জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৩) - রিয়াজ রাজ

৩০+ ভালোবাসার রোমান্টিক কবিতা | ভালোবাসার ছন্দ ও ভালোবাসার কবিতা
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৩) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৩) - রিয়াজ রাজ


গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০৩
লেখক - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প


{getButton} $text={২য় পর্ব পড়ুন} $icon={preview}

প্রেমের উড়ান (পর্ব-১২)
২য় পর্বের পর থেকেঃ
----------------------------------
চারপাশে বৃষ্টি পড়ছে ঝিরঝির করে। ব্যাঙ ডাকছে,আকাশে বিজলি চমকাচ্ছে। এই পরিবেশে জ্বীনদের সাথে জঙ্গলে যাচ্ছে রমিজ মিয়া। মনে যদিও ভয় আছে, কিন্তু উপায়ও নেই। হাটতে হাটতে একটা সময় বটগাছের নিচে চলে আসে সবাই। রমিজ মিয়া বুঝে যান, এরা খাটিয়া নামাবে। তাই রমিজ মিয়া নিজেও খাটিয়া নামায়। 
 
তখনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ানক জ্বীন এসে বলে,"কবর খুঁড়ুন "। রমিজ মিয়া হা করে তাকিয়ে আছে। না আছে কোনো কোদাল, আর না কোনো যন্ত্র। খালি হাতে কবর খুঁড়বে কিভাবে, সেটাই ভাবছে। ভাবনার মাঝে জ্বীনটা গম্ভীর স্বরে আবার বলতে লাগলেন,' বটগাছের নিচে একটা কোদাল রাখা আছে। আপনি শুরু করতে পারেন"। রমিজ মিয়ার কলিজায় যেনো এইবার পানি আসে। বৃষ্টির কারণে শরীর গেছে ভিজে। হাত-পা থরথর করে কাঁপছে ঠান্ডায়। তবুও মনোবল ঠিক রেখে রমিজ মিয়া গেলেন কোদাল হাতে নিতে। নিরিবিলি এই স্থানে সাদা চোখওয়ালা সব জ্বীন তাকিয়ে আছে রমিজ মিয়ার দিকে। তাও এক দৃষ্টিতে। রমিজ মিয়া কোদাল হাতে নিয়ে ওখানেই শুরু করে কবর খননকাজ। কিছুক্ষণ কবর খনন করার পর রমিজ মিয়া বুঝে যান,জ্বীনেরা নামাজ পড়ার জন্য দাড়াচ্ছে। মানে জায়নামাজের সারি বানাচ্ছে। রমিজ মিয়া ভয়ে কাতুর হয়ে মাটি খুঁড়ে যায়। যদিও এটি কল্পনা করাও মারাত্মক। তবুও হচ্ছে রমিজ মিয়ার সাথে এমন। কূল-কিনারা না পেয়ে এটি করতে বাধ্য। কয়েক মুহুর্ত বাদে রমিজ মিয়ার খনন কাজ শেষ হয়। একা একজন লোক কবর বানানো নিশ্চয়ই সহজ কাজ না। কিন্তু পেশায় কৃষক হওয়ায়, রমিজ মিয়ার তেমন গায়ে লাগেনি। মনের জোর আর প্রবল ভয়াতুর মনে তিনি সম্পূর্ণ করেন কবর। এদিকে জ্বীনদের মধ্যে লম্বা জ্বীনটা আবার বললেন," আপনার পিছনে বাশ আর বরই পাতা আছে। সেটি কবরের পাশে এনে রাখুন"। 
আত্মা নাকি সে (পর্ব-০১) - রিয়াজ রাজ

রমিজ মিয়া পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে, সত্যিই বাশ কেটে রাখা হয়েছে। একদম সাইজ করা সব। জ্বীনদের কর্মকান্ডে অবাক হবার মত তেমন কিছুও হয়নি। যেহেতু তারা অলৌকিক শক্তির মালিক। এইটুকু তাদের হাতের ছুটকির সমান।
 
