অবুঝ দিনের ভালোবাসা (দ্বিতীয় খন্ড) - গল্পকন্যা

রিয়াজ রাজ/ ভয়ংকর রহস্য ( পর্ব-০১)
অবুঝ দিনের ভালোবাসা (দ্বিতীয় খন্ড) - গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)
অবুঝ দিনের ভালোবাসা (দ্বিতীয় খন্ড) - গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)


গল্পঃ অবুঝ দিনের ভালোবাসা
পর্বঃ দ্বিতীয় খন্ড
লেখিকাঃ গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
বিভাগঃ প্রেম কাহিনী, ছোট গল্প



প্রথম খন্ডের পর থেকেঃ

"এসব করো না আবির,ছেড়ে দেও আমাকে।"

আবিরের কানে কোনো কথা ই যেন প্রবেশ করছে না।দু'হাত লামিয়ার গালে রেখে ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়।

লামিয়া ধীরে ধীরে আবিরের বশে চলে যায় ।
_____________
সেই ঘটনার পর পেরিয়ে গেছে প্রায় দের মাস ।

হঠাৎ একদিন রাস্তায় দেখা হয়ে যায় আবিরের সেই বন্ধু রবিনের সাথে।যার বাসায় লামিয়া ও আবির দেখা করেছিলো।

লামিয়াকে দেখে আবিরের সেই বন্ধু রবিন বলে,"লামিয়া তোমাকে একটা কথা বলতে চাইছিলাম অনেক দিন ধরে।"
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১৬ )

"জি ভাইয়া বলেন কি বলতে চান।"

"আমি তোমাকে ভালোবাসি।তুমি আবিরকে ছেড়ে দেও,আর আমার সাথে রিলেশন করো।"

"আপনার মাথা ঠিক আছে?কি সব বলছেন! আপনি না আবিরের বন্ধু!"

"দূর রাখো তোমার বন্ধু।সে চোখের সামনে রঙ্গ লিলা করে বেড়াবে, আর আমি আবালের মতো সিঙ্গেল ঘুরবো?
না সেটা তো হবে না!

আর আমি তোমাকে আবিরের চেয়ে বেশি পছন্দ করি।আবিরের জন্য বলিনি এতোদিন।তবে তোমার সাথে যা হয়েছে তার পরে সে আর তোমার দিকে ফিরেও তাকাবে না।আমার খুব ভালো জানা আছে।

আগের জিএফের সাথে ও আবির এমনি করেছে।তাই বলছি, আমি সব জেনেই তোমাকে মেনে নিবো।সময় থাকতে রাজি হয়ে যাও।"

"ছিহহহ ভাইয়া!আপনি এটা বলতে পারলেন?আপনাকে আমি অনেক ভালো জানতাম।আজকে ধারণা চেঞ্জ হয়ে গেলো।আবির কখনই আমার সাথে এমন করবে না।আমার আবিরকে আমি ভালো করে চিনি।আমি আবিরকে বলছি,আপনি যে কতো বড়ো মিচকে শয়তান।"

ওঁ – মার্টিন গার্ডনার
"সেদিন আমার বাসায় কি করছো না করছো সব ছবি তুলে রাখছি।ওকে এসব বললে আর ওকে না ছাড়লে,আমি সেগুলো ফেসবুক আপলোড করে দিবো।বলেই ফোনে দুজনের চুম্বনরত একটা ছবি দেখায় ।"

লামিয়ার জ্ঞান হারানোর উপক্রম।এখন কি করবে ও।

সারাদিন প্রচন্ড চিন্তিত ছিলো, স্কুল বাড়ি এসে দেখে ওর বিয়ের কথা হচ্ছে ।

ওর চাচাতো ভাই মালেশিয়া থেকে এসেছে দশ দিন হলো।তার সাথেই বিয়ে ঠিক হয়েছে লামিয়ার।ওর চাচাতো ভাইয়ের হাতে বেশি দিন সময় নেই। তাই এই সপ্তাহের শেষ দিন বিয়ের দিন ঠিক করে,ছোটো পরিসরে বিয়ের আয়োজন হবে।

লামিয়ার মনে হচ্ছে সে যেন মাঝ সমুদ্রের অথৈই জলে উপনিত হয়েছে।আবিরকে হারানোর দুশ্চিন্তায় লামিয়ার নাওয়া খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।

এদিকে আবিরকে বারবার ফোন করেও ফোনে পাচ্ছে না।বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাড়ি থেকে ও বের হতে পারছে না।

আবিরের বাবার ড্রয়ার থেকে এক হাজার টাকা চুরি গেছে।সেটার জন্য প্রচন্ড রেগে আবিরের বাবা আবিরকে মেরেছে।ফোনও নিয়ে নিয়েছে।ভাবছে ছেলে হয়তো নেশা টেশা করছে।

