চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৯ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৯ )
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৯ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৯ )
মিশিতা চৌধুরী


একটু পর নীল এসে বলল,"মম আমায় এক্ষুনি একবার হাসপাতালে যেতে হবে।"

"কেন আব্বা এখন আবার হাসপাতালে কি? এত্তোগুলো মেহমান এসেছে তুই না থাকলে খারাপ দেখায়।"

"মম তোমায় বলেছিলাম না সাগরের ওয়াইফ প্রেগন্যান্ট।ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে।রক্ত দিতে হবে। আমি আসছি মম।উম্মাহ তুমি একটু ম্যানেজ করে নিও"


নীল বেরিয়ে গেল। নীলের আসতে দেরি হবে শুনে আরু মন খারাপ করে বাগানে গিয়ে বসে রইল। চন্দ্রা এসে বলল,"কি হলো আরু সোনা তুমি মন খারাপ করে আছো কেন?"

"জানো ফুফিমনি মামু আমায় রেখে চলে গেছে।মামুটা আমায় এট্টুও ভালোবাসে না। আমি ওর সাথে কথাই বলবো না।ওর সাথে খেলবো না।"

"সোনা তোমার মামুর হয়তো জরুরি কাজ ছিল তাই আসতে পারে নি। তুমি মন খারাপ করবে না।চলো তোমায় সবাই ডাকছে।কেক কাটতে হবে তো!"


চন্দ্রা ভালোভাবে বুঝিয়ে আরশিকে কেক কাটতে নিয়ে এলো‌।কেক কাটা শেষে সবাই অনেক মজা করলো।হাসি আড্ডা মিলে যেন চাঁদের হাট। খাওয়া দাওয়া সেরে যে যার বাড়ি চলে আসলো।মিসেস সাবিনা চন্দ্রাকে থেকে যেতে বলল। কিন্তু মায়ের শরীর খারাপের কথা বলে চন্দ্রা চলে আসে।পরের দিন শুক্রবার।স্কুল বন্ধ। অনেক রাতে বাড়ি ফিরেছে তাই সকালে ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরি হলো। চন্দ্রা হাত মুখ ধুয়ে রান্নাঘরে গেল,


"আম্মু আজকে সবার জন্য আমি রান্না করি?"

"তোর শরীর তো ভালো না মা। তুই পারবি না।"

"পারবো তো।করি প্লীজ।"

"আচ্ছা।কি কি রান্না হবে আমি বলে দিচ্ছি।"


রান্না শেষ হতে প্রায় অনেক বেলা হয়ে গেছে। দুপুরে আজ সবাই একসাথে খেতে বসেছে। মাংসের টুকরো মুখে দিতে দিতে ফায়াজ বলল,"আজ রান্নার স্বাদ অন্যরকম মজা লাগছে।আম্মু আজ রান্না কে করেছে?"


আয়াত বলল,"বাবাই আমি বলি ?"

"তুমি জানো মা কেন রান্না করেছে?"

"ফুফিমনি করেছে"

"ওহহহ চন্দ্রা করেছে।ওই জন্য খাবারগুলো এতো মজা হয়েছে।"

"কি যে বলো ভাইয়া!"

"ঠিকই তো বলেছি। আমার বোন সবদিক থেকে বেস্ট।"

আম্মু বলল,"হয়েছে এবার তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ কর। তোদের আড্ডা শুরু হলে শেষ হওয়ার নাম ই নেই।"


চাকরি হওয়ার পর থেকে আঁখি আর চন্দ্রার সাথে খারাপ ব্যবহার করে না। চন্দ্রার শশুর শাশুড়ি চন্দ্রার খোঁজ খবর নেয়।


বেশকিছু দিন পর রহমান সাহেব উকিলের সাথে দেখা করতে গেলেন।

"আপনার কাজ কতটা এগিয়েছে বলুন তো? এতো দিন হয়ে গেল আর তো ধৈর্য্য ধরতে পারছি না। চোখের সামনে ঘটে যাওয়া অন্যায় অবিচারগুলো মেনে নিতে পারছি না।"

"রহমান সাহেব এতো অধৈর্য্য হলে চলবে? আপনার কাজ হয়ে গেছে। কাগজপত্রগুলো তৈরি। শুধু স্বাক্ষরটা লাগবে।"

"আলহামদুলিল্লাহ। আপনি যে আমার কত বড় উপকার করলেন আপনার কোনো ধারণা নেই।"

"এটাই আমার কাজ।"


অভিরাজ আর তানিয়ার সংসার ভালোই চলছে‌। মাঝখানে চন্দ্রাকে কষ্ট পেতে হচ্ছে। ধুঁকে ধুঁকে মরছে রোজ।

আরশিকে কোলে নিতে নিতে নীল  বলল"আরু আমার এই শাস্তি আর কতদিন চলবে বলো তো?"

