রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৪)

রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৪)
রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০৪)



গল্পঃ ভয়ংকর রহস্য
পর্বঃ ০৪
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২০
বিভাগঃ ভুতের গল্প


------------------------
জুয়েল লাশ কাধে তোলার জন্য দাপনের কাপন ধরার সাথে সাথেই,ভুলে কাপনের বাধ খুলে যায়। সঙ্গে সঙ্গে শিশির রহমানের মৃত চেহারা ওরা সবাই দেখতে পায়। শিশির রহমানের লাশটা চোখ খুলে আছে। যেনো জ্যান্ত কোনো ব্যাক্তিকে কাঁপন পড়িয়ে শুইয়ে রেখেছে। লাশের চোখ জীবন্ত দেখেই রবি অজ্ঞান হয়ে যায়।

রবির অজ্ঞান হয়ে যাওয়া দেখে জুয়েল,রবি আর রাকিব থ হয়ে গেছে। রিয়াজ বলেছিলো কেও অজ্ঞান হলে অজ্ঞান হওয়া ব্যাক্তির উপর আক্রমন আসবে। ওরা তড়িঘড়ি করে রবিকে ডাকতে থাকে। রবি চোখ মেলেনা। আশেপাশে পানিও নেই। রবিকে চিৎকার দিয়ে ডাকতে থাকে জুয়েল,রনি আর রাকিব। ঠিক সেই মুহূর্তে একটা ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। পুরো কবরস্থান জুড়ে তুপান শুরু হয়। হটাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হবার কারণ বুঝতে পারে ওরা। রিয়াজের কথাটা সঠিক। অজ্ঞান হওয়া ব্যাক্তির উপর নিশ্চয় আক্রমণ হবে। জুয়েল চিৎকার মেরে রনিকে কিছু বলতে চাইছে। তবে প্রচন্ড বাতাসের কারণে রনি স্পষ্ট বুঝতে পারছেনা। আরো কাছে এসে জুয়েল চিৎকার দিয়ে বলতে লাগলো,

- রনি, কি করবি এখন। রবির তো যেকোনো ভাবেই জ্ঞান ফিরাতে হবে।
- আশেপাশে পানির ব্যবস্থা নেই।আমাদের ডাকেও সাড়া দিচ্ছেনা রবি। কি করবো।
- প্রস্রাব করলে কেমন হবে।
- কবরস্থানে প্রস্রাব করলে আবার কোন বিপদ তেড়ে আসে।
- এখন হাতেও বা কিছু করার নেই।
- না,প্রস্রাব করা যাবেনা।

এদিকে বাতাসের চাপ বেড়ে যাচ্ছেই যাচ্ছে। জুয়েল অনেক চিন্তাভাবনা করে শেষে একটা বুদ্ধি বের করে। যদি বুদ্ধিটা খুবই বাজে। তবুও করতে হচ্ছে। ওদের বন্ধু রিফাত মরেছে। এখন তারা রবিকেও হারাতে চায় না। জুয়েল দৌড়ে আসে শিশির সিয়ামের লাশের কাছে। এরপর দাপনের কাপন বুক অব্দি নামায়। শিশিরের লাশ অনেকদিন যাবত কবরে রয়েছে। অদ্ভুত হচ্ছে, দেহ পচে গেলেও,মুখ এখনো তাজা রয়েছে শিশিরের। জুয়েল শিশিরের পচা বুকে নিজের হাত ঢুকিয়ে কিছু মাংস বের করে ফেলে। পচা মাংস গলে গলে হাতের আঙ্গুলের চিপা দিয়ে পড়ে যাচ্ছে। জুয়েল চোখ বন্ধ করে সেই পচা মাংস নিজের মুখে নিয়ে খেয়ে ফেলে। রনি আর রাকিব এমন কান্ড দেখে আরো বেশি অবাক হয়ে যায়। জুয়েল পচা মাংস চিবুতেই তার পেটের মধ্যে ঘড়ঘড় শব্দ হতে থাকে। বুঝতে পেরেছে তার এক্ষুনি বমি আসবে। জুয়েল তাড়াতাড়ি দৌড়ে এসে রবির মুখের উপর বমি করে দেয়। বমি রবির মুখে পড়তেই পচা গন্ধ আর এমন পানীয় জিনিষ পেয়ে জেগে উঠে রবি। রবির চোখ মেলার সাথে সাথেই বাতাস নিমিষেই শেষ হয়ে যায়।কবরস্থান আবার শান্ত হয়ে গেলো। রবি জাগ্রত হয়ে নিজেই বমি করতে থাকে। রনি,রাকিব আর জুয়েল এইবার শান্ত হয়। রবিকে কিভাবে জাগ্রত করেছে,সেটা রবিকে না জানিয়েই জুয়েল বলল,

