রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-৭ ও শেষ)

রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-৭ ও শেষ)
রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-৭ ও শেষ)



গল্পঃ ভয়ংকর রহস্য
পর্বঃ ৭ ও শেষ
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২০
বিভাগঃ ভুতের গল্প


----------------------------
রিয়াজ কি করবে ভাবতে না ভাবতেই আবার সেই পাঞ্জাবি পাগড়ী আর তসবিহ হাতে জ্বীনটাও রিয়াজের রুমে হাজির হয়।রিয়াজ সবার দিকে তাকিয়ে ভাবছে," অনেক তো রক্ষা পেয়েছি,এতোগুলো আত্মার থেকে রক্ষা পাবো কিভাবে। রিমিও চলে গেছে।আজকেই কি আমার গল্পের সমাপ্তি হবে...?"।

রিয়াজ তাদের উদ্দেশ্য বলল,
- আচ্ছা, আমি মানছি তোমরা আমাকে মারতে চাও। আমি এইটাও মেনে নিলাম,আমাকে মারার পর তোমাদের কোনো স্বার্থ নেই।যদিও স্বার্থ থাকে,তবে সেটা এমন কি হতে পারে,যার জন্য আমাকে খুন করতে চাও তোমরা।
ছেলে জ্বীন বলল,
- তুই আমার মা কে হত্যা করেছিস, তোকে মেরে আমি তার প্রতিশোধ নিবো।
রিয়াজ বলল,
- ঠিক আছে,আমি মেনে নিলাম আমি তোমার আম্মুকে মেরেছি। কিন্তু এইটার প্রমান কি? আমি তোমার আম্মুকে বাঁচিয়েছি, সেটার জলজ্যান্ত প্রমান তুমি নিজেই।আর তোমার আম্মুকে মেরেছি,তার প্রমান কি আছে?
জ্বীন বলল,
- আমাদের জ্বীন রাজ্যের কয়েকজন দেখেছে তুই আমার মা কে মেরেছিস। তারাই প্রমান আমার কাছে।
রিয়াজ বলল,
- আর যদি আমি বলি তোমার মা কে আমি খুন করিনি,আর সাথে এইটাও প্রমান করে দিবো,তোমার মায়ের খুনি অন্যজন। শুধু তাই নয়,সেই খুনি কে,সেটাও আমি বের করে দিবো।মুখের কথায় নয়,কাজে প্রমান দিবো। কি বলবা তুমি?
জ্বীন বলল,
- বেচে যাওয়ার ধান্দা করছিস?
রিয়াজ বলল,
- নাহ,কোনোমতেই নয়।তুমি প্রমান দেখাও আমি খুন করেছি,তাহলে আমি সব শাস্তি মাথা পেতে নিবো।তবে হ্যা,তোমার নিজের চোখের দেখা প্রমান হতে হবে।
জ্বীন বলল,
- ঠিক আছে, সেটাই হোক।এখন কি আমি এই আত্মাগুলোকে আক্রমন করবো? তোমাকে বাচানোর জন্য? ( জ্বীনের মুখে এমন কথা শুনে আত্মারা ক্ষেপে গেছে।রিয়াজ জ্বীনের উদ্দেশ্যে বলল)
- না,আত্মা হোক বা অশরীরী। কেও অন্যায় ভাবে কখনোই কাজ করেনা।অন্যায় করে এই মানবজাতি। মানবজাতির অন্যায়ের শিকার হয়ে আত্মারা নিজেদের প্রতিশোধের আগুনে জ্বালাতে চায়। আমি যেমন তোমার সমস্যা সমাধান করবো বলেছি,তেমনি এদেরকেও আমি মুক্তি দিবো।তুমি আসতে পারো,আমি স্বরন করলে হাজির হবা।
- আচ্ছা ( জ্বীন সেখানেই অদৃশ্য হয়ে যায়।এইবার রিয়াজ বৃদ্ধা আত্মাটার দিকে তাকিয়ে বলল)
- ক্ষমা করবেন।জানি,অতৃপ্ত আত্মারা কখনো মানুষকে মনের ভাব প্রকাশ করতে চায়না।তাদের উদ্দেশ্য হয় প্রতিশোধের, আর সেটা না হওয়া অব্দি মুক্তি পায়না তারা। আপনাদের সাথে আমার দ্বন্দ্ব লেগেছে এইজন্য,কারণ আমি রনি,রবি,রাকিব,রিফাত আর জুয়েলকে সাহায্য করতে চেয়েছি। কিন্তু এইটাও জানতে হবে,আমি তাদের সমস্যা দেখে তাদের সাহায্য করেছি।আপনারাও আমাকে বলুন,কি হয়েছে।আমি নিশ্চয় আপনাদের সাহায্য করবো।

রিয়াজ কথাটা বলার সাথে সাথে রিয়াজের রুমে একটা কম্পন শুরু হয়। চারপাশ নড়াচড়া শুরু করেছে।কাচের গ্লাসটা কেপে কেপে টেবিল থেকে পড়ে যায়। ভেঙ্গেও গেছে। দেওয়ালে টাঙ্গানো রিমির ছবিটাও ভেঙ্গে পড়ে গেছে।এদিকে বৃদ্ধা আত্মা দুজন কান্না করতে শুরু করেছে।সেই ভয়ংকর কান্নার শব্দ রিয়াজ আগে কখনো শুনেনি। তাদের গলা ফাটানো চিৎকারে কান্নার শব্দটা রিয়াজের হার্ডবিট অব্দি পৌঁছে গেছে। যতই সাহসী হোক,এই কান্নার শব্দে যেনো সবাই ভয়ে কাতুর হয়ে যাবে। জানালা গুলোও পেটাপেটি শুরু হয়েছে। রুমে একটি ভয়ংকর বাতাসের আগমন ঘটে। রিয়াজ যে বিছানায় শুয়ে আছে,সেই বিছানাটাও নড়াচড়া খাচ্ছে।রিয়াজ ভয় পেয়েও,তাদের কান্না থামাচ্ছেনা।রিয়াজ বুঝতে পেরেছে,অতীতে তাদের সাথে যা হয়েছে,সব মনে করছে তারা।এখন তারা খুব দুখিনী হয়ে আছে।রিয়াজ নিজেকে কন্ট্রোল করে রেখেছে।হটাৎ রিয়াজের বিছানার পাশে বাতাসের বেগে চলে আসে ছেলে আত্মাটা। সে আসতেই রিয়াজের রুমে একটু আগে যে কম্পন হয়েছিলো,তা শেষ হয়ে গেছে। রিয়াজকে যুবক আত্মাটা বলল,

- তোর ব্যাপারে অনেক কিছু জানি। তুই আত্মাদের নিয়ে খেলা করিস,সেটাও জানি। তুই হয়তো এখন ইচ্ছে করলেই,আমাদের মেরে ফেলতে পারবি। তুই আত্মাদের দ্বিতীয়বার মারার শক্তি রাখিস। তবুও আমাদের মনে যে প্রতিশোধের আগুন জ্বলে,তা আমরা ঠান্ডা করতে পারিনা। সকাল ১০ টায় গুলিস্তান চৌরাস্তার ওভারব্রিজ এ রওনা করিস।আমার বিশ্বাস তুই রহস্য বের করতে পারবি।এখন আসি।