কিন্তু কবর কেন রমিজ মিয়ার হাতে করালেন। এটি রমিজ মিয়া ভেবে পাচ্ছেনা। ভাবতে ভাবতে তিনি বাশের টুকরোগুলা হাতে নিয়ে যে'ই পিছনে তাকাবেন। তখনি জ্বীনদের গুনগুন শব্দ উনার কানে আসে। পুরোপুরি পিছনে তাকিয়ে তিনি দেখেন, জ্বীনরা লাশটাকে কবরে নামিয়ে দিয়েছে। রমিজ মিয়া ভয় তো পাচ্ছে,তার উপর এদের এসব অলৌকিক কর্মকান্ড উনাকে আরো ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। চোখের পলকে লাশ কবরে রাখা নিশ্চয়ই সাধারণ বিষয় না। রমিজ মিয়া বাশ নিয়ে কাছে আসার পর সেই জ্বীন আবার বলে,' কবরে নেমে বাশগুলা বসিয়ে দিন"। এই মুহুর্তটা ছিলো রমিজ মিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর অনুভূতি। কবরে একটা লাশ রয়েছে, তাও জ্বীনের লাশ। আশেপাশে যারা আছে, ওরাও জ্বীন। তিনি রয়েছেনও জঙ্গলের ভিতর। সব কিছুর মাঝে আবার নামতে হবে কবরে। তাও লাশের সাথে।রমিজ মিয়ার রুহটা যেনো বের হয়ে যাচ্ছে। হাড়হিম হয়ে পড়ে যাবার কথা এতক্ষণে। কিন্তু জ্ঞান কেনো হারাচ্ছেন না, সেটাও উনার আপসোসে রয়ে যাচ্ছে। এদিকে বৃষ্টির পানিতে মাটি হয়ে যায় নরম কাঁদার মতো। কবরেও বেশ পানি প্রবেশ করে ফেলছে। রমিজ মিয়ার হাতে আর কোনো উপায়ও নেই। উনি কবরে নামার পর,একটা কালো কুচকুচে জ্বীন এসে হেল্প করে। অর্থাৎ বাশ নিয়ে নিয়ে সে রমিজ মিয়ার হাতে দিচ্ছে। আর রমিজ মিয়া সেই বাশ কবরে লাগিয়ে দিচ্ছে।
প্রাক্তন (পর্ব ০৫)
 
বাশ লাগানো শেষে রমিজ মিয়াকে জ্বীন বললেন," উঠুন"। রমিজ মিয়া যেনো মৃত্যু গুহা থেকে লাফ মেরে উঠলেন। বাশ লাগানোর সময় রমিজ মিয়ার মনে হচ্ছিলো,এরা তাকে সহ না কবর দিয়ে দেয়। এই ভয়টা নিয়েই তিনি বাশ লাগিয়ে যাচ্ছিলেন। যাইহোক, জ্বীনরা রমিজ মিয়াকে কবর দেয়নি। বাশ লাগিয়ে উঠার পর জ্বীনের সর্দার ( নেতা যিনি) রমিজ মিয়াকে বললেন," আজকের এই ঘটনা যেনো একটা কাকপক্ষীও না জানে। যদি জানান,তবে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর আপনার সাথে থাকা লোকজন যারা ছিলো, ওরা কেও আসল না। রাস্তা দিয়ে হাটার সময় যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন তারা হেটে চলে গেছিলো বাসায়। আপনি তালগাছের নিচে একাই ছিলেন। এবং সাথে যাদের দেখেছেন, ওরাও আমাদের জ্বীন ছিলো। ভয় পাবার কিছু হয়নি। কিন্তু আপনি পুরস্কার পাবেন"।
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৫ ) - দিশা মনি
 