- এতক্ষণ অনেক কিছু হয়ে গেছে। আর শুন রবি। এই শিশিরের লাশটা অদ্ভুত একটা লাশ। উনার মুখ তাজা হলেও দেহ সম্পুর্ন পচা। আর চোখ দুটো খোলা মানে এই নয় যে তিনি জেগে উঠেছে। উনি মৃত্যুবরণ হয়তো চোখ খোলা রেখে করেছিলো। রিয়াজ ভাই আমাদের হয়তো এইজন্য এই লাশটা বের করতে বলেছে। উনি নিশ্চয় জানতো এই লাশের মধ্যে অদ্ভুত কিছু আছে।
রনি বলল,

- তারমানে পরের লাশ,অর্থাৎ সুমাইয়ার লাশটাও কোনো অদ্ভুত হতে পারে। সো রবি,তুই ভয় পাবিনা। এগুলো দেখতে অদ্ভুত ঠিকই, কিন্তু এদের আলাদা শক্তি নেই। আর অজ্ঞান হওয়া যাবেনা। তোর জ্ঞান ফিরানোর জন্য জুয়েল......

তখনি জুয়েল বলল,

- থাক রনি, এসব পরে বললেও হবে।কয়টা বাজে দেখেছিস? ০২:১৩ মিনিট। ৩টার আগে কবরস্থান ত্যাগ করতে হবে। নয়তো বিশাল কান্ড লেগে যাবে।
- হুম চল।

আবার চারজন মিলে সুমাইয়ার কবর খোজা শুরু করে দেয়। এদিকে সময় ঘনিয়ে আসছে। জুয়েল শিশিরের লাশটাকে কাপন পেঁচিয়ে কাধে তুলে নেয়। বাকিরা সহ প্রতিটা কবরের বোর্ড চেক করছেন। সুমাইয়ার কবর কবে পাবে আর কবে খুঁড়বে।অনেক খোঁজাখুঁজি করে অবশেষে সুমাইয়ার কবর তারা খুজে পায়। রনি কোদাল চালাতে লাগলো। খুঁড়তে খুঁড়তে হটাৎ রিয়াজ পিছন থেকে বলল," এইটা সুমাইয়ার কবর নয়। এইটা অন্য সুমাইয়ার কবর"। জুয়েল রনিকে বলল," দোস্ত,এইটা রিয়াজ ভাই নয়। রিয়াজ ভাই বলেছিলো বাসায় যেতে। অর্থাৎ উনি আসার কথা না। নিশ্চয় এইটা তাদের ফাদ মাত্র। হাতে সময় কম।কবর খুঁড়ে নে জলদি"। জুয়েলের কথায় রনি আবার কবর খুঁড়তে লাগলো। এইবার রিয়াজের সাথে আরো অনেকে বলতে লাগলো," এই কবর খুড়িশ না। নইলে তোদের কেও বাচাতে পারবেনা। নিজের বিপদ ডেকে আনিস না। বাচতে চাইলে এক্ষুনি পালিয়ে যা"। তবুও তাদের কথায় কান দিলোনা রনি,রবি,জুয়েল আর রাকিব। ঘড়িতে সময় ০২:৩৭ মিনিট। এদিকে সুমাইয়ার কবর খুড়া হয়ে গেছে। চারপাশে বিভিন্ন আত্মারা চিৎকার চেঁচামেচি করে যাচ্ছে। ওদের চিৎকারে ভয় না পেলেও,সবার ভয় হচ্ছে রবিকে নিয়ে। ও যদি একবার অজ্ঞান হয়,তবে আর রক্ষা নেই। অন্ধকারে চাঁদের আলোটা বেশ আলো দিচ্ছে। মাথার উপর ইয়া বড় বড় গাছের ডাল হেলে আছে। এতো ভয়ংকর পরিস্থিতিতে কেউ কখনো থাকতে চাইবেনা। জুয়েল শিশিরের লাশটা সুমাইয়ার লাশের পাশে ফেলে দেয়। আর তখনি ঘটে যায় লোমহর্ষক এক কাহিনী।

