রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৬)

রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৬)
রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৬)


গল্পঃ ভয়ংকর রহস্য
পর্বঃ ০৬
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২০
বিভাগঃ ভুতের গল্প


------------------------
রিয়াজ মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়। পেটের মধ্যে হাত দিয়ে,চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলে। আর চোখের কোনা দিয়ে, টপটপ করে পানি ঝড়ছে। কিন্তু বৃষ্টির পানির কারণে,চোখের পানিটাও মুছে যাচ্ছে।

বাচ্চাটা ধীরে ধীরে রিয়াজের কাছাকাছি আসে। রিয়াজ বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে আছে। বাচ্চাটা হাতের নখ দাড় করিয়ে রিয়াজের সামনে বসে। এক্ষুনি যেনো রিয়াজের বুক থেকে হৃদপিন্ডটা বের করে আনবে। এতেই রিয়াজের হৃদপিন্ডের কম্পন বেড়ে যায়। বাচ্চাটা রিয়াজের বুকে হাত দিবে,তখনি কেও একজন বাচ্চাটাকে পিছন থেকে টেনে নিয়ে যায়। রিয়াজ অদ্ভুতভাবে তাকি আছে। কেও টেনে হিচড়ে বাচ্চা আত্মাটিকে দূরে বাগানে নিয়ে যায়।এরপর সেই বাগানের আড়ালে কিছু অদ্ভুত ভয়ংকর শব্দ শুনতে পায় রিয়াজ। বিচলিত হয়ে ধীরে ধীরে হাটু গেড়ে বসে সে।এরপর দেখতে চায়,কে নিয়ে গেছে বাচ্চাটিকে। রিয়াজ একটু এগিয়ে যেতেই দেখে,সেই বাচ্চাটির কাটা হাত পড়ে আছে বাগানের পাশের।আর ঝোপের আড়ালে কিছু একটার শব্দ শুনা যাচ্ছে। রিয়াজ আরেকটু এগিয়ে ভিতরে যায়,এরপর দেখে, গাড়ো লাল চোখে একটি মেয়ে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে।মেয়েটি সেই বাচ্চাটির কাচা পা ছিড়ে ছিড়ে খাচ্ছে। রিয়াজ মেয়েটিকে দেখে সেখানেই জ্ঞান হারায়। কারণ মেয়েটি অন্য কেও নয়,ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের রিমি নামের মেয়েটি।

রিয়াজ তো জ্ঞান হারিয়েছে। চলুন এই সুযোগে রিমির ঘটনাটা জেনে আসি। আজ থেকে আরো ১ বছর আগে কি হয়েছিলো,তা অবশ্য এই গল্পের প্রধান একটি অংশ।
সেদিন ছিলো মঙ্গলবার। রিয়াজ তখন অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। কলেজে সবার মতো ফাক বয় ছিলোনা,উল্টো সবাই রিয়াজকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করতো। এইটাও অস্বাভাবিক কিছুনা। ফেসবুকে রিয়াজ রাজ নামক এই লেখক হরর ঘটনা লিখে মানুষকে বিনোদন দিতো। আর সেটা জেনে যায় রিয়াজের কলেজ বন্ধুরা। এই যুগে ভূত বিশ্বাস করাটা খুবই হাস্যকর। রিয়াজ ভূত নিয়ে লিখতো,গল্পে নিজেকে গোয়েন্দা চরিত্রে বসাতো।সেই চরিত্রের নাম ফিক্সড হয়ে যায় রিয়াজের। রিয়াজ কলেজে গেলেই বন্ধুরা বলতো," দেখ দেখ দেখ, আমাদের গোয়েন্দা মহাশয় এসেছে"। এরকম হাজারো মজা করে যেতো কলেজের বন্ধুরা। রিমির সাথে রিয়াজের পরিচয় হয় সেই মঙ্গলবারের দিনটায়। কলেজে আসার জন্য রিয়াজ বাইক নিয়ে রওনা দিয়েছে। মধ্য রাস্তায় আসতেই ট্রাফিক জ্যামে আটকে যায় রিয়াজ। অনেক্ষন দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে ট্রাফিক পুলিশ জ্যাম ছুটানোর ব্যবস্থা করছে। ঢাকা শহর যারা থাকেন বা গিয়েছেন,তারা নিশ্চয় দেখে থাকবেন জ্যামে গাড়ি পড়লে মানুষজন রাস্তা পারাপার করার জন্য ছুটাছুটি করে। এখানেও তেমনি কিছু।গাড়িয়ে জ্যামে পড়ায় পথচারীদের রাস্তা পারাপার হবার যুদ্ধ লেগে যায়।তখন রিয়াজ দেখে, একটা গাড়ি ট্রাফিক না মেনে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ সিগন্যাল দিচ্ছে, কিন্তু তার থামার নাম গন্ধটাও নেই। এদিকে রিয়াজের চোখ যায় পথচারীদের পথে।সবাই পার হয়েছে ঠিকই,কিন্তু একটা মেয়ে গাড়ি দেখে ভয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে যায়। রিয়াজ আর দেরি করেনি। নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে বাইক স্টার্ট করে। এরপর সোজা গিয়ে সেই গাড়িটির বরাবর বাইক ছেড়ে দিয়ে লাফ মেরে নেমে যায়।রাস্তায় পড়ে গিয়েই রিয়াজ আবার উঠে দৌড়ে যায় সেই মেয়েটির কাছে। এরপর মেয়েটিকে টেনে নিয়ে যায় রাস্তার পাশে। ঐদিকে রিয়াজের বাইক গাড়িটির নিছে পড়ে প্লাস্টিকের মতো বাকা হয়ে গেছে।ট্রাকওয়ালা কন্ট্রোল করতে না পেরে রাস্তার পাশে এক্সিডেন্ট করে বসে। এতে ট্রাফিক পুলিশ সেই ড্রাইভারকেও ধরতে পারে, আর রিয়াজ বাচিয়ে দেয় এই মেয়েটিকে। পরে জানা যায় মেয়েটি সাধারণ কোনো পরিবারের মেয়ে নয়। ঢাকা শহরের বিখ্যাত ব্যবসায়ী মিষ্টার মাহফুজুর রহমান আশিকের মেয়ে। রিমি নাকি সেদিন বাড়িতে রাগ করে গাড়ি ছাড়া কলেজে আসতে চেয়েছিলো। আর পথেই এই অবস্থা। রিয়াজ কলেজে যাবার আগেই রিয়াজকে ডাক দেয় আশিক সাহেব। নিকটস্থ থানার পুলিশ রিমিকে দেখে চিনতে পারে। এরপর আশিক সাহেবকে জানালে,উনি রিয়াজের সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। রিমিকে পুলিশ তার বাসায় নিয়ে যায়। রিয়াজ আশিক সাহেবের অফিসে উপস্থিত হয়ে আশিক সাহেবকে বললেন,

