চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৭ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৭ )
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৭ )


চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৭ )
মিশিতা চৌধুরী


ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলাম ২৯/৩০বছরের  একটা ছেলে পাশে দাঁড়িয়ে আছে।দেখতে শ্যাম বর্ণের।ছেলেটার পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে বেশ দামি।হয়তো এই কোম্পানিতে চাকরি করে। মাথায় ঘন সিল্কি চুল বাতাসে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।চুল ঠিক করতে করতে ছেলেটা আবারও বলতে লাগলো--

--আপনি অনেক স্পষ্টভাষী। এ ধরনের মেয়ে আজকাল দেখা যায় না।আচ্ছা আপনার নাম টা জানতে পারি?আমি আদিয়াত আবরার  নীল।

--প্রথমত আমি আপনার ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য এসব বলি নি।আর দ্বিতীয়ত আমি আপনার নাম জানতে চাই নি। আপনি ঠিক বলেছেন আমি স্পষ্টভাষী।তাই সরাসরি এবং সহজভাবে বলছি নিজের কাজ করুন।


গাড়িতে উঠে পড়লাম বাসায় যাওয়ার জন্য।যাওয়ার পথে একটা চাকরির খবরের কাগজ নিলাম।


এদিকে নীল তো ভীষণ খুশি।সব কাজ সেরে বাসায় ছুটলো। বাসায় এসে---

--মম মম কোথায় তুমি তাড়াতাড়ি এসো।


মিসেস সাবিনা দৌড়ে ছেলের কাছে আসলো।"কি হয়েছে আব্বা এত চিৎকার করছিস কেন?"


মমকে জড়িয়ে ধরে বলল--মম আমি আমার মহারানীর খোঁজ পেয়ে গেছি যাকে এতো দিন ধরে খুঁজে বেড়াচ্ছি আজ তার দেখা পেয়েছি মম।


--আরেহ আব্বা কোন মহারানী? কার কথা বলছিস?

--ছয় বছর আগে যাকে দেখে ভালোবেসে ফেলেছি সেই মহারানীকে আজ দেখতে পেয়েছি।

--সত্যি।কোথায় দেখেছিস।তার নাম ফোন নাম্বার কিছু এনেছিস।দে আমায়। আমি আজকেই বিয়ের প্রস্তাব পাঠাবো।

"মম তোমার ছেলের মাথায় এতো বুদ্ধি আছে নাকি।বড় বড় ডিল হ্যান্ডেল করে ঠিকই কিন্তু প্রেমের বেলায় অষ্টরম্ভা জুস খেতে খেতে নীলের বোন নীলাশা কথাগুলো বললো।

"কিরে আব্বা দে ?"


নীল বাচ্চাদের মতো ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,"মম আমি তো ওসব জানি না।"


নীলাশা বলে উঠলো,

"যে ছয় বছর ধরে একটা মেয়ের নাম জানতে পারে নি।সে আবার করবে‌ প্রেম।ভাই তোর দ্বারা এসব হবে না রে।"

"মম তোমার ঐ কুটনী মেয়েটাকে চুপ করতে বলো নইলে ওর চুল গুলো টেনে দেবো কিন্তু"

"আহহহ কি শুরু করলি দুটোতে।এখন কিন্তু দু'জনেই কান মলা খাবি।"

"নানুমনি তুমি মাম্মাকে কান মলে দেবে। হিহিহি খুব মজা হবে। সবসময় আমায় পিট্টু দেয় আজ তুমি মাম্মাকে পিট্টু দেবে।"

"হুম দেবো তো আরু সোনা। খুব করে পিট্টু দেবো। তুমি এখন খেলা করো।আমি তোমার মামুর সাথে কথা বলি হ্যাঁ‌।"

"আচ্ছা।এই মামু  আমার চকলেট কই?দে তাড়াতাড়ি।"

"এই তো বুড়ি তোমার চকলেট।"


