অবুঝ দিনের ভালোবাসা (প্রথম খন্ড) - গল্পকন্যা

মরীচিকাময় ভালোবাসা পর্বঃ-০৭
অবুঝ দিনের ভালোবাসা (প্রথম খন্ড) - গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)
অবুঝ দিনের ভালোবাসা (প্রথম খন্ড) - গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)

গল্পঃ অবুঝ দিনের ভালোবাসা
পর্বঃ প্রথম খন্ড
লেখিকাঃ গল্পকন্যা (ছদ্মনাম)
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
বিভাগঃ প্রেম কাহিনীছোট গল্প




"একটু সাইডে আসো,জাস্ট একটা হাগ করবো সোনা।"

"নাহ আমি এসব পাড়বো না,বিয়ের পর।"

"একটু জড়িয়ে ধরার জন্য বিয়ে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।কোনো একটা মেয়েকে একটা চকলেট দিলে আমাকে এমনি জড়িয়ে ধরে কিস করবে।"

"তাহলে আমার কাছে আসছিস কেন?ওদের কাছে যা।"
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ১৭ )

"না সোনা,রাগ করে না।আই লাভ ইউ তো।একটু জড়িয়ে ধরতে দেও চলে যাবো।"

ছেলেটা ভিষণ ফাজিল।কথা না শুনলে যেতেই দিবে না।

নিরিবিলি একটা জায়গা দাড়ায় লামিয়া।এক মুহূর্ত নষ্ট না করে আবির ঝপ করে ওকে জড়িয়ে ধরে।

কয়েক সেকেন্ড পরেই লামিয়া বিদ্যুৎ গতিতে সরে যায়।দ্রুত বাড়ির পথে হাঁটা ধরে।

এখন আবিরের আর কোনো অভিযোগ নেই, একটু জড়িয়ে ধরতে পেরেছে কয়েক দিনের জন্য শান্তি।

আবির ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারের স্টুডেন্ট।লামিয়া কেবল ক্লাস নাইন।

স্কুল থেকে পিকনিক গিয়েছিলো ষাট গম্বুজ মসজিদে। আবিরের কলেজ থেকে ও সেখানে পিকনিকে গিয়েছিলো।সেখান থেকে দুজনের ভালো লাগা আর ভালোবাসার শুরু।

লামিয়ার প্রথম প্রেম আবির।কিন্তু আবিরের একজন এক্স ছিলো।তবে সেটা ভুলে সে এখন লামিয়াকে প্রচন্ড ভালোবাসে।মাঝেমধ্যে নিজের কাছে নিজেকে পাগল মনে হয়।কেন যে মেয়েটাকে এতো ভালোবাসে নিজেই জানে না।

দু'জনেই মধ্যেবিত্ত পরিবারের সন্তান।পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে গত আট মাস যাবত রিলেশনে আছে।

বাবার ফোন থেকে লুকিয়ে লুকিয়ে কথা বলে লামিয়া আবিরের সাথে।খুব অল্প সময়ে দুজনেই গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে গেছে।

লামিয়া দেখতে সুন্দরী।সুন্দরী মেয়েদের পিছনে বাজে নজর থাকে বেশি।তাই দ্রুত মেয়ের একটা ব্যবস্থা করতে চায়।তাই মেয়ে কে নিয়ে চিন্তিত।

লামিয়ার বাবা একটা প্রাইভেট কোম্পানির সল্প বেতন ভুক্ত কর্মচারী।চার জনের পরিবারের বর্তমান বাজার খরচ তার সাধ্যের বাইরে চলে যায়।

মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-০৫
আবিরের পরিবার মোটামুটি সচ্ছল।তবে ওর বড়ো বোন আছে।দেখতে ততোটা ভালো নয় যে,বিনামূল্যে শশুর বাড়ি পার করতে পারবে।তাই বিয়ের যৌতুকের জন্য মোটা টাকার যোগান দিচ্ছে আবিরের বাবা।

