চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৩ )

চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৩ )
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৩ )


চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৩ )
মিশিতা চৌধুরী


তারপর ওই মেয়েটার নাম্বারে একটা মেসেজ করলাম। লিখেছি,"জান তুমি তাড়াতাড়ি আমার বাসায় এসো। আমার একটা ছোট্ট এক্সিডেন্ট হয়ে গেছে। আমার বউকে নিয়ে ভেবো না। আমি একটা কিছু ব্যবস্থা করে নেবো।প্লীজ সোনা তাড়াতাড়ি এসো। তোমাকে বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে।"


মেসেজটা পাঠিয়ে ফোনটা অফ করে দিলাম। ওয়াশরুমে গিয়ে পানির কল ছেড়ে চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। নিজেকে খুব অসহায় মনে হতে লাগলো। কিছুক্ষণ পরে অভি এসে ডাকাডাকি শুরু করলো, চাঁদ এই চাঁদ কোথায় তুমি?ফোনটা কোথায় রেখেছো?


হাত মুখ মুছে বেরিয়ে আসলাম।"কি ব্যাপার তুমি এতো তাড়াতাড়ি চলে এসছো?"

*কাজ শেষ হয়ে গেছে ।আচ্ছা আমার ফোনটা কোথায় রাখছো?"

"আজকাল আমার চেয়েও ফোনকে বেশি মিস করো দেখছি। ফোন চার্জ আউট হয়ে গেছে।তাই চার্জে দিলাম।"

আমায় কাছে টেনে বললো,"কি যে বলো না!সব থেকে তুমি বেশি দরকারি।"

অভির হাত ছাড়িয়ে বললাম,আচ্ছা তাই!"

মনে মনে খুব রাগ হচ্ছে। কিন্তু আমায় এখন সহজে ধৈর্য্য হারালে চলবে না। বিশ্বাসঘাতকের মুখোশটা সবার সামনে আনতে হবে।ওর সামনে থাকলে আমি যে কোনো সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবো।

"তুমি রেস্ট নাও।আমি মায়ের ঘরে যাচ্ছি।রুম থেকে বের হয়ে দেখি মা বসার ঘরে বসে আছে। মায়ের কাছে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালাম। এমন সময় পেছন থেকে কেউ একজন বলে উঠল,"এক্সকিউজ মি।অভি বাড়িতে আছে?"

মেয়েটার মুখের দিকে তাকাতেই বুঝতে বাকি রইল না।এ সেই মেয়ে।মাথা ঠান্ডা রেখে বললাম,

"জি আছে। কিন্তু আপনি কে?"

"অভি আমায় চেনে।ওকে একটু ডেকে দেন।"

"আপনি আমার সাথে আসুন।আমি অভিকে ডেকে দিচ্ছি।"


মেয়েটাকে মায়ের কাছে নিয়ে গেলাম।

"বৌমা ইনি কে?"

"জানি না মা। আপনার ছেলেকে খুঁজছে।আমি অভিকে ডেকে আনছি।"

তক্ষুনি অভি এসে বলল,"কাকে ডাকার কথা হচ্ছে? মা আমার একটা জরুরী কাজ পড়ে গেছে। তাড়াতাড়ি ফিরে আসবো। চাঁদ এক গ্লাস পানি দাও।

আমি অভিকে পানি দিতেই মেয়েটা বলল,"অভি"


অভির মেয়েটার দিকে এক নজর তাকাতেই হাত থেকে গ্লাসটা পড়ে গেল। এতোক্ষণ বোধহয় মেয়েটার দিকে তাকায় নি।

"ত তো তুমি এখানে কি করছ তানিয়া?"

"কি করছি মানে! তুমিই তো মেসেজে বললে এক্সিডেন্ট হয়েছে।এখন তো দেখি দিব্যি সুস্থ আছো।"

--অভি তুমি কি ওনাকে চেনো?

--না মানে আসলে।

--এতো আমতা আমতা করছো কেন?

--চাঁদ ও আমার ভার্সিটি ফ্রেন্ড।

--শুধুই ফ্রেন্ড?

মেয়েটা তাড়া দিয়ে বলে উঠলো,অভি আমি এখন আসছি"

আমি বললাম,"আরে আপনি কোথায় যাচ্ছেন ? প্রথমবার বাড়িতে এসেছেন না খেয়ে একদম যেতে দেবো না।"

অভি বলল,"ও যখন যেতে চাইছে  তখন ওকে...."


মা বলল,"অভি তোর ভার্সিটির সব ফ্রেন্ডকে তো চিনি।ওরা অনেকবার বাসায় এসেছে।কিন্তু আগে কখনো তানিয়াকে দেখি নি"

--"মা আমি তো সবাইকে বাসায় আনতাম না।"

--"কি ব্যাপার বৌমা আমায় কল করে আসতে বললে কেন?কোনো সমস্যা হয়েছে?"