"যতদিন আমার মাথা ঠান্ডা না হয়!

"অ্যাঁ।তা মা জননী আপনার এই আলু সাইজের মাথা কবে ঠান্ডা হবে?"

"শোন মামু একদম আমার মাথাকে আলু বলবি না।তুই ছিলি না কেন অনুষ্ঠানে।থাকলে তো এতো কষ্ট করতে হতো না।"

"আজকালকার বাচ্চাগুলো এতো বজ্জাত হয়। আমার আর মহারানীর বাবুগুলো না জানি কেমন হয়!"


ভেবেই মনে মনে লজ্জায় লাল হয়ে গেছে।


"মামু তুই এতো লজ্জা পাচ্ছিস কেন?"

"এই রে এই মেয়ে দেখি সব বোঝে।"

"হুম হুম সব বুঝি।চল এবার আমায় স্কুলে দিয়ে আসবি।"

"চলো মা আমার।"


নীল বের হবে এমন সময় মিসেস সাবিনা এসে বলল,"আব্বা আমার দেওয়া সময় কিন্তু শেষ হয়ে আসছে।আমি মনে মনে মেয়েও ঠিক করে রেখেছি।"


"কিন্তু মম...।"

"সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমার পছন্দ করা মেয়েকে বিয়ে করতে হবে‌।"


নীল মুখ ভার করে আরশিকে নিয়ে স্কুলে চলে গেল।আরশি কে স্কুলে পৌঁছে সে অফিসে গিয়ে অনুকে মেসেজ করলো,"কিরে পেত্নী কোথায় তুই। আমার কাজটার কি খবর?"

অনু কোনো রিপ্লাই দিলো না।হয়তো কাজে ব্যস্ত আছে।নীলের টেনশনটা দিনে দিনে বাড়ছে।যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব মহারানীকে খুঁজে বের করতে হবে।

চন্দ্রা বেশ উপভোগ করছে নতুন চাকরিটা।যদিও তার কাছে নতুন না।বেশ কয়েক বছরের গ্যাফ ছিলো তাই নিজেকে সেভাবে প্রস্তুত করছে।তার কিছু কলিগ তাকে নিয়ে সমালোচনা করলেও সে এসবে পাত্তা দেয় না। নিজের মতো করে বাচ্চাদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চন্দ্রা ক্লাস নিচ্ছিলো।এমন সময় পিয়ন এসে বলল," ম্যাম আপনার জন্য একজন ভদ্র মহিলা অপেক্ষা করছে!"


"আপনি যান আমি আসছি।"


চন্দ্রা ওয়েটিং রুমে এসে দেখে আঁখি দাঁড়িয়ে আছে।


"ভাবী তুমি এখানে?"

"চন্দ্রা আমার মায়ের শরীরটা ভালো নেই।তাই ও বাসায় যাচ্ছি। তুমি তো জানো মা বাড়িতে নেই।আয়াতের স্কুল ছুটি হতে দেরি আছে।আর আমি চাইছি না ও এমন একটা পরিস্থিতি মুখোমুখি হোক। বুঝতে পারছো কি হয় না হয় আমরা কেউ জানি না। তুমি কি আয়াত স্কুল থেকে বাসায় নিয়ে যেতে পারবে।আর ওর একটু দেখাশুনা করতে পারবে?যদি তোমার সমস্যা হয় তবে সাথে করে নিয়ে যাবো।"

"আচ্ছা ভাবী আয়াত কি আমার কেউ না? তুমি এভাবে বলছো কেন?আমি ওর খেয়াল রাখবো‌।তুমি টেনশন করো না একদম। আম্মু তো বিকেলে বাসায় চলে আসবে। আমি আয়াতকে নিয়ে ফিরবো‌।"

"না না আমি তা বলতে চাই নি। আমি জানি তুমি আয়াতকে অনেক ভালোবাসো।"

"তুমি নিশ্চিন্তে যাও। একদম চিন্তা করো না।"


বিকালে ক্লাস শেষ করে আয়াতের স্কুলে গেল।স্কুলে গিয়ে দেখে আয়াত আর আরশি দাঁড়িয়ে আছে। দু'জন হেসে বলে উঠলো,


"ফুফিমনি!!"

