হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে- পর্ব ১৬

হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে-পর্ব ১৬
হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে-পর্ব ১৬


গল্পঃ হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে
পর্বঃ ১৬
লেখিকাঃ গল্পকন্যা
প্রকাশকালঃ মে-২০২৩
ক্যাটাগরীঃ প্রেম কাহিনী, জুনিয়র সিনিয়র গল্প



রাত এক দৃষ্টিতে চেয়েই থাকে ক্লান্তশ্রান্ত পাপড়ির দিকে।মনে পড়ে এই মেয়েটা ওর বউ,ওর লাল টুক টুক বউ।ওর সুহাসীনি।কিন্তু তার উপর কোনো অধিকার নেই।ভাবতেই ভাবনা গুলো মলিন হয়ে যায়।

পাপড়ি মুচকি হাসে।"ছেলেটা কথা রেখেছে।একবারো আসেনি সামনে ।"পাপড়ি ভাবে হয়তো রাত সব ভুলে গেছে।সেই বিয়ের রাতের ঘটনারও অনেক দিন পেরিয়ে গেছে।ওর মনে আর কিছু থাকার কথা নয়।পাপড়ি এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ওদের কাছে।একেবারে সোহানের সামনে।

"কেমন আছো?"
"আল্লাহর রহমতে ভালো আছি ।আপনি কেমন আছেন?"
"ভালো।সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে,এখনো এখানে কি করছো?দু'দিন পর না এক্সাম!"
"হ্যাঁ...সে জন্যই আড্ডা দিচ্ছিলাম।পড়তে পড়তে টায়ার্ড হয়ে গেছি।একটু রিফ্রেশমেন্টের দরকার।আপনি এই ভর সন্ধ্যায় এখানে কেন?"
"একজনের সাথে দেখা করবো।তো বাড়ি যাবে কখন?"

জাহিদ বলে,"আপু ওর বাড়ি যেতে হবে কেন?ক্যাম্পাসের সামনেই তো বাসা নিয়েছে।"

পাপড়ি বলে,"তাই নাকি রাত,বউ বাচ্চা ও আছে নাকি বাসায় ?"

রাত পাপড়ির মুখে বউয়ের কথা শুনে চমকে তাকায়।মনে মনে বলে,"সুহাসীনি তুমি-ই তো আমার বউ!"

পেছন থেকে হঠাৎ সোহান ডেকে উঠে।পাপড়ি সবাই কে টাটা বলে চলে যায়।

সোহান একটা রিকশা নিয়ে এসেছে।পাপড়িকে বলে," উঠে এসো।"

পাপড়ি নিষেধ করে,বলে,"রিকশা কেন?"
সোহান বলে,
"উঠো না।"

পাপড়ি অসম্মতি জানায়,"না সোহান রাত হয়ে যাচ্ছে,আমি কোথাও যেতে পারবো না।তুমি যাও।কালকে দেখা হবে।"

সোহান ওর হাতে ধরে টেনে তুলে।পাপড়ি কিংকর্তব্যবিমূঢ়।পেছনে রাত ও ওর বন্ধুরা চেয়ে আছে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সোহানের রিকশা থামে একটা বাসার সামনে।ভাড়া মিটিয়ে সোহান ভেতরের দিকে অগ্রসর হয়।

কোনো উপায় না পেয়ে পাপড়িকেও পিছু নিতে হয়।
সোহান বাসার তালা খুলে ভিতরে ঢুকে পাপড়িকেও আসতে বলে।

পাপড়ি ইতস্তত করতে করতে ভিতরে প্রবেশ করে।ভেতরে যেতেই সোহান দরজা বন্ধ করে দেয়।
পাপড়ি পুরো বাসায় চোখ বুলিয়ে দেখে।এটা একটা ফ্ল্যাট।ওদের বর্তমান অবস্থান ফ্ল্যাটের ড্রয়িং রুম।

সোহান সোফায় বসে।পাপড়িকেও বসতে বলে।পাপড়ির মনে ভয় কাজ করছে।কারণ ফ্ল্যাটে কেউ নেই।কোনো বেগতিক কিছু হলে কিভাবে নিজেকে প্রোটেক্ট করবে।