রিয়াজের রুম স্তব্ধ হয়ে গেলো। শুনশান হয়ে যায় বাড়িটি। রিয়াজ মনে মনে বলল," মূর্খ আত্মা, আমার কাঠিটা কোথায় রেখেছি নিজেও জানিনা।তোকে কিভাবে মারবো। আত্মারা এতো মূর্খ হয় জানতাম নাতো? তবে ভালো হয়েছে।একটা সূত্র পেয়ে গেছি। তারমানে অশরীরীরা সেটাই দেখে,যা তাদের দেখানো হয়।তারা সেটাই বুঝে,যা তাদের বুঝানো হয়।যেমন জ্বীনের এতো পাওয়ার থাকা শর্তেও সে শিওর না আমি হত্যাকারী কিনা।অন্যদের কথায় আমাকে মারতে এসেছে। আর এইটাই আমি কাজে লাগাবো। রিয়াজ রহস্য নিয়ে খেলা করে,রহস্য রিয়াজকে নিয়ে নয়। coming soon সোনামণিরা।

রিয়াজ বিছানা ছেড়ে উঠে। পুরো রুমে নিজের তৈরিকৃত জাদুর কাঠিটা খুজতে লাগলো। খুঁজতে খুঁজতে রিয়াজ ড্রইংরুমে আসে। এসে দেখে ফ্লোরের উপর কাঠিটা জ্বলজ্বল করছে। রিয়াজ কাঠিটা হাতে নেয়। এরপর চলে যায় নিজের ল্যাবে। ল্যাবের মধ্যে রিয়াজের প্যারানরমাল নিয়ে গবেষণা করা সকল বই আছে। রিয়াজ খুঁজতে লাগলো " খুলিয়া" নামক বইটি। এই বইয়ে একটা ব্যাপার নিয়ে লেখা আছে। তা ব্যবহার করে কাঠির উপর প্রয়োগ করলে,কাঠিটা যেখানেই থাকুকনা কেনো,নিজের হাতে অদৃশ্য হয়ে কাঠিটা চলে আসবে। রিয়াজ বইটি খুঁজতে খুঁজতে অনেক কষ্টে বের করে। এরপর বইটি মেলে সেখানে একটি চিহ্নিত করা লাইনটা পড়া শুরু করে," শেষ প্রহরী গ্রন্থিক করি ভেসে উঠিবার তরে"। লাইনটা পড়েই রিয়াজ কাঠির উপর হাত রাখে। তখনি কাঠির উপর একটা লাল আলো জ্বলে উঠে। রিয়াজের হাত খুব জ্বলছে।হয়তো মন্ত্র কাজ করছে রিয়াজের দেহ থেকে রক্ত চুষে। রিয়াজ কাঠি ধরেই রেখেছে। আলোর গতি ধীরে ধীরে বেড়েই যাচ্ছে।এই পর্যায়ে পুরো রুমে লাল আলো ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে রিয়াজের হাত জ্বলেপুড়ে যন্ত্রণা দিচ্ছে। রিয়াজ যন্ত্রণায় কাতর হয়ে চিৎকার দেওয়া শুরু করে। এদিকে আলোর গতি বেড়েই যাচ্ছে। রিয়াজ কাঠিটা হাতের মুঠের মধ্যে ধরেই রেখেছে। রিয়াজের ল্যাবে লাল আলো ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছেনা।আলোটা যেনো রিয়াজের হাত থেকেই বের হচ্ছে। রিয়াজ যন্ত্রণায় চিৎকার দিতে লাগলো।কিন্তু কাঠি ছাড়া যাবেনা। কাঠির উপর এই জাদু প্রয়োগ করতেই হবে। নয়তো যেকোনো সময় কাঠির অভাবে বিপদে পড়তে পারে।রিয়াজ জোরে চিৎকার দিতে লাগলো।হাতের মধ্যে যেনো অগ্নিশিখা ধরে আছে রিয়াজ।আলোটা যেনো রিয়াজের হাতের চামড়া ছিদ্র করে ফেলছে। রিয়াজের বাড়ির বাহির থেকেও দেখা যাচ্ছে বাড়ির ভিতর থেকে লাল আলো বের হচ্ছে।এদিকে রিয়াজ কাঠি মুঠের মধ্যেই ধরে আছে। জানালা বেয়ে লাল আলোর প্রভাব বাহিরে চলে গেছে। এরপর রিয়াজ খেয়াল করছে রিয়াজের পুরো হাত লাল হয়ে গেছে। যেনো রিয়াজের হাতটা লোহার মতো গরম হয়ে লাল হয়ে গেছে।রিয়াজের দেহের প্রতিটা অংশে প্রবেশ করা শুরু করে লাল আলোটা। রিয়াজের যন্ত্রণা আরো বেড়ে যায়। লাল আলোটা রিয়াজের হাত বেয়ে উপরে উঠছে।যেনো কোনো টাইম বোম ফিট করা হয়েছে।একটু পর বিস্ফারণ হয়ে সব শেষ হয়ে যাবে।রিয়াজের গলার আওয়াজ আরো বেড়ে যায়। লাল আলোটা রিয়াজের হাতের ভিতর দিয়ে উপরে উঠতে শুরু করে।এরপর ঘাড় বেড়ে মুখে চলে আসে।রিয়াজের মুখটাও লাল আগুনের মতো হয়ে গেছে। রিয়াজের চোখ দিয়ে লাল আলো বের হওয়া শুরু করেছে। যেনো চোখে দুইটা লাল লাইট লাগানো হয়েছে।রিয়াজ চিৎকার দিতে গিয়েও বুঝতে পারে,রিয়াজের মুখের ভিতর থেকে লাল আলো বের হচ্ছে। বাড়ির বাহিরে পুরো লাল আলোয় সব কিছুর রঙ লাল করে ফেলেছে।রিয়াজ বুঝতে পেরেছে আলোটা রিয়াজের দেহের ভিতর প্রবেশ করেছে। ধীরে ধীরে আলোটা রিয়াজের মস্তিস্কে প্রবেশ করে। রিয়াজের চুলের প্রতিটা গোড়া থেকে লাল আলোর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।প্রতিটা চুলের গোড়া লাল হয়ে গেছে।রিয়াজ ভয়ংকর চিৎকার শুরু করে। অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার অবস্থা চলে এসেছে। এই যন্ত্রণা আর সহ্য করার মতো নেই। রিয়াজ চিৎকার করতে করতে হটাৎ বাড়ির ভিতর থেকে একটা আলোর বিস্ফারণ ঘটে। আশেপাশে একটা ধমকা বাতাস তেড়ে গিয়ে সব লণ্ডভণ্ড করে দেয়।

