অবুঝ দিনের ভালোবাসা (শেষ খন্ড) - গল্পকন্যা

পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ১৯ )
অবুঝ দিনের ভালোবাসা (শেষ খন্ড) - গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)
অবুঝ দিনের ভালোবাসা (শেষ খন্ড) - গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)


গল্পঃ অবুঝ দিনের ভালোবাসা
পর্বঃ শেষ খন্ড
লেখিকাঃ গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
বিভাগঃ প্রেম কাহিনী, ছোট গল্প



 


দ্বিতীয় খন্ডের পর থেকেঃ

"এই বাচ্চা আমার।"

সকলে অবাক হয়ে যায়।রবিনের পরিবারও হতবাক,রবিনের এমন আকস্মিকতায়।

লামিয়া চেঁচিয়ে বলে,"না..!আপনি মিথ্যা বলছেন কেন!" বলতেই শালিসে পুনরায় গুঞ্জন উঠে।

রবিনের পরিবারের মানুষ রবিনকে বকাঝকা করতে করতে সেখান থেকে নিয়ে যায়।এলাকার মানুষ এর জন্য লামিয়াকে আরো খারাপ ভাবে বলে,"ছিহহ কি নষ্টা মেয়ে ভাবা যায়?কতো জনের সাথে শুয়েছে কে জানে।"

আবিরের বাবা কারো কথার তোয়াক্কা না করে আবিরকে টেনে নিয়ে বাড়ি চলে যায়।

আবির অস্বীকার করায় সব দোষ হয় লামিয়ার।

মেম্বার লামিয়ার বাবার উদ্দেশ্যে বলেন ,"এমন অল্প বয়সি মেয়েকে যেহেতু তুমি শাসনে রাখতে পারোনি,তখন এর সব দোষ তোমার ।তাই শাস্তি সরূপ সবার সামনে ক্ষমা চেয়ে বলবা যে তুমি এই এলাকা ছেড়ে চলে যাবা।"পাহাড় সমান অপমান নিয়ে মধ্যবয়স্ক লোক সর্ব সমূখে ক্ষমা চেয়ে বলে এলাকা ছেড়ে দিবে।


শালিস শেষে সবাই চলে যায়।


ঈশপের গল্প/ একটি গাছ ও একজন পথিক

শালিস থেকে লামিয়ার পরিবারকে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়,এলাকা ছাড়ার জন্য।

এই এলাকায় লামিয়ারা ভাড়া বাড়িতে থাকে।দুই রুমের বাসা ওদের।এক রুমে মা বাবা,অন্য রুমে লামিয়া আর ওর ভাই থাকে।

রাত তখন দুটো।

সবাই ঘুমাচ্ছে।

হঠাৎ লামিয়ার বাবা ঘুম থেকে উঠে দেখে দরজা খোলা।কৌতূহল বশত বাইরে বেরোতেই উঠানের আম গাছের সাথে কিছু একটা ঝুলতে দেখতে পায় ।প্রথমে তিনি ভয় পেয়ে যায়।কিন্তু পরবর্তীতে গগণ বিদারক চিৎকার করে ছুটে যায়।


_________________



সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেছে আবির।আজ ওর অনেক কাজ আছে।

সকালে অফিসে যাওয়ার সময় আবিরের বাবা ওর ফোন ফেরত দিয়ে গেছে।ওর বাবার কথা মতো সবার সামনে অস্বীকার করায় ছেলের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন।তিনি মহা বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন।

কিন্তু আবির গতরাতে ওর বাবার ড্রয়ার থেকে বিশ হাজার টাকা চুরি করেছে,সেটা কেউ জানে না।

কারণ লামিয়া কে নিয়ে আজকে পালিয়ে যাবে।

আনমনে ভাবতে থাকে,"প্রথমে বিয়ে করবে,তারপর একটা বাসা ভাড়া নিয়ে সুন্দর সংসার শুরু করবে।তাদের সংসারে শুধু ভালোবাসা আর ভালোবাসা থাকবে।


এক সপ্তাহ তো মেয়েটাকে শান্তি ই দিবে না।শুধু ভালোবাসবে আর ভালোবাসবে..."