এতটুকু বলে জ্বীনটা চুপ হয়ে যায়। রমিজ মিয়া উনার সাদা সেই চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।কথার মাঝে আবার চুপ কেনো হলো, এটি তার অজানা। জ্বীনটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে উনার পাঞ্জাবির পকেটে হাত দেয়। এরপর এক মুঠ ডাল ( মশারির ডাল) বের করলেন। রমিজ মিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন সেদিকে। আগেই বলেছিলাম, জ্বীনদের চোখ জ্বলজ্বল করে জ্বলছিলো। তাই কিছুটা আলো ছড়াচ্ছে এই অন্ধকারেও। জ্বীনটা সেই ডাল রমিজ মিয়াকে নিতে বলে। রমিজ মিয়া দুই হাত উঠিয়ে সেই ডাল নিজের হাতে নেয়। জ্বীন বলে," এই ডাল আপনি আপনার ফসলে সারের মতো প্রয়োগ করবেন।তবে ধান গাছেই করবেন। অন্য ফসলে না। এরপর দেখতে পাবেন আপনার পুরস্কার "। কথাগুলা বলে জ্বীনটা আবার চুপ হয়। রমিজ মিয়া উনাকে সালাম দিয়ে বলে," তাহলে এইবার আমি বাড়ি যাই?"। জ্বীন মাথা নাড়িয়ে যাবার অনুমতি দেয়।
 
ডালগুলা শার্টের পকেটে রেখে, রমিজ মিয়া কোনোভাবে জঙ্গল থেকে বের হয়। এরপর পকেট চেপে ধরে এমন জোরে এক দৌড় লাগায়। এমন দৌড় হয়তো তিনি জীবনের প্রথম দিচ্ছেন। পিচ্ছিল মাটি আর কাঁদার কথা উনার মাথাতেই নেই। উদ্দেশ্য বাড়ি যাওয়া।
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৭ ) - দিশা মনি

পরেরদিন সকাল.....
রমিজ মিয়ার গায়ে অনেক জ্বর। উনার স্ত্রী সেবাযত্ন করে যাচ্ছিলেন। রমিজ মিয়ার বন্ধুরা এসে জিজ্ঞেস করলে,উনার স্ত্রী বলে," ভোর রাতে পাগলের মতো কোথা থেকে যেনো ছুটে এলো। এরপর ভেজা শরীর নিয়ে রুমে যায়, আর কাপড় বদলায়। তারপর আমাকে কিছু বলতে এসে জ্ঞান হারায়। এখন দেখি গায়ে জ্বর প্রচুর। কথা বলতে পারছেন না"। সেদিনের পর রমিজ মিয়া প্রায় ৩ দিন অসুস্থ ছিলেন। ৩ দিন পর সুস্থ হয়ে, উনি স্ত্রীকে না বলে বের হয় ঘর থেকে। বুঝতেই পারছেন,সেই ডাল নিয়ে বের হয়েছে। ডালগুলা নিয়ে উনি উনার ফসলের মাঠে যায়।

ক্ষেতের সামনে দাঁড়িয়ে রমিজ মিয়া আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে সব ডাল ফসলে ছুঁড়ে মারলেন। তখনি উনি দেখলেন,সবগুলা ডালের আকার ডাবের মতো হয়ে গেছে। আর প্রত্যেকটা ডাব স্বর্ণের। রমিজ মিয়া এমন দৃশ্য দেখে পুরো হতভাগ। ডাল কিভাবে ডাব হয়,আবার তাও স্বর্ণের। একবার ভাবছে স্বপ্ন দেখছে, আবার ভাবছে জ্বীনদের উপহার। কি করবেন, নাকি করবেন না, পাগল হবেন,নাকি স্বর্ণ নিবেন। ভেবে ভেবে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে রমিজ মিয়া। এতোগুলা স্বর্ণের গোলা দেখে উনি যেনো এক প্রকার পাগলামি শুরু করেছেন, তাও একা একা। কিছুক্ষণ লাফালাফি করে রমিজ মিয়া ফসল থেকে সবগুলা স্বর্ণের গোলা কুড়িয়ে নেয়। যেহেতু বাড়ির পিছনেই এই ফসল। তাই দেরি করেনি। এক দৌড়ে বাসায় গিয়ে বউকে বলে," তাড়াতাড়ি বস্তাটা নাও। আমরা জমিদার হয়ে গেছি"।
রিয়াজ রাজ এর সমালোচারনী - চারনী?
 
