হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে- অন্তিম পর্ব

হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে-অন্তিম পর্ব
হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে-অন্তিম পর্ব


গল্পঃ হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে
অন্তিম পর্ব
লেখিকাঃ গল্পকন্যা
প্রকাশকালঃ মে-২০২৩
ক্যাটাগরীঃ প্রেম কাহিনী, জুনিয়র সিনিয়র গল্প



রাত ৯টা।

গাড়ি থেকে নামতেই পাপড়ির এক হাত টেনে ধরে।মিনিট তিনেক পর কারো গলা খাঁকারিতে চমকে ছিটকে যায় দুজনে।

এই এড়িয়ারি একজন বয়স্ক লোক।যিনি পাপড়ির বাবার পরিচিত।পাপড়িদের বাড়ির গেটের একটু সামনেই রাত পাপড়ি কে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়।পুরো গাড়িতে মেয়েটা কেঁদে এসেছে।যাওয়ার আগে মন ভালো করার জন্য কাছে টানতেই দৃশ্যটি লোকটির চোখে পড়ে যায় ।

গাড়ি থামার আগে থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোটা লোকটির নজরে পড়েছে।ছি ছি করতে করতে জায়গাটি অতিক্রম করে।

রাতের মেজাজ বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়।ভাগ্য যেন ওর অতি অপ্রসন্ন যাচ্ছে।এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে পাপড়ি গেটের ভিতরে চলে যায়।

বেঁধেছে আরেক বিপত্তি ।পাপড়ি নিশ্চিত মর্নিং ওয়াকেই সোসাইটির সকল মানুষ এই ঘটনা জেনে যাবে।যা ওর জন্য আরো দুঃখ বয়ে আনবে।

আজিম হোসাইনের সাথে রাতের সাক্ষাৎটা মোটেই ভালো ছিলো না।ধরতে গেলে দুজনই দুজনকে থ্রেড করেছে।পাপড়ির বাবা বলে রাত যথেষ্ট সম্মান পূর্বক জবাব দিয়েছে।

"আঙ্কেল আসসালামু ওয়ালাইকুম।"

গম্ভীর ভাবে উত্তর করেন,"ওয়ালাইকুমুসসালাম।সিট হেয়ার।"

রাত আজিম হোসাইনের মুখোমুখি চেয়ারে বসে।ভনিতা না করে সিনা টান করে বলে,"আঙ্কেল আপনি জানেন আমি কেন এসেছি।তাই সোজাসাপটা কথা বলি।আমি পাপড়িকে বিয়ে করতে চাই।সমস্যা হচ্ছে আমাদের এইজ।আমাদের এইজে ততোটাও ডিসটেন্স নেই যে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না।আর ডিসটেন্স থাকলেও বর্তমান যুগে এইজ কোনো মেটার করে না, সেটা আপনার মতো একজন মানুষ বেশ ভালো জানার কথা।সুতরাং আপনি অনুমতি দিলে আমি বিয়ের কার্যক্রম শুরু করবো।"

আজিম হোসাইন রাতের দিকে তাকায়,বুঝতে পারে ছেলেটি অতি মাত্রায় সুপুরুষ।তিনি বলেন,"তুমি কিভাবে বলো যে এইজ মেটার করে না!আমার মেয়ে এক বাচ্চার মা হলেই তো তাকে ছেড়ে আরেকটা বিয়ে করে নিয়ে আসবে।তখন তো আর ভালোবাসা থাকবে না।আর দুনিয়াতে কি ছেলের অভাব পড়েছে যে তোমার মতো এইজ ডিস্টেন্স ছেলের কাছে মেয়ে বিয়ে দিতে হবে।আরে আমাদের ফেমিলি স্টেস্টাস নেই নাকি!সোসাইটিতে মাথা তুলতে পারবো না, এমন কাজ আজিম হোসাইন করে না।বাই দ্যা ওয়ে তোমার বাবা মা কেন তোমাকে আটকাচ্ছে না?তাদের কি কোনো কমনসেন্স নেই নাকি?"

