পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৩ ) - দিশা মনি

কিভাবে আপনার সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন? বিস্তারিত জানুন।
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৩ ) - দিশা মনি
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৩ ) - দিশা মনি


গল্পঃ পারলে ঠেকাও
পর্বঃ
০৩
লেখিকাঃ
দিশা মনি
প্রকাশকালঃ
জানুয়ারী-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ
প্রেম কাহিনী
ধারাবাহিক গল্প



২য় পর্বের পর থেকেঃ
মধুজা অক্ষরদের বাড়িটার দিকে তাকায়। দুইতলা বিশিষ্ট বিশাল বাড়ি৷ সম্পূর্ণ বিদেশি ডিজাইনের একটি বাড়ি। মধুজা শুনেছিল তার শ্বশুর অনীল চৌধুরী নাকি খুব বড় বিজনেস ম্যান। তিনিই এই বাড়িটা তৈরি করেছেন। মধুজা এসেছে থেকে বাড়ির সামনেই দাড়িয়ে আছে। সে চাইলেই ভেতরে যেতে পারে কিন্তু এভাবে একা যেতে তার অস্বস্তি হচ্ছে। বাইরে দাড়িয়ে মশা মা'রছিল আর বলছিল,

জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৫) - রিয়াজ রাজ
'আজ ঐ পাগলা ডাক্তারটাকে একটা শিক্ষা দিয়ে তবেই আমি দম নিব। আমাকে এভাবে বাইরে রেখে যাওয়া তাইনা। দাড়াও দেখাচ্ছি মজা।'

কিছুক্ষণ পরেই অনীল চৌধুরী কয়েকজন আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে গাড়িতে করে চলে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে মধুজাকে এভাবে বাইরে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অনীল চৌধুরী চমকে যান। মধুজাকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন,

'তুমি এভাবে বাইরে দাড়িয়ে আছ কেন মা? আর অক্ষর কোথায়?'

মধুজা এই সুযোগটাকেই কাজে লাগায়। দুঃখী দুঃখী ভাব করে বলে,

'আপনার নির্দয় পাষাণ ছেলে আমাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। আচ্ছা আপনিই বলুন আমি এভাবে কি করে ভেতরে যাই।'


অনীল চৌধুরী আত্মীয় স্বজনদের সামনে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে যান। একেই তো বিয়ের ওখানে যেসব কান্ড হলো তাতে তার এমনিতেই অনেক কথা শুনতে হয়েছে। এখন আবার নতুন করে ঝামেলা হলে ব্যাপারটা ভালো দেখাবে না। তাই তিনি বলেন,

'আচ্ছা তুমি চলো আমাদের সাথে। অক্ষর এলে ওর বিচার করবোনি।'

মধুজা বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে অনীল চৌধুরীর সাথে যেতে থাকে। অনীল চৌধুরী দরজার সামনে এসে কলিং বেল বাজায়। অনীল চৌধুরীর স্ত্রী মমতা চৌধুরী এতক্ষণ ধরে ছেলে আর ছেলের বউয়ের অপেক্ষায় ছিলেন। কলিং বেলের শব্দ শুনেই ঝটপট গিয়ে দরজা খুলে দেন। দরজা খুলেই ভড়কে যান তিনি।

অক্ষরকে না দেখে অনীল চৌধুরীকে প্রশ্ন করেন,

প্রেমের উড়ান (পর্ব-১৯)
'তোমার ছেলে কোথায়?'

মমতা চৌধুরীর গম্ভীর প্রশ্নে ভয় পেয়ে যান অনীল চৌধুরী। এই বাড়ির প্রত্যেক সদস্যই মমতা চৌধুরীকে ভীষণ ভয় পায়। কারণ তিনি সবসময় গম্ভীর মুখে থাকেন। আর একবার রেগে গেলে অনেক বেশি সিরিয়াস হয়ে যান। তখন কেউ হাজার চেষ্টা করেও তার রাগ কমাতে পারে না। অনীল চৌধুরী কিছু বলার আগেই মধুজা বলে,

'আপনি কি আমার শ্বাশুড়ি মা?'