কিছুক্ষণ পর.....
রিয়াজ চোখ মেলে দেখে ল্যাবে ফ্লোরের উপর শুয়ে আছে। কাঠিটা হাতের মুঠোয় আছে। পুরো দেহ ব্যাথায় টনটন করছে। রিয়াজ ফ্লোর থেকে উঠে ল্যাবের দরজা খোলে। ল্যাব ত্যাগ করে ড্রইংরুমে আসে রিয়াজ। সোফায় বসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়। কাঠিটা নিজের পকেটে গুজিয়ে নিয়ে রিয়াজ জ্বীনকে ডাকতে লাগলো। রিয়াজ মুখ দিয়ে বলার আগেই জ্বীনটা হাজির হয়ে গেছে। জ্বীন বলল,
- বল, কি প্রমান এনেছিস।
- এখনো শুরু হয়নি। আমি তোমাদের জ্বীন রাজ্যে যেতে চাই।
- সম্ভব নয়। কোনো মানুষ জ্বীন রাজ্যে প্রবেশ নিষেধ। দেখাযাবে পরে আমাকেই তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
- জ্বীন রাজ্যেই তোমার মায়ের খুনি বসবাস করছে।
- মানে?
- তুমি এক কাজ করো। আমাকে জ্বীনের সম্পুর্ন রুপ দাও। আমার চেহারা জ্বীনদের মতো সুন্দর করে দাও। যাতে কেও সন্দেহ না করে।
- কিন্তু তোকে দেখলেই তারা বুঝে যাবে তুই মানুষ। মানুষের গন্ধ জ্বীনেরা পায়।
- তার ব্যবস্থা আমি করবো।তুমি আমাকে রুপ ধারণ করার শক্তি দাও। আর জ্বীন রাজ্যে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দাও।
- তুই নিশ্চত তো? সত্যিই পারবি?
- দেরি কইরোনা। সময় কম হাতে। প্রমান করতে না পারলে তো এমনিই তোমার হাতে মরতে হবে। তো প্রমান করতে গিয়েই নহয় মরলাম।অন্ততপক্ষে বেচে যাওয়ার একটা চান্স তো থাকবে।তাড়াতাড়ি রুপ দাও।
- রুপ সেই কবেই দিয়েছি। আয়না দেখো।

রিয়াজ সোফা থেকে উঠার সময় খেয়াল করে শরীর ব্যাথা একটুও নেই। পুরো শরীর যেনো আরো শক্তিশালী হয়ে গেছে। হেটে রিয়াজ আয়নার সামনে গিয়ে দেখে,রিয়াজের চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেছে। সাদা চামড়া, তারউপর চোখ দুটোয় মায়ার সাগর ভেসে উঠে। দেহ আগের থেকে একটু লম্বা হয়ে গেছে। রিয়াজ পকেট থেকে কাঠি বের করে নিজের মাথায় চেপে ধরলো। কাঠিটা আবার ধীরে ধীরে জ্বলে উঠতেছে। রিয়াজ আয়নায় দেখে,কাঠিটার আলো ধীরে ধীরে বাড়তেছে। মনে মনে বলল রিয়াজ," দেখ কাঠিভাই, আগের মতো রেগে যাসনে।একটু যন্ত্রণা ছাড়া কাজ কর।জ্বীনের সামনে মান ইজ্জৎ রাখিস"। পরক্ষণেই কাঠির আলো নিভে গেলো। রিয়াজ চমকে উঠে,কাঠি আবার রাগ করে নষ্ট হতে গেলো নাতো? রিয়াজ কাঠিটা হাতে নিয়ে ঝাঁকাচ্ছে। হটাৎ কি হলো কাঠির। তখন জ্বীন পিছন থেকে বলল," আরে বাহ,তোর দেহ থেকে তো জ্বীনদের সুভাষ বের হচ্ছে। মানুষের একটুও গন্ধ নেই।মনে হচ্ছে তুই সত্যি সত্যি জ্বীন"। রিয়াজ অবাক হয়ে পিছনে তাকায়। তারমানে কাঠিটা কাজ করেছে। জ্বীনের সামনে ভাব নিয়ে রিয়াজ বলল," আমি তো জানি আমি কি জিনিষ "।

- কিন্তু এইটা কিভাবে করেছিস? কোনো মানুষ কিভাবে জ্বীন হয়ে যেতে পারে।
- সেটা পরে।চলো জ্বীনরাজ্যে। সময় কম।

জ্বীন রিয়াজের হাত ধরে। রিয়াজকে বলে চোখ বন্ধ করার জন্য।রিয়াজ জ্বীনের কথায় চোখ বন্ধ করে।এরপর আবার চোখ মেলে দেখে,রিয়াজ জ্বীন রাজ্যে হাজির।চারদিকে সাদা আর সাদা।গাছপালা, নদীনালা সবি সাদা।রিয়াজ বলল,
- এখানে আসার কোনো লিপ্ট ছিলো নাকি।চোখ বন্ধ করতে আর খুলতেই হাজির।
- তুই কাজ শুরু কর।
- আমি বুঝিনা।তুমি আমাকে তুই তুই করে ডাকো কেন।ভুলে যেওনা আমি তোমার বড়।
- তোর মৃত্যু এখন আমি। যখন প্রমান দিবি,তখন সম্মান পাবি।
- বেক্কল জ্বীন ( মনে মনে বলল রিয়াজ)
- কিছু বলেছিস?
- কই নাতো? আমাকে তাদের কাছে নিয়ে যাও,যারা তোমাকে বলেছিলো তোমার মা কে আমি খুন করেছি।
- চল।

রিয়াজের হাত ধরে নিমিষেই জ্বীন অন্য জায়গায় চলে আসে।এখানে এসেই রিয়াজ দেখে বড় বড় দুইটা জ্বীন রিয়াজের সামনে।রিয়াজ কিছু করার আগেই,জ্বীন দুইটা রিয়াজকে পায়ের নিছে পিষিয়ে ফেলেছে।তাদের পায়ের নিছে পড়ে রিয়াজের দেহ ফেটে যায়।রক্তে ভেসে যায় জ্বীন রাজ্য।

লাফ মেরে উঠে রিয়াজ।এদিকে সেদিক তাকিয়ে দেখে,রিয়াজ এখনো ল্যাবে শুয়ে আছে। কাঠি হাতের মধ্যেই আছে।শরীর ব্যাথা।রিয়াজ বুঝতে পেরেছে এতক্ষণ স্বপ্ন দেখেছে সে।যাইহোক, রিয়াজ ল্যাব ত্যাগ করে ড্রইংরুমে আসে।এসে সোফায় বসে।এরপর জ্বীনকে স্বরন করবে ভাবছে,কিন্তু করছেনা।জ্বীন রাজ্যে গিয়ে প্রমান করবে ভেবেছে।এখন তো রিয়াজ ভুলেও যাবেনা।ওখানে গিয়ে কারো পায়ের নিছে পড়ে মরতে চায় না রিয়াজ। ভাবতে ভাবতে দরজায় কারো উপস্থিতি টের পায় রিয়াজ।দরজার বাহিরে কেও আছে।রিয়াজ ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে ৩:৩২ মিনিট। এতো রাতে কোনো মানুষ তো আসার কথা নয়।আবার কোন অশরীরী হাজির হয়েছে কে জানে।রিয়াজের মাথায় আবার আসলো,বাড়ি তো এখন বন্ধ করা নয়। মন্ত পড়া হাড়িটি রবি ভেঙ্গে দিয়েছিলো।অশরীরী এমনিতেই ঢুকতে পারবে।রিয়াজ কাঠি পকেটে নিয়ে দরজা খুলল। দরজা খুলে দেখে রনি,রবি আর জুয়েল রিয়াজের পায়ে পড়ে আছে।রিয়াজ বলল, আরে আরে কি করছো।উঠো উঠো।"। রিয়াজের কথায় ওরাও উঠলো।উঠে রিয়াজকে বলল,