রাতের মেজাজ বিগরে যায়,তবে একে তো পাপাড়ির বাবা আর দ্বিতীয়ত এতো কথার পরে রাতের বাবা-মায়ের অসম্মতির কথা বললে আরো বিপত্তি ঘটবে।

তাই বলে,"তারাও আপনার মেন্টালিটিরই মানুষই।আসলে আপনাদের সকলেরই কমনসেন্সের অভাব পড়েছে।সে যাইহোক,জেনে রাখেন আপনারা যতো যাই বলেন এবং করেন,পাপড়ি আমারই স্ত্রী হবে।আপনারা এবং আপনাদের সোসাইটি আমাদের আটকাতে পারবে না।"

আজিম হোসাইন ক্ষুব্ধ হয়ে যান।"কি বললে তুমি!আমাকে চেল্যাঞ্জ করছো?তোমার সাহস তো কম না!এক সপ্তাহের মধ্যে তোমার চোখের সামনে দিয়ে আমি আমার মেয়ের বিয়ে দিবো এবং সেটা তোমার চেয়ে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন ছেলের সাথে।নিজের ভালো চাইলে ওর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা ও করবে না।ফারদার..."

"আঙ্কেল চ্যালেঞ্জ করে লাভ নেই,আমি কারো তোয়াক্কা করি না।সেটা আপনার মেয়ে ভালো মতোই জানে।আপনি ও জেনে রাখেন।না হয় আপনার অফিসে ঢুকে আপনার সামনে বসে এ কথা গুলো বলতে পারতাম না।
আঙ্কেল আপনি এবং আপনারা যতো যাই করেন না কেন,তাতে আমার কিছু এসে যায় না।আমারটা আমি বুঝে নিতে জানি,আর বুঝে নিবো-ও,দেখি আমাকে ঠেকায় কে।"

———————
পাপড়ির বিয়ে ঠিক হয়েছে।
বিত্তবান শ্রেণির এক পাত্রের সাথে।

এই সপ্তাহে বিয়ে।দ্রুত পরিসরে বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে। কারণ সেদিন রাতের ঘটনার পরে পাপড়িদের পুরো সোসাইটির লোকজন আজিম হোসাইনের দিকে আঙুল তুলছে।মেয়েকে শিক্ষা দিতে পারেনি।উশৃংখল ভাবে গড়ে তুলেছে।না হয় এমন অসভ্য হয়।মাঝ রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজন জুনিয়র ছেলের সাথে জড়াজড়ি করে বেলাল্লাপনা করে! ছিহ!

আজিম হোসাইন যেটাকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।মেয়ের জন্য তাই ঘটলো তার সাথে ।এটা কোনো ভাবেই বরদাস্ত করতে পারছে না।

বাধ্য হয়ে রাতের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, বলেন,"আপনার ছেলেকে সাবধান করে দিবেন,যেন আমার মেয়ের সাথে যোগাযোগ করবে দূরে থাক আর চোখ তুলে না তাকায়।সুনামধন্য ফেমিলিতে ওর বিয়ে ঠিক করেছি।যা ক্ষতি করার করেই ফেলেছে।সোসাইটিতে মুখ ধরতে পারছি না।আর বরদাস্ত করবো না।
আপনার ছেলের জন্য আমার মেয়ের কোন ক্ষতি হলে আমি কিন্তু আর মেনে নিবো না।কিছুতেই না।পরে যে কোনো কিছু হয়ে যেতে পারে।তার দায় আমার না।যদি ভালো শিক্ষা দিক্ষা থাকে ছেলেকে আটকান,লেলিয়ে দিবেন না।"

