রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৩)

রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৩)
রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৩)


গল্পঃ ভয়ংকর রহস্য
পর্বঃ ০৩
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২০
বিভাগঃ ভুতের গল্প



---------------------------

রনির কথায় সবাই এক হলো। চারজন মিলে চলে যায় ছাদে। ছাদের গেট খুলতেই রনি,রবি,জুয়েল আর রাকিব চমকে উঠে। জুয়েল বলে উঠলো,


- ওহ মাই গড।এইটা কিভাবে সম্ভব।

জুয়েলের গলার শব্দ শুনে রিয়াজ তাদের দিকে তাকায়। ওরা চারজনই রিয়াজকে দেখে ভয় পেয়ে গেছে। রিয়াজ ওদের উদ্দেশ্য করে বলল," চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকুন।আমার কাজটা শেষ করে নিচ্ছি"। এই বলে রিয়াজ আবার তার কাজে মন দেয়। রিয়াজের সামনে একটা বালতি রাখা। সেই বালতির ভিতরে কোনো একজন মানুষের কাটা পা। পায়ের উপর রিয়াজ ছুরি দিয়ে আঘাত করতে লাগলো। আঘাতের কারণে পায়ে যে ছিদ্র হচ্ছে,সেই ছিদ্রের সারি বেয়ে বের হচ্ছে অনেক রক্ত। ওরা চারজন ভাবছে রিয়াজ এখন রক্তপান করবে। কিন্তু রিয়াজ সেটা না করে, রক্তগুলো বালতিতে জমিয়ে রাখে। এরপর পকেট থেকে একটা কাপড়ের পুতুল বের করে। সেই পুতুলের পুরো দেহ,রক্ত দিয়ে গোসল করায়। ওরা চারজন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে রিয়াজের দিকে। রিয়াজ পুতুলটিকে গোসল করিয়ে ওর সামনে রাখে। এরপর হাতের ছুরিটা দিয়ে,পুতুলের বুকে ইচ্ছামত ছিদ্র করতে লাগলো। রিয়াজকে দেখতে তখন ভয়ংকর লাগছিলো। রনি,রবি,জুয়েল আর রাকিব হা করে তাকিয়ে আছে। রিয়াজ পুতুলের দেহ ছুরির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলে।এরপর পুতুলটাকে নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়। বালতিটাকে কাটা পা সহ, ছাদের একটি কোনা লুকিয়ে রাখে। এরপর ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে,নিজে পরিষ্কার হলো। যেনো কোনো মিশন সাকসেসফুল করেছে। রিয়াজ ওদের সামনে এসে বলল,