সুমাইয়া কবরে কাপনের ভিতর থেকে চিৎকার দিয়ে বলে যাচ্ছে," তোদের এতোটাই ভয়াবহ মৃত্যু দিবো আমি।যা কখনো ভাবতেও পারবিনা"। সুমাইয়া অর্থাৎ ওই লাশের মুখে এমন কথা শুনে সবাই ঘাবড়ে যায়। ভয়ের চোখে সবাই রবির দিকে তাকায়। রবিকে দেখেই সবাই হতবম্ভ হয়ে গেলো। এইটা কি সেই রবি? যে রবিকে তারা এতোদিন চিনতো?
হ্যা,সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায়। রবির হাতে কোদাল। লাশের মুখে মৃত্যুর হুমকি শুনে রবি কোদাল হাতে নিয়ে দৌড়ে আসে। এরপর সোজা কবরের মধ্যে ঝাপ দেয়। জুয়েল,রনি আর রাকিব মনে মনে ভাবছে,ওরা স্বপ্ন দেখছে নাতো? রবি কোদাল নিয়ে কবরে নেমে সুমাইয়ার লাশের মাথা বরাবর কোপাতে থাকে। লাশের দেহ থেকে রক্ত বের হয়না,অথচ সুমাইয়ার দেহ থেকে তাজা রক্ত চিতচিত করে বের হচ্ছে। জুয়েলের যেনো পায়ের নিছে মাটি নেই। জুয়েল রবিকে ধরে টেনে উপরে তুলে আনে।এরপর বলল," কি করছিস এসব।সময় দেখ,আর মাত্র ১৩ মিনিট হাতে আছে। ওরা আমাদের আটকানোর জন্যেই এসব করছে।রাত ৩টা বাজতে দেরি নেই। তাড়াতাড়ি কবরে মাটি ফেল"। সঙ্গে সঙ্গে জুয়েল, রবি,রনি আর রাকিব কবরে মাটি ফেলতে থাকে। ঘড়ির কাটা টিকটিক করে এগিয়ে যাচ্ছে। ৩টার আগে কবর ত্যাগ না করলে কি হয়ে যায় কে জানে।মাটি ফেলার কাজ শেষ। এখন এই জায়গা ত্যাগ করার সময়। রনি,রবি,জুয়েল আর রাকিব কবরস্থান ত্যাগ করতে দাঁড়িয়েছে। জুয়েল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে আর মাত্র ১ মিনিট সময় আছে।জুয়েল চিৎকার দিয়ে বলল," আর এক মিনিট বাকি আছে।তাড়াতাড়ি কবরস্থান ত্যাগ কর। দৌড় লাগা"। জুয়েলের চিৎকারের সাথে সাথে চারজনই দৌড় শুরু করে। সেকেন্ড কমে যাচ্ছে। মিনিটের সময় এগিয়ে যাচ্ছে। একি! ওরা কবরস্থানের গেট হারিয়ে ফেলেছে। কোন জায়গা দিয়ে প্রবেশ করেছে সেটা ভুলে গেছে। এদিকে সময় শেষ হতে যাচ্ছে। রাকিব বলল," গেট খোজার সময় নেই। দেওয়াল টপকে বের হয়ে যাই।পরে রাস্তা খুঁজে নিবো।হাতে সময় কম"। রাকিবের কথামতো সবাই দেওয়ালের দিকে দৌড় লাগায়। রাকিব সবার আগে দেওয়াল টপকে গেছে। এরপর রনি চলে গেছে। রনির পর জুয়েল দেওয়ালের উপর উঠে দাঁড়ায়। রবির দিকে হাত বাড়ায় জুয়েল। রবি জুয়েলের হাত ধরে উঠতে যাবে,তখনি জুয়েলের ঘড়িতে ৩টার এলার্ম বেজে উঠে। রবি চিৎকার দেওয়া শুরু করে।জুয়েল দেওয়ালের উপর থেকে একটু নিচু হয়ে হাত বাড়িয়ে দেয়। রনি আর রাকিব বাহির থেকে আওয়াজ করে বলছে," তাড়াতাড়ি বের হ,সময় শেষ।যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হয়ে যাবে"। রবি অনেক কষ্টে জুয়েলের হাত ধরে। আর তখনি রবি খেয়াল করে,একটা কবর থেকে কেও হাত তুলে রবির পা টেনে ধরেছে। রবি ভয়ে চিৎকার দিতে লাগলো। জুয়েল রবির হাত আরো জোরে টেনে উপরে তোলার চেষ্টা করে। এদিকে সবাই খালি গায়ে।রবির দেহ দেওয়ালের সঙ্গে ঘষে চামড়া তুলে যাচ্ছে। রনি বুঝতে পেরে,সে নিজেও দেওয়ালের উপর উঠে। জুয়েলের সাথে রনিও রবির হাত টানতে লাগলো। রবির পা ধরে আছে একটি ভয়ংকর লাশ। লাশের মুখে কালো রক্তে রক্তাক্ত হয়ে আছে। লাশটি ভয়ংকর শব্দে আওয়াজ করতে লাগলো। এদিকে রবি হাউমাউ করে চিৎকার দিতে থাকে। জুয়েল আর রনি রবিকে টেনে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হটাৎ কবরস্থানের মাঝ থেকে একটা বিকট শব্দ শুনা যায়। রনি আর জুয়েল কবরস্থানের মাঝখানে তাকিয়ে দেখে ৫-৬ টা কবর থেকে লাশ উঠে গেছে। লাশগুলো হেটে হেটে রবির দিকেই এগিয়ে আসছে। রবি এসব দেখে আরো জোরে চিৎকার দিতে লাগলো। এদিকে রবির পা ধরে আছে অন্য একটি লাশ। এমতাবস্থায় কি করবে ভেবে পাচ্ছেনা কেও। তখনি সেখানে আগমন ঘটে রিয়াজের।