- আসসালামু ওয়ালাইকুম।
- ওয়ালাইকুম আসসালাম।
- জ্বী আমাকে ডেকেছেন?
- হুম। নাম কি তোমার?
- রিয়াজ রাজ।
- আমাকে মেয়েকে চিনো?
- না স্যার। রাস্তায় বিপদে পড়েছে দেখে সাহায্য করতে গিয়েছিলাম।মানুষকে তো মানুষ সাহায্য করবে।এইটা আমার কর্তব্য।
- শুনলাম তোমার বাইক নষ্ট হয়ে গেছে।
- হ্যা।
- এই নাও।
- এইটা কি স্যার।
- এখানে কিছু টাকা আছে। একটা নতুন বাইক কিনে নিও।
- আচ্ছা ( এরপর রিয়াজ ব্যাগটা হাতে নেয়)
- আর শুনো।
- হ্যা বলুন।
- আমার মেয়েও তোমাদের কলেজে পড়ে। তোমার জুনিয়র হবে হয়তো। আজকে রাগ করে হেটে যাচ্ছিলো। হয়তো এতক্ষনে সব ঠিক হয়ে গেছে। আমার মেয়ে কলেজে গেলে একটু খেয়াল রেখো ওর।পারলে বন্ধুত্ব করতে পারো।
- ক্ষমা করবেন স্যার।আসলে বন্ধুবান্ধব বলতে আমার কেও নেই। এসব পছন্দ নয় আমার। উনি পড়াশুনা করবে,আবার বাড়ি ফিরবে।আর অন্যদের সাথে বন্ধুত্ব করলে করতে পারে।
- একটু অন্যরকম তুমি।
- এখন আসি স্যার। নসিবে থাকলে অন্য সময় দেখা হবে।
- হুম আল্লাহ হাফেজ।
- আল্লাহ হাফেজ।

রিয়াজ মাহফুজুর রহমান আশিকের অফিস থেকে বেরিয়ে আসে। শো-রুমে গিয়ে নতুন একটা বাইক নিয়ে নেয়। অবশ্য আরো কিছু টাকা বেচে যায়।
 
পরেরদিন রিয়াজ কলেজের মাঠে বসে প্যারানরমাল নিয়ে পড়ছে। হরর কাহিনীগুলোর সত্যতা কতদূর, তা জানার জন্য রিয়াজের খুব ইচ্ছে।তখনি মাঠের কোনায় বসে থাকা রিমি দেখতে পায় রিয়াজকে। রিয়াজ মনোযোগ সহকারে এক মনে বই পড়ছে।এদিকে রিয়াজের পাশে কিছু ছেলে-মেয়ে রিয়াজকে নিয়ে ঠাট্টা করছে। তারা রিয়াজকে গোয়েন্দা গোয়েন্দা বলে অপমান করে যাচ্ছে। রিমির রাগ উঠে যায়। রিমি বসে থেকে উঠে সেই ছেলেগুলোর সামনে যায়।এরপর ছেলেগুলোর মধ্যে সব চেয়ে যে ছেলে সিনিয়র, সেই ছেলেটিকে এক চড় লাগিয়ে দেয়। রিমি ছেলেটিকে চড় দিতেই সবার চোখ ওদের দিকে যায়।রিয়াজ চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে ছিলো সেদিকে। যে ছেলেটিকে চড় মেরেছে,ছেলেটি কলেজের নাম্বার ওয়ান ফাক বয়। সব মেয়ের ক্রাশ।কিন্তু রিমিকেও সবাই চিনে।রিমির বাবার অনেক টাকা,আর বিখ্যাত বিজনেসম্যান আশিক সাহেবের মেয়ে বলে কিছু বলেনা কেও।রিমি ছেলেটিকে বলল,