টাকাটা আবিরই নিয়েছিলো।ওর জন্মদিনের সময় এক বন্ধুর কাছ থেকে এক হাজার টাকা ধার করেছিলো।অনেক দিন পেরোতেও শোধ করতে না পারায় বন্ধু প্রেশার দিচ্ছিলো তাই বাধ্য হয়ে বাবার ড্রায়ারে হাত দেয়।প্রয়োজন অনুযায়ি শুধু এক হাজার টাকাই নেয়।
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ১৩ )

একে আবিরের বন্ধুর কার্যকলাপ, তার উপর বিয়ে, সব মিলিয়ে লামিয়া অতিরিক্ত প্রেশারে মাথা ঘুরে পড়ে যায়।কিন্তু ডক্টরের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর ডক্টর লামিয়াকে চেক আপ করে জানায় লামিয়া প্রেগনেন্ট।

সকলের মাথায় বাজ পড়ার উপক্রম।
লামিয়ার মা লামিয়াকে প্রচুর মারে। মারতে মারতেই জিজ্ঞেস করে কার সাথে এ পাপ কাজে লিপ্ত হয়েছে।

লামিয়া চুপ করে থাকে।

টানা দু'দিনের বকা আর মার খেয়ে লামিয়া আবিরের নাম বলে।

লামিয়ার বাবা আবিরের বাবার কাছে বিচার দেয়।বলে এর সুরোহা করতে।কিন্তু মানসম্মানের ভয়ে আবিরের বাবা লামিয়ার বাবাকে অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।

দুদিনের মধ্যে এ খবর এলাকা শুদ্ধ লোক জন জেনে যায়।সকলের কাছে এ যেন রসালো প্রসঙ্গ।পাড়ার মুদি দোকান থেকে শুরু চায়ের দোকানে চলে এ প্রসঙ্গে চর্চা।

ঘরের বাইরে লামিয়ার পরিবারের কারো মুখ দেখানোর জো নেই।

এলাকার মুরুব্বিরা দুই পরিবার নিয়ে শালিসে বসে।

লামিয়া আর আবির অবিবাহিত হয়ে এ অবৈধ কাজে লিপ্ত হওয়ার দরুন ওদের কে এলাকা ছাড়া করতে হবে।নয়তো সব ছেলে মেয়ে ওদের দেখাদেখি নষ্ট হয়ে যাবে।এটাই এলাকা বাসীর দাবী।

এদিকে আবিরের বাবা চিন্তিত।ওনার বড়ো মেয়ের এখনো বিয়ে বাকি,কুলাঙ্গার ছেলের জন্য মেয়ের ভবিষ্যত নষ্ট হয়ে যাবে এটা তিনি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। এটা উনি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

শালিসে আবির লামিয়া সহ ওদের পরিবার বন্ধু বান্ধবরা সবাই উপস্থিত ছিলো।এলাকার মেম্বার লামিয়া কে জিজ্ঞেস করে," তুমি কি অন্তঃসত্ত্বা?"

"লামিয়া মাথা নিচু করে সম্মতি জানায়।
কার সঙ্গে এ পাপ কাজে লিপ্ত হয়েছো?"

লামিয়া চুপ করে কাঁদতে থাকে।মেম্বার ধমকে উঠে,"এখন লজ্জা পেয়ে ডঙ করে কাঁদলে কি হবে?কুকর্ম করার আগে লজ্জা পাওয়া উচিত ছিলো!বলো কে সে? "

লামিয়া লজ্জা, ঘৃণা আর অপমান নিয়ে আঙুল তুলে আবিরের দিকে।সঙ্গে সঙ্গে আবিরের বাবা লামিয়ার গালে চড় বসিয়ে দেয়।বলে,"ছিহহ লজ্জা করে না,আরেক জনের পাপ আমার অবুঝ ছেলের উপর গচিয়ে দিতে।নষ্টা মেয়ে কোথাকার!এমন মেয়ে আমার হলে,গলা কে'টে মেরে ফেলতাম।"

মরীচিকাময় ভালোবাসা পর্বঃ-০১
লামিয়ার বাবা দাঁড়ানো অবস্থা থেকে ধপ করে বসে পড়ে।লামিয়া ক্ষোভে জেদে উচ্চস্বরে বলে,"আপনার ছেলে...! জোর করে আমার সাথে এসব করেছে।যার জন্য আজ আপনি সর্বসমূক্ষে এ কথা বলতে পারছেন!না হয় এ কথা বলার সাহস কখনোই পেতেন না।"

সবাই লামিয়ার এভাবে চিল্লানোতে ফুসুরফাসুর শুরু করে।মেম্বার সবাইকে থামিয়ে আবিরকে জিজ্ঞেস করে,"এই মেয়ে যা বলছে সব সত্যি?"আবির ওর বাবার দিকে তাকায়।তারপর লামিয়ার দিকে,তারপর বলে,"নাহহহ।"

লামিয়ার মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে ধরনি কেঁপে ওর মাথায় বাজ্রপাত ঘটেছে।তার মানে আবিরের বন্ধুর কথাই ঠিক।

তাৎক্ষণিক আবিরের সেই বন্ধু রবিন বলে, "এই বাচ্চা আমার।"


চলবে....

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।