কর্ণেল সাহেব রেগে বলেন,"মুখ সামলে কথা বলুন!আমাকে বলছেন কেন?আপনার নিজের বুড়ো মেয়েকে বলুন!এমনি তো বুড়ি থুরথুরি।কারো ঘাড়ে উঠতে না পেরে আমার ছেলের মাথা চিবিয়ে খেয়েছে।তার উপর আবার একে নিয়ে এতো এতো নাটক।আর আপনি তখন থেকে কি সোসাইটি সোসাইটি লাগিয়ে রেখেছেন,হ্যাঁ...!আমার সোসাইটি নেই নাকি?আমার ছেলেকে কি আমি স্বজ্ঞানে বয়স্ক মেয়ের সাথে বিয়ে দিবো?সকলে আমাকে ছিহ ছিহ করবে।
কোন বাবা চায় তার রাজপুত্রের মতো ছেলের জন্য এমন মেয়ে আনতে।পুতুলের মতো বউ মা নিয়ে আসবো আমার ছেলের জন্য।
আর শুনে রাখেন আপনি দেশের মন্ত্রী হলেও তাতে আমার কোনো আকর্ষন নেই।আপনার মেয়ের সাথে আমার ছেলের বিয়ে কখনোই হতে দিবো না।আমার ছেলের বিয়ে ঠিক করে ফেলেছি।আপনার মেয়ের বিয়ের আগে আমার ছেলের বিয়ে দিবো,যতো সব রাস্কেল কোথাকার।"বলেই ফোন রেখে দেয়।

ধীরে ধীরে বিষয়টি সবার কানে পৌছে যায়।এতে করে দুই পরিবারের সকল আত্মীয় স্বজনরা একত্রে উঠে পড়ে লাগে বিয়ের জন্য।

এক সপ্তাহ ধরে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ নেই।পাপড়ির ফোন লেপটপ সব কিছু নিয়ে নিয়েছে।আজিম হোসাইন বলেছেন,"শোনো মামুনি,তোমার মান অভিমান আমি অনেক দেখেছি।আর না।ঐ ছেলের সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করা যাবে না।এ বিয়ে যদি না হয় তাহলে এর পরিনাম ভালো হবে না।হয়তো ঐ ছেলের ক্ষতি হবে নয়তো তোমার বাবাকে পাবে না।"

পাপড়ি না পেরে বলে,"বাবা আমাদের বিয়ে হয়ে গেছে,আর সেটা অনেক আগেই।"আজিম হোসাইন স্তব্ধ।এ কি শুনছে!

চেচিয়ে উঠে বলে,"কি যা তা বলছো?"

"হ্যাঁ বাবা!"

বিয়ের রাতের সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলে।আজিম হোসাইন হতভম্ব হয়ে যান।চকিতে বলে উঠেন,"এ কথা যেন আর কেউ না জানে।আমি এখুনি তোমার ডিবর্স পেপার নিয়ে আসছি।ও কে ডিবর্স দিয়ে ই বিয়ে হবে।"

চোখের পানিতে পাপড়ির দু'গাল ভিজে গেছে।কাঁদো কাঁদো হয়ে বলে,"বাবা কি বলছো তুমি!"

"হ্যাঁ যা বলছি ঠিকি বলছি।এ ঘটনা জানাজানি হলে আমার মান সম্মান ধূলিসাৎ হবে।ভুলে যেও না আজ তোমার গায়ে হলুদ।নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করো।" বলেই বেরিয়ে যান।

আজকেই রাত ও দিনার আকদের অনুষ্ঠান।একমাস পরে বিয়ে হবে ধুমধাম করে।রাতের বাবার নিমন্ত্রণে রাতের বন্ধুরা সবাই এসেছে।কিন্তু রাত মুখ থেকে এতো সব শুনে সকলে তো অবাকের শেষ সীমানায় ।

————————

সন্ধ্যা ৬টা।

রাত ৮টায় বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হবে।তাই ৭টায় বাসা থেকে দিনাদের বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে।কিন্তু রাতের মুখ থেকে রাত ও পাপড়ির বিয়ের ঘটনা শুনে সব বন্ধুরা মিলে প্ল্যান বানায়।যে করে হোক কিছু একটা করতে হবে।