আরশি রুমে চলে যেতেই মিসেস সাবিনা বলে উঠলো,"দেখ আব্বা এসব পাগলামি অনেক করেছিস।এসব এবার ছাড়।আমি বলি কি ওই মেয়েটাকে ভুলে তুই অন্য কাউকে বিয়ে করে সংসার শুরু কর"

"মম আমি মহারানীকে খুব ভালোবাসি।এই ছয়টা বছর হন্যে হয়ে খুঁজেছে।আজ তার দেখা পেলাম।মম নিশ্চয়ই এবার ভালো কিছু হবে"

"আব্বা আবেগ দিয়ে জীবন চলে না।দেখ আমাদের বয়স হচ্ছে।যদি তোর একটা সুখের সংসার দেখে যেতে না পারি তবে মরেও শান্তি পাবো না।"

"মম প্লীজ এসব বলবে না।আমায় একটু সময় দাও আমি ঠিক ওকে পাবো।"

"ঠিক আছে।আমি তোকে দুই মাস সময় দিলাম। তুই যদি এই দুই মাসের মধ্যে ওই মেয়ের নাম, পরিচয় খুঁজে বের করতে পারিস তবে আমি নিজে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেবো।আর যদি না পারিস তবে আমি যাকে পছন্দ করবো তাকে বিয়ে করতে হবে!"

"আচ্ছা আমি রাজি।আমি তোমার দেওয়া সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করবো।"


মিসেস সাবিনা চলে গেল আরুর সাথে খেলতে।নীল ভাবতে লাগলো কিভাবে তার মহারানীর খোঁজ পাওয়া যায়।"


তানিয়া  প্রচন্ড রেগে বাসায় চলে আসে। রুমে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করে দেয়।অভি এসে বলে-

"কি হয়েছে বেবি এতো রেগে আছো কেন? অফিসে কিছু হয়েছে?"

"তোমার এক্স ওয়াইফ আজ অফিসে এসে সবার সামনে আমায় খুব অপমান করেছে।ঐ মেয়ের সাহস কি করে হয় আমায় অপমান করার।অভি তুমি এর প্রতিশোধ নাও।ঐ মেয়েটার এমন অবস্থা করো যেন আমার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।"

"পুরো ঘটনাটা বলো আমায় কি হয়েছে!"


তানিয়া অভিকে বানিয়ে বানিয়ে সবটা বলল।অভি শুনে বলল--

"ওর এতো সাহস।আমার কলিজাকে অপমান করে।দেখো আমি ওর কি হাল করি।"


অভির মা এতোক্ষণ আড়ালে দাঁড়িয়ে সবটা শুনেছে।অভির কথা শুনে উনি বললেন--

"মেয়েটার জীবন টা নষ্ট করে তোদের শান্তি হয় নি।এখন উঠে পড়ে লেগেছিস আরো খারাপ অবস্থা করার। খবরদার অভি তুই এই মেয়ের কথা শুনিস না।ও যা বলেছে তা সম্পূর্ণ সত্য নয়।"


তানিয়া বলল,"এই বুড়ি একদম চুপ।আমাদের মাঝখানে কথা বলার অধিকার কে দিয়েছে।এক্ষুনি আমার রুম থেকে বের হও। নইলে...

"ঠাসসসসস। আমার আম্মুর সাথে এভাবে কথা বলার স্পর্ধা হয় কি করে তোমার।আমার আম্মুর সাথে ভদ্রভাবে কথা বলবে।"

"অভিইইই ।তুমি আমার গায়ে হাত তুললে!"

"হ্যাঁ তুলেছি। দরকার পড়লে আবার তুলবো।আর কখনো আমার আম্মুর সাথে এভাবে কথা বলতে যেন না শুনি। বুঝতে পেরেছো?"


তানিয়া কাঁদতে কাঁদতে ছাদে চলে যায়। অভির আম্মু মনে মনে খুশি হয়।"যাক ছেলের বিবেক পুরোপুরি নষ্ট হয় নি।চন্দ্রাকে একটা কল করি---

"হ্যালো বেয়ান। আসসালামুয়ালাইকুম।

"ওয়ালাইকুমুস সালাম। কেমন আছেন?