--"হ্যাঁ বাবা আজ একটা সারপ্রাইজ আছে"

--"কিসের সারপ্রাইজ চাঁদ? তুমি তো আমায় বলো নি?"


অভির গাল টেনে বললাম,বলে দিলে কি আর সারপ্রাইজ থাকতো!"

--বাবা মা আমি তোমাদের একটা কথা জানানোর ছিল। 

--কি মা বলো?"

--"আমি এই বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি চিরকালের জন্য।"

--"বৌমা  এসব কি বলছো? বাড়ি ছেড়ে চলে যাবে মানে টা কি?"

বাবা বললো,"কি হয়েছে তোমার মা?"

--"চাঁদ তুমি এসব কি বলছো? বাড়ি ছাড়বে মানে কি?"


তানিয়া বলে উঠলো, তোমাদের পারিবারিক আলোচনার মধ্য আমি থাকতে চাই না।আমি বরং এখন আসি।"

আমি বললাম,"তুমি কোথায় যাচ্ছ? তুমি গেলে সারপ্রাইজ দেবো কি করে?"

--"মানে?"

--"মানে টা খুব সহজ। বুঝতে না পারার মতো কিছু বলি নি। অভি আমি তোমার ফোন থেকে তানিয়াকে মেসেজ করে আসতে বলেছি। মা বাবা আপনারা এখানে সবার বড়।আমি আপনাদের কিছু জিনিস দেখাতে চাই।"

বাবা অবাক হয়ে বলল"কি দেখাবে?"

আমি ছবিগুলো বাবার হাতে দিলাম।বাবা বাকরুদ্ধ ভাবে তাকিয়ে মায়ের দিকে বাড়িয়ে দিল।


অভি ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,"বাবা এগুলো কিসের ছবি?দাও আমায়।"

মা অভিকে ছবিগুলো দেখালো।অভি যেন আকাশ থেকে পড়ল।"মা এগুলো সব ফেইক। বিশ্বাস ক...."

--"ঠাসসসসস ঠাসসসস।  তোর মতো কুলাঙ্গার ছেলের মুখে বিশ্বাসের কথা মানায় না।দূর হয়ে যায় আমার চোখের সামনে থেকে।"

--"চাঁদ তুমি আমায় ভুল বুঝছো।"

--অভি আমি ঠিক তাই বুঝেছি।সেদিন তুমি খাওয়া ছেড়ে তানিয়ার সাথে দেখা করতে যাও নি?মা কে মিথ্যা বলো নি?"

--"তুমি কি ভাবে জানলে?"

--"তুমি যখন তোমার গার্লফ্রেন্ড ওফসস সরি তোমার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলে তখন আমার এক বান্ধবী তোমাদের দেখে ফেলে।আর আমায় একটি ভিডিও পাঠায়।"


মা অবাক চোখে তাকিয়ে বলল,"বৌমা দ্বিতীয় স্ত্রী মানে?"

--"মা তানিয়া আপনার ছেলের বউ।দেশে ফেরার দুইদিন আগে ওরা রেজিস্টি ম্যারেজ করেছে।অভির জামা কাপড় বের করতে গিয়ে দেখি একটা ব্যাগ লক করা।চাবিটা খুঁজে ব্যাগ খুলে ওদের বিয়ের কাবিন নামা দেখতে পাই। এই যে।"


কাবিননামা হাতে নিয়ে মা বলল,"তুই কি মানুষ?এতো নিচে নেমে গিয়েছিস? ঘরে এতো সুন্দর বউ রেখে আরেকটা মেয়েকে.....ছি ছি ছি!তোর গায়ে হাত দিতেও আমার ঘৃনা লাগছে।"

--"অভির মা তোমায় বার বার বলেছিলাম যে ছেলেকে এতোটা প্রশ্রয় দিও না।দেখলে তো আজ তার পরিণতি"

আমি অভির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।ও নিচের দিকে তাকিয়ে আছে।

--"অভি তোমার যখন অন্য কাউকে পছন্দ ছিল আমায় বলতে পারতে।আমি তোমায় ছেড়ে বহুদূর চলে যেতাম।আমায় এমন ঠকালে কেন?

আমার বিশ্বাস ভরসা এভাবে কেন ভাঙলে?এই চারটা বছর প্রতিটা মুহূর্তে তোমার অপেক্ষায় থেকেছি। তোমায় নিয়ে দিনের পর দিন স্বপ্নগুলো সাজিয়েছি। তুমি সেই স্বপ্নগুলো এভাবে নষ্ট করে দিলে?

আমার চোখ অনবরত পানি ঝরতে লাগল। আমি তো এমন জীবন চাই নি। সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে চেয়েছিলাম।এটাই কি আমার অপরাধ!


অভি তানিয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ালো।বলল..........


****চলবে***

*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।