- একে নিয়ে ফাজলামো করছো কেনো তোমরা হা? সে তোমাদের ক্ষতি না করে বই পড়ছে।আর তোমরা তাকে নিয়ে শুধুশুধু হাসাহাসি কেনো করবে।এই অধিকার কে দিয়েছে তোমাদের। ( রিমির কথার জবাবে একটি মেয়ে উত্তর দিলো)
- আরে আপু,তুমি জানোনা নাকি।এই ছেলেটি একজন গোয়েন্দা। ভূতের গল্প লিখে।সে ভবিষ্যতে যায়।আবার ফেরত আসে। আর বাস্তবে দেখো,পাতি ইঁদুর হয়ে বসে আছে।হাহাহা।

মেয়েটির কথায় পুরো মাঠের সবাই হাসাহাসি শুরু করে।রিমি ওদের সাথে তর্কে না গিয়ে রিয়াজের হাত ধরে কলেজের ছাদে নিয়ে যায়। এরপর বলল,

- এরা তোমাকে এতো কিছু বলে। তুমি উত্তর দাওনা কেনো?
- কি দরকার। ফেসবুকে গল্প পড়ে বিনোদন নেয় সবাই। আর এখানে এরা আমাকে নিয়ে বিনোদন নেয়। দুইটাই ভালো।আমি তাদের বাধা দিলে তারা আর হাসবেনা।হতে পারে তাদের না হাসার কারণটা পরে আমি হয়ে যাবো।
- এরকম হবেনা আর। তুমি আজ থেকে সবাইকে উচিৎ শিক্ষা দিবে।কেও কিছু বললে প্রতিবাদ করবে।
- আপনি এতো উত্তেজিত কেন?
- আজিব তো? বাবার অফিসে বলে আসছেন মানুষ মানুষকে সাহায্য করবে।এইটা নাকি কর্তব্য। সেখানে থেকে আমি আমার কর্তব্য পালন করছি। যদি আমার এই কাজ ভুল হয়,তবে আপনি আমাকে বাচিয়েছেন,সেটাও ভুল।( রিমির কথা শুনে রিয়াজ প্রান খুলে হাসতে লাগলো।এরপর রিমি আবার বলল)
- ব্যাপার কি,দাত কেলাচ্ছেন কেন।
- না মানে আপনার আব্বু আমার ব্যাপারে আপনাদের সব বলেছে,এইটা শুনে।যাইহোক, আমরা বন্ধু হতে পারি?
- বাব্বাহ,বাবার অফিসে তো বলে আসলেন.. ( রিমিকে থামিয়ে দিয়ে রিয়াজ বলল)
- তখন ভেবেছি আমার মতো এই কলেজে হয়তো কেও নেই।ভেবেছি আপনিও আমাকে নিয়ে ফান করবেন।কিন্তু এখন দেখি আপনার চিন্তাভাবনা আমার মতোই।তাই বন্ধু হতে চাচ্ছি। ( রিমি একটা মুচকি হাসি দেয়)

এইভাবে শুরু হয় রিয়াজ আর মিমির বন্ধুত্ব। ফ্রেন্ডশিপ চলতে চলতে এক পর্যায়ে এমন জায়গায় দাঁড়ায়,রিমি প্রতিদিন রিয়াজের বাড়ি আসে।আর রিয়াজ প্রতিদিন না হলেও,সাপ্তাহে একবার রিমির বাসায় যায়।দুই বাসায় ভালো পরিচিত হয় তাদের বন্ধুত্ব। কিন্তু একদিন...

ভয়ের কিছু নয়। রোমান্টিক সিন ঘটেছে। রিয়াজের বাসায় রিমি চলে আসে সকাল সকাল।এসে দেখে বাসায় কেও নেই। দরজা খোলা,অথচ বাসা ফাকা।রিয়াজের রুমে গেলে রিমি দেখে রিয়াজ শুয়ে আছে।আর তখন রিমি রিয়াজের পাশে বসে বলল,

- কিরে হাদারামের বাচ্চা।এতবেলা হয়ে গেছে।এখনো ঘুমাচ্ছিস।
- শুন মুরগির বাচ্চা,বাপকে নিয়ে কিছু বলবিনা।
- বললে কি করবি হা?
- ইজ্জৎ লুটে নিবো হাহাহা।
- তোর বাসার সবাই কই।
- মার্কেটে গেছে।আমাকে বলল তোকে নিয়ে বিকেলে যেতে।তোকে মার্কেটে না নিলে তো পরে আবার রেগে যাস।
- তারমানে বাসায় কেও নেই?
- কেন,কি হয়েছে।
- দাড়া ( রিমি গিয়ে দরজাটা বন্ধ করে দেয়, রিয়াজ রিমিকে বলল)
- এই এই রিমি,হচ্ছেটা কি।দেখ কম্বলের নিছে আমি শুধু ছোট প্যান্ট পড়ে আছি। এইভাবে কেও দেখলে মান ইজ্জৎ কিছু থাকবেনা।( রিয়াজের কথায় রিমি ঢং করতে করতে রিয়াজের দিকে এগিয়ে আসে,আর বলে)
- কেনো গোয়েন্দা বাবু। একটু আগে ইজ্জৎ কেড়ে নিবার কথা বলছিলি না? না এইবার কেড়ে নে।
- দেখ রিমি,আমি ফাজলামো করেছি।তুই সিরিয়াস নিবিনা একটুও।
- সিরিয়াস হয়ে গেছি আমি।আর শুন,দুই বাসায় কথা হচ্ছে আমাদের বিয়ের ব্যাপারে।তুই অনার্স কমপ্লিট করলেই বিয়ে হয়ে যাবে।এখন চল রোমান্স হয়ে যাক।
- দেখ এইবার থাপ্পড় খাবি তুই।যা হবে সব বিয়ের পরে,এখন তাড়াতাড়ি বের হ যাহ।( কথাটা রিমি কানে না তুলে,রিয়াজের উপর ঝাপিয়ে পড়ে)
- তখন তো হবেই,এখনো হবে।
- দেখ রিমি,সকাল সকাল কন্ট্রোল বক্স ঠিক থাকেনা।উল্টাপাল্টা কিছু হবার আগে নেমে যা।
- তোর কন্ট্রোল বক্সের গুষ্টিরমাথা।
- তবে রে,দেখ....