- আমরা আসলেই সরি।গতকাল আমাদের বন্ধু রিফাত খুন হয়েছে।আমাদের কারো সিরিয়াল হয়তো এরপরে।প্লিজ আমাদের বাচাও।আমরা ভুল বুঝেছি তোমাকে।আমাদের ক্ষমা করো প্লিজ।
- ক্ষমা তো করতেই হবে। কারণ তোমাদের এই কেচ হাতে নিয়ে,আমার জীবন এখন ঝুলছে।
- সেটা কিভাবে।( রিয়াজ দরজা থেকে ভিতরে হেটে আসতেছে আর বলতেছে)
- তোমাদের সাহায্য করেছি,তাই আত্মাগুলো আমাকে খুন করতে এসেছে।তবে হ্যা,তারাও মুক্তি চাচ্ছে,আর তোমরাও মুক্তি চাচ্ছো।আমি এইটার রহস্য বের করবো আজ সকাল ১০ টায়।তোমরা এক কাজ করো। এখন আমার সাথে থেকে যাও, কাল সকাল ১০ টায় সব রহস্য বের হবে।ওরা কারা,কেনো এমন করছে।তোমাদের সাথে কি সম্পর্ক, সব জানতে পারবে।সব সব।

রাতে সবাই রিয়াজের বাসায় ঘুমিয়ে পড়ে।রিয়াজ নিজের রুমে বসে ভোর অব্দি ভেবেছে আজকে কি করা যায়।সকালে সূর্য উকি দিয়েছে।রিয়াজ ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নেয়।রুমে এসে জামাকাপড় পরিধান করে। এরপর বাসার বাহিরে এসে বাইক নিয়ে রওনা দেয় গুলিস্তানের চৌ-রাস্তার ওভারব্রিজে।
রাস্তায় বাইক নিয়ে ছুটছে,আর ভাবছে। এতো এতো রহস্য যে কারণে গড়িয়ে এনেছে,তার উদ্দেশ্য কি রিয়াজের।হয়তো এইটাও তার অজানা।তবে এই গল্পের শেষে অবশ্যই এরও রহস্য সমাধান হবে।ভাবতে ভাবতে রিয়াজ চলে যায় গুলিস্তানের চৌ-রাস্তায়। রাস্তার পাশে বাইক পার্ক করে,ওভারব্রিজ এর উপরে চলে যায়। চারদিক থেকেই পথ এসে,ওভারব্রিজের মাঝে একটা জায়গা হয়েছে।রিয়াজ মধ্যাংশে দাঁড়িয়ে আছে।ঘড়িতে ৯:৫৫ মিনিট। ৫ মিনিট পরেই হয়তো জানতে পারবে অজানা আত্মাদের কাহিনী। রিয়াজ চারদিক চুচুক করে তাকাচ্ছে।শহরের মানুষগুলোকে ছুটছে নিজেদের ব্যস্ত জীবন নিয়ে।পেটে এক মুঠো খাবারের জন্য তাদের ভালো মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে রেখেছে ভয়ংকর রুপটা। হুট করেই তারা দেখায়,তাদের হিংস্রতা। কার আগে কে লাফিয়ে উপরে উঠবে,তার প্রতিযোগিতা চলছে প্রতিনিয়ত। কেও কাওকে ধ্বংস করে এগিয়ে যাচ্ছে,আর কেও ধ্বংস হয়ে রাস্তায় নেমেছে।এইভাবেই চলছে শহরের ছোট ছোট পরিবার গুলো।

১০টা বেজে গেছে। রিয়াজ চারদিকে চোখ বিছিয়ে দিয়েছে।কখন কিভাবে কোন সূত্র এসে পড়ে,সেটা দেখার অপেক্ষা। দেখতে দেখতে রিয়াজের চোখে আটকে যায় এক বিচিত্র কাহিনী। একটা লোক গড়িয়ে গড়িয়ে ভিক্ষা করছে।উনার পা নেই। পা বিহীন দেহ আর হাতের উপর ভর করেই উনার চলাফেরা। এইটা ঢাকা শহরে কম একটা জিনিষ। কিন্তু উনার কাহিনী বিচিত্র বলার কারণ হচ্ছে,লোকটি কারো কাছে টাকা চাচ্ছেনা।উনার মুখ থেকে শুধু বের হচ্ছে একটাই আওয়াজ" সবাই বেঈমান, কেও কারো ভালো চায় না।নিজেদের স্বার্থে ওরা পশুর রুপে রুপান্তিত হয়"। যাদের থেকে ভিক্ষা নিবে,তাদেরকেই এই কথা বলে যাচ্ছেন উনি। লোকটির কথাগুলো বেশ অদ্ভুত লাগে রিয়াজের কাছে। রিয়াজ ভিক্ষুকটার সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেয়। পকেট থেকে ৫০ টাকার একটা নোট বের করে উনার সামনে যায়।এরপর উনার সামনে থাকা বাটির মধ্যে ১০ টাকা রাখে।লোকটি রিয়াজকে বলল,

- সাবধানে থাকিস বাবা। এই পৃথিবী বড্ড বেঈমান। কখন কে কোথা থেকে ছুরি মেরে দিবে।বুঝতেও পারবিনা।
- আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে পারি?
- আজ পর্যন্ত কেও ভিক্ষা দেওয়ার সময়েও আমার দিকে তাকায় না।আর তুই কথা বলতে চাচ্ছিস? বল কি বলবি। আমি কথা বলবো তোর সাথে।
- আমার প্রশ্নটা হয়তো আপনার ব্যক্তিত্ব নিয়ে।কিছু মনে করবেন না।আপনার আজ এই হাল দেখে কেনো যেনো আমার মনে হচ্ছে, এক সময় আপনি অনেক সম্মানী ব্যাক্তি ছিলেন।আপনার এই পথে নামার গল্পটা বলবেন আমাকে?
- শুনতে চাচ্ছিস?
- হ্যা,কেনো নয়।
- তবে শুন।( এরপর লোকটি তার সব কথা রিয়াজকে বলে।রিয়াজ কথাগুলো শুনে চোখের কোনায় জমে থাকা পানি মুছে নেয়। যাওয়ার আগে লোকটিকে রিয়াজ বলল)
- আপনার একটা কথা ভুল ছিলো। পৃথিবী বেঈমান নয়।বেঈমান হচ্ছে পৃথিবীতে বসবাস করা মানুষগুলো। ভালো থাকবেন।হয়তো আবার কোনো একদিন দেখা হবে।

এইটা বলে রিয়াজ উঠে দাঁড়ায়। ওভারব্রিজ থেকে নেমে রাস্তার পাশে আসে। হাতে একটা সিগারেট ধরিয়ে কিছুক্ষণ কান্না করেছে। এই কান্নার অর্থ হয়তো সে জানেনা।তবে কারো কষ্টেসৃষ্টে মন কারো বসে,আর কারো বিষে পরিণত হয়। সিগারেট শেষ করে রিয়াজ বাইকের পাশে আসে।এসে দেখে একজন লোক রিয়াজের বাইকের উপর বসে আছে। রিয়াজ উনাকে বলল,