সোহান দূরত্ব গুচিয়ে কাছে এসে বসে।

পাপড়ি দূরে সরে যায় ।এবার সোহান রাগান্বিত হয়ে খানিক উচ্চ স্বরে বলে,"আর কতো ধৈর্য্য ধরবো তোমাকে কাছে পেতে?বলো?আমার সব বন্ধুরা আমাকে গে বলে ক্ষেপায়।সেটা শুধু তোমার জন্য।আমি তোমার জন্য কতো কি করেছি।কিন্তু তোমার কাছ থেকে আমি কি পেয়েছি বলো।আমাকে কি দিয়েছো।আজকে আমার সাথে ইন্টিমেন্ট হতে হবে।"

পাপড়ি চমকে উঠে,"কি সব যা তা বলছো?এর জন্য এখানে নিয়ে এসেছো।সরো আমাকে যেতে হবে।"

সোহান পাপড়ির দুই বাহু চেপে ধরে,"নাহ..!আজকে আমার ইচ্ছে পূরণ হবেই।যে করেই হোক।তা না হলে তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক থাকবে না।"

পাপড়ি চেঁচিয়ে উঠে,"সোহান বাড়াবাড়ি হচ্ছে কিন্তু,ছাড়ো আমাকে।"

"কেন ছাড়বো বলো।আমি তোমাকে কতো ফেসিলিটি দিয়েছি,তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলে নিজে যেচে আমার বিছানায় আসতো।আজকে আমি তোমাকে চাই।একান্ত নিজের করে চাই।আজকের রাতটা তোমার আমার জীবনের স্মরণীয় রাত হবে।আসো বেবি।প্লিজ জোরাজোরি করো না।তুমি পারবে না আমার সাথে।ইজিলি থাকো আর নিজেও ফিল করো মুহূর্তটাকে।"

পাপড়ি থু করে এক দলা থুতু ফেলে মেঝেতে,"ছিহ তুমি এতো নিচ।ভাবো কিভাবে,এসব কাজে আমি জড়াবো।ছাড়ো আমাকে।"বলেই ছাড়ানোর চেষ্টা করে।কিন্তু পেরে উঠে না।সোহান শক্ত করে ধরে আছে।

সোহান ক্ষেপে বলে,"ঐ মা*ী...,আজকে যদি তুই আমাকে বাধা দিস,তোর ঐ হোস্টেলে আর থাকা হবে না।দুদিন পরে না ফাইনাল এক্সাম,কই থেকে দিবি?রাস্তায় থেকে?ভালোয় ভালোয় রাজি হয়ে যা।"

পাপড়ি হাত ছাড়িয়ে উঠে দাঁড়ায়।তাৎক্ষণিক সোহান হোস্টেল সুপারের কাছে ফোন করে বলে,"পাপড়ির সিট থেকে ওকে সরিয়ে দেও।আমি না বলা পর্যন্ত ও যেন আর হোস্টেলে ডুকতে না পারে ।"

পাপড়ি হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।সোহান এগিয়ে যায়,পাপড়ির কাছে যেয়ে পাপড়ির ঠোঁটের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।পাপড়ি সজোড়ে একটা চড় লাগায়।দাঁতে দাঁত খিঁচে বলে,"রাস্তায় থাকতে হলে রাস্তায় থাকবো,তবুও তোর সাথে শুতে রাজি হবো না।দরকার হলে পরীক্ষায় দিবো না।"সোহান চড় খেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে যায়।পাপড়ির চুলের গোছায় টেনে ধরে বেড রুমে নিয়ে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলে।

পাপড়ির মনের ও শরীরের সকল জোর গায়েব হয়ে গেছে।

চিৎকার করে বলে,"সোহান দয়া করো,এমন করো না প্লিজ।আমার লাইফটা নষ্ট হয়ে যাবে।প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় আমার জন্য খুব দরকার।তুমি এমন করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই।প্লিজ সোহান।" বলতে বলতে পাপড়ি বিছানার শেষ প্রান্তে চলে যায়।

সোহান ওর গায়ের টিশার্ট খুলে ছুড়ে ফেলতে ফেলতে বলে,"এমন ভাব করছিস তুই কোনোদিন এসব করিস নি,রাতের সাথে কক্সবাজারে গিয়ে কি করছিস,তোর বান্ধবীর বাবার সাথে কি করেছিস,দামি গাড়ি চড়ে আসা বুড়োর সাথে কই যাস সব আমার কানে আসে..."