এরপর ক্যামেরা দেওয়ালের একটা ছবির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আরকি।যাইহোক, বন্ধুত্ব থেকে তাদের ভালোবাসা হয়ে গেলো।পরেরদিন সকালে রিয়াজ কলেজের জন্য রেডি হয়।আজকে কলেজ ফাকি দিয়ে রিমিকে নিয়ে ঘুরার প্লান আছে। রিয়াজ রেডি হয়ে বাহিরে আসে।বাইক নিয়ে সোজা কলেজের দিকে রওনা দেয়। কলেজের গেটে প্রবেশ করতেই রিয়াজ দেখে মাঠে লোকজনের ভিড়। সবাই কি যেনো বলাবলি করছে। কে যেনো বলল, " রিমিকে ধর্ষণ করেছে কলেজের ফাক বয় রুবেল"। কথাটা শুনেই রিয়াজ বাইক ফেলে ছুটে যায় মাঠের দিকে। লোকজনের ভিড় সরিয়ে রিয়াজ ভিতরে গিয়ে দেখে,রিমি নামক অন্য একটা মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে। রিয়াজ চোখের পানি মুছে একটু শান্ত হয়। ভেবেছিলো তার রিমিকে কেও ধর্ষণ করেছে। আর তখনি রিয়াজের প্রেমিকা রিমি পিছন থেকে রিয়াজকে বলল, " এখনো কি তুমি বিনোদন দিবে? এই রিমির জায়গায় আজ আমি থাকলে তুমি কি করতে?'। রিমির কথা শুনে রিয়াজ রিমির হাতে হাত রেখে বলল," দেখে যাও"। এইটা বলেই রিয়াজ মাঠের কোনায় দাঁড়িয়ে থাকা রুবেলের সামনে যায়। তাকে পুলিশের হাতে দেওয়া হবে জেনেও,রিয়াজ গিয়ে রুবেলকে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে। রুবেলকে মারতে দেখে রুবেলের বন্ধুরা রিয়াজকে মারার জন্য এগিয়ে আসে। রিয়াজ জানে,পুলিশের কাছে দিলেও,রুবেলের ফ্যামিলিরা রুবেলকে একদিনেই জামির করে ফেলবে। অর্থের তলে চাপা পড়ে থাকে হাজারো অপরাধ। রিয়াজ রুবেলের সাথে রুবেলের বন্ধুদেরকেও মারতে শুরু করে। ওরা ৬ জন ছিলো। ৬ জনকে একাই ধোলাই করে রিয়াজ।

এরপর পুলিশ সেখানে হাজির হয়।কে যেনো বলেছিলো,পুলিশ সবসময় দেরিতে আসে। আজকেও তা হয়েছে।তবে এতে ভালোই হয়েছে। পুলিশ পরে এসে মারামারি থামিয়ে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে।নিয়ম হিসেবে ধর্ষিতাকে ক্ষতিপূরণ দিলেও, ইজ্জৎ আর দিতে পারেনি রুবেলের পরিবার। এদিকে রুবেল ৩ দিন কারাগারে বন্ধি ছিলো।এরপর সেও ছাড়া পেয়ে গেছে।আইনের দোষ দিয়ে লাব নেই।তারাও উপরের অর্ডারে কাজ করতে হয়। সরি,আইনের দোষ দেওয়া যাবেনা বললে ভুল। দোষটা বর্তমানে আইনের।কিন্তু পুলিশের দোষ দিয়ে লাব নেই।তারা বেতনের চাকরি করে।তাদের যা বলা হয়, তারা সেটাই করতে বাধ্য।যত বড় পাওয়ার থাকুকনা কেনো।অর্থের কাছে সবাই দুর্বল।

এদিকে রুবেল ছাড়া পেয়ে গেছে। রিয়াজ আর রিমি মার্কেটিং করে ফিরছিলো।হটাৎ একটি মেয়ে এসে রিয়াজকে বলল," তুমি আমাকে প্রেগন্যান্ট করে ওর সাথে কি করছো"। মেয়েটির কথা শুনে রিমি মেয়েটিকে কষিয়ে একটা থাপ্পড় দেয়। এরপর রিমি মেয়েটিকে বলল,

- এই মেয়ে। মদ্যপান করেছো নাকি।রিয়াজের বিরুদ্ধে আর একটা উল্টোপাল্টা কথা বললে খুন করে ফেলবো।
- ওহ,তাহলে এই ব্যাপার। এখন এই মেয়েটিকে পেয়ে তুমি আমাকে ভুলে গেছো? ভালোই,তবে জেনে রাখো,আমি সুইসাইড করবো,যদি তুমি এই বাচ্চাকে শিকার না করো।