"হ্যাঁ তো আমি।"

আয়াত বলল,"মাম্মা আসে নি কেন?"

"মাম্মা একটা কাজে তোমার নানুর বাসায় গেছে।"


আরশি--মামু টা ও আসে নি এখনও।ফুফিমনি তুমি আয়াতকে নিয়ে চলে গেলে আমি একা একা কি করে থাকবো?

"আরশি সোনা তুমি একা থাকবে কেন?আমরা তো তোমার সাথে আছি। তোমার মামু আসুক তারপর যাবো।"


"সত্যি তোমরা থাকবে!"

"হুম থাকব সোনা।"


নীল অফিসের কাজের চাপে আরশিকে আনার  কথা ভুলেই গেছে।মনে পড়তেই ড্রাইভারকে পাঠিয়ে দিলো আরশিকে আনার জন্য।অনু কল দিয়ে বলল--


"নীল ভাইয়া আমি একটু ব্যস্ত ছিলাম তাই মেসেজের রিপ্লাই দিতে পারি নি।"

"হুম তুই আমাকে অথৈ সাগরে ফেলে এখন ব্যস্ত হয়ে হয়ে পড়েছিস। আমি যে কিছু ভাবতে পারছি না।দুই মাস শেষ হওয়ার  আরমাত্র  কিছু দিন বাকি! এদিকে মম থ্রেট দিচ্ছে।আমার কিছু ভালো লাগছে না রে!"

"নীল ভাইয়া তুমি এতো ভেঙ্গে পড়ো না।আমি কালই চন্দ্রার সাথে দেখা করতে যাবো।"

"দেখ কিছু করতে পারিস কিনা"


চন্দ্রা আরশিকে গাড়িতে তুলে দিয়ে আয়াতকে নিয়ে বাড়ি ফেরে।

"আয়াত মামুনি তুমি গিয়ে জামা কাপড় চেঞ্জ করে একটু রেস্ট নাও।আমি তোমার জন্য নাস্তা নিয়ে আসছি।"


"আচ্ছা"


চন্দ্রার মা রান্না ঘর থেকে বলল,"তুইও ফ্রেশ হয়ে নে। আমি চা করে আনছি।"

"আম্মু তুমি চলে এসেছো!"

"হ্যাঁ একটু আগে এলাম।"


চা খেয়ে চন্দ্রা রেস্ট নিচ্ছিলো। সারাদিন অনেক খাটাখাটুনি হয়েছে।


"কি রে ঘুমাচ্ছিস?"


পরিচিত কন্ঠশুনে হালকা চমকে ওঠে।চোখ মেলে তাকাতেই দেখে অনু দাঁড়িয়ে আছে।


"অনু তুই!"

"হুম হুম কেমন সারপ্রাইজ দিলাম।"

"খুব খুশি হয়েছি রে। কতদিন পর দেখা।"

"হুম তবে আমি একটা হেল্প চাইতে এসেছি।"

"কি হেল্প?সব ঠিক আছে তো? আচ্ছা তুই বস আমি চা করে আনি।তারপর সব কথা শুনবো।


আম্মু এসে বলল,"তোমায় কোথাও যেতে হবে না।আমি নিয়ে এলাম।তোমরা গল্প করো।"


"আন্টি তুমি একদম আগের মতোই আছো। খুব কিউট।"

আম্মু হেসে বলে,পাগলি মেয়েটা কি বলে!!"


আম্মু চা দিয়ে গেল।অনু বলল--


"চন্দ্রা আমার দূর সম্পর্কের এক ভাইয়া আছে না নীল ভাইয়া।ও খুব বিপদে পড়েছে!"

"কি বিপদ?"


অনু চন্দ্রাকে সবটা খুলে বলল।রেকডিংটাও শোনালো।সব শোনার পর চন্দ্রা বলল--


"এতো বছর ধরে একটা মেয়েকে খুঁজছে অথচ পাচ্ছে না।অনু আমার মাথায় একটাই আইডিয়া আসছে জানি না কাজ করবে কিনা।"

"কি আইডিয়া বল?"