মমতা চৌধুরী মধুজার দিকে তাকিয়ে গাম্ভীর্যতা বজায় রেখেই বলে,

'হ্যা আমি অক্ষরের মা। এখন থেকে তোমার শ্বাশুড়ি।'

মধুজা মমতা চৌধুরীকে বলে,

'জানেন আপনার ছেলে আমাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে চলে গেছে। আমি কতক্ষণ থেকে একা দাড়িয়ে আছি।'

রাগে মমতা চৌধুরী হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেন।

'তুমি ভেতরে এসো। অক্ষরকে একবার শুধু ফিরতে দেও তারপর আমি দেখছি।'

মধুজা মাথা নাড়িয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। মনে মনে বলে,

'এবার আসবে মজা। পাগলা ডাক্তারের রাগী মা এবার তাকে শায়েস্তা করবে।'


৫.
মমতা চৌধুরী নিজে থেকে মধুজাকে অক্ষরের রুমে নিয়ে এলেন। মধুজাকে রুমে পৌছে দিয়ে বললেন,

'আজ থেকে এই রুমেই তুমি থাকবে। দেখে নাও তোমার পছন্দ হয় কিনা। চাইলে নিজের মতো করে রুমটা সাজাতে পারো। আমি কিন্তু সেরকম শাশুড়ি নই যে বিয়ের পর তোমাকে বলব সবকিছু মানিয়ে নিতে। তুমি একলা কেন মানিয়ে নিবে? আমার ছেলেও তো তোমাকে বিয়ে করেছে। তাই তাকেও মানিয়ে নিতে হবে।'

আলাদিন অ্যান্ড দ্য ম্যাজিক ল্যাম্প
মধুজা মুগ্ধ হয়ে যায় মমতা চৌধুরীর কথাগুলো শুনে। এই মুহুর্তে তার মনে হয় তার সামনে দাড়িয়ে থাকে এই নারীমূর্তিটির নাম যেন তার সঙ্গে মিলে গেছে। আসলেই মমতাময়ী তিনি। বাহিরে থেকে গম্ভীর আর রাগী মনে হলেও যে তার ভেতরটা খুব সুন্দর সেটা উপলব্ধি করতে পেরেছে মধুজা। অনেক ছোটবেলায় নিজের মাকে হারিয়েছে সে। আজ যেন মমতাকে দেখে মা মা অনুভূতিটা আসছে। মধুজা শুধু এটাই বুঝতে পারছে না এত ভালো একজন মানুষের ছেলে ঐরকম পাগলা ডাক্তার হলো কিভাবে?

মধুজাকে চিন্তায় মগ্ন দেখে মমতা চৌধুরী বলে,

'কি ভাবছ? অক্ষরের কথা তো? ওকে নেয় ভাবিও না। ও আসলে আমি ওকে শাসন করে দিবো। আজ সারাদিন নিশ্চয়ই অনেক ক্লান্তি গেছে তোমার উপর দিয়ে। এখন তুমি রেস্ট নাও। আমি আসছি।'

মমতা চলে যাবে তখন মধুজা আচমকা তার হাত টেনে ধরে। মমতা গম্ভীর মুখে তাকাতেই হাতটা ছেড়ে দিয়ে বলে,

'আসলে আমার এরকম নতুন যায়গায় একা থাকতে ভয় করছে। আপনি যদি একটু থাকতেন তাহলে,,,'

মধুজা মমতা চৌধুরীর দিকে আরেকবার তাকায়। তার মুখের গাম্ভীর্য ভাব বজায় আছে। মধুজা ভাবে এখনই হয়তো তাকে অনেকগুলি কথা শুনিয়ে দিবেন তিনি। কিন্তু মধুজার ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে মমতা চৌধুরী স্মিত হেসে বলেন,

'আচ্ছা। তুমি একটু অপেক্ষা করো। আমি তোমার শ্বশুরকে রাতের ওষুধ দিয়ে আসছি। ওষুধ খাওয়ার কথা তার তো আবার মনেই থাকে না।'

মধুজা ভরসা পেয়ে নিশ্চিত হয়। মমতা চৌধুরী তার স্বামীকে রাতের ওষুধ দিয়ে চলে আসে। মধুজার পাশে বিছানায় শুয়ে পড়ে। মধুজা অনেক ক্লান্ত ছিল তাই শোয়ামাত্রই ঘুমিয়ে যায়। ঘুমের ঘোরে মমতাকে জড়িয়ে ধরে মধুজা। প্রথমদিকে অস্বস্তি হলেও মমতা চৌধুরী মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘুমের ঘোরে মধুজা বলছিল,
প্রেমের উড়ান (পর্ব-০৩) - দিশা মনি