রিয়াজ হতবম্ভ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিমি রিয়াজকে নিয়ে চলে যেতে চাচ্ছিলো,তখনি পিছনে একটি বিকট শব্দ শুনা যায়। রিয়াজ আর রিমি পিছনে তাকাতেই দেখে অচেনা মেয়েটি গাড়ির নিছে আত্মহত্যা করেছে। রিমি অবাক হয়ে যায়। রিয়াজও থ হয়ে গেছে। দুজনই দৌড়ে আসে অচেনা মেয়েটির দিকে। লোকজনের ভিড় জমে যায়। মানুষজন এসে বিশাল বড় জ্যাম বাধিয়ে ফেলে। রিয়াজ লোকজনের ভিড় দেখে রিমিকে টেনে নিয়ে আসে। রিমি কান্নাকাটি করা শুরু করে। রিয়াজ রিমিকে টানতে টানতে একটা ওভারব্রিজের উপর নিয়ে যায়। রিমি রিয়াজের গালে থাপ্পড় মেরে বলল,

- আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা রিয়াজ। এতো বড় একটা জঘন্য কাজ তুমি করতে পারো।( কান্না করছে,আর জোরে কথাগুলো বলছে)
- বিশ্বাস করো রিমি,আমি সত্যিই মেয়েটিকে চিনিনা। এইটা সম্পুর্ন ভুল ধারণা তোমার।
- এখনো তুমি বিশ্বাসের কথা বলছো আমাকে? এখনো বলছো? মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে রিয়াজ।শুধুশুধু কেও নিজের জীবন দিবেনা। সত্য করে বলো কেনো করলে তুমি এমন।কেনো আমাকে ঠকালে।কি দোষ ছিলো আমার?
- প্লিজ রিমি বুঝতে চেষ্টা করো? আমি সত্যিই মেয়েটিকে চিনিনা।আমি মেয়েটিকে দেখেছি এই প্রথম। আর সে আত্মহত্যা কেনো করেছে এইটার কিছুই আমি জানিনা।
- ব্যস,অনেক হয়েছে তোমার নাটক।তোমার জন্য একটি মেয়ে নিজের জীবন দিয়েছে।তুমি আমার জীবন বরবাদ করেছো। আমার সব আশাভরসা ভেঙ্গে চুরমার করেছো।তুমি একবার বললে আমি খুশিমতো মেনে নিতাম সব।কিন্তু দিনের পর দিন তুমি ঠকিয়েছো আমাকে।আমি আর এই জীবন রাখবোনা।আমার বেচে থাকার সব কিছু তুমি মাটি করেছো।
- আরে তুমি কেনো বুঝতে পারছোনা।এখানে ভুল হচ্ছে কোথাও।আমাকে সময় দাও একটু, আমি সব প্রমান দিবো তোমাকে।
- কি প্রমান দিবে হা? কি প্রমান আছে তোমার কাছে।নিজের চোখে দেখেছি আমি।তুমি প্রতারণা করেছো।তুমি ঠকিয়েছো আমাকে।

এইটা বলেই রিমি ওভারব্রিজ থেকে নিছে ঝাপ দেয়।
রিয়াজ রিমি বলে এক চিৎকার মেরেছিলো।
এই শেষ শব্দটাই হয়তো রিমি তার কানে শেষবারের মতো শুনেছে।নিছে চলমান একটা ট্রাকের সাথে ধাক্কা খেয়ে মারা যায় রিমি।
এক পলকেই সব শেষ হয়ে যায়।
রিয়াজ মূর্তি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।শেষ হয়ে গেছে।সব শেষ হয়ে গেছে।রিয়াজের জীবনের প্রিয় প্রদীপটা হুট করেই নিভে যায়।

১মাস পর.......
এই একমাস রিয়াজ মনমরা হয়ে বাসায় ছিলো।প্রতিদিন মন খারাপ করে বসে থাকে বাসায়।কথা বলেনা কারো সাথে।আজকেও রিয়াজের বাসায় রিয়াজ মন খারাপ করে বসে আছে।রিয়াজের মা বাবাকে সব বলে রিয়াজ।রিমির বাবা জানতে পারে রিমি ট্রাক এক্সিডেন্ট এ মারা যায়।রিয়াজের বাবা রিয়াজকে বলল,

- আমি জানিনা কি হয়েছিলো।তবে তুই এর রহস্য বের করবি। তোকে সবাই কলেজে গোয়েন্দা বলে তাইনা? তোকে রাগাতে চায় তাইনা? রেগে যা এইবার। তুই তোর আসল গোয়েন্দাগিরি দেখা রিয়াজ।তুই পারবি।তুই নিশ্চয় পারবি।এতোদিন আমি তোকে নিষেধ করতাম প্যারানরমাল নিয়ে না ঘাঁটতে। আজ আমি তোকে অনুমতি দিচ্ছি।যে অশরীরী নিয়ে তুই গবেষণা করতে চাইতি।আজ থেকে সেটা শুরু করে দে।বের হয়ে যা বাসা থেকে।তুই তখন ফিরবি, যখন এই রহস্যের সমাধান করতে পারবি।
- হ্যা বাবা।আমি কথা দিচ্ছি।এর সমাধান আমি করেই বাসায় ফিরবো। আল্লাহ হাফেজ।