- বলুন এইবার। আমি আপনাদের কি সাহায্য করতে পারি?
- তা নাহয় বলছি। কিন্তু আপনি একটু আগে এইটা কি করলেন?
- একটা আত্মা আজ দুদিন থেকে জ্বালাচ্ছে আমাকে। একটা মেয়ের আত্মা ছিলো। ভুত হয়ে একটা বাড়ি দখল করেছে। আমি তাকে বাড়িছাড়া করেছি। এখন সে আমার পিছুই ছাড়ছেনা।তাই একেবারে হত্যা করে ফেলেছি।
- কিহহ,আত্মারা তো এমনিতেই মৃত থাকে। তাদের আবার হত্যা করে কিভাবে।
- এটা আপনার মাথায় ঢুকবেনা। মুক্তি দিয়েছি তাকে। আত্মাদের মুক্তি দেওয়াটা হত্যা হিসেবে গন্য করা হয়। মুক্তি হচ্ছে তাদের দ্বিতীয় মরণ।
- আমাদেরকে বাচান ভাই।( রনির এমন রিকুয়েস্ট শুনে রিয়াজ তাদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকায়।এরপর বলল)
- কেনো, কি হয়েছে আপনাদের।
- একটা বুড়ো,একটা বাচ্চা আর একটা যুবক আত্মা আমাদের তাড়া করে বেড়াচ্ছে। জানিনা এরা কারা।আর আমাদের পিছু কেনো নিয়েছে সেটাও জানিনা। এখন আপনি বলুন,আমরা কি করবো।
- আপনাদের সাথে আত্মাদের কোনো কানেকশন নেই,এইটা আপনারা শিওর?
- আমরা জানিনা।তবে এদের আমরা কেও চিনিনা। ওরা আমাদের বন্ধু রিফাতকে মেরে ফেলেছে।এখন আমাদেরকে মারবে।দয়া করে বাচান আমাদের।
-একটা শর্ত আছে আমার।
- কোনো চিন্তা করবেন না।আপনার যত টাকা লাগে,সব আমরা দিবো।( কথাটা শুনে রিয়াজ একটু রাগমুখ করে ফেলে।এরপর বলল)
- আপনারা অন্য কাওকে দেখুন।আপনাদের এই কাজ আমি করতে পারবোনা।( বলেই রিয়াজ চলে যেতে চাচ্ছে)
- আরে ভাই দাঁড়ান দাঁড়ান। ক্ষমা করুন আমাদের।আমি ভেবেছি আপনি টাকার শর্ত দিবেন।আচ্ছা বলুন আপনার কি শর্ত।আপনি যা বলবেন,আমরা সেটাই করবো।( এইবার রিয়াজ মুচকি হাসি দিয়ে,ওদের দিকে তাকায়।তারপর বলল)
- প্রথম কাজ হচ্ছে,তোমরা আমাকে একটা লাশ এনে দিবে।( রিয়াজের কথা শুনে ওরা চমকে উঠে বলল)
- লাশ? আমরা লাশ পাবো কোথায়?
- পুরো কথা শুনো। লাশ বলতে শুধু লাশ নয়। লাশটা হতে হবে ১৮-২০ বছরের কোনো মেয়ের।তবে পুরো লাশ আনা যাবেনা। লাশের পা আনতে হবে।আর কোমর থেকে উপরের সাইড কোথাও ফেলে আসতে হবে।
- ভাব্বাভাই, আমরা এমন লাশ কোথায় পাবো।আ,আ,আপনি যদি কিককিছুটা হেল্প করতেন ভালো হতো।
- আপনার মুখে কথা বেঝে আসছে কেন। তোতলা হয়ে গেছেন নাকি।
- আ..আসলে আপনার কথা শুনে ঘাবড়ে গেগগেছি আরকি। আচ্ছা বলুন তারপর।
- হুম,কোথায় যেনো ছিলাম?
- লাশের পা আনতে হবে।
- হ্যা,লাশের পা এনে,সোজা আমার বাসায় চলে যাবে। পা সহ নিয়ে আসবে।তবে আরেকটা জিনিষ খেয়াল রাখবে।যে লাশটা আনবে,সেটা যেনো এই মাসের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করা কোনো লাশ হয়।নাহলে কিন্তু সবার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
- জ্বী আচ্ছা।
- তাহলে আমি বাসায় গেলাম।লাশের পা নিয়ে আজ রাতেই আমার বাসায় আসবে। রাত ১২ টার আগে আসতে হবে কিন্তু। এরপর আবার অনেক কাজ বাকি।
- আচ্ছা।
- আর শুনুন রনি সাহেব। আমি যে কাটা পা ছাদের কোনায় লুকিয়েছি। আপনারা পা টা সাবধানে একটু বের করে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসুন।
- আজিব তো,আপনার এতো ডিমান্ড পূরণ করবে কে?
- ঠিক আছে,অন্য কবিরাজ দেখুন। আমি গেলাম।
- আরে না না,আমরা এক্ষুনি পা নিয়ে যাচ্ছি।
- লাইনে আসো বাচ্চারা।

রিয়াজ চলে যায়। রনি,রবি, জুয়েল আর রাকিব ভিতরে ভিতরে রাগম্ভিত হলেও,উপরে সাধুগিরি দেখাচ্ছে। রিয়াজ ছাড়া এই কাজ অন্য কারো দ্বারা হবেনা,এইটা বুঝেছে ওরা। রিয়াজের কথামতো পা টা তারা একটা বস্তায় ঢুকিয়ে ডাস্টবিনে ফেলে আসে। এরপর সবাই মিলে চলে আসে কলেজের খোলা মাঠে। নিজেদের মধ্যে তারা আলাপন শুরু করে দেয়। রবি বলল,

- এখন ওরকম লাশের পা পাবো কোথায়। ১৮-২০ বছরের হতে হবে,তার উপর আবার পা কেটে নিতে হবে। সে পা আবার উনার কাছে নিয়ে যেতে হবে। এতো কিছু কিভাবে হবে। ধরা খাওয়ার চান্স কিন্তু অনেক।
রাকিব বলল,
- রবি ঠিক বলেছে। এতো রিক্স কিভাবে নিবো।
জুয়েল বলল,
- রিক্স তো পরে। ওরকম লাশ কোথায় পাবো সেটা ভাব।
রনি বলল,
- আচ্ছা? রিয়াজ সাহেব কি আমাদের গোপন কোনো তথ্য জেনে যায়নি তো?
জুয়েল বলল,
- কোনটা?
- আরে! বুঝতে পারছিস না? তানিয়ার কথা বলছে নাতো?
রাকিব বলল,
- ইসস,আমার মাথায় তো এইটা আগে আসেনি। তানিয়ার তো ১৮-২০ বছরের মতো বয়স। আর তাকে আমরা মেরেছি কয়েকদিন আগে।অর্থাৎ এই মাসের মধ্যেই। আর তানিয়ার লাশের পা আমরা আনতেও পারবো। সব কিছু মিলিয়ে আমার মনে ঘাবলা জমেছে। রিয়াজ সাহেব নিশ্চয় তানিয়ার ব্যাপারটা জানতে পেরেছে।