রমিজ মিয়ার কথার "ক"টাও বুঝতে পারলেন না উনার স্ত্রী। কথামতো তিনিও বস্তা নিয়ে আসে। রমিজ মিয়া তার স্ত্রী সহ চলে আসে ফসলের মাঠে। এইবার রমিজ মিয়ার স্ত্রী পাগল হয়ে যাচ্ছে। এতোগুলা স্বর্ণের গোলা। যে কেও বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে। রমিজ মিয়া সবগুলা বস্তায় ভরে স্ত্রী সহ ঘরে নিয়ে আসেন। রুমে এসেই রমিজ মিয়ার খুশিতে আর থাকা যাচ্ছেনা।হাসতে হাসতে তিনি বললেন," জ্বীনদের উপহার এতো বড় হবে জানলে সেদিন আরো মন দিয়ে কাজ করতাম। শুধুশুধু ভয় পেয়েছি। এখন থেকে আর আমাদের অভাব থাকবেনা রোকেয়া।আমাদের এই ঘর ভেঙ্গে ইটের ঘর বানামু। জমিদারি করুম রে আমরা"। রমিজ মিয়ার পাগলামি যেনো বেড়েই চলছে। এদিকে রোকেয়া এসে বলে," আস্তে আস্তে,কেও জেনে গেলে সমস্যা আছে। কিন্তু জ্বীনরা কেনো তোমাকে এসব দিলো"। রমিজ মিয়াও তার স্ত্রীকে সেদিন রাতের সবটা বলে। এরপর দুজন মিলে কিছুক্ষণ আনন্দে মেতে উঠে ( বিছানায়)।
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৮ ) - দিশা মনি
 
১ মাস পর...
রমিজ মিয়ার বাড়ির কাজ চলছে। স্বর্ণ ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। অনেক বড় একটা জায়গা কিনে, সেখানেই এই বাড়ি। এদিকে কৃষক থেকে হয়ে যান ব্যাবসায়ী। গায়ে দামি দামি জামা পড়তেও দেরি করেনি। রমিজ মিয়ার যেনো কপাল খুলে গেছে। কিন্তু ঐজে? কথায় আছে। মাত্রাধিক সুখ কান্নার কারণ হতে দেরি হয়না। আরাম আয়েসে দিন কাটানোর মধ্যে রমিজ মিয়ার জীবনে নেমে আসে কালো অধ্যায়। উনি ঘুমাচ্ছিলেন। রাত প্রায় ১২ টা হবে। ঘুমের মাঝে রমিজ মিয়া দেখলেন, একটা কালো কুচকুচে অবয়ব তাকে ডাকছে। চারপাশে কালো অন্ধকার। অন্ধকারের মাঝে এই কালো লোকটাকে তবুও বুঝা যাচ্ছে। সে কি যেনো বলতে চাচ্ছে। রমিজ মিয়া ঘুমের মধ্যেই ভয়ে কাঁপতে থাকে। স্বপ্নে দেখেন, কালো অবয়টাকে কেও আচমকা টেনে নিয়ে গেছে। এবং তৎক্ষণাৎ কেও বলে উঠে," তোকে বলেছিলাম। কাওকে বলিস না এই রাতের ব্যাপারে। এখন আর তাকে আটকানো যাবেনা। তোকে বলিদান দিতে হবে।
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ১৬ )
অনেক বড় বলিদান দিতে হবে"।
 
এতটুকু দেখে এক লাফে উঠে বসেন রমিজ মিয়া।
সারা গায়ে ঘাম।

থরথর করে কাঁপছেন উনি।


{getButton} $text={৪র্থ পর্ব পড়ুন} $icon={preview}



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।