রিয়াজ রাজ এর সমালোচারনী - চারনী?

প্রাক্তন (পর্ব ১১)
রিয়াজ রাজ এর সমালোচারনী - চারনী?
রিয়াজ রাজ এর সমালোচারনী - চারনী? 


গল্পঃ সমালোচারনী - চারনী?
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুন-২০২৩
ক্যাটাগরীঃ রম্য
প্রকাশঃ অনলাইন




তাবিয়া মেয়েটা উ/ল/ঙ্গ দৌড়াচ্ছে রাস্তায়।

চারপাশে মানুষের ভিড় জমেছে। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাবিয়ার বস্ত্রহীন দেহ ভিডিও করে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কয়েক হাজার লাইক থেকে,মিলিয়নে পার করেছে। আমি যখন ওয়াচ করছিলাম, তখন তো বিলিয়ন লাইক ছিলো।

কি? জানতে চাচ্ছেন? মূল ঘটনা?

শুরু থেকে বলি। তাবিয়া একটা সমালোচারীনি। চারীনি?

সে যাইহোক, তার কাজ হচ্ছে লেখক/লেখিকাদের বদনাম রটানো। হ্যাঁ,বদনাম রটানোর জন্য যে সে উলঙ্গ দৌড়াচ্ছে তা নয়।

অস্ত্র – ফ্রেডরিক ব্রাউন
তার দোষ দেওয়াটা আমাদের উচিৎ না। কথায় আছে, মাতালের ধর্ম নাই।

কি? আমার কথার আগামাথা বুঝতে আপনার কষ্ট হচ্ছে? তাহলে ফিরে যেতে হবে ২ বছর আগের কথায়।

তাবিয়া সমালোচনার পাশাপাশি একজন টিকটকার।

টিকটকে সে ইসলামিক ভিডিও বানাতো। কিন্তু মানুষ সাড়া দিতো না। এরপর সে একদিন হিজাব খুলে ভিডিও বানায়। মোটামুটি সেই ভিডিওতে ১৪ টা লাভ রিয়েক্ট আসে।

৫ টা থেকে ১৪ টা রিয়েক্ট পাবার পর,তাবিয়া গেঞ্জি পড়ে টিকটক শুরু করে। এরপর সে প্রতি ভিডিওতে শ-খানেক লাভ রিয়েক্ট পায়।

তাবিয়া চিন্তা করে,গেঞ্জি খুলেই টিকটক করা যাক। এতে হাজার লাইক পাবে। আর সে ওটাই করলো।

ভিডিও ভায়োলেন্স খেয়ে তার টিকটক আইডি তো গেছেই,সাথে তার পরিবার তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।

এই টিকটক করার অজুহাতে তাবিয়া একটা টিকটকার ছেলেকে পটিয়েছিলো। ছেলের নাম রিসাদ। ঘর থেকে বঞ্চিত হয়ে তাবিয়া যায় রিসাদের কাছে। রিসাদ তাবিয়াকে নিয়ে উঠে এক বন্ধুর বাসায়। তাবিয়া ভেবেছে,রিসাদ তাকে বিয়ে করে নিবে। কিন্তু এই সমাজ কতটা ভয়ংকর, তা তো সবার জানা আছে।

হ্যাঁ,৬-৭ দিনের মতো তাবিয়াকে খেয়ে-দেয়ে রিসাদ পালিয়ে যায়। এদিকে রিসাদের বন্ধু তাবিয়াকে দিতে থাকে কু-প্রস্তাব। তাবিয়া ভয়ে পালিয়ে যায় বাসা থেকে।

ভূতুড়ে বাংলো বাড়ি রহস্য (পর্ব-০২) - নাঈম চৌধুরি
দিক-বেদিক হয়ে তাবিয়া কল করে তার বান্ধুবী রাইমাকে। রাইমা ফোন রিসিভ করতেই,তাবিয়া বলে,


- কিরে। কই তুই।

- হোটেলে।

- ওখানে কি।

- আমার বাবুকে নিয়ে এসেছি। ওর ক্ষুদা লেগেছে।

- ওও বুঝছি। আচ্ছা শুন। আমি তোর বাসায় আসতেছি। ঝামেলা হয়ে গেছে।

- কিসের।

- আয় আগে,পরে বলবো।


তাবিয়া কেটে দেয় কল। রাইমাও কিছু বলেনা আর। সে তার প্রেমিক বাবুকে খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে যায়।


রাত ১১ টা....