- ভাই,একটু সরবেন? এইটা আমার বাইক।
- ওহহ সরি। ভুল করে না থাকলে বলবো আপনার নাম রিয়াজ তাইনা?
- হ্যা, আপনি কিভাবে জানলেন?
- সেটা পরে,আগে হ্যান্ডশিপ করুন ( লোকটি হাত এগিয়ে দিতেই রিয়াজ হাত মিলায়।এরপর রিয়াজ বলল)
- আপনার পরিচয়?
- আমি মিজান।ইন্সপেক্টর মিজান।
- ওহ,পুলিশ? তা আমার বাইকের কাগজ-পত্র সবি আছে। আমাকে কেনো টার্গেট করা হলো?
- তা জানতে পারবেন।আপনি কি রনি,রবি,জুয়েল,রিফাত আর রাকিব নামের কাওকে চিনেন?
- হ্যা চিনি।আমাদের কলেজে পড়ে।সিনিয়র হয় আমার। তবে রিফাত আর রাকিব ভাই নাকি মৃত্যু বরণ করেছে শুনেছি।
- হুম। ওদের সাথে আপনার কি সম্পর্ক?
- কি আবার।বড় ভাই হিসেবে পরিচয়।
- বড় ভাইদের নিজের বাসায় জায়গা দেওয়াটা কেমন যেনো দেখাচ্ছে। আর আপনাদের দেখলে তো বন্ধুই মনে হয়।
- আজিব তো আপনি? বড় ভাইয়েরা আমার বাসায় যদি আসতে চায়।আমি কেনো না করবো? তারা তো ক্রাইম করেনি যে তাদের অবহেলা করে চলতে হবে আমার।
- কি কাজ করো তুমি।
- কিছু না।পড়াশুনা চলছে।
- প্যারানরমাল নিয়ে গবেষণা করছো শুনলাম।
- হ্যা করতেই পারি।ওটাও তো একটা পড়াশুনা। অজানা জিনিষের প্রতি জানার একটা চিন্তা।
- তোমাকে তো কবিরাজ নামে চিনে অনেকে।অনেকের বাড়িতে নাকি ভূত তাড়িয়েছো তুমি। না মানে শুনলাম এমনটাই।
- বাব্বাহ, আমার সম্মন্ধে পুরো বায়োডাটা নিয়ে এসেছেন।তা এইটাও হয়তো জানেন আজ থেকে এক বছর আগে আমার প্রেমিকা মারা যায়।
- হুম,নাম যেনো কি ছিলো? সিমি নাকি রিমি ছিলো।
- রিমি ছিলো। প্যারানরমালের দ্বারা তার আত্মাকে ডাকার চেষ্টা করি।কিন্তু ভূত বলতে কিছুই হয়না।তাই এসব ভূয়া।
- তুমি মানুষের বাড়ি থেকে ভূত তাড়াও কিভাবে।
- ভূত বলতে কিছুই নেই।মানুষ বিড়ালের শব্দেও ভয় পায়।আমি গিয়ে একটা নাটক করে টাকা নিয়ে আসি। কি করবো বলুন,কলেজের ফিস তো দিতে হয়।
- তোমার মা-বাবার তো যথেষ্ট টাকা আছে।এরপরেও?
- কেনো,টাকাগুলো এখন তাদের কাছে জমা আছে। উড়ে তো যাচ্ছেনা।পরবর্তী সময়ে ওগুলো আমারি লাগবে।
- যেতে পারো।তবে শুনো।তোমার এই কথাটা ভালো লেগেছে,আসলেই ভূত বলতে কিছু নেই।আমার দারোগা সারাদিন আমার মাথা খায়।সে বলে ভূত আসলেই আছে।এদিকে রিফাত আর রাকিবের খুনের পিছনেও নাকি আত্মার রহস্য আছে।দারোগার কথা শুনে রাগ হয়।আসলেই কি এসব কিছু আছে?
- পছন্দ হয়েছে আপনাকে আমার। আইন এসব অন্ধবিশ্বাস করেনা। প্রশাসকের কাজ হচ্ছে ক্রিমিনাল খুজে বের করা।আর তাকে জেলবন্ধি করা।ক্রিমিনাল টাকা ঢেলে দিলে,তাকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়া।সবি পাওয়ারের খেলা স্যার।
- কি বলতে চাও।সবাই ঘুষখোর?
- কেও ঘুষখোর, আর কেও আদেশখোর।পার্থক্য হচ্ছে ভালো মন্দ।যাই স্যার,দেরি হয়ে যাচ্ছে। কাজ আছে একটু।
- কি কাজ?
- ও আচ্ছা?অনুমতি ছাড়া ব্যাক্তিগত ব্যাপারেএ কি আজকাল পুলিশ নাক গলায়?
- বাদ দাও,রিফাত আর রাকিবের ব্যাপারে কি মনে হয় তোমার।খুনি কে হতে পারে।
- আপনি।
- আমি মানে..?
- মানে আপনিও হতে পারে,আবার হয়তো আমি খুনি।আবার হতে পারে তাদের শত্রু কেও।তা খোজার দায়িত্ব আপনার।আমার মনে হয়না আমি কিছু করতে পারবো এখানে।আসি স্যার।

রিয়াজ বাইকে উঠে চলে যায়।বাসার সামনে এসে রিয়াজ গেট খোলে।এরপর বাইক নিতে গিয়ে খেয়াল করে,ইন্সপেক্টর মিজান সাহেবের গাড়ি দেখা যাচ্ছে।রিয়াজ বুঝলো,উনি রিয়াজকে ফলো করছে।রিয়াজ বাইক নিয়ে ভিতরে আসে।এরপর গেট বন্ধ করে গেটে ছিদ্র দিয়ে তাকায়।দেখে মিজান সাহেব রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে।হাতে জলন্ত সিগারেট। উনার ভাবনা শক্তি এখন খুনি বের করা।করুল উনি উনার কাজ।রিয়াজের কাজ রিয়াজ করবে।বাসায় প্রবেশ করে দেখে,ওরা সবাই এখনো ঘুমাচ্ছে।রিয়াজ সবাইকে ডাকতে শুরু করে।চেঁচামেচিতে লাফিয়ে উঠে সবাই।রিয়াজ সবার উদ্দেশ্যে বলল," আজকে সব কিছুর সমাপ্তি ঘটবে।প্রস্তুতি নাও সবাই। সন্ধ্যা বের হতে হবে"। রিয়াজের কথার পর রনি বলল," সারাদিন কি করবো?"। রিয়াজ একটু মুখ রাঙ্গিয়ে বলল," বাহিরে ইন্সপেক্টর মিজান সাহেব দাঁড়িয়ে আছে।উনাকে পাহারা দাও।এই ব্যতীত অন্য কোনো কাজ দেখিনা আমি"। বলেই রিয়াজ রান্নাঘরে যায়। চা বসিয়ে দেয় চুলায়। কিছুক্ষণ পর রনি,রবি আর জুয়েল আসে। রিয়াজ তাদেরকে চা দিয়ে সোপায় বসে পড়ে। ওরা খালি চা দেখে একটু বিস্মিত হয়।সকালে শুধু চা কেও খেতে পারে? নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো ভেবে চায়ে চুমুক দেয় ওরা।রিয়াজ রনিকে বলল,"তানিয়াকে ধর্ষণ করে কি মজা পেয়েছিলে? "। রিয়াজের কথা শুনে চোখ খাড়া খাড়া করে ফেলে ৩ জনই। রিয়াজ আবার বলল,