"মেয়েটার নাম পরিচয় কিছুই উনি জানেন না। কিন্তু মেয়েটাকে তো দেখেছেন।যদি ওই মেয়েটার একটা পোট্রেট আঁকিয়ে ওটা খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় তবে মেয়েটা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।"

"দারুন আইডিয়া চন্দু।জাস্ট ওয়াও। আচ্ছা তুই তো দারুন আঁকতে পারিস। তুই পারবি না?"

"হুম পারবো।"

"আচ্ছা আমি নীল ভাইয়াকে খবরটা জানাই।"

"হুম "


অনু নীলকে চন্দ্রার আইডিয়ার কথা জানালো। জানানোর পর নীল তো খুশিতে আত্মহারা।


"এই অনু তোর বান্ধবী টার খুব বুদ্ধি।এটা তো আমার মাথায় আসে নি।আমি তোর বান্ধবীর বাসায় চলে আসি এক্ষুনি তাহলে তাড়াতাড়ি খুঁজে পাবো!"

"অস্থির হয়ো না ভাইয়া।আমি আগে চন্দ্রাকে জিজ্ঞেস করি ও তোমার সাথে দেখা করবে কি না।"


"ওকে।"

"চন্দ্রা নীল ভাইয়া এ বাড়িতে আসতে চাইছে।কি বলবো।"

"হুম আসতে বল সমস্যা নেই।"


অনু নীলকে চন্দ্রার বাসার ঠিকানা পাঠিয়ে দিলো। প্রায় চল্লিশ মিনিট পর নীল এসে পৌঁছায় চন্দ্রার বাড়িতে।ভেতরে আসতেই চন্দ্রার আম্মু জিজ্ঞেস করে,"কে তুমি বাবা? কাকে চাইছো?"


"আসসালামুয়ালাইকুম।অনু আসতে বলল!"

"ওয়ালাইকুমুস সালাম।ওহ আচ্ছা ভেতরে আসো।আমি ওদের ডাকছি।"


অনু রুম থেকে বেরিয়ে এসে বলল,"ভাইয়া ইনি হলেন চন্দ্রার আম্মু। আন্টি ও হচ্ছে আমার নীল ভাইয়া।"

"অনু ওকে নিয়ে বসা।আমি চা মিষ্টি নিয়ে আসছি।"

"না আন্টি আপনাকে এতো কষ্ট করতে হবে না।"

"ভাইয়া তুই আয় আমার সাথে।"


নীলকে নিয়ে অনু সোফায় বসলো।দেখে মাঝখানে পর্দা ঝুলছে।ওপাশে কারোর একটা অবয়ব।কে সে নীল কিছুতে বুঝতে পারছে না।


"এই অনু তোর বান্ধবী কোথায়?আর ওখানে ভূতের মতো কে বসে আছে?"

"আরে বোকা ওখানে চন্দ্রা বসে আছে।তুই তোর মহারানীর বর্ণনা শুরু কর‌।এ যে এখানে বলা আছে কি কি বর্ণনা দিতে হবে‌ তুই এটা দেখে একে একে সব বলতে থাকে‌।


অপরপাশে চন্দ্রা আঁকছে আর অবাক হচ্ছে।ওর চেহারার মতো হয়ে যাচ্ছে কেন‌! দুইবার আঁকার চেষ্টা করলো কিন্তু তার মতো হয়ে যাচ্ছে। মনে মনে ভাবলো শেষ পর্যন্ত কি হয় দেখবে। তাই পুনরায় আঁকা শুরু করলো। আঁকা শেষ হওয়ার পর ছবিটা দেখে চন্দ্রা পুরো টাস্কি খেয়ে গেলো।এটা তো তার পোট্রেট‌।

"লোকটা তবে ইয়ার্কি করতে এসছে।দেখাচ্ছি মজা।এই মিস্টার আপনি কি ফাইজলামি করতে এসেছেন।এটা তো আমার পোট্রেট।"


অনু এসে বলে,"কই দেখি? ওমা এটা তো তুই।"


নীল হতবাক হয়ে তাকিয়ে বলল,"মহারানী তুমিইইইইইইইই"

বলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলল।


মিনিট দশেক পর নীলের জ্ঞান ফিরলো। চিৎকার করে বলে উঠলো,"তুমি জানো দিনের পর দিন আমি তোমার অপেক্ষায় থেকেছি।কত রাত না ঘুমিয়ে কেটেছে। তোমায় হারিয়ে ফেলার ভয় আমায় রোজ তাড়া করে বেড়াতো। তোমায় এক দেখাতে এতোটা ভালোবেসে ফেলবো কল্পনা করতে পারি নি।মহারানী আমি তোমায় অনেক ভালবাসি।"


"নীল ভাইয়া এসব কি বলছো তুমি?"