রিয়াজ গেট দিয়ে ঢুকে দৌড়ে আসে রবি বরাবর। রিয়াজের হাতে একটা আলোর মতো কিছু দেখা যাচ্ছে। সাদা আলো। আলোটার প্রভাবে লাশগুলো তৎক্ষণাৎ আবার কবরে ঢুকে যায়। রবির পা টাও ছেড়ে দেয় লাশটা। জুয়েল আর রনি হটাৎ হালকা হবার কারণে দেওয়ালের ওপাড়ে পড়ে যায়। রবি উঠে যায় দেওয়ালের উপরে। এদিকে রিয়াজও দৌড়ে এসে এক লাফ মেরে দেওয়ালের উপর উঠে গেছে। এরপর রবি সহ এক সাথে নিছে নামে। নিছে নেমেই রিয়াজ বলল," এখানে এক মুহূর্তও থাকা যাবেনা। রাস্তায় গাড়ি আছে। জলদি আসুন"। রিয়াজের সাথে ওরাও সবাই দৌড়ে যায়। রাস্তায় পৌছানো মাত্রই গাড়িতে উঠে বসে সবাই। রিয়াজ গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ঝড়ের গতিতে গাড়ি চালাতে থাকে। গাড়ির ভিতর থেকে ওরা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে রাস্তার পাশে কিছু অদ্ভুত লোক দাঁড়িয়ে আছে। অদ্ভুত বলতে পুরোপুরিভাবে অদ্ভুত। কারো দেহ থেকে পা বড়। কারো মাথা নেই,কেও চিকন বাশের মতো,কারো পুরো দেহ ক্ষতবিক্ষত। রিয়াজ সব কিছু উপেক্ষা করে সোজা তার বাড়ির গেটে গাড়ি ঢুকিয়ে দেয়। এরপর জুয়েল গাড়ি থেকে নেমে গেট আটকিয়ে ফেলে।রিয়াজ বলল," তাড়াতাড়ি বাসায় প্রবেশ করুন।বাসার বাহিরেও বিপদ আছে"। রিয়াজের কথায় সবাই বাসার ভিতরে প্রবেশ করে। রিয়াজও দৌড়ে গিয়ে দরজা আটকে দেয়। সবাই ক্লান্ত হয়ে সোফায় শুয়ে পড়ে। একসাথে সবাই একটা সুস্থির নিশ্বাস নেয়। রনি রিয়াজকে বলল,