রনি বলল,
- তিনি জেনে যদি থাকে।তবে আমাদের সরাসরি বলতো। আর বলেনি,অর্থাৎ তিনি জেনেও লুকিয়েছে। তারমানে সে আমাদের হেল্প করতে চায়। হয়তো তানিয়ার আত্মাকে বশ করে সে বাকি আত্মাদের আটকাবে।
- সেটা কিভাবে। তানিয়া তো আমাদের হেল্প করবেনা।উল্টো সে আমাদের মারতে চাইবে।কারণ ওর মৃত্যু আমাদের জন্য হয়েছে।
- দেখিস নি? রিয়াজ আত্মাদের দ্বিতীয়বার হত্যা করে। হয়তো আত্মাদের মরার ভয় দেখিয়ে আমাদের বাচাবে। হতেও পারে,আবার নাও হতে পারে।কি যে করি!
জুয়েল বলল,
- আচ্ছা,আপাতত তার কথামতো কাজ করি। তাহলে চল,তানিয়ার লাশের পা কেটে নিয়ে আসি। এরপর দেখি কি হয়।

রনি বলল,
- পুকুরে তো কুমির ছিলো। এতক্ষনে তানিয়ার দেহ খেয়ে রেখেছে কিনা কে জানে। চল তাড়াতাড়ি।

মাঠ থেকে উঠেই ওরা গাড়ি বের করে। এরপর সোজা চলে যায়,রাস্তার পাশের সেই জঙ্গলে। ঢাকা শহরে জঙ্গল কোথাও নেই। কিন্তু মিরপুর -১০ এর বামদিকে ছোটখাটো একটা জঙ্গল আছে। যেখানে কিছুদিন পর পাহাড় কেটে বিল্ডিং তৈরি হবে। আপাতত জায়গাটা খুবই ভয়ংকর। দিনে ভয়ংকর না হলেও, রাতের বেলা রাস্তাটা যেনো মানুষের সাথে কথা বলতে চায়। কেও একা সেই রাস্তা দিয়ে হেটে গেলে,আশেপাশে কারো কান্নার শব্দ শুনতে পায়। এইটা অনেক আগে থেকেই লোকমুখ ছিলো। তবে এর সত্যতা কতটুকু,তা এখনো কেও জানেনা। রনি,রবি,রাকিব আর জুয়েল সোজা সেই জঙ্গলের পাশে যায়।
গিয়ে দেখে ওখানে লোকজন ভিড় জমিয়ে রেখেছে। গাড়ি রাস্তার পাশে রেখে ওরা চারজন তাদের তামাশা দেখছে। কয়েকটা ছেলে আর মেয়ে DSLR ক্যামেরা এনে নিজেদের ফটো তুলছে। ছেলেরা জুতার ফিতা বাধা অবস্থায় বলে," মার মার মার,তাড়াতাড়ি ক্লিক মার"। আর মেয়েরা টাইট টাইচ পড়ে পিছনের দিক ঘুরিয়ে বলে," খিচ মেরি ফটো"। এসব হাদারামের জন্য ভিতরে প্রবেশ করতে পারছেনা ওরা। এদের হাতে ক্যামেরাও আছে। যদি দেখে ফেলে,তাহলে চারজনই ফ্রেমবন্ধি হয়ে যাবে। ফ্রেমবন্ধি হওয়া মানে জেলবন্ধি হওয়া। তাই বাধ্য ছেলের মতো চারজনই তাদের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের ফোন বের করে,নিজেরাই ছবি তুলছে। একটু পরপর রবি বলে উঠে," তোল তোল তোল আমার ল্যাংটা ছবি"। রবির ডায়লগে মেয়েগুলো বলে," হাউ কিউত"।