- ভয় পেও না।চা খাও চা খাও।আমি আগে থেকেই জানতাম সব।কাওকে বলিনি,বলবোও না।চিন্তার কারণ নেই। ( রিয়াজের কথা শুনে,ভয়ে হৃদপিন্ডটা বের হতে যাচ্ছিলো ওদের।ভয়ে ভয়ে চায়ে ঠোট চুবিয়ে জুয়েল বলল)
- দেখো রিয়াজ! আমরা না জেনেই কাজটা করে ফেলেছি। কিন্তু খুন করার ইচ্ছে ছিলোনা। ধর্ষণ করলেই মানুষ মরে যায় তা এতোদিন বিভিন্ন গল্পে পড়েছি। বাস্তবেও যে এমন হবে তা কখনো ভাবিনি।
- কিন্তু তানিয়াকে তো ধর্ষণ নয়,অন্য কিছু করে মারা হয়েছে। ( রিয়াজের কথা শুনেই রনি মুখ থেকে চা বের করে ফ্লোরে ফেলে দেয়।জুয়েল আর রবি অবাক চোখে রনির দিকে তাকিয়ে আছে। রনি মাথা নিছু করে রিয়াজকে বলল)
-আমি জানতাম তুমি কোনো না কোনো ভাবে এইটা বের করবেই। কিন্তু এইটা সম্ভব কিভাবে হয়েছে তা আমি জানিনা।
রিয়াজ বলল,
- আমি বলি তুমি কিভাবে তানিয়াকে মেরেছ। সবাই ধর্ষণ করার পর যখন তোমার সময় হয়, তখন তুমি তানিয়ার গলা চেপে ধরে ছিলে। এমনিতেই তানিয়া ব্যথায় ছটফট করছিল। তার উপর তুমি তানিয়ার গলাটিপে, তানিয়াকে হত্যা করেছ। আমি ভুল কিছু বলিনি তো?
- হ্যাঁ সত্য বলেছ।
জুয়েল রনিকে বলল,
- কিন্তু তুই এইটা বল, তানিয়াকে হত্যা করার কি দরকার ছিল?
রিয়াজ বলল,
- সেই উত্তরটা আমি দিয়ে দিই। যেদিন তানিয়াকে ধর্ষণ তোমরা করেছো,সেদিন বিকালে রনির সঙ্গে তানিয়ার কথা হয়। রনি চেয়েছিল তানিয়াকে একা উপভোগ করবে। কিন্তু তানিয়া রনির প্রস্তাব রিজেক্ট করে দেওয়ায়, রনি ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। এরপর সব বন্ধু -বান্ধবদের কে নিয়ে প্রতিশোধ নেয়। আর খুন করার কারণ হচ্ছে, যখন রনি তানিয়াকে রুম ডেটের প্রস্তাব দেয়। তখন তানিয়া রনির গালে চড় মেরেছিল। সেই চড়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্যই রনি তানিয়াকে খুন করে।
রনি বলল,
- কিন্তু যেটা হয়ে গেছে, সেটা নিয়ে এখন তর্কে যাচ্ছ কেন। এখনতো তুমি আমাদেরকে বাঁচাতে চাচ্ছো। এসব বলে কি লাভ।
- প্রথম দিন যখন তোমরা আমার কাছে সাহায্যের জন্য এসেছিলে। তখন আমি তোমাদেরকে বলেছিলাম, আমি একটা আত্মাকে মুক্তি দিচ্ছি। সেটা আর কারো নয়, তানিয়ার আত্মা ছিল। যেদিন তোমরা তাকে হত্যা করেছো, সেদিন রাতে তানিয়ার আত্মা আমার কাছে আসে। অবশ্য সে তোমাদের কাছে যেতে পারত সবার আগে। কিন্তু বেঁচে থাকতে তানিয়া আমার হরর গল্প গুলো পড়তো। সেদিন রাতে আমি শিশির এবং সুমাইয়াকে এক করার জন্য একটা আত্মার সন্ধান করছিলাম। যে আক্তার দ্বারা আমি জানতে পারবো, শিশির এবং সুমাইয়াকে কিভাবে এক করব। সেদিন আমার জালে নতুন আত্মা হিসাবে, তানিয়ার আত্মা ফেঁসে যায়। তানিয়ার আত্মা আমার কাছে আসতেই,আমি তাকে চিনতে পারি।এরপর তানিয়া আমাকে বলেছিল। শিশির এবং সুমাইয়ার লাশ যদি এক কবরে দাফন করা হয়। তাহলে তাদের আত্মা মুক্তি পাবে। আর আমি যখন তানিয়াকে জিজ্ঞাসা করি তার এই হাল কিভাবে হয়েছে। তখন তানিয়া আমাকে তোমাদের ব্যাপারে জানিয়ে জানিয়ে দেয়। তখন আমি প্ল্যান করেছি এক ঢিলে দুই পাখি মারবো। শিশির এবং সুমাইয়ার লাশ এক কবরে দাফন আমি তোমাদের হাতে করাবো। আর আমি এটাও জানতাম। কবরস্থানে যাওয়ার পর তোমরা জীবিত ফিরে আসবেনা। তাহলে তোমরাও মরতে, আর আমার কাজটাও সম্পূর্ণ হতো। কিন্তু যখন আমি তোমাদেরকে মিশনে পাঠাই।তখন সেই অচেনা বৃদ্ধ আত্মা, বাচ্চা আত্মা আর সে যুবক আত্মা আমাকে হুমকি দিয়ে যায় তোমাদেরকে উপকার না করার জন্য। তারা ভেবেছে হয়তো আমি তোমাদেরকে উপকার করছি। তখন আমার মাথায় এইটা ঢুকে গিয়েছিল, এই আত্মারাও হয়তো তোমাদের উপর প্রতিশোধ নিতে চায়। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, তানিয়া তোমাদেরকে ভয় দেখিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছে।কিন্তু পরক্ষনে যখন জানতে পারলাম সেটা তানিয়ার আত্মা ছিল না। অন্য কারো আত্মা ছিল । তখন আমি এদের রহস্যটাও খুজতে লেগে পড়ি।আর আজকে আমি জেনে গেছি এই আত্মাগুলো কারা।

রনি বলল,

- বেইমান প্রতারক। তোকে তো আমি এক্ষুনি খুন করবো।

- সেটা আর হবেনা। চায়ের মধ্যে আমি ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছি। তোমরা এখন জোর করে নড়াচড়া করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে পড়বে। আসো আমাকে খুন করো।



জুয়েল রনি রবি তারা রেগে গিয়ে যখন রিয়াজকে মারার জন্য সোফা থেকে উঠে, তখনই সেখানে অজ্ঞান হয়ে তিনজনই পড়ে যায়। রিয়াজ সোফা থেকে উঠে জানালার সামনে আসলো। এসে দেখে ইন্সপেক্টর মিজান সাহেবের গাড়ি গেটের সামনে নেই।