তাবিয়ার মুখে সব শুনে রাইমা বুদ্ধি বের করতে শুরু করে। প্রায় ১০ সেকেন্ড ভাবনার পর রাইমা বলে," ওর ফেসবুক পাসওয়ার্ড তোর কাছে না?"। তাবিয়া হ্যাঁ সূচক ইঙ্গিত দেয়। রাইমা আবার বলে," ওর যে একটা সমালোচনা গ্রুপ আছে। ওটা হ্যাক করে ফেলি চল। রিভেঞ্জ হয়ে যাবে"। তাবিয়া আর করেনি দেরি। মুহুর্তের মধ্যে রিসাদের ফেসবুক আইডি আর গ্রুপ নিজের আয়াত্তে নিয়ে আসে।

এরপর থেকে শুরু হয় তাবিয়ার খেলা। সমালোচনার নাম করে,গ্রুপে গাঁজাখুরি পোষ্ট দিতে থাকে। এই গাঁজাখুরি পোষ্ট দেখে,গাঁজাখোর ছেলেগুলা তাবিয়ার সাথে লাইন মারতে থাকে। তাবিয়াও সুযোগ হাত-ছাড়া করেনি। গাঁজাখোর ছেলেদের সাথে দেখা করতো,রুমে যেতো,সব বিলিয়ে দিতো। কিন্তু খেলা যখন মাঝামাঝি হতো,তখনি তাবিয়ার আরো গাঁজাখোর বন্ধুরা এসে কট ধরতো। অর্ধেক মজা নেওয়া ছেলেটার মোবাইল,মানিব্যাগ হাতিয়ে নিয়ে ছেড়ে দিতো। এইভাবে চলছিলো বিগড়ে যাওয়া তাবিয়ার জীবন।

প্রাক্তন (পর্ব ১ ও ২) - মিশিতা চৌধুরী
রাতভর নেশা করে, রাতে ব্রিজের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতো। ছেলেরা ১০০ টাকার লোভ দেখিয়ে নিয়ে যেতো। নেশাখোর তাবিয়ার হুশ থাকতো না। ঢাকার ছেলেগুলাও বড্ড ফাজিল। মেয়েটাকে বাসায় নিয়ে ভোগ তো করতোই। উল্টো মেয়েটার ব্যাগ থেকে টাকাগুলা রেখে দিতো। যেহেতু তাবিয়ার হুশ ঠিক থাকতো না,তাই সে টের পেতো না ( বাসায় বলতে বাসার রুমে না। ছাদে নিতো)

এইভাবে প্রায় ২ বছর কেটে যায়। তাবিয়া একদিন মাতাল হয়ে ফেসবুক ঘাটছে।তখনি দেখে,আশিক নামের একটা লেখক বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তাবিয়া পেয়েছে টপিক। আশিক সাহেবের গল্পে মেয়েরা কেনো কমেন্ট করে।তা নিয়ে শুরু হয় তুমুল সমালোচনা। একটা পোষ্টের নমুনা দেখুন,

" গল্প- কিরণমালা

লেখক- আশিক

হ্যাশট্যাগ #সমালোচনা


এই লেখকের চরিত্র খারাপ।এই লেখক গাঁজা খায়। কেও তার লেখা পড়বেন না। তার কমেন্টে হাজার হাজার মেয়েরা কমেন্ট করে। ছিহ,তার পরকাল নিয়ে ভয় নেই। এতো মেয়ের ভিড়ে সে কিভাবে গল্প লেখে। ফেসবুক চালানোই তো হারাম। এই হারাম কাজ করায় সে জাহান্নামে যাবে। বয়কট করুন এসব অশ্লীল চরিত্রহীন লেখকদের"।


তাবিয়ার এই পোষ্ট দেখে রেগে যায় আশিক। যদিও সে ফেসবুক লেখক,কিন্তু বাস্তব জীবনে এমপির ছেলে। আশিক দলবল নিয়ে যায় রাইমার বাসায়। দরজায় লাথি মারতেই,খুলে যায় দরজা। আশিক দেখতে পায়,২টা ছেলে সহ রাইমা আর তাবিয়া ইয়াবা খাচ্ছে।

আশিক রুমে যেয়ে আগে তাবিয়ার চুল ধরে। এরপর ইচ্ছেমত পেটাতে শুরু করে।তাবিয়াকে থেরাপি খেতে দেখে,দৌড়ে পালায় রাইমা আর ঐ দুইটা ছেলে। তখনি আশিকের দলের একটা ছেলে বলে," ভাই,মনে কিছু নিয়েন না। আমি এই মেয়েটাকে একটু আদর করতে চাই"। আশিক সাহেব মুচকি হেসে বলে," নে, জন্মের আদর করে দিস"। ছেলেটাকে রুমে রেখে আশিক সাহেব বাহিরে চলে আসে। ভিতরে তাবিয়াকে সবাই ***** বুঝে নিন।

আত্মা নাকি সে (পর্ব-০৫) - রিয়াজ রাজ
টানা ৩ দিন রশমলাই আর কলা খেয়ে তাবিয়া দৌড়ে পালায়। ঐ সময় তার গায়ে কিছু ছিলো না। আশিকও তাড়া করেনি আর। এমপির ছেলে বলে কথা। থানা আর কি করবে।

এ হচ্ছে তাবিয়ার ঘটনা।


এইরকম অহরহ মেয়ে আছে আমাদের সমাজে। টিকটক করতে যেয়ে দেহ দেখায়। ফালতু ছেলেদের সাথে বন্ধুত্বের নামে নষ্টামি করবে। আবার ফেসবুকের প্রোফাইল দিবে হিজাব পড়ে।হুটহাট লেখকদের ধরে ধরে ঈমান ঠিক করতে চাইবে।যেখানে তার নিজেরি ঈমান নাই। তাই,এদের এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।