প্রাক্তন (পর্ব ১ ও ২) - মিশিতা চৌধুরী

প্রাক্তন (পর্ব ০১)
মিশিতা চৌধুরী


 ক্লাস করানো শেষে বাসায় ফিরবো বলে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ড্রাইভার কল করে বললো আসতে ঘন্টাখানেক লাগবে। ভাবলাম লাইব্রেরী গিয়ে সময় কাটানো যাবে। এক পা বাড়াতে পেছন থেকে মেয়েলি কন্ঠে কারোর ডাক শুনতে পেলাম। 

"এক্সকিউস মি। প্রিন্সিপাল স্যারের রুমটা কোন দিকে বলতে পারেন?"

গলার স্বরটা পরিচিত মনে হলো। ঘুরে চোখাচোখি হলো একজোড়া পরিচিত চোখের সাথে।কিছু মূহূর্ত যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।

আনমনে অস্পষ্ট কন্ঠে বলে উঠলাম, "ঋতু"

চলে গেলাম সাত বছর আগে। ঋতুর সাথে পরিচয় ফেসবুকে একটা পোস্টে কমেন্টের মাধ্যমে। জানতে পারলাম আমাদের পাশের জেলায়। তারপর টুকটাক কথা বার্তা চলতে থাকে রোজ। ওর কথা বলা সরলতা আমায় খুব আকর্ষন করতো। সবচেয়ে সুন্দর ছিল ওর হাসি। 

ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম আমি ওর মায়ায় পড়ে গেছি।  পরিচয় হওয়ার দুই বছরে অনেক ঝগড়া মান অভিমান হয়েছে। ও সবসময় বলতো কখনো রিলেশনে যাবে না। আজকালকার ভালোবাসা গুলো খুব অল্প সময়ের জন্য হয়। ঋতু বলতো, রাশেদ এখনকার ভালোবাসা গুলো লোক দেখানো। প্রকৃত ভালোবাসা দেখা যায় না।

 আমি সবসময় ঋতুকে মিস করতাম। বলে দিতে চাইতাম যে সব ভালোবাসা লোক দেখানো হয় না। কিন্তু সে যদি আমার সাথে বন্ধুত্ব নষ্ট করে দেয় সে ভয়ে বলতাম। যখনি কষ্ট লাগতো। ওকে পাওয়ার জন্য, ভালোবাসার জন্য ছটফট করতাম তখনই ওর থেকে অনেক দূরে চলে যেতাম। তিন-চার মাস কথা হতো না। তারপর স্বাভাবিক হয়ে আবার ঋতুর সঙ্গে কথা বলতাম। মেয়েটা খুব বুদ্ধিমতি ছিলো। সব বুঝতে পারতো। 

------------------------------------------------------------

ঋতু পড়াশোনা করতো ভার্সিটিতে। আমি তখন অর্নাস মাস্টার্স শেষ করে বাবার ব্যবসায়ে জয়েন করলাম। একদিকে বাবার ব্যবসা অন্যদিকে ঋতুর সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো। আমার জীবনটাকে আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় রহমত মনে হতে লাগলো। আবার না পাওয়ার যন্ত্রণা নিজেকে ভেতর থেকে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে। এ কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে  বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গেলাম দশদিনের জন্য। বন্ধুদের সাথে থাকাকালীন ঋতুর সাথে যোগাযোগ করি নি। 

প্রাক্তন (পর্ব ১ ও ২) - মিশিতা চৌধুরী
প্রাক্তন (পর্ব ১ ও ২) - মিশিতা চৌধুরী


দশদিন পর এসে দেখলাম মেয়টার কোনো মেসেজ নেই। অবাক হয়ে গেলাম। ও তো এমন না। নাম্বারটা অফ পেয়ে পাগলের মতো করতে লাগলাম। তবে কি হারিয়ে ফেললাম। চিৎকার করে কাঁদতে লাগলাম। আমার জীবনটা যেন থেমে যাচ্ছে। কোনো কিছুতে মন বসছে না। 

রাতের পর রাত ওর সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো আর মেসেজ গুলো পড়ে কাটিয়ে দিতে লাগলাম।

"কেনো ছেড়ে গেলে আমায়? থাকতাম না হয় বন্ধু হয়ে । তবুও কাছেই তো থাকতে বলো! প্লিজ ফিরে এসো আমার কাছে।"

এভাবে প্রায় একবছর কেটে গেল। আমি নিজেকে কিছুটা সামলে উঠেছি। যদিও স্মৃতিগুলো এখনো ঝলমলে আলোর রোশনাইয়ের মতো তার ঔজ্জ্বল্য ছড়ায় প্রতিনিয়ত। এতো খোঁজাখুঁজির পরও যাকে পেলাম না। ধরে নিলাম সে ইচ্ছে করে হারিয়ে গেছে‌। যে নিজেকে আড়ালে রাখে , লুকিয়ে রাখে তাকে খুঁজে পাওয়া খুব কঠিন কাজ। 


হঠাৎ একদিন...........