পাপড়ি চেঁচিয়ে বলে,"মুখ সামলে কথা বল কু*ার বাচ্চা।ছিহহ তুই এতো নিচ..., যার তার সম্পর্কে এমন মন্তব্য করবি না।"

"হ্যাঁ এখন তো আমি নিচই হবো, আমার চেয়ে শক্তি শালি ভা*ার পাইছোস না,আরে দেখ একবার সুযোগ দিয়ে ওর চেয়ে ভালো পারি কি না..." বলতে বলতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাপড়ির উপর।

এদিকে সোহানের ঝাপানারো পূর্ব মুহূর্তে পাপড়ির মনে পড়ে ওর ব্যাগে একটা মরিচের গুঁড়োর স্প্রে আছে। হাত গলিয়ে ব্যাগের ভেতর থেকে ছোটো বোতলটা বের করে।ঝাঁপিয়ে পড়ার সাথে সাথে চোখে স্প্রে করে দেয়।

সোহান চিৎকার করে ছিটকে পড়ে। পাপড়ি দৌড়ে বাসা থেকে বের হয়ে বাইরে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়।

দৌড়ে ক্যাম্পাসের মূল গেটের সামনে চলে আসে।তারপর ধপ করে রাস্তায় বসে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।এখন কোথায় যাবে ও।কেন সবসময় ওর সাথে এমন হয়।ওর চ্যালেঞ্জে কি ওকে হেরে যেতে হবে।

রাতের নয়টা বাজে, ও কিছুতেই হোস্টেলে যেতে পারবে না।কিন্তু কোথায় যাবে ও। সোহান যেহেতু নিষেধ করেছে,হোস্টেল সুপার ওকে আর কিছুতেই ভেতরে ঢুকতে দিবে না।হঠাৎ ঝপঝপ করে বৃষ্টি নামতে আরম্ভ করে।

পাপড়ির রাতের কথা মনে হয়।কিছু না ভেবে তখুনি ফোন লাগায় রাতকে।

রাত সবে পড়া শেষ করেছে।এখন ডিনার করবে।

এমন সময় ফোন বেজে উঠে।ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে অবাক।কতোদিন পরে সুহাসিনী নামটা স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে।

রাত ফোন তুলতেই শুনতে পায় পাপড়ির ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ।রাত বিচলিত হয়ে জিজ্ঞেস করে," কি হয়েছে তোমার?"

পাপড়ি কেঁদেই যাচ্ছে,রাত আবারো বলে,"পাপড়ি কথা বলো!কাঁদছো কেন?"

পাপড়ি বলে,"আজকের রাতটা আমাকে তোমার বাসায় থাকতে দিবে?".

"কি হয়েছে?কোথায় তুমি?কেন দিবো না?বলো কোথায় তুমি, আমি আসছি?"
"আমি ক্যাম্পাসের গেটের সামনে।"

রাত পাঁচ মিনিটের মাথায় ছাতা নিয়ে হাজির হয় গেটের সামনে।পাপড়ি একটা ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে আছে।বৃষ্টির ঝাপটায় পুরো ভিজে গেছে।

রাত ছাতার নিচে করে পাপড়িকে নিয়ে ওর বাসায় আসে।
ভেতরে ঢুকতেই রাত তোয়ালে বাড়িয়ে দেয়। ছোট্ট ডাইনিং টেবিল সংলগ্ন চেয়ারে বসে পড়ে পাপড়ি।তারপর রাতের হাত থেকে তোয়ালে নিয়ে মুখ মুছে।আচমকা দু'হাতে মুখ ঢেকে কাঁদতে আরম্ভ করে।

একের পর এক ঘটনায় রাত অবাক হচ্ছে ।রাত পাপড়ির কাছে এসে মাথায় হাত রাখে।আদুরে স্বরে বলে,
"কি হয়েছে বলো আমাকে।"

পাপড়ি রাতের পেটে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে।
রাত কি করবে বুঝতে পারছে না।নিজের অনুভূতি লুকাবে নাকি ওকে স্বান্তনা দেবে।

পাপড়ির মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,"কান্না বন্ধ করো,কি হয়েছে বলো আমাকে?".

পাপড়ি কেঁদেই যাচ্ছে।

"আচ্ছা থাক বলতে হবে না। যাও ভিজে জামা কাপড় চেঞ্জ করে আসো।আমার টিশার্ট প্যান্ট দিচ্ছি।"তারপর পাপড়িকে ঠেলে ওয়াশ রুমে পাঠায়।আগে শান্ত হোক।তারপর শোনা যাবে কাহিনী কি।

পাপড়ির সাইজের জামা কাপড় নেই একটাও,অনেক খুঁজে ওর একটা থ্রী কোয়ার্টার আর টিশার্ট পায়,সেটাই পড়ার জন্য দেয়।

