প্রাক্তন (পর্ব ০৫)

প্রাক্তন (পর্ব ০৫)
প্রাক্তন (পর্ব ০৫) 



প্রাক্তন (পর্ব ০৫)
মিশিতা চৌধুরী

প্রাক্তন (পর্ব ৩ ও ৪)

কালই আমি ওই মেয়ের বাসায় যাবো।ওর মা বাবার সাথে কথা বলবো। তুই একদম চিন্তা করিস না।ওর বাসার ঠিকানা দে আমায়।

-না  আম্মু। তুমি এমন করো না। ও আমায় বন্ধু ছাড়া অন্য কিছু ভাবে না।ওর একটা সম্পর্ক আছে। আমি চাই না আমার জন্য সেটা নষ্ট হয়ে যাক। তাছাড়া সে তো আমায় ভালোবাসে না। 

-বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে।তুই এতো ভাবছিস কেন?

-আম্মু মন ভাঙ্গা অনেক কষ্টের । আমি  চাই না কোনোভাবে ঋতু সে কষ্টটা পাক।

-রাশেদ.....

-প্লিজ আম্মু তুমি আর এসব নিয়ে ভেবো না। কিছু চাওয়া অপূর্ণ থাকুক।

-একটা বার চেষ্টা করতে দে আমায়।

-তুমি এটা নিয়ে আর এগোবে না কিন্তু। এখানেই শেষ। যদি আমায় না জানিয়ে তুমি কিছু করো তবে তুমি আমায় আর এই বাড়িতে দেখতে পাবে না। এতোটা দূরে চলে যাব যেখান থেকে কেউ ফিরে আসে না।

-না বাবা এমন কথা মুখে আনিস না।ঠিক আছে আমি আর এই ব্যাপারে কথা বলবো না।

-প্রমিস করো।

-হুম প্রমিস করলাম। আমি একটা ভালো মেয়ের সাথে তোর বিয়ে দেবো। আর এক মুহূর্তও দেরি  করা যাবে না। 

-এতো কিছু জানার পরও তুমি বিয়ের কথা বলছো আম্মু?

-হুম বলছি। কারণ তোর একটা সঙ্গীর দরকার যাকে তুই বন্ধু হিসেবে সব সময় কাছে পাবি।যে তোকে সবসময় আগলে রাখবে। সুখে দুঃখে একসাথে থাকবে।

-যা ভালো মনে হয়। আম্মু একটা মেয়ের জীবন নষ্ট করার অধিকার আমার নেই।আমি কখনও তার সাথে মানিয়ে নিতে পারবো কিনা জানিনা। এতে তার প্রতি অন্যায় করা হবে।

-পারবি বাবা। বিয়ে একটা পবিত্র বন্ধন। আল্লাহর রহমত থাকে। আর যে আসবে তাকে সবটা জানিয়ে আমাদের একজন করে নিয়ে আসবো। আগামীকাল আমরা মেয়ে দেখতে যাবো। তৈরি থাকিস।

-আমি যাবো না। আমার একটা মিটিং আছে।

-আচ্ছা জোর করবো না।আমি আর তোর বাবা গিয়ে দেখে আসবো‌। পছন্দ হলে আংটি পরিয়ে আসবো।

-আমি আসছি আম্মু‌।

-------------------------------------------------------------

রাত্রি বেলায় অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় গেলাম। ঋতুকে খুব মিস করছি। ভাবলাম একটা কল দেই। কল দিলাম কিন্তু কল ওয়েটিং আসলো।হয়তো ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। নিজের কাছে বার বার হেরে যাচ্ছিলাম‌। আর নিতে পারছি না এই কষ্টটা। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। ঘন্টাখানেক পর ঋতুর কল----

-সরি রাশেদ। শিশিরের সাথে কথা বলছিলাম তখন।

-আরে সরি বলছো কেন! তোমায় খুব মিস করছিলাম তাই ভাবলাম একটু কথা বলি।

-তাই

-হুম।আচ্ছা ঋতু শিশির যদি তোমার লাইফে না আসতো তবে কি তুমি আমায় এক্সসেপ্ট করতে?

-জানি না।

-ঋতু আমি তোমায় খুব ভালোবাসি। কোনো কি উপায় নেই আমার ভালোবাসা গ্রহণ করার?

