জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৪) - রিয়াজ রাজ

পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ১৩ )
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৪) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৪) - রিয়াজ রাজ


গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০৪
লেখক - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প


৩য় পর্বের পর থেকেঃ
------------------------------------

কেও বলে উঠে," তোকে বলেছিলাম। কাওকে বলিস না এই রাতের ব্যাপারে। এখন আর তাকে আটকানো যাবেনা। তোকে বলিদান দিতে হবে।

মন দিয়েছি তোমার নামে (পর্ব-০৪)
অনেক বড় বলিদান দিতে হবে"।

এতটুকু দেখে এক লাফে উঠে বসেন রমিজ মিয়া।

সারা গায়ে ঘাম।

থরথর করে কাঁপছেন উনি।

ভোর রাতের আগে এই স্বপ্ন। রমিজ মিয়া বিছানায় বসে হাঁপাতে থাকে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী উঠে যায় ঘুম থেকে। রমিজ মিয়াকে হাঁপাতে দেখে উনার স্ত্রী হয়ে যায় অবাক। এরপর এক গ্লাস পানি এনে দিয়ে রমিজ মিয়াকে খাইয়ে দেয়। রমিজ মিয়া শান্ত হতে হতে চারপাশে ফজরের আযান পড়ে যায়। ফজরের আযান শুনে তিনি তাড়াহুড়ো করে চলে যান মসজিদে।নামাজ আদায় করে রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবের সাথে একটু সাক্ষাৎ করতে চাইলেন। এদিকে ইমাম সাহেব নিজেই রমিজ মিয়াকে বললেন," আমি জানি আপনি কি বলবেন। যখন আপনি মসজিদে আসতেছিলেন। আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে আপনাকেই দেখছিলাম। আপনার পিছন পিছন সে আসছিলো মসজিদে। আপনার সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছে। আর আমি যতদূর এই জ্বীনদের জানি।এরা মৃত জ্বীন"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়ার হুশ উড়ে যাবার উপক্রম।জ্বীনরা মৃত হয়েও আবার ফিরে আসে? ব্যাপারটা গা নাড়া দেওয়ার মতো। রমিজ মিয়ার ভাবনা দেখে ইমাম সাহেব কিছুটা আঁচ করে নিয়েছেন। তাই প্রশ্ন করার আগেই ইমাম সাহেব বললেন," আমি জানি আপনি কি ভাবছেন। মানুষের ক্বারিন জ্বীন থাকে।এইটা ইসলামে আছে। কিন্তু জ্বীনদের কোনো ক্বারিন জ্বীন নেই। অভিশাপ্ত জ্বীনরা সহজে মুক্তি পায়না। আপনার পিছনে যে জ্বীন ছিলো। সে অভিশাপ্ত। কিন্তু কেনো নিলো এই জ্বীন আপনার পিছু। সেটি আমাকে জানান।আমার সন্দেহ সঠিক হলে কিছু একটা করা যেতে পারে।বলুন কি করেছেন"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া আরো একবার থতমত খেয়ে যায়। কারণ এই ঘটনা বলা নিয়েই উনার বিপদ হয়েছিলো। এখন যদি একই ভুল আবার করেন। তবে আবার কি হয়ে যায়। রমিজ মিয়াকে চিন্তিত দেখে ইমাম সাহেব বললেন," তারমানে কাওকে বলা নিয়েই সমস্যা"। রমিজ মিয়া বার বার ইমাম সাহেবের কথায় অবাক হচ্ছেন। না বলার আগেই তিনি কিভাবে বুঝে যান। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়ার চেহারায় তাকিয়ে বলে, " আল্লাহ্‌র উপর শক্তিশালী কিছু নেই। এই সৃষ্টির স্রষ্টা যিনি,তিনি চাইলেই বিপদ কেটে যাবে। আপনি শুরু থেকে বলুন। বাকিটা আমি দেখতেছি"।
পুতুল খেলা ( পর্বঃ ১০ - ১১ )