"জি আলহামদুলিল্লাহ‌।আমার বৌমা কোথায়।বৌমাকে ফোনটা দেওয়া যাবে?"

"হ্যা অবশ্যই।ও তো মাত্র এলো। আপনি একটু ধরুন আমি ফোনটা দিয়ে আসছি‌।"


চন্দ্রা চাকরির খবরে চোখ বুলাতে লাগল।কয়েকটা জায়গায় মার্ক করে রেখেছে। হঠাৎ চোখে পড়লো একটা স্কুলের জন্য শিক্ষিক শিক্ষিকা খুঁজছে। নিচে একটা নাম্বার দেওয়া আছে ওই নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। চন্দ্রা দেরি না করে ওই নাম্বারে কল করে।কল করে জানতে পারে ওই স্কুলে ইমারজেন্সি কিছু টিচার প্রয়োজন।পরশু দিন থেকে সাক্ষাৎকার শুরু হবে। চন্দ্রা মনে মনে খুশি হলো।চন্দ্রার মা এসে ফোনটা হাতে দিয়ে বলল তোর শাশুড়ি।


"হ্যালো আম্মু"

"কিরে মা  কেমন আছিস?"

"ভালো আছি মা।তুমি কেমন আছো?"

"ভালো আছি।বৌমা আমায় তুই মাফ করে দে।আমি তোকে আগলে রাখতে পারি নি।"

"আম্মু তুমি এভাবে বলছো কেন।যা হয়েছে তাতে কারোর হাত নেই।আমার ভাগ্যে আল্লাহ যা রেখেছেন তাই হয়েছে।আমি আমার ভাগ্যকে মেনে নিয়েছি।দেখো আমি পুরনো সব কিছু ভুলে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে চাই। জীবন একটাই।অন্যের জন্য কোনোভাবে নষ্ট করবো না।যে আমায় মনে রাখেনি আমিও তাকে ভুলে যাবো।হয়তো কাজটা খুব কঠিন কিন্তু অসম্ভব নয়। আমার জন্য দোয়া করবে। তোমাদের সবার দোয়া আমার খুব দরকার।"

"আমার দোয়া সবসময় তোর সাথে আছে।তুই সব কাজে সফল হবি এ আমার বিশ্বাস।"

"বাবা কোথায়?"

"তোর বাবা একটা দরকারি কাজে বাইরে গেছে।যারা তোর এতবড় ক্ষতি করেছে। তোর বাবাকে ধোঁকা দিয়েছে তাদেরকে উপযুক্ত শাস্তি পেতেই হবে।"


চন্দ্রা তার শাশুড়ির সাথে কথা বলা শেষ করে চাকরির জন্য পড়াশোনা শুরু করলো।যদিও তার অভিজ্ঞতা আছে।তাও কোনো ধরনের রিস্ক নিতে চাইছে না।


তানিয়া ছাদে বসে আছে।অভি মাথা ঠান্ডা করে তানিয়ার কাছে এলো।

"তানিয়া তখনকার ব্যবহারের জন্য আমি দুঃখিত।আমি তোমার গায়ে হাত তুলতে চাইনি। কিন্তু আমার কিছু করার ছিল না। তুমি আম্মুর সাথে এভাবে কথা বলবে না। আমার খুব খারাপ লাগে"


তানিয়া চুপ করে আছে। কিছুই বলছে না।


"কিছু তো বলো।আচ্ছা তুমি আমায় যা শাস্তি দিতে চাও দাও আমি কিচ্ছু মনে করবো না।"


তানিয়া কান্নার ভান করে বলে, আমি খুব হার্ট হয়েছি বেবি। আমি ভাবতে পারি নি তুমি এমনটা করতে পারো।"

"আই এম সরি বেবি"

"সরি বললে হবে না।"

"কি করতে হবে তাহলে। তুমি যা চাইবে আমি তাই করবো!"