কিচেনে গিয়ে দুটো ডিম পোস করে ভাত নিয়ে আসে দুটো প্লেটে করে।

পাপড়ি বাথরুম থেকে বের হয়ে কাচুমাচু হয়ে দাঁড়ায়।কারণ রাতের ঢিলেঢালা পোশাকে ওকে অদ্ভুত দেখাচ্ছে।

কিন্তু রাতের কাছে মনে হচ্ছে ওর সামনে একটা একটা প্রিন্সেস দাঁড়িয়ে আছে।অদ্ভুত সুন্দর লাগছে মেয়েটাকে।

পাপড়ি রাতের মাদকতা মেশানো চাহুনি অগ্রাহ্য করে,চুপচাপ বিছানার এক কোণে বসে চোখের পানি ফেলতে থাকে।

রাত প্লেট বাড়িয়ে বলে,"নেও শুরু করো।আমার খুব খুদা পেয়েছে।জানিয়ে আসলে রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার আনিয়ে রাখতাম।আমি ডিম ভাজা ছাড়া কিছু পারি না।কষ্ট করে খেয়ে নেও।"

পাপড়ি জল ছলছল চোখে রাতের দিকে তাকিয়ে থাকে।পাপড়ি প্লেট নিচ্ছে না দেখে নিজেই ডিম দিয়ে ভাত মেখে এক গ্রাস ওর মুখের সামনে তুলে ধরে।পাপড়ি আবারো কেঁদে ফেলে।।

ওর মন খারাপে,ওর অনেক কষ্টের সময় এমন করে কেউ কখনো ওর যত্ন করেনি।পাপড়ি খাবার টুকু মুখে নেয়।এভাবে রাত পুরোটা খাবার খাইয়ে দেয়।তারপর নিজের খাবারটাও শেষ করে।

কিচেনে প্ল্যাট রেখে এসে পাপড়ির মুখোমুখি বসে।

মাত্র গোসল করার কারণে পাপড়ির সর্বাঙ্গে এক ধরনের সিগ্ধতা বিরাজমান করছে।ভিজে চুল গুলো লেপ্টে আছে ফর্সা গলা গালে ও কপালে।চুঁইয়ে চুঁইয়ে ফোটা ফোটা জল গড়িয়ে পড়ছে গলায়, ঘাড়ে।সেই জলে পেট ও বুকের কিছু কিছু অংশ ভিজে দৃশ্যমান হয়ে আছে।ভিষণ আবেদনময়ী লাগছে।

রাতের অবচেতন মন ভাবে,"আজ যদি দুজনেই ওদের স্বামী -স্ত্রীর সম্পর্ক টা মেনে নিতো,তাহলে মুহূর্ত অনিন্দ্য সুন্দর হতো।"

নিজের অবাধ্য পৌরষ্য মনকে ধাতস্থ করে বলে,"কি হয়েছে বলো আমাকে..."

পাপড়ি একে একে সব খুলে বলে।তার পর পরই কাঁদতে কাঁদতে হেঁচকি তুলে ফেলছে।পুরো ঘটনা শুনে রাত পাপড়িকে জড়িয়ে ধরে।বুকের ভেতর হুহু করছে।আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাচ্ছে।

রাত বুঝতে পারে কতো বড়ো বিপদ থেকে পাপড়ি বুদ্ধির জোড়ে বেঁচে ফিরেছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বলে,"বাহ তোমার তো বুদ্ধি আছে।সোহানের ক্রিমিনাল বুদ্ধির সাথে পেরে গেছো।
এই না হলে যোগাযোগ বিভাগের ছাত্রী।"

পাপড়ি কান্না থামিয়ে হেঁসে উঠে।কিন্তু রাতের মন বিক্ষিপ্ত।মনের মধ্যে জমা হয়েছে প্রচন্ড ক্ষোভ।"এর দাম তো দিতেই হবে সোহানকে।"

কথায় কথায় রাত বারোটা বেজে গেছে।

বাইরে প্রচুর বৃষ্টি,সাথে বজ্রপাত হচ্ছে।হুট করেই কারেন্ট চলে যায়।ফোনের ফ্লাশ অন করে,চার্জার লাইট বের করে রাত পাপড়ির পাশে বসে আছে।বৃষ্টির শব্দ রুমের থমথমে নিস্তব্ধতা কাটিয়ে এক অদ্ভুত ছন্দ তুলছে ।

পাপড়ির গায়ে কাটা দিয়ে উঠছে।রাতের অনুভূতি ও অব্যক্ত,উদ্যাম,উচ্ছ্বসিত....



চলবে....


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।