প্রেমের উড়ান (পর্ব-০৯)
এসব ভাবতে ভাবতে লামিয়ার লজ্জিত মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে,তারপর নিজেই লজ্জা পেয়ে যায়।

সুযোগের সন্ধানে ছিলো এ দুদিন।শালিস বসার আগে টাকা চুরির সুযোগ পেলে আগেই লামিয়াকে নিয়ে পালিয়ে যেতো।

ও জানে গতকাল লামিয়া খুব কষ্ট পেয়েছে।ও অনেক কষ্ট দিয়েছে মেয়েটাকে।এটা ভেবে নিজেও রাত ভর ঘুমাতে পারেনি।শুধু প্রহর গুনেছে।

পরক্ষণেই নিজেকে সামলেছে,"আর তো কিছু ক্ষণের ব্যাপার।সামনে যেয়ে একবার জড়িয়ে ধরলে, সব দুঃখ কষ্ট গায়েব হয়ে যাবে।"

ফোন অন করতেই স্ক্রিনে মেসেজ ভেসে উঠে।মেসেজ লিস্টের প্রথম মেসেজটি এসেছে রাত একটায়।

মেসেজটা ছিলো ,"অনেক ভালোবাসি আবির।"

বিরবির করে ঠোঁট নাড়িয়ে আবির বলে,"আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি সোনা।"

আর যেন তর সইছে না,তাৎক্ষণিক ওর এক বন্ধুকে ফোন করে বলে,"দোস্ত...আজকে লামিয়াকে নিয়ে পালাবো।তোর হেল্প লাগবে।"

আবিরের বন্ধু বলে,"বন্ধু একটু লামিয়াদের বাড়ির সামনে আয় কথা আছে।যতদ্রুত পারিস আয়।"

বন্ধুর এমন কথায় আবিরের মস্তিষ্কে অজানা আতংক ভর করে।গতকাল রাতেই কি লামিয়ারা এলাকা ছেড়ে চলে গেলো নাকি?এমন করে বলছে কেন?

"কি হয়েছে রে?"

"আরে আয় তো তুই।"

আবির কোনোমতে ব্রাশ করে দৌড়ে আসে লামিয়াদের বাড়ির সামনে।

লামিয়াদের বাড়ির সামনে ভিড়।প্রচন্ড ভির।

আবির ঠাওর করতে পারছে না। ধীরে ধীরে ভিড় ঠেলে ভিতরের দিকে অগ্রসর হয়।

উঠোনের এক কোণায় মাটিতে চাদরে আবৃত কারো নিথর দেহ।আবিরের বন্ধু চাদর সরায়।

আত্মা নাকি সে (পর্ব-০৩) - রিয়াজ রাজ
মুহূর্তেই গগন কাঁপানো চিৎকার করে উঠে আবির।ঝাপটে ধরে রোগা পাতলা নিথর দেহটাকে।হাউমাউ করে কাঁদতে আরম্ভ করে।

হ্যাঁ গতকাল রাত দুটোয় লামিয়া আত্মহত্যা করেছে।সমস্ত অপমান লাঞ্ছনার অবসান ঘটিয়েছে।।

বাড়ি ভর্তি মানুষে।সবাই একে একে দেখে যাচ্ছে।কেউ দুঃখ প্রকাশ করছে,তো কেউ আফসোস করছে,কেউ আবার আজেবাজে কথা বলছে।

আবির চিৎকার করে বলে,"লামিয়া কি হইছে তোমার?এমন মরা মানুষের মতো শুয়ে আছো কেন?ওরা এমন করে তোমাকে ঢেকে রাখছে কেন?এই লামিয়া কথা বলো?

আজকে আমি তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যাবো,সবার থেকে দূরে চলে যাবো।সব ব্যবস্থা করেছি।বিয়ে করবো দুজনে,সুন্দর সংসার হবে আমাদের।

লামিয়া..., উঠো লামিয়া...,শোনো না।এই লামিয়া।চোখ খোলো।আমার বাবার কথায় গতকাল অস্বীকার করেছিলাম আমি।তোমার কথা সত্যি!সব সত্যি লামিয়া।


সব দোষ আমার।"


প্রেমের উড়ান (পর্ব-১৫)
লামিয়ার নিথর দেহকে ঝাঁকিয়ে বলে,"এই লামিয়া,তুমি অভিমান করে আমার সাথে নাটক করছো তাই না সোনা?লামিয়া..., চোখ খোলো লামিয়া।ভুল হইছে জান,আর শাস্তি দিও না!আমি ভয় পাইছি,জীবনেও এমন করবো না,জান গো আমার ভুল হইছে,আমাকে মাফ করে দেও।অনেক ভালোবাসি তো ।অনেক ভালোবাসি সোনা।উঠো না।চোখ খোলো না একটি বার।"