"সত্যি বলছো বেবি! কিন্তু আমি যা চাই তুমি তা দিতে পারবে না।

"বলেই দেখো দিতে পারি কি না।এই অভিরাজ পারে না এমন কোনো কাজ নেই।

"ঠিক আছে বেবি তাহলে তোমার বাবা সম্পত্তির যে অংশ তোমার নামে করে দিয়েছে ওটা আমার চাই!"

"আমার মানেই তো তোমার। এখানে আবার লিখে দেওয়ার কি আছে!"

"আগেই বলেছি দেবে না।"

"কি যে বলো বেবি। এইটুকু তো তুড়ি মেরে করে দেবো।দলিলটা আমার হাতে আসুক তারপর দেখো কি করি।"

"লাভ ইউ বেবি!"

"লাভ ইউ টু।চলো এবার রুমে যাই।

অভি তানিয়ার হাত ধরে রুমে চলে গেল।


এদিকে নীল তার মহারানীর খোঁজ করে চলেছে।ভাবছে কি ভাবে মমকে দেওয়া কথা রাখবে।যদি না পারে তবে...

"নো নো নো।যে করেই হোক মহারানীর খোঁজ পেতে হবে। নইলে কোনো এক সাঁকচুন্নি পেত্নীর সাথে বিয়ে করিয়ে দেয়।ও মাই গড। ইটস্ ইম্পসিবল।নীল তুই পারবি। তোকে পারতেই হবে।


ভাবতে লাগলো কিভাবে পাওয়া যায়।ভাবতে ভাবতে একটা আইডিয়া এলো।পরের দিন সকালে সে তানিয়ার অফিসে গিয়ে সবাইকে জিজ্ঞেস করতে লাগলো। কিন্তু কেউ কিচ্ছু জানে না।


নীলের প্রচন্ড কষ্ট হলো একটা মানুষ এভাবে হাওয়া হয়ে যায় কিভাবে।আপন মনে বলতে লাগলো--


"তুমি খুব নিষ্ঠুর মহারানী।আমি তোমায় খুঁজতে খুঁজতে হয়রান আর তুমি...

কি হয় একবার আমার কাছে এসে আমায় জড়িয়ে ধরলে। তোমার ভালোবাসার অভাবে আমি যে দিন দিন দেখতে শেওড়া গাছের পেত্নি হয়ে যাচ্ছি সে খেয়াল আছে।আচ্ছা ছেলেরা তো পেত্নি হয় না।পেত্নি তো মেয়েরা।তবে ছেলেরা কি হয়!!!

মহারানীর সাথে দেখা হলে জেনে নেবো।ও মহারানী আমি যে কঠিন বিপদে পড়েছি তুমি এসে আমায় উদ্ধার করো নইলে মেয়ে পেত্নিরা আমার আস্ত রাখবে না।"

"আরে নীল ভাইয়া না!!তুমি এখানে একা একা কার সাথে কথা বলছো?"

"অনু তুই!! কতদিন পর দেখা। কোথায় ছিলি এতদিন? আমাদের বাসায় আসিস না কেন?"

"আর বলো না অফিসে কাজের এতো প্রেসার কোথাও যাওয়ার সময় পাই না গো।তুমি এখানে কি করছ?কারোর সাথে দেখা করতে এসেছ নাকি!"

"নারে অন্য একটা জরুরী কাজে এসেছি।কাজ শেষ চলে যাচ্ছিলাম।"

"ওহ আচ্ছা"

"শোন না আমার একটা কাজ আছে এখন আমি আসছি।ও হ্যাঁ তোর ফোন নাম্বার টা অফ কেন?কল করলে পাওয়া যায় না।"

"আগের সিমকার্ডটা হারিয়ে ফেলেছি। নতুন সিমকার্ড নিয়েছি।

 "ওহ আচ্ছা। নতুন নাম্বার টা দে তোর সাথে অনেক কথা আছে।"

"নাও এটা আমার নাম্বার।"


নীল আরো বেশ কয়েক জায়গায় খোঁজ করলো কিন্তু নাম পরিচয়হীন কাউকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন।


পরের দিন সকাল বেলায় চন্দ্রা রেডি হয়ে ইন্টারভিউ দিতে গেল।স্কুলে ঢুকেই খুব সুন্দর একটা বাগান দেখতে পেলো।আগের স্কুলেও ঠিক এমন একটা বাগান ছিল। বাচ্চাদের সাথে নিয়ে সে বাগান টা তৈরি করে।দারোয়ান এসে বলল,

"কাকে চাই?"

