে ভালো চলে যাই!"

স্টেজ থেকে নামার জন্য পা বাড়াবে এমন সময় চারদিক থেকে হাততালি দেওয়া শুরু হলো। চন্দ্রা পুরো হা হয়ে রইল। প্রিন্সিপাল ম্যাম এসে বলল,"চন্দ্রা তোমায় পুরো রানীর মতো লাগছে। খুব সুন্দর ভাবনা।"

চন্দ্রা মুচকি হেসে বলল,"ধন্যবাদ ম্যাম"

আপনার সবাই একটু রেস্ট নিন। একটু পরে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। চন্দ্রা গিয়ে সাজ পোশাক গুলো খুলবে এমন সময়---


"একদম আমার মহারানীর মতো লাগছে।এতো সুন্দর একটা মানুষ হতে পারে চন্দ্রাবতীকে না দেখলে জানতাম না।"

"দেখুন আপনি আমায় নিয়ে যা ভাবছেন সেটা কখনোই হবে না।প্লীজ আমায় বিরক্ত করবেন না। আমাকে নিজের মতো করে বাঁচতে দিন।"


নীল দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো,"তোমার বিরহে আমি যে রোজ মরতে মরতে বাঁচি।ছয়টা বছর আমি ঠিকভাবে ঘুমাতে পারি নি। তোমার কথা ভেবে আমার রাতগুলো কেটে যেত‌। সারাক্ষণ মাথায় আসতো তোমায় কিভাবে খুঁজে পাবো!"

"নীল স্যার আমার জীবন আর পাঁচ টা স্বাভাবিক মেয়ের মতো না।"

রফিক এসে বলল,"নীল স্যার আপনাকে স্টেজে যেতে বলছে।নীল কিছু একটা বলবে তার আগেই চন্দ্রা চলে গেল। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী পাঁচজনকে বেছে নেওয়া হলো। চন্দ্রা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। শর্তানুযায়ী প্রথম তিনজন নীলের অফিসে কাজ করবে।নীল তাদের হাতে জয়েনিং লেটার দিলো।


"অভিনন্দন মহারানী।"


সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বাসায় ফেরে। কিন্তু মনের মধ্যে উথাল পাতাল করছে।

"কিভাবে এই অসহ্য লোকটাকে সহ্য করবো রোজ।এর চেয়ে ভালো চাকরিটা ছেড়ে দেই। কিন্তু চাকরী ছেড়ে দিলে নতুন চাকরি পেতে বেশ সময় লাগবে‌‌। আল্লাহ কি করবো আমি!!! ভাইয়ার সাথে কথা বলতে হবে‌।দেখি কোনো সলিউশন দিতে পারে কি না।"

ফায়াজ সব শুনে বলল,"চন্দ্রা কোম্পানিটা অনেক বড়।আমি বলবো এটা তোর জন্য সুবর্ণ সুযোগ।এই সুযোগ টা হাত ছাড়া করিস না।"


ভাইয়ার কথা শুনে চন্দ্রা চাকরিটা করার সিদ্ধান্ত নিলো।তার দুইদিন পর ঠিকানা অনুযায়ী অফিসে গেল।গিয়ে দেখে তার কলিগরাও এসেছে। ওদের দেখে চন্দ্রা একটু সাহস পেল। অফিসের একজন এসে অপেক্ষা করতে বলল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ওদের তিনজনকে ডেকে নেওয়া হলো একটা রুমে।

"হ্যালো এভরিওয়ান আমি সুমন। সবাইকে স্বাগতম।"


একে একে সবাই তাদের পরিচয় দিলো।সুমন সবাইকে কাজ বুঝিয়ে দিল এবং তাদের কেবিন দেখিয়ে দিলো। চন্দ্রা কেবিনে গিয়ে জিনিসপত্র গুছিয়ে নিচ্ছে।এমন সময় নীল এসে বলল,"ওয়েলকাম মহারানী।"


চন্দ্রা ভয় পেয়ে বুকে ফুঁ দিলো।"এভাবে কেউ আসে ?আর একটু হলেই তো...!"

"কিচ্ছু হতে দেবো না তোমার।"

"শুনুন একদম আমায় বিরক্ত করবেন না।যদি বিরক্ত করেছেন তো....।"

"তো কি?"

"তো কিছু না।"

কারোর পায়ের আওয়াজ শুনতেই নীল নিজের কেবিনে গেল।নীলের কেবিন থেকে চন্দ্রাকে খুব ভালোভাবে দেখা যায়।যদিও বুদ্ধিটা নীলাশার।


এভাবে কয়েকমাস কেটে গেল নীল রোজ চন্দ্রাকে ভালোবাসার কথা বলে আর চন্দ্রা সেসবে পাত্তা দেয় না। হঠাৎ একদিন নীলের সাথে অভিরাজকে্........


***চলবে""

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।