কিন্তু লামিয়া আবিরের কথা শুনে আজ চোখে খোলে না।আবিরের বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছে না,মানতে ইচ্ছে করছে না যে লামিয়া আর দুনিয়ায় নেই, চিৎকার করে বলে,"তুমি তো আমার সাথে অভিমান করে ফেললা লামিয়া।এখন আমি কিভাবে তোমাকে ছাড়া বাঁচবো বলে দেও....,তোমাকে না দেখে থাকতে যে আমার কষ্ট হয়।তোমাকে জড়িয়ে ধরতে না পারলে আমার বুকে ব্যথা হয়।মরন যন্ত্রণা হয় লামিয়া।কেন আমার সাথে অভিমান করে আমাকে এতো বড় শাস্তি দিয়ে চলে গেলা?আমি কিভাবে তোমাকে ছাড়া বাঁচবো?এ পৃথিবীর অক্সিজেন যে আমার কাছে বিষাক্ত করে দিয়ে গেলা।লামিয়া...,আমার ভুল হয়েছে লামিয়া,ক্ষমা করে দেও...।ভালোবাসি বলো,বলো না একবার ভালোবাসি..."


আবিরের পাগলামো আর আহাজারিতে সকলের চোখে পানি।আহাজারি করতে থাকে লামিয়ার মা আর বাবাও।

আবিরের বন্ধু ও উপস্থিত কয়েকজন এসে আবিরকে ছাড়াতে চেষ্টা করে।কিন্তু অনেক জোর করেও ব্যর্থ হয়।কিছুতেই আবিরকে ছাড়ানো যাচ্ছে না।আবিরকে টেনে তুলতে নিলেই,লামিয়ার নিথর দেহকে শক্ত করে ঝাপটে ধরে থাকে।যার ফলে লাশ সমেত উঠে আসে।

আবিরের পরিবার আসে,পুলিশ আসে।সকলের অনেক চেষ্টা আর জোড়াজুড়িতে আবিরকে ছাড়াতে সক্ষম হয়।লাশ নিয়ে যায় মর্গে,আর আবিরকে বাড়িতে।

প্রেমের উড়ান (পর্ব-০৬)
তারপর দিন ভোরের সোনালি আলো ফুটে উঠেছে চারিদিকে।কি সুন্দর ঝলমলে সেই আলো।একেবারে চকচকে সোনা রঙা রোদ।

এই সুন্দর সকালটা আজ দুজনের প্রথম মধুর সকাল হতো।কিন্তু না হলো না।এই সুন্দর সকালটা ওদের জন্য মধুর হলো না।এই চকচকে সোনালি সকালের মোহনীয় রূপ দেখা হলো না লামিয়ার,আর না দেখা হলো আবিরের।

আবিরের বাবার সারা মাসের জন্য আনা সকল ঘুমের ওষুধ খেয়ে,আবিরও গতরাতে এই বিষাক্ত দুনিয়ায় থেকে চিরতরে বিদায় নিয়েছে।

আহাজারি ভেসে আসছে আবিরের বাড়ি থেকে।

সকাল বেলায় আবিরের বাড়িতেও পুলিশ আসে।আসে এলাকার লোকজন।ভালোবাসার কাছে পরাজিত হয়ে যায় আরো একটি প্রাণ।





~~~সমাপ্তি~~~




পরিনত বয়সের ভালোবাসা সঠিক ও মজবুত হলে,ভালোবাসায় পবিত্রতা থাকলে কোনো না কোনো ভাবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায়।কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে অপরিনত বয়সের ভালোবাসা গুলোর,এমনি কোনো না কোনো পরিনতি হয়।এই বয়সের মধ্যে দিয়ে যারা অতিক্রম করছেন,তাদেরকে বলছি,নিজেকে এমন ভুল গুলোতে জড়াবেন না।একটি ভুল আপনার জীবনের জন্য,আপনার পরিবারে জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।মনে রাখবেন অবৈধ কোনো কিছুই জীবনে সুখ বয়ে আনে না।গল্পটি আসলে অবুঝ দিনের ভালোবাসা নয়,অবুঝ দিনের ভুল দেয়া উচিত ছিলো।ধন্যবাদ সবাইকে গল্পটি পড়ার জন্য।
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৭)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।