শঙ্কা - পর্বঃ ০১

শঙ্কা - পর্বঃ ০১ - রিয়াজ রাজ
শঙ্কা - পর্বঃ ০১ - রিয়াজ রাজ


গল্পঃ শঙ্কা
পর্বঃ ০১
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
বিভাগঃ থ্রিলার গল্প



18+ Alert 🚫
শুরুতেই একটা কথা বলে রাখা ভালো যে গল্পটিতে বিভিন্ন জায়গায় ১৮+ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তাই আপনি আপনার নিজ দায়িত্বে পড়বেন। ১৮ বছর বয়সের নিছে কেউ দয়া করে গল্পটি পড়বেন না।{alertWarning}


মেয়েটার " আহহ উহহ " শব্দে এই রাস্তায় চলা বড় মুশকিল।

রোজ বাজার থেকে আসার সময় এই মেয়েটার চিৎকার শুনতে হয়। রাস্তার পাশে ঘর তাদের। হ্যাঁ আমি স্বীকার যাচ্ছি নতুন নবদম্পতি। বিয়ে করেছে আজ ১ মাস। কিন্তু আশেপাশে থাকা মানুষদের কথা তো ভাবনা করা উচিৎ। প্রতিদিন তো আর বাজারে যাইনা। যে কদিন যাই,এই ঘরটার বউয়ের চিৎকার শুনতে পাই। এখন কি আমি, হেটে যাবার সময়ে এরা মিলনে যায়? নাকি সর্বদা মিলনে থাকে।তা আমার অজানা।

আজকেও একই ঘটনা। ব্যাগভর্তি বাজার নিয়ে যাচ্ছিলাম বাড়ির দিকে। তাদের ঘর বরাবর আসতেই " আহহ " শব্দে আমার আ'ত্মা কেঁপে উঠে। আমার স্ত্রী তো কোনোদিন এইভাবে চিৎকার দেয়নি। যদি বলি,তবে এইভাবে তো দূরের কথা,আমি নিজেই কখনো স্ত্রী'র মুখে এই চিৎকার শুনিনি। আচ্ছা? ব্যাথা পেয়ে চিৎকার দেয়? নাকি অভিনয় করে। না না মশাই, এইটাও আমার অজানা।

ইন্টারনেটের যুগে শুধু সফটওয়্যার আপডেট হয়না। আপডেট হয়ে গেছে তরুণ-তরুণী। শহরের মেয়েগুলাকে আগে দেখতাম,গ্রামে এলে কু'রু'চিপূর্ণ চলাফেরা করতো। এখন শহরের মেয়ে লাগেনা,আমাদের গ্রামের মেয়েগুলাই কু'রু'চিপূর্ণ আচরণ শুরু করেছে। জদ্দার বাড়ির বিলকিসের মেয়েকে দেখলাম,সেদিন টাইট জামা পড়ে লাফাচ্ছে। আমি ভেবেছি কোনো রোগে ধরেছে। পরে জানলাম, টিকটিকি নাকি টুকটাক কি যেনো বানায়। আমাদের নব্বই দশকে এমন টিকটিকি দেখিনি। বিংশ যুগে এসে যত সার্কাস দেখে যাচ্ছি।

যাইহোক। মেয়েটার " আহহ" শব্দ উপেক্ষা করে আমি হাটা ধরলাম। তবে আজ ভিন্ন কিছুও শুনেছি। ঐ মেয়ের সাথে ছেলেটাও চিল্লাচ্ছে। সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে টাইপ হয়ে গেলো। পায়ের গতি দ্রুত চালিয়ে নেমে গিয়েছি বিলের মাঝে। বিলের আইল বেয়ে ওপাড়ের রাস্তায় উঠবো। এরপর একটু সামনে আমার বাড়ি। সব দেখলাম উন্নত হয়ে গেছে।কিন্তু এই গ্রামের রাস্তাটা আজো উন্নত হয়নি। নব্বই দশকেও বিল পেরিয়ে বাসায় গিয়েছি। এখনো বিলের মধ্যেই নেমেছি। শুধু " আহহ" আর " টিকটিকি" উন্নত হয়েছে।যা সেই-কালে ছিলোই না। কিন্তু আরো কিছু যুক্ত হয়েছে মনে হচ্ছে। আমার আশেপাশে কারো মুচকি হাসার শব্দ ভেসে এলো।