'আই মিস ইউ আম্মু। তোমাকে অনেক মিস করি।'

মমতা চৌধুরী জানেন মধুজার মা নেই৷ এই কারণে মেয়েটার জন্য খুব মায়া হয় তার। মা ছাড়া যে জীবন কত কঠিন সেটা তিনি জানেন। জন্মের পরই মমতা চৌধুরীর মা মারা গিয়েছিল। জন্মের পর থেকে বাবা আর চাচা-চাচিদের অগাধ ভালোবাসা পেলেও মায়ের অভাব বোধ করেছেন তিনি। তাই তো যখন মধুজা বাচ্চাদের মতো তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়েছিল তখন তাকে সরিয়ে না দিয়ে আলতো করে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।


৬.
ঘুম থেকে ওঠামাত্র মধুজা দেখতে পায় তার পাশে অক্ষর শুয়ে আছে। এই ঘটনায় মধুজা এতটাই হতবাক হয়ে যায় যে বিছানা থেকে লাফিয়ে উঠে পড়ে। যার কারণে অক্ষরের ঘুমও ভেঙে যায়। অক্ষর চোখ ডলতে ডলতে বলে,

'সকাল সকাল ভূত দেখলে নাকি যে এত চমকে গেলে?'

মধুজা প্রচণ্ড ছটফট করছিল। নিজের পাশে অক্ষরকে দেখে এমনিতেই তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হওয়ার জোগাড়। তার উপর সকাল সকাল অক্ষরের এমন মশকরা তার সহ্য হলোনা। বেশ রুঢ়ভাবে বলল,

'আপনি এখানে কি করছেন? আমার পাশে তো গতকাল রাতে আপনার মা ছিল। আপনি এলেন কোথা থেকে?'

অক্ষর ভ্রু কুচকে ফেলে। অতিশয় বিরক্তি নিয়ে বলে,

'গতকাল রাতে আমি বাড়ি ফিরি। বাড়ি ফিরে নিজের রুমে এসে দেখি তুমি আর আম্মু শুয়ে আছ। আম্মু আমার উপস্থিতি টের পেয়ে যান। তিনি তখন উঠে পড়েন। আমাকে অনেক কথা শোনান তোমাকে একলা বাড়ির বাইরে রেখে যাওয়ার জন্য। তারপর আমাকে বিশ্রাম নিতে বলে নিজের রুমে চলে যান। আমি ফ্রেশ হয়ে এসে তোমার পাশে শুয়ে পড়ি। তুমি ঘুমের দেশে এতোটাই তলিয়ে ছিল যে খেয়ালই করোনি।'
মন দিয়েছি তোমার নামে (পর্ব-০৫)

মধুজা অক্ষরকে উদ্দ্যেশ্য করে বলে,

'আপনি এভাবে বিনা অনুমতিতে আমার পাশে শুয়ে পড়লেন কেন?'

'এই রুমটা আমার, বিছানাটা আমার এমনকি বউটাও আমার। তাহলে তোমার অনুমতি নিতে হবে কেন?'

মধুজা এবার অন্য ভাবনায় তলিয়ে যায়। অক্ষরের এত অধিকারবোধ দেখে তার মনে অন্য চিন্তা চলে আসে৷ মধুজা শুকনো ঢোক গিলে বলে,

'আপনি কাল রাতে আমার সাথে কিছু করেন নি তো?

অক্ষর মজা নেওয়ার জন্য বলে,

'অনেককিছুই করেছি।'

মধুজা এবার কাদো কাদো গলায় বলে ,

'আপনি আমার পিওর ভার্জিনিটি এভাবে ন'ষ্ট করতে পারেন না।'

মধুজার কথায় অক্ষরের হাসি পেয়ে যায়। অনেক কষ্টে নিজের হাসি আটকে অক্ষর ধীরে ধীরে মধুজার দিকে এগোতে থাকে। মধুজাও পিছাতে থাকে। মধুজা বিছানার একেবারে শেষ প্রান্তে এসে থেমে যায়। অক্ষর বাকা হেসে বলে,
হীরক রহস্য অনুচ্ছেদ ০১ ও ০২

'আমার বউয়ের ভার্জিনিটি আমি ন'ষ্ট করবো নাতো কে করবে?'

মধুজা ভয়ে আরো পিছানোর চেষ্টা করতেই ধপাস করে বিছানা থেকে পড়ে যায়। অক্ষর শব্দ করে হেসে ওঠে। 




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।