-রাশেদ আমি অন্য একজনের সাথে ওয়াদা করেছি।

-আমরা তো কত সময় কত কি প্রমিস করি। সব তো রাখতে পারি না।প্লিজ একবার আমায় সুযোগ দাও।

-রাশেদ তুমি এসব বলো না। আমার শুনতে ভালো লাগে না।

-আমি তোমায় ছাড়া কি করে থাকবো! আমার বড্ড কষ্ট হয়।

-প্লিজ ঋতু।

-আমি রাখছি এখন।

ঋতু কলটা কেটে দিলো। আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে বসে আছি। কিছু কি করার নেই। 

-রাশেদ বাবা খেতে আয়। 

-আসছি 

আম্মুকে বুঝতে দেওয়া যাবে না।আম্মু কষ্ট পাবে। খাওয়ার ইচ্ছা নেই তাও জোর করে একটু খেয়েছি। রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। ঋতুর কথা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম মনে নেই।

এভাবে কেটে গেল এক সপ্তাহ। এতো গুলো দিন ঋতুকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছি। পারি নি। আজ আমার গাঁয়ে হলুদ।বাসা ভর্তি মেহমান গিজগিজ করছে।

হ্যাঁ সেদিন আম্মু যাকে দেখতে গিয়েছিল তার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। যাকে নিজের করে পেতে চাইলাম সে অধরাই থেকে গেলো। আম্মু ঋতু এবং তার পরিবারকেও দাওয়াত করেছে। কিন্তু ঋতুর ফুফু অসুস্থ হয়ে পড়ায় ওনারা সবাই গ্ৰামে গেছে। ওরা আসবে না শুনে মনটা আরো বেশি খারাপ হয়ে গেল। বিয়েতে এলে একবার চোখের দেখাটুকু দেখতে পেতাম।হয়তো এটাই আল্লাহর সিদ্ধান্ত। ভাগ্যটাকে মেনে নিতে হবে।কোনো উপায় নেই।

বিয়ের দিন সকাল থেকে অনেকবার কল করেছি কিন্তু তাকে বোঝাতে আমি ব্যর্থ। আকুল হয়ে মিনতি করে গেলাম।সে তার সিদ্ধান্তে অনড়। আমার  আর্তনাদ তার কাছে পোঁছায় নি। 

অবশেষে বিয়ের কাজ শুরু হলো। কবুল বলতে গিয়ে ভেতরটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছে। নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না। এই একটা শব্দ জীবনকে অন্য বাঁকে নিয়ে যাবে‌।আমি আর চাইলেও ঋতুকে পাওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারবো না।

বাবা বললো---

-রাশেদ বাবা কবুল বলো। 

বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আনমনে কবুল বলে দিলাম।

বিয়ের পালা শেষ। নতুনভাবে জীবন শুরু নতুন মানুষের সাথে। আমার উচিত তাকে সবটা খুলে বলা। পরে হয়তো ভাববে ঠকিয়েছি।

পৃথিবীর সকল অস্বস্তি নিয়ে বাসর ঘরে ঢুকলাম। আমি বোধহয় প্রথম যার নিজের রুমে ঢুকতে ইচ্ছে করছে না। কিন্তু নিয়ম পালন করতে হবে। রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। বিছানার উপর একটা মেয়ে শাড়ি আর ভারী ভারী গহনা পড়ে বসে আছে। বসা থেকে উঠে এসে আমায় সালাম করলো। আমি বললাম-

-আপনার নাম কি?

মেয়েটা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

-কি হলো? কিছু বলছেন না যে?

-আপনি আমার নাম জানেন না?

-হুম জানি(আসলে আমি ওর নামটা জানি না।আম্মু বলতে চেয়েছে কিন্তু শুনতে চাই নি)। আপনার মুখ থেকে শুনতে চাই।

-আমার নাম সিদরাতুল মুনতাহা।সবাই মুন বলে ডাকে।

- মাশআল্লাহ। খুব সুন্দর নাম। আপনি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসুন আপনার সাথে আমার দরকারি কিছু কথা আছে।

-জি আচ্ছা।

মুন ফ্রেশ হতে গেল। আমি ভাবতে লাগলাম কিভাবে কথাগুলো বলা শুরু করবো। ভাবতে ভাবতে মুন এসে বললো......


প্রাক্তন (পর্ব ০৬)  পড়ুন


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।