- রিয়াজ ভাই, এমন এডভেঞ্চার হবে কখনো ভাবিনি। মরতে মরতে বেচে ফিরেছি।
- ভাগ্যিস আমি আন্দাজ করেছি আপনারা বিপদে পড়েছেন।তাই তাড়াহুড়ো করে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। আর হাতে নিয়েছিলাম এই অলৌকিক কাঠি।
জুয়েল বলল,
- এই কাঠির তো অনেক পাওয়ার। সব লাশ এক সাথে লুকিয়েছে। আগে দেননি কেনো এইটা?
- এইটা আমি মাত্র তৈরি করেছি। ছাগলকে পায়ের মাংস খাইয়েছি যে? ওটা এইজন্য। সেই ছাগলের কাটা মাথাটাই হচ্ছে এই কাঠি।
রাকিব বলল,
- গাড়ি তো নিতে নিষেধ করেছিলেন। তবে আপনি কিভাবে গাড়ি বের করলেন।
- যদি প্রথমে গাড়ি দিতাম,তাহলে ওরা কবরস্থানে ঢুকার আগেই আক্রমন করতো। দেখেননি? আসার সময় সবগুলা আত্মা কিভাবে দাড়িয়েছিলো?
- হ্যা,তা তো দেখলাম। কিন্তু এই বাড়িতে তারা ঢুকতে পারবেনা?
- না,আমি বাড়িটি বন্ধ করে রেখেছি। এখন কোনো আত্মা বাড়িতে প্রবেশ করতে চাইলে নিজেই মরবে।আচ্ছা!রবি ভাইয়ের গায়ে এতো রক্ত কেন?
জুয়েল বলল,
- দেওয়ালে টানবার সময় হয়তো চামড়া ছিড়ে গেছে। সেজন্য রক্ত বের হচ্ছে।
- সেটা তো অল্প হবার কথা। ওর মুখেও তো রক্ত। ওসব এলো কিভাবে।
- ওহহ মনে পড়েছে। সুমাইয়ার লাশ কথা বলেছিলো কবরের মধ্যে। তখন রবি কোদাল নিয়ে সুমাইয়ার মাথায় কোপ দিয়েছিলো। তখন রক্ত ছিটকে এসেছিলো।
- ওহ মাই গড। এইটা কি করছেন আপনারা।এখন তো বিশাল বিপদ হয়ে যাবে।
- মানে? কি হবে?
- আপনাদের বার বার বলেছিলাম ওরা আপনাদেরকে ফাদে ফেলার চেষ্টা করবে। কিন্তু রাত তিনটার আগে কোনো লাশ কথা বলবেনা বা ক্ষতিও করবেনা। আপনারা উনাদের ফাদে পা দিয়ে ফেলেছেন। এখন লাশদের উপর অন্যায়ভাবে আঘাত করেছেন আপনারা। ওরা এখন আরো ভয়ংকর রুপ ধারণ করবে। আমি জানিনা কিছু। আপনারা বাড়ি ফিরে যান। এখন আপনাদের সাথে আমার জীবনটাও ঝুঁকিতে পড়বে।
রনি বলল,
- আরে ভাই কি বলছেন। আমরা জানতাম নাকি এমন কিছু হবে। আর রবির হটাৎ এমন সাহস বেড়ে যাবে কল্পনাও করিনি। প্লিজ বাচান আমাদের। আমরা তো আর এতোকিছু বুঝিনি।
- যাইহোক, ভুল করেও কেও বাড়ির বাহিরে যাবেন না। হয়তো দরজা খুললেই তারা দরজায় রেখেই মেরে ফেলবে। আমি দেখি কি করা যায়। একটু পর ফজরের আযান হবে। অন্তত নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে পাপের ক্ষমা চান। রান্না ঘরের বামে ওয়াশরুম আছে। ফ্রেস হয়ে নিন।
- আচ্ছা।