বলেই রিয়াজ বাসা থেকে বের হয়।হাতে একটা স্টিক( লাঠি) আছে।হাটতে হাটতে চলে যায় নাইট ক্লাবে।রুবেল প্রতিদিন নাইট ক্লাবে রাত ২ টা অব্দি সময় দেয়।আজকেও তা করবে।রিয়াজ অনুমান করছে, সব কিছুর পিছনে রুবেলের হাত আছে নিশ্চয়। রিয়াজ নাইট ক্লাবের সামনে রাত ১২ টায় হাজির হয়।এদিকে রিয়াজের পরিচিত জহির চাচাকে বলে তার ভাঙ্গা বাসাটা খালি করায় রিয়াজ। বাসাটা বিশাল একটা খালের পাশে।যেখানে লোকজন খুব কম যায়। রিয়াজ অপেক্ষা করছে রুবেলের জন্য। রাত ০২;১৬ মিনিটে রুবেল একটা মেয়েকে নিয়ে নাইট ক্লাব থেকে বের হয়।রুবেলের সাথে আরো দুইটা ছেলে আছে।রিয়াজ লাঠিটা হাতে নিয়ে তাদের দিকে এগোয়।যেতে যেতে রুবেলের সামনে আসে রিয়াজ।রুবেল।পাশে থাকা মেয়েটির কাধ থেকে হাত সরিয়ে বলল," কিরে শালা,মারতে এসেছিস নাকি"। তৎক্ষণাৎ রিয়াজ রুবেলের মাথায় সজোরে আঘাত করে।সেখানেই লুটে পড়ে রুবেল।এদিকে রুবেলের সাথের দুজন হামলা করতে আসলে রিয়াজ একজনের পায়ে আঘাত করার সাথে সাথে সে পড়ে যায়।আর আরেকজনের মাথায় মেরে তাকেও অজ্ঞান করে দেয়।শুয়ে থাকা ছেলেটি পালাতে চেষ্টা করলে রিয়াজ তার মাথায়ও আঘাত করে।তিনজনই মাটিতে পড়ে আছে।ওদের সাথে থাকা মেয়েটি ভয়ে রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।রিয়াজ তাকে বলল," চুপচাপ রুবেলের গাড়িতে উঠে বসবি? নাকি তোর চোখেও তারা দেখাবো"। রিয়াজের ধমকে মেয়েটি রুবেলের গাড়িতে উঠে বসে।এদিকে রিয়াজ রুবেলের পকেট থেকে থেকে চাবি নিয়ে নেয়।এরপর ওদের তিনজনকেই টেনে গাড়িতে তোলে।

রাত ৩:২৭ মিনিট। ভাঙ্গা বাড়িতে রুবেল সহ তার দুজন বন্ধুর হাত-পা বেধে রিয়াজ চেয়ারে বসিয়ে রেখেছে। মেয়েটিকে ফ্লোরে বেধে ফেলে রেখেছে রিয়াজ।রিয়াজ এক জগ পানি এনে সবার মুখে মারতেই জেগে উঠে সবাই। রিয়াজ রুবেলের উদ্দেশ্যে বলল," গোয়েন্দা গোয়েন্দা গোয়েন্দা। অনেক বলেছিস।আজ গোয়েন্দার কাছে তোদের পরিক্ষার সময়। ভালোভাবে বল কি করেছিস আমার আর রিমির সাথে"। রিয়াজের কথার উত্তরে রুবেল বলল," শালা ছেড়ে দে আমাকে।আমি এখন একটা ফোন দিলেই তোর খেলা শেষ হয়ে যাবে"। কথাটা শুনেই রিয়াজ চোখ লাল করে নেয়।এরপর মুখে ," দে পারলে কল" বলেই লাঠি দিয়ে পেটানো শুরু করেছে।সবার পিঠে হাতে আর বুকে সজোরে আঘাত করতে লাগলো।কিন্তু মুখ খুলছেনা কেও।অবশেষে রিয়াজ সেই মেয়েকে দুইটা আঘাত করতেই রুবেল বলল,

- শালা ওকে কেনো মারছিস।
- ওহহ,তাকে মারায় তোর জ্বলছে? আর আমার জীবন থেকে যে আমার প্রদীপটাকে কেড়ে নিয়েছিস,সেটা কিছুই নয়? দেখ এইবার কষ্টটা কেমন।( বলেই রিয়াজ সেই মেয়ের পিঠে লাঠির আঘাত করা শুরু করে।তখন রুবেল চিৎকার দিয়ে বলল)
- দাড়া দাড়া,আমি সব বলছি।ওকে মারিস না।
- ওকে,১০ মিনিট ওয়েট।

রিয়াজ তখনি তাদের সামনে একটা আয়না রাখে।আয়নার সামনে একটা মোমবাতি রেখে রিয়াজ মনে মনে কিছু পড়েছে।এরপর রিয়াজ বলতে লাগলো," এসো রিমি এসো।তোমার সত্যতা জেনে যাও"। তখনি ভাঙ্গা বাড়ির পরিবেশ পাল্টে যায়।জানালা গুলো পেটানো শুরু করছে কেও।মোমবাতির আগুন নিভে যাওয়ার অবস্থা।সেই মুহূর্তে আয়নার ভিরর থেকে কেও ভয়ংকর গর্জন দিয়ে বলল," এসে গেছি আমি"। রিয়াজ সফল হয়েছে রিমির আত্মাকে ডাকায়।এরপর রুবেল বলতে শুরু করে।