এইভাবে মিথ্যে অভিনয় করতে করতে সন্ধ্যা নেমে আসে। ছেলে-মেয়ে গুলো তাদের ক্যামেরা গুছিয়ে চলে যায়। এই সুযোগে রনি সবাইকে বলল," ফোনের ফ্লাশ অন কর তাড়াতাড়ি,হাতে সময় কম"। সবাই মোবাইলের লাইট অন করে জঙ্গলের ভিতরে প্রবেশ করে। অনেক জোরে দৌড়াতে থাকে ওরা। তাড়াতাড়ি সেই পুকুরের পাশে যেতে হবে। প্রায় ১৫ মিনিট দৌড়ানোর পর ওরা পুকুর পাড়ে পৌঁছায়। এরপর পুকুরে লাইট মারার সাথে সাথে ওরা খেয়াল করে, তানিয়ার লাশে পুকুরের কিনারায় পড়ে আছে। দুইটা কুমির তানিয়ার লাশ খাচ্ছে।তানিয়ার পা পুকুরের উপরে। আর কুমির দুটো তানিয়ার মাথা থেকে খেতে খেতে পেট অব্দি চলে আসছে।রবি আবার বমি করে দিলো। লাশের পচা গন্ধ আশপাশ ছড়িয়ে গেছে। রনি দেরি না করে,তানিয়ার পা ধরে টান মারে। সাথে সাথে রনির হাত নিজে নিজে ছুটে চলে আসে।তানিয়ার পায়ের মাংস পচে গেছে। রনি হাত দিতেই,মাংস ছিড়ে চলে আসে রনির হাতে। কুমির দুটো এইবার টের পেয়ে গেছে। দুটোই ওদের দিকে তাকিয়ে,মুখটা মেলে দিয়েছে। এই সুযোগে জুয়েল নিজের শার্ট খুলে ফেলে। নিজের শার্ট দিয়ে তানিয়ার পা পেছিয়ে আবার টান দেয় জুয়েল। শার্ট পায়ের গোড়ালিতে আটকে যাওয়ার ফলে তানিয়ার লাশ পুকুর থেকে উপরে উঠে আসে। আর তখনি রাকিব একটা গাছের ডাল ভেঙ্গে সেই কুমিরের মাথায় আঘাত করে বসে। রাকিবের আঘাতে,কুমির দুটো পুরো রেগে যায়। রনি এই গন্ধযুক্ত লাশ কাধে নিয়ে দৌড় শুরু করে। রনির সাথে জুয়েল রাকিব আর রনিও দৌড় লাগায়। লাশ থেকে মাংস ঝরে ঝরে পড়ছে। রনির নাকে মুখেও লাশের মাংস পড়ে ভরে গেছে। কিছুদূর যাওয়ার পর রনিও বমি করে দেয়। লাশ পড়ে যায় মাটিতে।

এইবার জুয়েল সবার শার্ট খুলতে বলে। রনি ছাড়া বাকি দুজন শার্ট খুলে দেয় জুয়েলের কাছে। জুয়েল তানিয়ার দুই পায়ে দুইটা শার্ট বেধে দেয়। এরপর এক সাইড রাকিবের কাছে দেয়,আর অন্য সাইড জুয়েল নিজেই ধরে। জুয়েল হলল," তুই শার্ট ধরে সেদিকে টান দিবি, আর আমি এদিকে টান দিবো। দুই পা দুই দিকে টেনে শরীর থেকে আলাদা করে ফেলবো। এরপর পা দুটোকে বেধে আমরা নিয়ে যাবো।এখন তানিয়ার পেট থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছে। এইটা আমাদের জন্য মোটেও সুবিধাজনক নয়"। জুয়েলের কথামতো রাকিব একদিকে পা টান দেয়। সাথে জুয়েলও অন্যদিকে পা টেনে নিয়ে যায়। পচা দেহ,তাই খুব সহজেই পা দুটো আলাদা হয়ে গেছে। মাটিতে পড়ে আছে শুধু তানিয়ার কোমর আর অর্ধ পেট। এরপর জুয়েল পা দুটোকে শার্ট দিয়ে পেছিয়ে লম্বা করে ফেলে। কাধে নিয়ে আবার সবাই রওনা দেয় রাস্তার উদ্দেশ্যে।

জঙ্গল থেকে বের হয়ে ওরা রাস্তায় আসে ২৭ মিনিটের মাথায়। গাড়ির পিছনের বক্স খুলে তানিয়ার লাশের পা সেখানে রাখে। সবাই খালি গায়ে গাড়ির ভিতর বসে পড়লো।রনি গাড়ি স্টার্ট দিয়েই রওনা দেয় রিয়াজের বাসার উদ্দেশ্যে।

কিছুদূর যেতেই জুয়েল খেয়াল করে,ইন্সপেক্টর মিজান সাহেব সামনে চেক পোষ্ট বসিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।জুয়েল গাড়ির স্পিড কমিয়ে রনিকে বলল,

- এখন কি করবি? সামনে তো মিজান সাহেব।আনাদের ফেস দেখলেই পুরো গাড়ি চেক করবে।
- এইজে সামনে বাম পাশে একটা চিকন গলি আছে। মিরপুর-১০ দিয়ে বের হতে পারবো।রিয়াজ সাহেবের বাসা তো ওখানেই।
- না,উনি বাসা চেঞ্জ করেছে।
- মানে কি।কোথায় নিয়েছে বাসা।
- খিলক্ষেত গ্রামের মতো একটা এলাকা আছেনা? ওখানে।
- গ্রামের মতো এলাকায় উনি কি করে।
- উনি তো মায়াবিদ্যা নিয়ে পড়ে থাকে।তাই হয়তো নিরিবিলি জায়গা বেচে নিয়েছে।
- চল তাহলে।আপাতত চিপা গলি দিয়েই ঢুকে যাই। যা হবার পরে হবে।