"ইন্টারভিউ দিতে এসেছি।"

"ওহ আচ্ছা ভেতরে এসে অপেক্ষা করুন।একটু পরে শুরু হবে।"


চন্দ্রা অপেক্ষা করতে লাগলো।ঘন্টা খানেক পর তার নাম ধরে ডাকা হলো।ভেতরে গিয়ে বসতেই তাকে একের পর একে প্রশ্ন‌ করতে  থাকে।সে সুন্দরভাবে উত্তর দিতে লাগল। হঠাৎ  কেউ বলল--

"আরে চন্দ্রা। তুমি এখানে কি করছ?"

"ইন্টারভিউ দিতে এসেছি ম্যাম।"


ওখানকার একজন পরীক্ষক বলল,"উনি কি আপনার পরিচিত?"

"পরিচিত মানে উনি আগে আমাদের পুরনো স্কুলে পড়াতেন। বিয়ের পর চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছেন।আচ্ছা তুমি আমায় বলো নি কেন তুমি আবার স্কুলে ফিরতে চাও! বললে তো এতো কষ্ট করে ইন্টারভিউ দিতে হতো না "

"আসলে ম্যাম..."

"ঠিক আছে আসল নকল পরে শুনবো।শুনুন ওনার ইন্টারভিউ নেওয়ার দরকার নেই।উনি সিলেক্টেড।"

"না ম্যাম আমি এভাবে চাকরিটা নিতে পারবো না।বাইরে শত শত মানুষ সকাল থেকে অপেক্ষা করছে ইন্টারভিউ দেবে বলে।আমি আপনার পরিচিত বলে আমি কোনো সুবিধা চাই না ম্যাম।আমায় ক্ষমা করবেন।স্যার আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি আমার ইন্টারভিউ টা নিন।আমি যদি যোগ্য হই তবেই আমি চাকরিটা পাবো।"


ম্যাম তখন বলল,"এটাই হলো আমাদের চন্দ্রা।এইজন্য তোমায় এতো ভালোবাসি।নিন আপনারা শুরু করুন।"


স্যাররা আবার প্রশ্ন শুরু করলেন।প্রায় ১৫ মিনিট পর ইন্টারভিউ শেষ করে বাইরে এলাম।যেহেতু অনেকেই পরীক্ষা দিয়েছে তাই রেজাল্ট দিতে ৪/৫ দিন লাগবে।


নীল রাতে বাসায় এসে অনুকে কল দিলো।

"হ্যালো অনু।"

"হ্যা নীল ভাইয়া।"

"কাল একবার আমার সাথে দেখা করতে পারবি।"

"কোথায় আসতে হবে বলো।"

"গতকাল যেখানে দেখা হয়েছিল সেখানে। আমি পাশের ক্যাফেতে থাকবো।"

"আচ্ছা আসব"


নীল তার মহারানীর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়লো। ঘুম থেকে উঠে দরকারি কাজগুলো সেরে অনুর সাথে দেখা করতে গেল।ক্যাফেতে বসে অপেক্ষা করছে। একটু পর অনু এসে বলল--

"বলো কি বলতে চাও?"

"একটা বড় বিপদে পড়ে গেছি রে।মম বলেছে দুইমাসের মধ্যে যদি মহারানীকে খুঁজে বের করতে না পারি অন্য কাউকে বিয়ে করতে হবে।"


হুম বুঝলাম কিন্তু এই মহারানীটা কে?....



***চলবে***


(আসসালামুয়ালাইকুম। কেমন আছেন সবাই? গল্পটা কেমন লাগছে জানাবেন।যদি কোনো ভুলত্রুটি হয় ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন🙂🙂🙂)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।