- যেদিন রিয়াজ আমাকে মেরেছে কলেজের সবার সামনে। সেদিনি রিয়াজের উপর আমার রাগ হয়। যখন জানলাম রিমির কথায় রিয়াজ মেরেছে আমাকে।তখন প্লান বানাই আমি তোমাদের আলাদা করার। তখন আমার প্রেমিকা শিলা ( যে ফ্লোরে শুয়ে আছে) আমাকে একটা বুদ্ধি দেয়।শিলার এক বান্ধুবী সুমাইয়া প্রেগন্যান্ট। প্লান হচ্ছে বাচ্চাটা রিয়াজের বলে রিমি আর রিয়াজকে আলাদা করবে। আমরা প্লানমতো সেটাই করেছি। কিন্তু যখন দেখি রিমি উল্টো সুমাইয়াকে চড় মেরেছে। তাই প্লানটা আরো গভীর জন্য আমি আমার গাড়ি দিয়ে সুমাইয়া এক্সিডেন্ট করি।এরপর চলে যাই আমরা।সুমাইয়াকে শিখিয়ে দিয়েছিলাম সে আত্মহত্যা করবে বলতে। আর সে সুযোগে আমরা তাকে মেরে ফেলেছি। যাতে রিমি সত্য সত্য ভাবে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু এতে রিমিও যে আত্মহত্যা করবে সেটা বুঝিনি আমরা। তখন রাগের মাথায় আমি এসব করেছি।আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ।
রিয়াজ বলল,

- সুমাইয়া প্রেগন্যান্ট ছিলো।তার স্বামীকে কি জবাব দিয়েছিস
-তার স্বামীর নাম শিশির। শিশির ব্যাপারটা জানতে পারে।তাই আমরা শিশিরকেও মেরে দিয়েছি।যাতে ঘটনাটা পরে কেও না জানতে পারে।
- কবর দিয়েছিস কোথায়?
- খিলক্ষেত গ্রামের মতো যে এলাকা আছে।সেখানের এক কবরস্থানে দুজনের দাপন হয়েছে।
- ওকে,আমি আর কিছু বলবোনা।যা করার রিমি করবে।

এইটা বলেই রিয়াজ সেই বাসা থেকে বের হয়ে আসে।গাড়িটাও বাসার একেবারে সামনে রেখে দেয়।আর নিজের ফোনেও সব ভিডিও রেকর্ড করে রাখে রিয়াজ।রিয়াজ কিছুদূর আসতেই সেই বাসায় অটোমেটিক আগুন ধরে যায়।যেখানে পুড়ে মারা যায় তিনজন ছেলে আর একটা মেয়ে।রুবেলের গাড়িও অর্ধজ্বলে যায়।সবাই বুঝতে পারে,লাশগুলো রুবেল এবং তার বন্ধুদের। এদিকে রিয়াজ রিমির কবর থেকে রিমির একটা হাড় আর কিছু মাটি সংগ্রহ করে।একটা বইয়ে রিয়াজ পড়েছে মৃত ব্যক্তির হাড় আর কবরের মাটি হাড়ি ভরে রেখে এক মন্ত্র উচ্চারণ করলে তার আত্মা সবসময় আশেপাশে থাকে।সেই হিসেবে রিয়াজ রিমির আত্মাকে সব সময় পাশে রাখতো।এবং নিজে এলাকায় একজন কবিরাজ নামে পরিচিত পায়। কয়েকটি আত্মাকে বশ করে রিয়াজ তার মিশন চালাতো।

এই ছিলো ১ বছর আগের ঘটনা।কিছুক্ষণ আগে বাগানে যে মেয়েটিকে লাল চোখে দেখেছিলো,সেটা হচ্ছে রিমি।রিমি নিজে রিয়াজকে সেই বাচ্চা আত্মা থেকে বাচিয়েছে। শিশির আর সুমাইয়ার লাশ এক করে রিয়াজ মূলত তাদের এক করেছে।শিশির আর সুমাইয়ার আত্মা প্রতিনিয়ত রিয়াজকে জ্বালাতন করতো।আর সেই কারণেই রিয়াজ তাদের লাশ এক কবরে রেখেছে।ওদিকে তানিয়ার লাশের অংশ দাপন করে রিয়াজ মূলত তানিয়ার আত্মাকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু বৃদ্ধ মহিলা,বৃদ্ধ পুরুষ,এই ছোট বাচ্চা আর যুবক ছেলেটি কে।যারা রনি রবিদের আক্রমন করছে।আর রিয়াজকেও বাধা দিচ্ছে।অন্যদিকে জ্বীনের বাচ্চাটি এমন অদ্ভুত কথা শুনিয়েছিলো কেনো। যাইহোক, সব পরে জানা যাবে। চলুন,রিয়াজের জ্ঞান ফিরেছে।আবার ফিরে যাই আগের ঘটনায়।

রিয়াজ বাগানে অজ্ঞান হবার পর কিছুই মনে নেই।চোখ মেলে দেখে নিজের বিছানায় শুয়ে আছে রিয়াজ। জানালার কাছে কোনো এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।রিয়াজ বুঝতে পেরেছে এইটা রিমি।কিছু বলার আগেই রিমির আত্মা রিয়াজকে বলল,