রনির কথার উপর ভিত্তি করে জুয়েল চিপা গলি দিয়ে গাড়ি প্রবেশ করায়।
অন্যদিকে রিয়াজ বাসায় একা বসে আছে। পুরো রুমে লাইট অফ করে,মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখেছে। সামনে রেখেছে একটা ছাগলের মাথা। হ্যা,ছাগলের কাটা মাথা। অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে,মাথাটা জীবন্ত।ছাগলের কাটা মাথার চোখ দুটো বন্ধ হচ্ছে আর খুলছে। রিয়াজ মাথাটা সামনে রেখে, চোখ বন্ধ করে। প্রায় ২ ঘন্টার মতো এক ধ্যানী হয়ে আছে রিয়াজ। রাত ৯:১৬ মিনিটে রিয়াজের বাসার সামনে কারো উপস্থিতি টের পায় রিয়াজ। রিয়াজ ভাবলো ওরা ৪জন এসে গেছে। রিয়াজ ধ্যান থেকে উঠে দরজার সামনে যায়। দরজা খোলার জন্য,যখন দরজায় হাত রাখে,তখনি রিয়াজ নিজে নিজেই স্তব্ধ হয়ে যায়। দরজা না খুলেই রিয়াজ দরজার ফুটো দিয়ে দেখতে চাইছে কে এসেছে। দরজার ফুটোতে চোখ রাখতেই রিয়াক অনুভব করে,জানালার পাশে কেও দাঁড়িয়ে আছে। এদিকে রুমের সকল লাইট বন্ধ। পুরো ঘর অন্ধকার। চাঁদের আলো জানালা ভেদ করে বাসায় ঢুকছে। এইটুকু ছাড়া রিয়াজের বাসায় কোনো আলো নেই।মোমবাতি জ্বলছে ভিতরের রুমে।
 
রিয়াজের বাসা ১তলা বিল্ডিং। কাচের জানালার উপর পর্দাও নেই। এই বাসায় সে একা থাকে। রিয়াজ দরজা ছেড়ে এইবার জানালার পাশে আসে। কাচের জানালা দিয়ে রিয়াজ দেখতে পায়,বাসার বাহিরে এক বৃদ্ধা মহিলা দাঁড়িয়ে আছে। মহিলার মুখ বিশ্রী রকমের ভয়ংকর। গালে এক ফোটাও মাংস নেই।মহিলার মাথায় গুনে গুনে হলে ৪০-৫০ টা সাদা চুল আছে। বাকি পুরো মাথা টাক। পড়নে সাদা শাড়ী আর হাতের নখ মোটামুটি ৪-৬ ইঞ্চি করে হবে। এমন একটা জিনিষ কখনোই মানুষ হতে পারেনা। নিশ্চয় কোনো আত্মা হবে। রিয়াজ সাহস করে দরজার পাশে গিয়ে দরজা খোলে। এরপর দরজার বাহিরে গিয়ে জানালার দিকে তাকায়। এখন ওখানে কেউ নেই।রিয়াজের বাসার সামনে সরু একটা পাকা রাস্তা গেট অব্দি গিয়ে থেমেছে। রাস্তার দুই পাশে ফুলগাছ লাগানো। গেটের পাশে যে দেওয়াল,সেই দেওয়ালের পাশে সারি সারি আম গাছ,কাঠাল গাছ সাথে আরো কিছু গাছ লাগানো। রিয়াজ খেয়াল করে, গেটের পাশে যে আম গাছটা আছে,সেই গাছের উপরে একটা বাচ্চা ঝুলে আছে। বাচ্চাটির গলায় দড়ি লাগানো। অন্ধকারে মুখ অতটা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছেনা। তাই রিয়াজ সাহস করে এগিয়ে যায়। আম গাছের কাছাকাছি যেতেই রিয়াজ দেখতে পায়,বাচ্চার পাশে সেই বৃদ্ধা মহিলাও গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে আছে। রিয়াজ আরেকটু সামনে যেতেই, হুট করে সেই বাচ্চাটা হাসতে শুরু করে। রিয়াজ বলল," কে তুমি, কি চাও? কোনো সাহায্য লাগবে?"। রিয়াজের প্রশ্নের জবাবে সেই বৃদ্ধা মহিলা বলল, " প্রতিশোধ চাই, আমরা প্রতিশোধ নিবো,তুই আমাদের আটকাতে এলে,তোকেও মরতে হবে। ভয়ংকর মৃত্যু হবে তোর"। এই বলেই মহিলাটা সেখানেই অদৃশ্য হয়ে যায় চোখের পলকে। আর সেই মুহূর্তে বাচ্চাটা বাতাসের গতিতে এসে রিয়াজের মুখে নখের আছড় কেটে দেয়। রিয়াজ ঝাপ দিয়ে পিছনে পড়ে যায়। আর তখনি শুনতে পায়,গেটের সামনে কেও হর্ন বাজাচ্ছে। রিয়াজ মাটি থেকে উঠে গেট খোলে। এরপর গেট দিয়ে জুয়েলের গাড়ি ভিতরে প্রবেশ করে। গাড়ি ঢুকার পর রিয়াজ আবার গেট অফ করে দেয়। আর এদিকে রবি ফোনের লাইট জ্বালায়।জুয়েল গাড়ি থেকে বের হয়ে পিছনের ডিজ্ঞি খোলে। তানিয়ার কাটা পা বের করে সোজা রিয়াজের বাসায় প্রবেশ করে জুয়েল। রিয়াজও পিছন পিছন যায়। জুয়েল বাসায় ঢুকে ফ্লোরে রাখে তানিয়ার কাটা পা। এরপর রিয়াজ এসে দরজা বন্ধ করে ওদের সামনে দাঁড়ায়। রনি রিয়াজকে বলল,