রমিজ মিয়ার মনের মধ্যে একটু সাহস এসেছে। ইমাম সাহেবের কথাও তো মিথ্যে নয়। আল্লাহ্‌র চেয়ে বেশি কোনো শক্তি নেই এই ভূ-পৃষ্টে। রমিজ মিয়া মনের মধ্যে কিছুটা সাহস সঞ্চার করে।এরপর বলতে শুরু করে সবটা। ইমাম সাহেব এক মনে রমিজ মিয়ার কাছে সেই রাতের ঘটনা শুনে যাচ্ছে। কিভাবে তারা এসেছিলো,কবর কিভাবে খুড়েছিলো সবটা। শেষে স্বর্ণের গোলা পেয়ে উত্তেজিত অবস্থাতে বউকে সবটা বলে দেওয়াটাও বললেন। কিন্তু তখন কিছু না হলেও,আজ রাতেই হলো।স্বপ্নে এতোদিন আসেনি। এসেছে আজ রাতে।এটির ব্যাখ্যাও নেই রমিজ মিয়ার কাছে। ইমাম সাহেব পুরো কথা শুনার পর কিছুক্ষণ ভাবনায় ছিলেন। এরপর ধীর স্বরে বলতে থাকে," আপনার পিছনে সেই জ্বীনরা পড়েনি। যারা আপনাকে পুরষ্কার দিয়েছে। আপনার নিশ্চয়ই সেই রাতের কথা মনে আছে। যে রাতে মসজিদের সামনে একটা জ্বীনের খাটিয়া এসেছিলো। আমি যে ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছি,তা তো জানেন। সিদ্দিক কবিরাজ সেদিনের পর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এবং এই জ্বীনের খাটিয়ার রহস্যটাও জেনেছি "।
পুতুল খেলা ( পর্বঃ ০৭ )

ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া হা করে রইলেন। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ইমাম সাহেব একটু মুচকি হেসে আবার বললেন," আমি নিজেও কখনো কল্পনা করিনি যে আমি এত কিছু শিখতে পারবো।কিভাবে আপনার চেহারা দেখে সব জেনে যাচ্ছিলাম,তা খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই। ঐ খাটিয়া একটি অভিশাপ্ত খাটিয়া। আর খাটিয়াতে যে লাশ,ওটাও একটা অভিশাপ্ত জ্বীন। যারা আপনাকে পুরস্কার দিয়েছে। তারা জ্বীনও না,মানুষও না। ওরা সেই বদজ্বীনের সত্বা। মানে ওখানে মোট জ্বীন ছিলোই একটা। সেদিন মসজিদের সামনে যদি আমি ভয়ে চিৎকার না দিতাম,আর সিদ্দিক কবিরাজও না আসতো। তাহলে আমাকে দিয়ে ওরা কবর খনন করাতো। আপনার মত সেম কাজ আমাকেও করতে হতো। এবং শেষে আমাকে লোভ দেখিয়ে,পুরস্কারের নামে এই জালে ফাঁসিয়ে দিতো। আল্লাহ্‌র রহমত সাথে ছিলো তাই আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু আপনি সেই জ্বীনের ফাঁদে পড়ে গেছেন"।
আপনাকে তারা অসম্ভব ভালবাসে

রমিজ মিয়া এইবার প্রচন্ড রকমের ভয় পাচ্ছে। সকালের সূর্য উঁকি মেরেছে, অস্পষ্ট অন্ধকার চারপাশে ছড়িয়ে আছে।হালকা ঠান্ডা শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে। এরই মধ্যে রমিজ মিয়া ঘেমে একাকার। ইমাম সাহেব আবার বলতে লাগলেন," আজ থেকে ৫৬ বছর আগে এই জ্বীন অভিশাপ্ত হয়। ৫৬ বছর থেকে সে বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষকে ফাঁদে ফেলে।এরপর তাদের থেকে প্রাণ কেড়ে নেয়। নাওগা জেলাতে ৫ বছর আগে একটা যুবককে টার্গেট করে।( এই গল্পের মূল লেখকের পেজের নাম- Riaz Raj Official) । পরিশেষ সেই যুবক প্রাণ হারায়। ধনী তারা ঠিকি হয়। কিন্তু ভোগ করার জন্য জীবিত থাকেনা। আবার পঞ্চনগড়েও এই সেম ঘটনা ঘটে ৩ বছর আগে। সেখানে এক মহিলা ফাঁদে পড়লেও,জ্বীন মহিলার প্রাণ নেয়নি। নিয়েছে মহিলার স্বামীর। এরকম এই জ্বীনের অনেক ঘটনা প্রচলিত আছে। সে আপনার পরিবারের কাকে বলি দিবে তা তো জানিনা। কিন্তু নিবে। আর আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে আপনাকে সাহায্য করবো। আল্লাহ্‌ সহায় থাকলে নিশ্চয়ই বিপদ কেটে যাবে"।
আত্মা নাকি সে (পর্ব-০৪) - রিয়াজ রাজ

রমিজ মিয়া হা করে রইলেন। একটা কথা বলার মতোও শক্তি নেই তার। এই ধন-দৌলত দিয়ে কি হবে,যদি উনি বেঁচেই না থাকেন। বা তার স্ত্রীকে যদি নিয়ে যায়।তবেও তার শান্তি কোথায়। ভাবতে ভাবতে রমিজ মিয়ার চোখ ঝাপসা হতে থাকে । ভয় আর ডিপ্রেশন মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। মুখ দিয়ে শুধু বলে," ইমাম সাহেব, বাঁচান আমাদের"। এইটুকু বলে সেখানেই জ্ঞান হারায় রমিজ মিয়া।




চলবে......?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।