পাপড়ি পার্লারের চেয়ারে মুর্তির ন্যায় বসে আছে।মেকআপ আর্টিস্ট মনের মাধুরি মিশিয়ে ও কে সাজাতে ব্যস্ত।হঠাৎই আর্টিস্টের ফোনে আজিম হোসাইনের ফোন আসে।

পাপড়ির কানে ধরতেই বলে,"আমি আসছি পার্লারে,পেপার সব রেডি।আর্টিস্টদের সামনে ভনিতা না করে চুপচাপ সাইন করে দিবে।যেন কেউ বুঝতে না পারে কিসের কাগজ এটা।"

পাপড়ির চোখ বেয়ে পানি পড়তে থাকে।আর্টিস্ট বলে,"আপি কাঁদবেন না, মেকআপ নষ্ট হয়ে যাবে...।"

পাপড়ি বলে,"আমি আপনার ফোন থেকে একটা ফোন করতে পারি?"

"হ্যাঁ,কেন নয়!"

পাপড়ি ফোন হাতে ড্রেসিং রুমে চলে যায়।

রাতের বন্ধুরা সবাই রাতের সাথে গাড়িতে উঠেছে।উদ্দেশ্য দিনাদের বাড়ি।বরের গাড়িতে রাতকে উঠিয়ে দিয়ে ই রাতের বাবা মা পেছনের গাড়িতে উঠে বসে।

রাতদের গাড়ি সেনানিবাস অতিক্রম করতেই রাতের ফোন বেজে ওঠে।স্ক্রিনে আননোন নাম্বার।ফোন রিসিভ করে কানে ঠেকাতেই দ্রুত গতিতে অপর পাশ থেকে গড়গড়িয়ে বলতে শুরু করে।

"দ্রুত রাইসিং বিউটি পার্লারে এসো,আমার বাবা আমার জন্য ডিবর্স পেপার নিয়ে আসছে,পেপারে আমার সাইন নিতে,তার পর পরই আমার গায়ে হলুদ।আমাকে নিয়ে যাও রাত,আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না।মরে যাবো।"

রাত বলে,"সে জন্যই বুঝি আমার ফোন তুলছো না!যোগাযোগ বিছিন্ন করে রেখেছো।করে দেও সাইন।বিয়ে করে নেও আমার চেয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন ছেলেকে।সে তোমাকে কোনো কষ্ট দিবে না।আমি দিনাকে বিয়ে করতে যাচ্ছি।"

পাপড়ি কাঁদতে কাঁদতে বলে,"রাত....! আমার বাবা আমার ফোন লেপটপ সব নিয়ে নিয়েছে।অফিস যাওয়া বন্ধ,এমনকি ঘর থেকে বের হতে-ও দিচ্ছে না।কিভাবে যোগাযোগ করবো!"

"এসব শুনে এখন আর কি হবে..."বলেই রাত কল কেটে দেয়।

পাপড়ি কাঁদতে কাঁদতে ওয়াশরুম থেকে বের হতেই আর্টিস্ট বলে,"মেম আপনার মেকআপ তো এক্কেবারে ড্যামেজ করে ফেলছেন।"পাপড়িকে বসিয়ে আবারো ঘষামাজা করতে থাকে।

মিনিট দশেক পর হুরমুর করে কয়েকজন ছেলের আগমন ঘটে।পাপড়ি তাকিয়ে রাতকে দেখে সোজা গিয়ে হুমড়ি খেয়ে রাতের বুকে পরে।আর এক সেকেন্ড ও না দাঁড়িয়ে পার্লার থেকে বেরিয়ে পরে।

আর্টিস্ট বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকে।কি হলো কিছুই যেন তার বোধগম্য হয়নি।তারা বের হয়ে যাওয়ার মিনিট দশেক পরই আজিম হোসাইনের আগমন হয়।