- বেচে থাকতে আমি ভুল বুঝে তোমাকে ছেড়ে চলে গেছিলাম।আজকেও অশুভ রক্ত প্রবেশ করিয়েছো বলে আমি রাগ করেছিলাম।সুয়াইয়ার রক্তটা তোমার বাড়িতে দেখে প্রচন্ড রাগ হয়েছিলো।ক্ষমা করে দিও।
- আর ক্ষমা! আমার জীবনটাই তো এইভাবে চলছে।কখন কি হচ্ছে বা ঘটছে নিজেও বুঝতে পারিনা।হুট করেই আজব কাহিনীর সম্মুখীন হয়ে যাচ্ছি।
- আমি চলে যাচ্ছি। একেবারে চলে যাবো।আত্মাদের জায়গা পৃথিবীতে নয়।আমার ঠিকানা এখন অন্য জায়গায়।সেখানে ফিরে যেতে হবে আমার।তোমার মন্ত্রশক্তি দ্বারা অনেকদিন থাকতে পেরেছি।এইবার আমাকে ফিরে যেতে হবেই।
- মানে কি। আমার কি হবে।
- তুমি পারবে।তুমি সব পারবে।তোমার বাবার কথায় তুমি আমার মৃত্যুর রহস্য বের করেছো। তখন আমি ছিলাম না।এখনো তোমার সামনে অনেক বিপদ,সব নিজে থেকেই সমাধান করো।রহস্যের এই মায়াজালে আটকে গেছে সবাই।তুমি মুক্তি দাও সবাইকে।আমার বিশ্বাস তুমি পারবে। আমি আজ থেকে আর তোমার পাশে নেই। তবে আকাশের তারা হয়ে সবসময় আছি।ভালো থেকো।
- কিন্তু শুনো..

রিয়াজের কথার আগেই রিমি অদৃশ্য হয়ে যায়।রিয়াজ ক্লান্ত হয়ে আবার শুয়ে পড়েছে।চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে ভাবনায় ঢুবে গেছে।রিমির স্মৃতিগুলো খুব মনে পড়ছে রিয়াজের।তখনি জানালায় আবার কারো আগমন ঘটলো।রিয়াজ মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে বৃদ্ধা মহিলা।সেই ভয়ংকর মহিলা। দেহে এক ফোটাও রক্ত নেই তার।চোখ দুটো সাদা।মুখটা ভয়ংকর রুপে রক্তাক্ত। চামড়ার উপর থেকে মহিলার হাড় দেখা যাচ্ছে। রিয়াজ তার কাঠিটা খুজতে লাগলো।তখনি বৃদ্ধা মহিলা বলল,
- নেই।কিছু নেই তোর কাছে।তোর দেহটা শুধু পড়ে আছে। এখন আমি তোর দেহটাকেও কেড়ে নিবো।তোকে করে দিবো পুরো নিশ্ব।

মহিলার কথা শেষ হতে না হতেই,বৃদ্ধা সে পুরুষটাও এসে হাজির হয়। সে বলল," আমার নাতিকে তোর পোষা একটা আত্মা খেয়ে ফেলেছে।এখন আমরা তোকে খাবো।উনার পর সেই যুবক ছেলে উপস্থিত হয়। ছেলেটির মুখে ভয়ংকর রুপের ধারণ। দাত গুলো বের করে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে সে। রিয়াজ কি করবে ভাবতে না ভাবতেই আবার সেই পাঞ্জাবি পাগড়ী আর তসবিহ হাতে জ্বীনটাও রিয়াজের রুমে হাজির হয়।রিয়াজ সবার দিকে তাকিয়ে ভাবছে," অনেক তো রক্ষা পেয়েছি,এতোগুলো আত্মার থেকে রক্ষা পাবো কিভাবে। রিমিও চলে গেছে।আজকেই কি আমার গল্পের সমাপ্তি হবে...?"।



চলবে..........


গল্প- #ভয়ংকর_রহস্য ( পর্ব-৬)
লেখক- Riaz Raj

 সুমাইয়া,শিশির আর রিমির রহস্য খুলে গেলেও,আরো কিছু রহস্য রয়ে গেছে। যদি শিশিরের সাথে সুমাইয়ার আত্মার মিলনের জন্য লাশ এক করে রিয়াজ,তবে তানিয়ার কাটা পা শিশিরের কবরে দাপন করেছে কেন? আর রিয়াজ এইটা নিজে না করে অন্যদের হাতে করিয়েছে কেনো? এসব কিছুর সাথে কি রনি, রবি,জুয়েল,রাকিব আর রিফাতের কোনো সম্পর্ক আছে? আর তাদের পিছনে যে আত্মারা লেগেছে,তা কারা? জ্বীন ছেলেটির রহস্য কি? বার বার একি প্রশ্ন কেনো আসে,রিয়াজের সাথে এসবের কি কোনো কানেকশন আছে? নাকি অন্য উদ্দেশ্য আছে? আচ্ছা রিয়াজ কোনো গেম খেলছে নাতো? হতেও পারে আবার নাও হতে পারে। আর রিমি তো চলে গেলো,কাঠিও নেই।রিয়াজের চরিত্র কি এখানেই শেষ..? অসমাপ্ত কি রয়ে যাবে সব? রহস্য,ভয়ংকর রহস্য




ঘটনামূলক মন্তব্য করবেন।আপনারা গল্প পড়ে মজা নেন,আর আমি কমেন্ট পড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।