- নিন আপনার কাটা পা। বয়স ১৮-২০ বছরের। ১ মাসের মধ্যেই তার মৃত্যু। এইবার করুন কি করবেন।
- আমি এইটা জিজ্ঞেস করবোনা কিভাবে লাশ পেয়েছেন। বরং একটা প্রশ্ন করতেই হবে,যেটা এই কেচের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
জুয়েল বলল,
- কেমন প্রশ্ন?
- আপনারা কি সত্যিই কোনো বৃদ্ধ মহিলা,বৃদ্ধ পুরুষ,একটা ছোট বাচ্চা আর একজন যুবক ছেলেকে চিনেন না? যারা আপনাদের পিছু নিয়েছে।
- না। ওরা কারা সেটাও আমরা জানিনা।আর তারা আমাদের পিছু কেনো নিয়েছে,সেটাও জানিনা। এইটা একটা রহস্য হয়ে আছে মাত্র।
- ঠিক আছে। আপনারা সোফায় গিয়ে বসুন। আমি লাইট জ্বালিয়ে দিচ্ছি।( রিয়াজ লাইট জ্বালাতেই রনির চোখ যায় রিয়াজের মুখের উপর। রনি জিজ্ঞাস করলো)
- রিয়াজ ভাই,আপনার মুখের উপর এই আঘাত কে করেছে। প্রচন্ড রক্ত বের হচ্ছে।
- ও কিছুনা। আত্মাদের নিয়ে কাজ করি তো? একটু অধটু চোট লেগেই যায়।
- আচ্ছা,আমরা সোফায় বসছি। আপনি করুন কি করবেন।
- হুম

রিয়াজ সেই জ্যান্ত ছাগলের মাথাটা তাদের সামনে উপস্থিত করে। জ্যান্ত ছাগলের কাটা মাথা দেখে রবি ঘাবড়ে গেছে। মনে মনে রবি বলল," এই আত্মা আত্মা খেলার মাঝে কত কিছু যে দেখবো, উপরওয়ালা ভালো জানেন"। রিয়াজ ছাগলের মাথাটা ফ্লোরের উপর রেখে সেই কাটা পায়ের পাশে গিয়ে বসে। কাটা পা থেকে এক টুকরো মাংস হাত দিয়ে ছিঁড়ে সেই ছাগলের মুখে দেয়। কাটা ছাগলের মাথাটা মাংসের টুকরো খেতে লাগলো। রবি আবারো মনে মনে বলল," এই ব্যাটার পেটই তো নাই। মাংসের টুকরো হজম হচ্ছে কোথায়"।
 
রিয়াজ আবার কাটা ছাগলের মাথার সামনে বসে চোখ বন্ধ করে। এরপর চোখ বন্ধ করেই বলল,

- আমার বাসার গেটের সামনে বাম দিকে যে রাস্তা আছে,সেই রাস্তা বরাবর একটু সামনে গেলেই ডান দিকে আরেকটা রাস্তা আছে। চারদিক ঝোপঝাড়, কিন্তু রাস্তা পরিষ্কার। রাস্তা বেয়ে আরো কিছুদূর সামনে গেলে একটা বাম দিকে আরেকটা রাস্তা থাকবে। সেই রাস্তা বরাবর একটা গেট আছে। ওটা একটা কবরস্থানের গেট।
রবি ভয় পেয়ে বলল,
- এখন আবার বলবেন না,আমাদের সেই কবরস্থানে যেতে হবে।
রিয়াজ বলল,
- সেটাই করতে হবে। আপনারা চারজনই সেই গেট খুলে কবরস্থানে প্রবেশ করবেন। সেখানে অনেকগুলো কবর আছে। প্রতিটা কবরের মাথার পাশে বোর্ডে মৃত ব্যাক্তির নাম লেখা থাকবে। সেখান থেকে শিশির রহমানের কবর বের করবেন। শিশির রহমানের কবর খুঁড়ে তার লাশ বের করতে হবে আপনাদের। এরপর এই কাটা লাশের পা সেই কবরে পুতে দিবেন। আবার সুমাইয়া খাতুন নামের কবরটা খুজে বের করবেন। উনার কবর খুঁড়ে শিশির রহমানের লাশটা সুমাইয়া খাতুনের লাশের পাশে রেখে,দুইটা লাশ একসাথে পুতে দিবেন।
রবি বলল,