আজিম হোসাইন পার্লারে এসে দেখেন আর্টিস্ট সোফায় বসে আছেন আর তার এসিস্ট্যান্ট সব কিছু গোছগাছ করছে।পুরো রুমের কোথাও পাপড়ি নেই।পাপড়ির কথা জিজ্ঞেস করতেই তিনি সব কিছু খুলে বলেন।
আজিম হোসাইন মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে।

অপরদিকে রাতের বাবা রাতকে একের পর এক কল করেই যাচ্ছে।তারা সবাই দিনাদের বাড়ির গেটে দাঁড়িয়ে আছেন।রাতের তো আরও আগে আসার কথা,সেখানে এখনো এসে পৌঁছালো না কেন?নিশ্চয়ই কোনো অঘটন ঘটিয়েছে?

রাত পাপড়িকে সাথে নিয়ে তাদের গন্তব্যে যাত্রা শুরুর পর কর্ণেল সাহেবকে কল করে বলে,"বাবা পাপড়ির সাথে আরো ছ'বছর আগেই আমার বিয়ে হয়ে গেছে।আমি তোমাদের বউমাকে নিয়ে হানিমুনে যাচ্ছি।দোয়া করো যেন তোমাদের নাতিনাতনির সুখবর নিয়ে ফিরতে পারি।এর আগে বউমা ঘরে তুলতে চাইলে ফোন করো।নয়তো অযথা বিরক্ত করো না।আসসালামুওয়ালাইকুম।"

————————

কক্সবাজারে জাহিদের হোটেল উঠেছে সবাই।জাহিদের ইন্সট্রাকশনে পুরো হোটেলে আগে থেকেই সজ্জিত করে রাখা হয়েছে।কাজি ডাকা হয়েছে।পাপড়িকে লাল বেনারসি পড়িয়ে কনে সাজানো হয়েছে।রাত মেরুন সেরোয়ানি,মাথায় পাগড়ি।বর বেশে সকলের কেন্দ্রবিন্দুতে একটি ডিভানে পাশাপাশি বসে আছে।

পাপড়ির বাবা আজিম হোসাইন ও রাতের বাবা কর্ণেল আসাদুজ্জামানকে ভিডিও কনফারেন্সে রেখে পুনরায় দুজন দুজনকে কবুল করে নেয়।
তাদের কিংবা তাদের সোসাইটির কারোর-ই করার কিছুই থাকে না।

হোটেলের সর্বৎকৃষ্ট সুবিন্যস্ত কক্ষে অসংখ্য রক্ত লাল গোলাপে সাজানো হয়েছে একটি বিছানা।বিছানার ধবধবে সাদা চাদরে লাল টুকটুকে শাড়ি পড়ে লম্বা ঘোমটা টেনে বসে আছে পাপড়ি।

রাতের বন্ধুরা রাতকে বাসর ঘরের সামনে এগিয়ে নিয়ে আসে।

সুমন বলে,"দোস্ত সাবধান রুমে কিন্তু সি সি ক্যামেরা আছে।"

এটা শুনে সকলেই হো হো করে হেসে উঠে।রাত বড়ো বড়ো করে চায়।

জাহিদ কে বলে,"দোস্ত...সিরিয়াসলি...?"

"আরে শা*লা কি বলিস!যা তো...কখন থেকে ভাবি বসে আছে।অনেক সাধনার পরে তোদের এই দিন এসেছে।আমরা আজকে ডিস্টার্ব করলে মারা পড়বো না।যা বেটা।সুখবরটা জলদি যেন পাই।"

রাত জাহিদের বুকে ঘুষি দিয়ে বলে,"শা*লা...!বাসর ঘরে ঢুকতেই পারলাম না,এখনি সুখবর চাস।"
সকলেই এক সাথে হেঁসে উঠে।

রাত দরজার ভেতরে পা রাখতেই সবাই একত্রে বলে,"বেস্ট অফ লাক দোস্ত।"

রাত হেঁসে দরজা বন্ধ করে।ভেতরে ঢুকেই পুরো রুম ভালো করে চেক করতে থাকে।

পাপড়ি ঘোমটার মধ্যে থেকে রাতের এমন অদ্ভুত কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করছে।অনেকক্ষণ ধরে এভাবে চলার পর পাপড়ি না পেরে জিজ্ঞেস করে,"কি হয়েছে রাত!কি খুঁজছো এভাবে?"