আবির ভবঘুরে।পড়ার প্রতি মন নেই।সারাক্ষণ ঘুরে ফিরে আর পথ চেয়ে থাকে লামিয়ার। যদি লামিয়া বাড়ি থেকে বের হয় একটু দেখা হয়ে যায়।

মাঠে যাচ্ছিলো ফুটবল খেলতে।হঠাৎ লামিয়ার মিস কল আসে।কিন্তু আবিরের ফোনে টাকা নেই।

বাসায় গিয়ে দেখে সবাই টেবিলে খেতে বসেছে।আবির চুপচাপ আলনায় ঝুলানো বাবার শার্টের পকেট থেকে একশ টাকার একটা নোট নিয়ে বের হয়ে যায়।প্রেমের জন্য জীবনের প্রথম চুরি করতে হয়েছে।

মোবাইল রিচার্জ হতেই ফোন ব্যাক করে।কিন্তু ততক্ষণে ফোন লামিয়ার বাবার কাছে চলে যায়।

সেদিন রাতে সেই টাকা চুরির জন্য আবিরের বাবা আবির কে চড় মারে।টাকা কম হলেও চুরি তো চুরি ই।

টাকা চুরি করার মতো সাহস কেন করেছে জানতে চায়।কিন্তু আবির চুপ করে থাকে।

পরের দিন নিজের কলেজ না গিয়ে লামিয়ার জন্য দাড়িয়ে আছে রাস্তায়।লামিয়া হঠাৎ আবির কে দেখে খুশিতে আত্মহারা।আবির একটা কিটকাট চকলেট দেয়।লামিয়ার ভিষণ পছন্দের চকলেট। দেখা হলে প্রায়শই লামিয়া কে দেয়।

"এটা কেনো এনেছো? নিষেধ করেছি না!"

"আরে কলেজ যাইনি তো।টিফিনের টাকা বেচে গেছে না।"

"বাসা থেকে বকা দিবে না।কেন গেলে না।"

"কেন যাই নি জানো না?তোমাকে না দেখে কি থাকতে পারি।"

"তাই বলে...!"

"এসব বলে কেন সময় নষ্ট করছো?বলো না আই লাভ ইউ আবির।"

"ফাজিল ছেলে,যাও...! বলতে পারবো না।

আমার লজ্জা করে।"

"জীবনের প্রথম শুনলাম কেউ আই লাভ ইউ বলতে লজ্জা পায়।"

আসে পাশে কেউ নেই দেখে আবির চট করে লামিয়ার হাতে ধরে।বলে," লাভ ইউ সো মাচ লামিয়া।"লামিয়া লজ্জা পেয়ে দৌড়ে চলে যায়।

আবির হেঁসে উঠে।আসলে এটা বললে ওর নিজের-ও লজ্জা করে।

সেদিন বাড়ি ফেরার পর কলেজ বন্ধের জন্য বাবার হাতে ফের মার খেতে হয়।

বেশ কিছু দিন হলো বন্ধুদের সাথে আবির সিগারেট খাওয়া ধরেছে ।

সেদিন লামিয়ার সাথে দেখা করতে যেতেই। সিগারেটের উটকো গন্ধ লামিয়ার নাকে ধ্বাক্কা লাগে।

লামিয়া রেগে বলে,"তুমি সিগারেট খাও আবির?"

হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে- পর্ব ১২
আবির চুপ।

"আমার সাথে কথা বলবে না কখনো।"

"না না লামিয়া।এমন করো না জান।আমার ভুল হয়েছে আর খাবো না।"

"প্রমিজ তো?"

"হ্যা...তো।তবে একটা শর্ত আছে।"

"কি শর্ত?"