রাত ১২:০১ মিনিট। একটি ভাঙ্গা বাড়ির ভিতর ঝুলে আছে রনি,রবি আর জুয়েল।রিয়াজ ওদের চোখে পানি মারতেই তিনজনই জেগে উঠে। ওরা চোখ মেলেই দেখে একটা পোড়া বাড়িতে তারা বন্ধি আছে। হাত উপরের দিকে বেধে ঝুলিয়ে রেখেছে।পা ফ্লোরে স্পর্শ করছে ঠিকই,কিন্তু উপরের দিকেই প্রেশার বেশি।ফ্লোরে শুধু ওদের বুড়ো আঙ্গুলের ভর দিতে পারছে। রিয়াজ তাদের বলল,

- কষ্ট কষ্ট কষ্ট। এতো ধনী ব্যক্তির বাচ্চাদের এতো কষ্ট যে আমার আর সহ্য হয়না।

জুয়েল বলল,

- শালা একবার ছেড়ে দেখা।কষ্ট কাকে বলে আমি তীরে তীরে বুঝাবো তোকে।

- দাড়াও ভাই দাড়াও। মরতে তো তোমাদের হবেই।তার আগে এইটা জেনে যাও,সেই বৃদ্ধা পুরুষ, বৃদ্ধ মহিলা, যুবক আর বাচ্চা আত্মাদের পরিচয়। মন দিয়ে শুনো। আজ থেকে ১ বছর আগে, অর্থাৎ রিমির সাথে আমার রিলেশণের সময়। তোমারা সনিয়া নামের একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছিলে। মেয়েটি অবশ্য লজ্জায় কাওকে কিছু বলতে পারেনি।কিন্তু তোমাদের জীবনের সব ঘটনা আমি আত্মাদের থেকে জেনে নিয়েছি।যাইহোক, তোমরা কাজ শেষে নেশা করতে গিয়েছিলে।পকেটে পর্যাপ্ত টাকা ছিলোনা তোমাদের। বাসা থেকেও হিসেবের বাহিরে টাকা দেয়না তোমাদের।অর্ধ মাতাল হয়ে তোমরা রাস্তায় এসেছিলে। দেখতে পেয়েছো একটা ছেলে বিকাশ দোকান থেকে টাকা গুনতে গুনতে বের হচ্ছিলো।অনেক অস্থিরতার মাঝে ছিলো ছেলেটি। তাড়াহুড়ো করে কোথাও যাচ্ছিলো।তোমরা ছেলেটির হাতে টাকা দেখে তার পিছু নিয়েছিলে। ছেলেটি একটা চিপা গলিতে প্রবেশ করা মাত্রই,জুয়েল ছেলেটির মাথায় ইটের আঘাত করে রাস্তায় ফেলে দেয়।ছেলেটি যন্ত্রণায় লুটে পড়ে রাস্তায়। রবি গিয়ে ছেলেটির পকেট থেকে সব টাকা নিয়ে নেয়।বেশি টাকা ছিলোনা।১০ হাজারের মতো ছিলো।যেটা তোমরা এক রাতেই উড়িয়ে ফেলেছিলে। টাকা নিয়ে আসার সময় ছেলেটি তোমাদের পা ধরে কান্না করেছিলো।বার বার বলেছিলো টাকাটা ওর খুব দরকার। এই টাকা ওর অনেক বড় কাজে লাগবে।কিন্তু ওর উপর দয়া না করে,তোমরা তাকে আরো মারতে শুরু করেছো। যখন ছেলেটি না পেরে,তোমাদের সাথে হাতাহাতি করতে বাধ্য হয়। তখন রাকিব ছেলেটির মাথা ধরে,একটা বিল্ডিং এর দেওয়ালের সাথে জোরে ছিটকে মারে।বিল্ডিং এর দেওয়ালের সাথে আঘাত খেয়ে,সেই ছেলেটির মাথা ফেটে যায়।আর তোমরা দৌড়ে চলে গিয়েছিলে নেশা করার জন্য।এদিকে সেই ছেলেটি মারা যায়। আর তোমরা জানো? টাকা টা কিসের টাকা ছিলো? সেই টাকা ছিলো এও বৃদ্ধ বাবার চিকিৎসার টাকা। উনি অনেক টাকার মালিক ছিলেন।অসুস্থ হবার পর,উনার অফিসের লোকরা বাটপারি করে কোটি টাকা মেরে দেয়।টাকার চিন্তা লোকটা অসুস্থ হয়ে গেছে আরো।অবশেষে তার প্রেশার বেড়ে যায়।মরার পথে চলে যায় লোকটি। উনার ছেলে কলেজের ফিস না দিয়ে,অবশেষে টাকাগুলো বাবার জন্য রাখে। বন্ধুদের কাছ থেকে রিকুয়েস্ট করে মোট ১০ হাজার টাকা নিয়ে আসতে চেয়েছিলো হসপিটালে। শুধু হালকা চিকিৎসায় লোকটি সুস্থ হয়ে যেতো।যখন লোকটির ছেলেকে তোমরা মেরে ফেলেছো,তখন উনার চিকিৎসা হয়নি। ডাক্তার রা তো টাকার গোলাম।তারা মানুষের জীবন বাচাতে হসপিটাল দেয়নি। হসপিটাল দিয়েছে মানুষকে লুটে খাওয়ার জন্য। হসপিটালে প্রতিনিয়ত হাজার মানুষ যায়। প্রতি সেকেন্ডের বিল পরিষদ করে কেও বেচে ফিরে,আর কেও চোখ সারাজীবন এর জন্য বন্ধ করে দেয়।ডাক্তার নামক এক প্রকার খুনি ওরা। এখানেও সেটাই হয়েছে। ছেলেটি টাকা নিয়ে ফিরতে পারেনি। ডাক্তাররা টাকার অপেক্ষা করতে করতে চিকিৎসার সময় পার করে দেয়। সময়মত চিকিৎসা না হওয়ায় লোকটির আরো বড় রোগ হয়। বৃদ্ধা লোকের স্ত্রি বুড়ো বয়সে কোথাও যেতে না পারে,তার দেবরকে কল দেয়। দেবর এসে চিকিৎসার খরচ দিয়ে সুস্থ করবে বলেছে। কিন্তু প্রথমে চিকিৎসা না হওয়ায় এখন যে রোগ হয়,এইটার জন্য ৭০ লাখ টাকা লাগবে।লোকটির ছোট ভাই চিন্তায় পড়ে যায়। তবুও তিনি চিকিৎসা করবে বলে কথা দেয়। বড় ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য উনি টাকা জমিয়ে দেখে মাত্র ৫৭ লাখ টাকা হয়।১৩ লাখ টাকা মানুষের থেকে ধার করে উনি চিকিৎসা করায়। সব টাকা ভাইয়ের পিছন ঢেলেছে বলে উনার স্ত্রি উনাকে ছেড়ে চলে যায়।পরে শুনা যায় লোকটার স্ত্রি তার ছোট বাচ্চাকে রেখে অন্যজনের সাথে পালিয়ে যায়।এদিকে ছোট ভাই ও সর্বহারা হয়ে যায়। বড় ভাই চিকিৎসা হয়ে সুস্থ হয়েছে ঠিকই।কিন্তু ছোট ভাইয়ের এসব শুনে কষ্টে দিন কাটাতে থাকে উনি। ছোট ভাইয়ের ব্যবসা লস খেয়ে তিনি পড়ে যায়। বড় ভাইয়ের অবশেষে যা ছিলো, তা বিক্রি করে দেয়। কারণ ছোট ভাই ১৩ লাখ টাকা দেনাদার। অবশেষে নিজেদের বাড়িটি ছাড়া কিছুই ছিলোনা তাদের। টেনশনে উনি প্রায় পাগল হয়ে যায়। এদিকে উনার ছেলের খোজ এখনো পায়নি।প্রায় ২ মাস পর খবর আসে,একটি লাশ মর্গে পড়ে আছে।যেটা বৃদ্ধা লোকটার ছেলে।ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে লোকটিও চিন্তায় মারা যায়। উনার মৃত্যুর পর ছোট ভাই জায়গা জমি বিক্রি করে, বড় ভাবি আর ছোট বাচ্চাটাকে নিয়ে একটা বাসা ভাড়া নেয়।ছোট ভাই চেয়েছে আবার নতুন করে কিছু করবে।উনি মানুষের কাজ করা শুরু করে।একদিন শুনতে পায়,ভাড়া বাড়িটে গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে,মারা যায় তার বড় ভাবি আর ছোট বাচ্চাটা। এমন খবর শুনে কারখানায় জ্ঞান হারায় লোকটি।কিন্তু জ্ঞান হারানোতে সীমাবদ্ধ ছিলোনা।উনি একটা মেশিনের উপর পড়ে নিজের পা হারিয়ে ফেলে। আর আজ উনি গুলিস্তানের একজন ল্যাংড়া ভিক্ষুক।