- এরচেয়ে ভালো আত্মারা এসে আমাদের হত্যা করুক। এতো ভয়ংকর কাজ আমি পারবোনা।
রনি বলল,
- দেখ রবি প্লিজ এমন করিস না। এইটা আমাদের জীবন মরণের প্রশ্ন।এখানে ভয় পেলে চলবেনা।
- কিন্তু
- কোনো কিন্তু নয়।আমরা পারবো,তুইও পারবি।আর আমরা তো আছি।
- আচ্ছা।
জুয়েল বলল,
- তাহলে আমরা কি বের হবো?
রিয়াজ বলল,
- হ্যা,এখন ১১:০৬ মিনিট। রাত ৩ টার আগে কাজটা শেষ করে দ্রুত কবরস্থান থেকে বের হতে হবে। যদি ৩টার পর আপনারা কবরস্থানে থাকেন,তবে বিপদ ঘটে যাবে।
- ঠিক আছে। আমরা যাচ্ছি।
- দাঁড়ান, গাড়ি রেখে হেটে যেতে হবে। ইঞ্জিনকে আত্মারা ভয় পায়। পরে তারা রেগে গিয়ে উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলবে।
- যদি যাওয়ার পথে,বা কাজ করা অবস্থায় তারা আক্রমণ করে?
- ৩টা বাজার আগে তারা কিছুই করতে পারবেনা। তবে হ্যা,তারা ভয় দেখাবে। বিভিন্ন অজুহাতে আপনাদের অজ্ঞান করার চেষ্টা করবে।কিন্তু মনে সাহস রেখে কাজ করতে হবে। যদি ভুলেও কেও অজ্ঞান হয়ে যায়,তবে তারা অজ্ঞান হওয়া ব্যাক্তির উপর আক্রমণ করবে। তাই তাদের ফাদে পা না দিয়ে,নির্ভয়ে কাজ করে আসুন।আমি আপনাদের অপেক্ষায় আছি।
- আচ্ছা।

তানিয়ার কাটা পা জুয়েল তার কাধে নেয়। সাথে রনি,রবি আর রাকিব হেটে যাচ্ছে।রনির হাতে রিয়াজ একটা কোদাল দিয়ে বলল," কবর খুড়ার সময় এইটা কাজে লাগবে।আর কেও ফোনের ফ্লাশ জ্বালাবেন না। ভুলেও না"। রিয়াজের কথায় মাথা নাড়ালো ওরা।
এরপর সবাই গেটের বাহিরে যায়। রিয়াজ গেটের সামনে একটা সিগারেট ধরিয়ে আবার বাসায় ফিরে আসে। জুয়েল কাধে লাশের কাটা লাশ নিয়ে হাটছে। সাথে রবি রনি আর রাকিব। রবি রাকিবের হাত ধরে আছে। সম্ভবত ভয় পাচ্ছে। ওরা রাস্ত বরাবর কিছুদূর যেতেই ডান পাশের রাস্তাটা পায়। এরপর সেই রাস্তা বেয়ে যাওয়ার পথে রবির নাম ধরে তার প্রেমিকা ঝোপ থেকে ডাক দিলো," রবি,কোথায় যাচ্ছো? "। সঙ্গে সঙ্গে রবি কিছু বলার আগেই জুয়েল বলল," রবি,ভুলেও উত্তর দিস না। রিয়াজ ভাই কি বলেছে মনে নেই? তারা ফাদ ফেলবে অনেক। তাদের ফাদে পা দেয়া যাবেনা। আর তুই কি বোকা নাকি।এই রাতে এখানে তোর প্রেমিকা আসবে কোথা থেকে। সো চুপ থাক। যার নাম ধরে যেই ডাকুক,কোনো সাড়া দিবিনা"। জুয়েলের কথায় রবি আর জবাব দিলোনা।আরো কিছুদূর যেতেই তারা বাম দিকের রাস্তাটা পায়। রাস্তা বরাবর কবরস্থানের গেট দেখা যাচ্ছে। চাঁদের আলোয় ভালোই বুঝা যাচ্ছে সব। ওরা গেট বরাবর হাটতে লাগলো।হটাৎ রাকিবের আম্মু ঝোপের আড়াল থেকে বলতে লাগলো," এতো রাতে তোরা এখানে কি করিস রে?"। রাকিব কোনো জবাব দেয়নি। কেও জবাব দেয়নি। ওরা জানে,এইটা শুধুমাত্র একটা ফাদ।
জুয়েল গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। রনি গেট খুলতেই গেটের শব্দটা হতো লাগলো। লোহা লোহার ঘষায় এতো ভয়ংকর শব্দ তৈরি হয়।এইটা হয়তো তারা আগে জানতো না। চারজন মিলে কবরস্থানে প্রবেশ করে। শিশির রহমান নামের কবরটি সবাই খুজতে লাগলো। সেখানে প্রায় ২০০ কবর আছে। এরমধ্যে এই নামের কবর কোনটা কিভাবে খুঁজবে। অন্ধকারে নামগুলাও এতো স্পষ্ট নয়। চোখ একেবারে সামনে এনে নাম পড়তে হয়। এইভাবে কয়েকটা কবর চেক করার পর,রনি শিশির রহমান নামের কবরটি খুজে পায়। জুয়েল কবরের পাশে তানিয়ার কাটা পা রেখে রনির হাত থেকে কোদাল নেয়। সবার খালি দেহ। কারো গায়ে শার্ট নেই। এদিকে কবরস্থান পুরো ঠান্ডা হয়ে আছে। এই গরমের সময়টাতে যেনো কবরস্থানে শীতকাল নেমে এসেছে। জুয়েল কোদাল নিয়ে শিশির রহমানের কবর খুঁড়তে থাকে। অর্ধেক খুড়তেই শিশিরের কবরের ভিতর থেকে একটা শব্দ ভেসে আসলো," এই তোরা কারা। আমার কবর খুঁড়ছিস কেনো"। শব্দটা শুনেই জুয়েল এক লাফ দিয়ে পাশে চলে আসে। সবার চোখ যায় রবির দিকে। রবির চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। এক্ষুনি যেনো অজ্ঞান হয়ে যাবে। রনি,জুয়েল আর রাকিব দৌড়ে গিয়ে রবিকে ধরে গালে থাপ্পড় মেরে বলতে লাগলো," এই রবি,রবি? কিছুই হয়নি। দেখ তুই অজ্ঞান হলে বিপদ হবে। এইটা তাদের একটা ফাদ। এমন কোনো শব্দই হয়নি। নিজের মনে শক্তি আন। তুই পারবি। তুই অজ্ঞান হতে পারবিনা। এই রবি,তুই অজ্ঞান হবিনা। সোজা হয়ে দাড়া।দেখ আমরা সবাই আছি"।