রিয়াজের বাসায় দুইটা ওয়াশরুম। একটায় ওরা চারজন ফ্রেস হচ্ছে। আরেকটা রিয়াজের রুমের ভিতর। রিয়াজ ফ্রেস হবার জন্য ওয়াশরুমে যায়। শার্ট খুলে আয়নার দিকে তাকাতেই আয়নার ভিতর থেকে সেই বৃদ্ধ মহিলাটি বলে উঠলো, " তোকে বলেছিলাম এদের সাহায্য করিস না। এইবার মরার জন্য প্রস্তুত হয়ে যা"। রিয়াজ চোখ বড় করে ফেলে। আয়নার ভিতর থেকে মহিলাটা হাত বের করে রিয়াজের গলা চেপে ধরে। এতো শক্ত করেই ধরেছে,রিয়াজের মুখ দিয়ে লালা বের হতে লাগলো। নিজের জীবন বাচানোর জন্য রিয়াজ ছুটতে চেষ্টা করে। তখনি রিয়াজের কানে একটি আওয়াজ ভেসে আসে। আওয়াজটা রাকিবের। রিয়াজ মনে মনে ভাবতে লাগলো,আজকে আর তাদের রক্ষা নেই।



চলবে............।



গল্প- #ভয়ংকর_রহস্য ( পর্ব-৪)
লেখক- Riaz Raj

[ রিয়াজের বাড়ি তো বন্ধ করা।মন্ত্র দিয়ে বাড়ি বন্ধ করে রেখেছে,তবে এরা প্রবেশ করলো কিভাবে? রিয়াজ তো এখন খালি গায়ে দাঁড়ানো। ওর কাছে কোনো জিনিষ নেই,তবে এই আত্মার হাত থেকে বাচবে কিভাবে? আজকে কি রিয়াজ মরেই যাবে? আর বাহিরে রাকিবের চিৎকার ভেসে আসলো কেনো? ওদেরকেও কি আত্মারা ঘিরে ধরেছে? আজ এই নিরিবিলি বাড়িতে কি সবগুলো প্রান শেষ হয়ে যাবে? রাতটা কি তাদের জন্য খুব ভয়ংকর হতে যাচ্ছে? রহস্য,ভয়ংকর রহস্য]

ঘটনামূলক মন্তব্য করবেন।আপনারা গল্প পড়ে মজা নেন,আর আমি কমেন্ট পড়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।