জড়িয়ে ধরে বলতে হবে,"আবির সোনা আর সিগারেট খাবা না।"

লামিয়া লাজুক হেঁসে বলে,"ফাজিল একটা! যাও ...বলতে পারবো না।"

এভাবেই খুনসুটিতে কেটে যাচ্ছিলো তাদের আবেগময় সুন্দর সময়।

আরো পড়ুনঃ

আগামীকাল আবিরের জন্মদিন।

লামিয়া বাবার ফোন নিয়ে লুকিয়ে ওয়াশরুমে যায়।আবিরকে উইশ করে।আবির এতোক্ষণ এটার অপেক্ষায়-ই ছিলো।আবির বলে," লামিয়া আমাকে গিফ্ট দিবে না।"

"হ্যা দিবো কালকে।"

"আমি আমার গিফ্ট চেয়ে নিবো তোমার কাছ থেকে।"

"কি গিফ্ট চাইবে?আমার কাছে কিন্তু বেশি টাকা নেই।"

আবির হেঁসে বলে,"সেটা দেখা হলেই বলবো। তুমি শুধু তখন না করো না।"

"ঠিক আছে।"

"শোনো... কালকে আমার বন্ধুর বাসায় আমার জন্মদিনের পার্টি করা হবে।তুমি সেখানে আসবে।"

"কিভাবে আসবো সোনা?আমাকে তো যেতে দিবে না।"

"কিভাবে মানে? স্কুল বাঙ্ক দিয়ে আসবা!"

"ভয় করে আবির।বাবা জানতে পারলে মেরে ফেলবে।"

"আমার জন্য এটা পারবা না।"আবির রাগ করে ফোন রেখে দেয়।

লামিয়ার মনটাও খারাপ হয়ে যায়।ওতো চায় আবির কে খুশি করতে।ছেলেটা খুশি থাকলে ওর ভালো লাগে।

ঠিক করে স্কুল না গিয়ে যাবে আবিরের সাথে দেখা করতে।

মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-০৪

পরেরদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে টিফিনের জমানো টাকা থেকে আবিরের জন্য একটা কালো রঙের টি-শার্ট কিনে।তারপর আবিরের বন্ধুর বাসায় যায়।বাসা পুরো খালি।সেখানে দুই একজন ছাড়া কেউ নেই।যারা আছে তারা আবিরের বন্ধু।

সব কিছু ঠিক ঠাক মতো চলছে।সবাই মিলে কেক কেটে একে অপরকে খাইয়ে দেয়।তারপর ওদের দু'জনকে একা রেখে বাকিরা চলে যায়।আবির লামিয়ার হাতে ধরে লামিয়াকে ওর কোলে বসায় জোর করে।লামিয়া লজ্জা পেয়ে ছুটে সাইডে চলে যায় ।


আবির বলে,"লামিয়া আমার জন্মদিনের গিফ্ট দিবে না?"

লামিয়া টেবিলের উপরে থাকা শপিং ব্যাগটা আবির কে দেখায়।আবির দেখে একটা টি-শার্ট।

সেটা রেখে বলে," এটা না,আমি তোমাকে কিস করতে চাই।"

আবিরের কথা শুনে লামিয়ার মাথা ঘুরাচ্ছে।

দিবে না আমার গিফ্ট?"

"না আবির এসব করতে পারবো না।"

"কেন লামিয়া?আমাকে ভালোবাসো না?"

"কি বলো তুমি এসব।ভালোবাসবো না কেন?ভালোবাসার প্রমাণ দিতে আমি এসব পারবো না।"

"প্লিজ লামিয়া, আজকে না করো না।প্লিজ!"

লামিয়া বার বার না করছে কিন্তু আবির নাছোড়বান্দা।

কিছু না শুনে এগিয়ে আসে লামিয়ার কাছে।আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরে।

লামিয়ার নিজের দেহকে অবশ মনে হচ্ছে।অনেক চেয়ে ও নিজেকে ছাড়াতে পারছে না আবিরের বাহু থেকে।

অসাভাবিক কেঁপে কেঁপে বলছে,"এসব করো না আবির,ছেড়ে দেও আমাকে।"
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৮ )

আবিরের কানে কোনো কথা ই যেন প্রবেশ করছে না।দু হাত লামিয়ার গালে রেখে ওষ্ঠে ওষ্ঠ মিলিয়ে দেয়।








(কেমন লেগেছে জানাতে ভুলবেন না।ভালো লাগলে পরের পার্ট আসবে।)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।