"অনু তোর এই পাগল ভাইকে ড্রামা করতে বারণ কর! কি সব যা তা বলছে?কে মহারানী ভাই?"

"প্লীজ মহারানী আমায় ভাইয়া বলো না। আমার কলিজা ছিঁড়ে খান খান হয়ে যায়।এই ছয়টা বছর পাগলের মত খুঁজেছি। কিন্তু কোথাও খোঁজ পাই নি। এমনকি তোমার নামটা পর্যন্ত জানতে পারি নি।বার বার তোমায় হারিয়ে ফেলেছি এবার হারাতে দেবো না।প্লীজ মহারানী আমায় ফিরিয়ে দিও না।"

"আমি কোনো মহারানী নই।আমি চন্দ্রা"

"তুমিই আমার মহারানী , তুমি আমার চন্দ্রাবতী।"

"নীল ভাইয়া তুই ঠিক নেই চল বাসায় চল। তোর মাথা একটু ঠান্ডা কর।দেখ তুই চন্দ্রা কে ভালোবাসিস এটা যেমন সত্য‌,ঠিক তেমনি চন্দ্রা কিন্তু তোকে চেনেও না।তাহলে তুই কি করে ভাবলি এতো সহজে সবটা মেনে নেবে।ওর মনের অবস্থা ঠিক নেই।ওর বিয়ে ভেঙে...

"অনু আমি মহারানীর আমার চন্দ্রাবতীর অতীত জানতে চাই না।আমি শুধু ওর সাথে বাঁচতে চাই।"

"আচ্ছা আমরা বাসায় গিয়ে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেবো।চন্দ্রা আমরা আসছি রে।তোকে এভাবে হেনস্থা হতে হবে ভাবতে পারি নি।"

"চন্দ্রাবতী আমি খুব শীঘ্রই ফিরে আসবো। তোমায় যখন একবার পেয়েছি আর হারাতে দেবো না।"


এদিকে উকিল রহমান সাহেবকে সব বুঝিয়ে দিল। কাগজপত্রগুলো নিয়ে রহমান সাহেব অফিসে গেল।অভিরাজকে কল করে যেতে বললো অফিস। আধঘন্টা পর অভি অফিসে পৌঁছে রহমান সাহেবের কেবিনে ঢুকলো। ছেলের দিকে না তাকিয়ে বলল---


"বসো।"


অভি চেয়ার টেনে বসলো।

"তোমায় যে অর্ধেক সম্পত্তি লিখে দিয়েছি তার লিগ্যাল করার জন্য কয়েকটা স্বাক্ষর  লাগবে।"

"ওহ আচ্ছা। কোথায় করতে হবে দাও।"


রহমান সাহেব কাগজগুলো বের করে অভির সামনে রাখলো।মনে মনে টেনশন করছে যদি অভি কাগজের লেখাগুলো পড়ে তাহলে সর্বনাশ হয়ে যাবে।অভি কাগজগুলো হাতে নিয়ে না দেখেই স্বাক্ষর করতে লাগলো। রহমান সাহেবের কষ্ট হচ্ছে তিনি কাউকে কিছু দিয়ে কখনো ফিরিয়ে নেন নি।এই প্রথম ফিরিয়ে নিচ্ছেন।তাও নিজের ছেলের থেকে।অভি মনে মনে খুশি হলো।'ফাইনালি আমার হচ্ছে সব!"

কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তানিয়াকে কল করে সবটা জানালো।ভাবলো এত বড় একটা খুশির খবর একটু সেলিব্রেট করা যাক। অনেক খাবার কিনল। তানিয়ার জন্য ফুল নিয়ে বাসায় পৌঁছালো।যদিও তানিয়া ফুল পছন্দ করে না।রুমে পা দেবে এমন সময় শুনলো তানিয়া চুপিচুপি কারোর সাথে ফোনে কথা বলছে। অভি আড়ি পেতে সবটা শোনার চেষ্টা করছে। কিছুক্ষণ পর অভির হাত থেকে খাবারগুলো পড়ে গেল। পড়ে যাওয়ার শব্দে তানিয়া....


***চলবে***

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।