#গল্প_প্রাক্তন
#পর্ব_০১
#মিশিতা_চৌধুরী


প্রাক্তন (পর্ব ০২)

হঠাৎ একদিন বিকেল বেলায় ফেইসবুকে স্কলইং করছিলাম। ঋতুর আইডির মতো হুবহু সেম একটা আইডি চোখে পড়লো। খুশিতে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিলাম। প্রায় একবছর পর আবার এভাবে তাকে খুঁজে পাবো ভাবতে পারি নি। আইডিতে ঢুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাই সাথে একটা মেসেজ দিলাম। দুই তিন পর মেসেজের রিপ্লাই আসলো,

" কে আপনি? ঠিক চিনতে পারি নি।"

আমি ভাবলাম ঋতু আমার সাথে মজা করছে। আমিও মজার ছলে বললাম,

"ওমা আমি তো তোমার বয়ফ্রেন্ড এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলা জান?"

কয়েকটি রাগি ইমুজি দিয়ে বললো ,"ফাজলামি করার জায়গা পান নি"। মেয়েদের দেখলে কথা বলতে ইচ্ছে করে না? এই আপনাদের মতো বাজে কিছু ছেলের জন্য আজ পুরুষ জাতি কলুষিত। নেক্সট টাইম আর মেসেজ দিবেন না।"

তখন মনে হলো ঋতু সত্যি আমায় ভুলে গেছে। খুব কষ্ট পেলাম। এতো তাড়াতাড়ি একটা মানুষ কি করে ভুলে যেতে পারে। তবে কি সত্যি ওর মনে আমার কোনো জায়গা নেই।

আমি ওকে আগের সব কথা মনে করাতে লাগলাম। কিছু স্ক্রিনশর্ট পাঠালাম। তারপর আবার আমাদের কথা বলা শুরু হলো। চিনতে না পারার জন্য অনুতপ্ত হলো।

"সরি রাশেদ। আসলে আমি এতো দিন অফলাইন ছিলাম তাই তোমায় চিনতে পারি নি। তুমি কিছু মনে করো না প্লিজ।"

"আরে ধুর কি যে বলো! মনে করবো কেন?-

নিজে নিজে ঠিক করলাম এবার ঋতুকে মনের কথা বলে দেবো আর হারাতে পারবো না। হারানোর যন্ত্রণা মৃত্যুর চেয়েও ভয়ানক। কিন্তু কিভাবে বলবো ঠিক বুঝো উঠতে পারছিলাম না। একটা পর একটা চিন্তা মাথায় এসে জড়ো হতে লাগলো। দুইদিন ভাবনার পর সিদ্ধান্ত নিলাম ওর সাথে দেখা করে প্রপোজ করবো। 

-আর দেরি করা যাবে না। এক্ষুনি একটা কল দিয়ে বলি। হ্যালো ঋতু। কেমন আছো?

-আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। তুমি কেমন আছো?

-হুম ভালো। আসলে তোমার সাথে আমার জরুরি কথা আছে। কলে বলা যাবে না। আমরা কি দেখা করতে পারি যদি তোমার কোনো অসুবিধা না হয় তবে?

-কি যে বলো! অসুবিধা হবে কেন? তুমি আমার খুব ভালো বন্ধু হও। কবে দেখা করতে চাও?

-তুমি বলো। তুমি কবে আসতে পারবে?

-সোমবার আমার ক্লাস নেই। ওইদিন দেখা করি ?

-আচ্ছা ঠিক আছে।

-ওকে ।

খুব সুখি সুখি লাগছে। প্রথমবার ওর সাথে দেখা করতে যাবো। একটু নার্ভাসও লাগছে। অবশেষে সেদিনটা এলো। প্রায় তিন বছর ধরে জমানো অনুভূতিগুলো এবার প্রকাশ পাবে। ভয় হচ্ছে অনেক। আমার অনুভূতির সাথে তার অনুভূতিগুলো মিলেমিশে একাকার হবে তো ? নাকি  আলাদা বাঁক নিয়ে চলে যাবে অজানা অচেনা পথে!! হাজার একটা চিন্তা ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের ভেতরে ঘুরপাক খেতে লাগলো। 

সোমবার সকালে রেডি হয়ে বেরিয়ে গেলাম। নির্দিষ্ট ঠিকানায় পৌঁছে ঋতুকে কল দিলাম।

-"হ্যালো কই তুমি? আর কতক্ষন লাগবে?

-এই তো আর দশ মিনিট লাগবে।

-আচ্ছা তাড়াতাড়ি এসো। অপেক্ষায় আছি।

ঋতুর সঙ্গে কথা বলা শেষ করে অপেক্ষা করতে লাগলাম। একটু পর ঋতু আসলো। আমি দেখে পুরো অবাক।মনে হলো আমার সামনে কোনো পরী দাড়িয়ে আছে। 

-এই রাশেদ ওভাবে কি দেখছো হুম?

মুচকি হেসে বললো, "তোমায় ছাড়া আর কাউকে দেখার সাহস নেই শাহজাদি গুলবাহার।"

-হাহাহাহা। খুব মজা করতে পারো তুমি রাশেদ। 

ঋতুর সাথে সারাদিন ঘুরাঘুরি শেষ করে একটা রেস্টুরেন্টে খেতে আসলাম। ভেতরে ভেতরে খুব টেনশন হচ্ছে।

ঋতুর হাত টা ধরে বললাম........


***চলবে***


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।