রাত চেক করতে করতে বলে,"সি সি ক্যামেরা।"

পাপড়ি অবাক হয়ে বলে,"কিহহহহ!"

"আরে হ্যাঁ!
শয়তান গুলোর কোনো বিশ্বাস নেই।দেখা গেলো কোথাও ক্যামেরা লুকিয়ে রেখেছে,কালকে সেটা দিয়ে আমার ইজ্জতের ফালুদা করে দিবে।"

পাপড়ি খিলখিল করে হেঁসে উঠে।রাতের ভালো করে খোঁজার পর বলে,"নাহহহ নেই,শালা গুলো হুদাই ভয় দেখাই কতোগুলো মিনিট নষ্ট করে দিছে।"পাপড়ি খিলখিল করে হেঁসে উঠে।
সেরোয়ানির হাতা গোটাতে গোটাতে পাপড়ির পাশে বসে আদুরে স্বরে বলে,"পাপড়ি!"

"হুঁ...!"

"এভাবে কিভাবে বসে আছো?"

"তো কিভাবে থাকবো?"

"আমার দিকে তাকিয়ে দেখো।"

"নাহহ,পারবো না!"

"আরে পারবা...!"বলেই ঘোমটা তুলে ফেলে।

" এতো লজ্জা পাওয়ার কি আছে অদ্ভুত তো!এটা কি আমাদের প্রথম বাসর নাকি? দ্বিতীয় বাসর, লজ্জা পেও না তো!"বলেই পাপড়ির চিবুক স্পর্শ করে।

পাপড়ি তাকায় রাতের নেশাক্ত চোখে কোমল লাজুক স্বরে বলে,"বাসরের ও কি প্রথম দ্বিতীয় আছে নাকি? "

মুচকি এসে বলে,"আছে তো...!"

রাত অপলক চেয়েই আছে চেয়েই আছে।পাপড়ি বার বার চোখ সরাচ্ছে।রাতের এভাবে তাকানোতে ভিষণ লজ্জা করছে।মনে হচ্ছে জীবনের প্রথম দেখেছে।

"প্লিজ রাত চোখ নামাও....!"

"বলেছিলাম না বিয়ের পর আমার বউকে এক মাস শুধু দেখেই যাবো,দেখেই যাবো..."পাপড়ি নিজেকে রাতের দৃষ্টির আড়াল করতে,ভিষণ লজ্জা থেকে রেহাই পেতে রাতের বুকে মাথা রাখে।

রাত তার প্রেয়সীর লাজুক মুখ লুকানোর আশ্রয়টা আরো জড়ালো করে দেয়।দুহাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে তার লাল টুকটুকে বউকে।প্রিয় মানুষকে বুকে জড়িয়ে ধরায় বুঝি এমনি প্রশান্তি অনুভব হয়।আর এক মুহুর্ত দেরি করতে রাজি না রাত।অতঃপর তারা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় একে অপরের #হৃদয়ের_নিকুঞ্জ_নিড়ে।

~~~ সমাপ্তি ~~~

ধন্যবাদ সবাইকে ধৈর্য্য ধরে গল্পটি পড়ার জন্য।পুরো গল্পটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।ভালো লাগলে অন্যান্য গল্প প্রেমিদের সাথে শেয়ার করবেন।আর হ্যাঁ আপনাদের মতামতের উপর ভিত্তি করে নতুন গল্প " তোর সমীপে" শুরু করবো।অবশ্যই অবশ্যই আপনাদের মূল্যবান মতামত জানাবেন।ভুলে যাবেন না,আপনাদের উৎসাহ-ই আমার অনুপ্রেরণা।ভালোবাসা নেবেন।আসসালামুওয়ালাইকুম।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।