ওদের চিৎকারে রবি আবার জোরে শ্বাস নিতে শুরু করে। সবাই নিজেদের মাঝে হেসে উঠেছে। রবি শান্ত হয়ে আবার দাঁড়ায়। জুয়েল হাতে কোদাল নিয়ে আবার কবর খুড়তে শুরু করে। এরপর আবার সুমাইয়া খাতুনের কবর খুড়তে হবে। অনেক কাজ। জুয়েল কোদালের স্পিড বাড়াতে লাগলো।

একটু পর শিশির রহমানের কবর খুড়া হয়ে যায়।সাদা কাঁপন পড়ে শুয়ে আছে একটা লাশ। জুয়েল সাহসী। তাই নিজেই লাশটি একা উপরে তোলে। এরপর তানিয়ার কাটা পা শিশির রহমানের কবরে ফেলে দিয়ে,উপরে মাটি দিতে লাগলো ওরা। রবি রনি এক সাইড দিয়ে মাটি ফেলতে থাকে,আর অন্যদিকে জুয়েল আর রাকিব এক পাশ থেকে মাটি ফেলা শুরু করে। প্রায় ১০ মিনিট পর পুরো কবরের মাটি ফেলা হয়। চারজনই আবার উঠে শিশিরের লাশের পাশে আসে। জুয়েল লাশ কাধে তোলার জন্য দাপনের কাপন ধরার সাথে সাথেই,ভুলে কাপনের বাধ খুলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে শিশির রহমানের মৃত চেহারা ওরা সবাই দেখতে পায়। শিশির রহমানের লাশটা চোখ খুলে আছে। যেনো জ্যান্ত কোনো ব্যাক্তিকে কাঁপন পড়িয়ে শুইয়ে রেখেছে। লাশের চোখ জীবন্ত দেখেই রবি অজ্ঞান হয়ে যায়।



চলবে.....?



গল্প- #ভয়ংকর_রহস্য ( পর্ব-৩)
লেখক- Riaz Raj

এইবার কি হবে? রিয়াজ এই শিশির আর সুমাইয়ার কবর কেনো খুড়তে বলল? সেই অজানা আত্মা গুলো কে? নতুন বৃদ্ধা মহিলার আত্মাটা এলো কোথা থেকে? রিয়াজ কি ইচ্ছে করেই তানিয়ার লাশের অংশ এখানে এনেছে? রবির অজ্ঞান হওয়ায় এখন কি হবে? আক্রমন? তারমানে কি তারা বাকি কাজ সম্পুর্ন করতে পারবেনা? ওরা জীবন্ত বের হতে পারবে তো? এর মাঝে রিয়াজের কোনো উদ্দেশ্য নেই তো? এই শিশির আর সুমাইয়ার সাথে রিয়াজের কোনো কানেকশন আছে কি? নাকি কানেকশন ছাড়া অন্য কিছু কারণ আছে? থাকলেও সেটা কি হতে পারে? রহস্য,ভয়ংকর রহস্য


ঘটনামূলক মন্তব্য করবেন।আপনারা গল্প পড়ে মজা নেন,আর আমি কমেন্ট পড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।