ভুল শুনছি? না, এতোটাও নাশ হয়নি কানের। এতো স্পষ্ট ভুল শুনার গফুর আমি নয়। আমি গফুরের বয়স হয়েছে ঠিকি। কিন্তু এতোটা দু'র্ব'ল নয়। আশেপাশে ডা'কা'ত আছে নাকি। কয়েকদিন ধরে নাকি এই পথে ডা'কা'ত পড়ে। বাজার থেকে আসা ব্যাবসায়ীদের ধরে হাতিয়ে নেয়। সে এক আকম্মিক ঘটনা। কিন্তু আমি তো ব্যাবসায়ী না। পকেটে ১০ টাকার দুইটা নোট আছে। বাজারটা না নিলেই হবে। বিলের আইল ধরে আবার হাটতে শুরু করেছি। হাটার মাঝে আবারো কেও মুচকি হেসে উঠেছে।

আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেলো এইবার। বুঝেছি কে আমার পিছু নিয়েছে। গভীর রাত না হলেও, এই সন্ধার পরেই বের হয় এরা। দুষ্টু জ্বীন বা পেত্নি হবে। তাছাড়া আমি যেখানে আছি। এখানে পেত্নি ছাড়া অন্য কিছু থাকার কথা না। হাসিটা অনেক স্পষ্ট শুনেছি। একটা বাচ্চা মেয়ের হাসি। দোয়াদরুদ পড়ে আমি আবার পা চালাতে শুরু করেছি। কয়েক পা এগিয়ে যাবার পর, একটি বৃদ্ধ গলার হাসি শুনতে পেলাম। বাচ্চা থেকে বৃদ্ধতে কনভার্ট হয়ে গেলো।

না হবারও বা কি আছে। এরা যদি সাপ,বিড়াল আর কুকুরের রু'প নিতে পারে। তবে বড়-ছোট হতে কতক্ষণ। আজ মনে হয় আমার রক্ষা নেই। একে তো "আহহ" শুনে এসেছি।গা মনে হয় নাপাক। দোয়া কাজ করছে কিনা কে জানে। না, দৌড় লাগাই একটা।

ডানে কি ছিলো আর বামে কি ছিলো। তা প্রতিদিন দেখি,আজ স্পেশাল ভাবে দেখার কিছু নেই। তাই নাক বরাবর সোজা দৌড় লাগিয়েছি । এক হাতে বাজারের ব্যাগ,আর অন্য হাতে টর্চ লাইট নাই। পুরো হাত খালি।চাঁদের আলোতে পুরো বিল চকচক করছে। আমিও রগরগে হাটু অব্দি লুঙ্গি তুলে দৌড়াচ্ছি। বয়স বেশি তো কি হয়েছে, এই বয়সেও দৃঢ় শক্তি আছে।

হাঁপাতে চূর্ণনে কোনোভাবে বিল পেরিয়ে রাস্তায় উঠে এসেছি। তবুও দৌড় আমি থামাইনি। আর ২ মিনিট দৌড়ালে ঘরের দুয়ারে চলে যাবো। ছুটে গিয়েছি আবর্তন গতিতে।

" ওও শ্যামলতার মা। কইরে"।

আমার ডাকে আমার স্ত্রী বেরিয়ে এলো। কোমরের নিচ অব্দি কাঁদা মাখানো দেখে বুলবুলি জিজ্ঞেস করে," একি হাল করে এসেছেন গো। সারা শরীর কাঁদা মাখা কেনো"। বুলবুলির কথা শুনে উত্তর দিলাম না। বাজারের ব্যাগ হাতে দিয়ে বললাম," মাছ'টা একটু ভালো করে ভেজে দিও। ঢের শ্রম গেলো আজ আমার। যাই, গোসল সেরে আসতেছি"।

কলঘাটে এসে বালতিতে পানি ভরাট করে যাচ্ছি। বউ ফাঁকে এসে গামছা আর লুঙ্গি দিয়ে গেছে। চেরাগও দিয়ে গেলো,কিন্তু চাঁদের আলোতে এই চেরাগ অপ্রয়োজনীয়। আলো যথেষ্ট রয়েছে। ফুঁ দিয়ে চেরাগ নিভিয়ে দিলাম। বালতিতে পানি ভরাট হলে,আমি মগ হাতে নিয়েছি। যখন বালতিতে মগ দিবো,তখনি শুনতে পেয়েছি বাচ্চা মেয়ের হাসি। আমার শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের স্রোত নেমে আসতেই,বউ চিৎকার দিয়ে বলে, " ও শ্যামলতার বাপ, ব্যাগে মাছ কোথায়"।




পর্ব ০২ পড়ুনঃ

পরবর্তী পর্ব দ্রুত পেতে, কমেন্ট এবং শেয়ার অবশ্যই করবেন।




গল্প- #শঙ্কা ( পর্ব-০১)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।