রনি বলল,

- আসলে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি।তাদের আত্মাদের ডাকো।আমরা ক্ষমা চাইবো।আমরা তো আর জানিনা এমন কিছু হয়ে যাবে।

রিয়াজ বলল,

- চুপ। তোরা মানুষ নয়। তোরা জানোয়ার। আরে আরে,তোদের জানোয়ার বললেও জানোয়ারদের বেইজ্জতি করা হবে।আমি কিছুই করবোনা বা বলবোনা। এক বছর আগে এই বাড়িতে, এই জায়গায় একটা প্রেমের প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছিলো। আজ আবার হবে।আগামীতে আমি তেমন কাওকে খুজে ফেলে,তাকেও এইভাবে মারবো।বাহিরে তোদের গাড়ি আছে। আমি এখন চলে যাবো।আত্মারা এসে তাদের মতো করে প্রতিশোধ নিবে।এরপর তারা মুক্তি পাবে।

- না রিয়াজ প্লিজ,আমাদেরকে বাচাও। রিয়াজ প্লিজ বাচাও আমাদের।প্লিজ রিয়াজ



রিয়াজ বেরিয়ে যায় বাসা থেকে।সেই এক বছর আগে এই পোড়া বাড়িতে রিয়াজের গোয়েন্দা জীবনী শুরু হয়।আজকে দ্বিতীয়বার হতে যাচ্ছে।আর এইভাবে যতদিন বাচবে,ততদিন হবে।এইটা ভাবতে না ভাবতেই বাড়িটিতে আগুন জ্বলে উঠে।ভিতর থেকে ওদের চিৎকারের আওয়াজ শুনা যায়। রিয়াজ বাড়ির সামনে এসে দেখে,জুয়েলের গাড়িটাও রক্ষা পায়নি। পরেরদিন ইন্সপেক্টর মিজান সাহেব এসে দেখে পোড়া বাড়িতে ৩টা লাশ। বাহিরে গাড়ি দেখে তারা বুঝেছে এইটা কাদের লাশ। মিজান সাহেব রিয়াজকে ফোন দিয়ে বলে,

- কি অবস্থা।
- আলহামদুলিল্লাহ। আপনার?
- আলহামদুলিল্লাহ। তা শুনেছো কিছু?
- হুম।টিভিতে দেখছি।
- ওরা তো কাল তোমার বাসায় ছিলো।তাহলে কিভাবে হলো এইটা? আচ্ছা কাল তো বলেছিলেন খুনি আপনিও হতে পারেন।তবে কি ওটাই সত্যি?
- প্রমান আছে?
- মানে?
- তাদেরকে আমি হত্যা করেছি,এইটার প্রমান আছে?
- তাহলে কে করেছে?
- আত্মারা।
- আপনিও এসব ভূতে বিশ্বাসী?
- জানিনা। আমার মনে হয় আত্মারা করেছে।আর যদি আপনার মনে হয় এইটা মানুষের কাজ।তবে প্রমান বের করে আসামীকে ধরুন।আর যদি প্রমান না পেয়ে থাকেন।তবে ধরে নিন,এইটা একটা রহস্য। সারাজীবন এইটা রহস্য থেকে যাবে।

ফোনটা কেটে রিয়াজ ফেসবুকে ছোট একটা পোষ্ট দেয়। নারী,টাকা,আর নেশার লোভ করতে নেই।তুমি ন্যায় ভাবে চেষ্টা করে যাও, অন্যায়ের পথে চলতে গেলে ধ্বংস হয়ে যাবে।হয়তো কোনো গোয়েন্দা এসে তোমাকে হত্যা করবে।কিন্তু এইটা কেও জানবেনা। ওটা রহস্য থেকে যাবে।ভয়ংকর রহস্য।

পরেরদিন রিয়াজ কলেজে আসে।আসার পর ছাদে যায়। তখন দুইটা ছেলে রিয়াজকে বলল," রিয়াজ ভাই,প্লিজ আমাদের বাচান।একটা মেয়ের আত্মা আমাদের পিছু নিয়েছে"। সাদা একটা গোল চশমা পড়ে আছে রিয়াজ। গায়ে ব্লাক-টিশার্ট আর জিন্স পড়েছে।ওদের মধ্যে একজন সাথের জনকে বলল," উনি সত্যিই কবিরাজ তো?"। রিয়াজ ওদের কথা শুনে মুচকি একটা হাসি দিয়ে বলল," কাটা পা টা ডাস্টবিনে ফেলে আসো।"। রিয়াজের কথায় ওরা রেগে গিয়ে বলল," মানে কি,আপনি কবিরাজ বলে যা ইচ্ছে অর্ডার দিবেন?"। রিয়াক আবার হেসে বলল," তাহলে অন্য কবিরাজ দেখো।"। রিয়াজ ওদের ছেড়ে যাওয়ার সময় একজন পিছন থেকে বলল," আচ্ছা আমরা রাজি।বলুন কি কি করতে হবে"। রিয়াজ নিছের দিকে তাকিয়ে একটি মুচকি হাসি দেয়। এই হাসির পিছনেও রহস্য আছে।ভয়ংকর রহস্য।





************ সমাপ্ত************



গল্প- #ভয়ংকর_রহস্য ( পর্ব-৭ ও শেষ)
লেখক- #Riaz_Raj

----------------------------



ঘটনামূলক মন্তব্য করবেন।আপনারা গল্প পড়ে মজা নেন,আর আমি কমেন্ট পড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।