জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০২) - রিয়াজ রাজ

মরীচিকাময় ভালোবাসা পর্বঃ-০৫
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০২) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০২) - রিয়াজ রাজ


গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০২
লেখক - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ
হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প


১ম পর্বের পর থেকেঃ
------------------------------------

ইমাম সাহেবের কথা শুনে সিদ্দিক কবিরাজ সেই খাটিয়ার দিকে এগিয়ে যায়।
কালো কাপড়ে মোড়ানো খাটিয়ার ভিতর থেকে সিদ্দিক কবিরাজ কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছে। শব্দটা এমন,মুখের মধ্যে কেও পানি রেখে যদি মুখেই নিশ্বাস নেয়। ঠিক তেমন একটা শব্দ। এমন ঘড়ঘড় শব্দে কবিরাজ একটা আয়াত পড়ে সেই খাটিয়ার পর্দা সরিয়ে নেয়। এরপর দেখতে পায়,কাফনের কাপড় মোড়ানো লাশটার মুখে লাল রক্ত জমে আছে। এবং লাশটা নিশ্বাস নিচ্ছে। সিদ্দিক কবিরাজ বলতে লাগলো," আমরা আপনাদের ক্ষতি করতে আসিনি। এই লাশের জানাযা পড়ে কবর দিবো। আমাদের সাহায্য করুন"। কথাটা বলে সিদ্দিক কবিরাজ পিছনে আসে। রমিজ মিয়া সহ সব পুরুষকে বলে," সবাই অজু করে আসুন। উনার জানাযা শেষ করে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে"। সিদ্দিক কবিরাজের কথামতো সবাই অজু সেরে আসেন। নিয়ম মতো সিদ্দিক কবিরাজ জানাযাও শেষ করলেন। জানাযা শেষ করতে না করতে চারপাশে শুরু হয় ফজরের আযান। ইমাম সাহেব বললেন," আযান দিয়ে আসি। এরপর লাশের দাফন করা যাবে"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে সিদ্দিক কবিরাজ বললেন," আমিও সেটাই ভাবছি। আগে নামাজ"। কথানুযায়ী সবাই মসজিদের যায়। ইমাম সাহেব আযান দেয়,আর বাকিরা সুন্নত সালাত আদায় করে নিচ্ছে। ইমাম সাহেব নিজেও সুন্নত সালাত আদায় করে যখন বের হলেন,দেখলেন খাটিয়া নেই।
হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে- পর্ব ০৬

ইমাম সাহেব পেয়ে যান ভয়। সিদ্দিক কবিরাজও কিছু বুঝতে পারেনা। রমিজ মিয়া বলল," লাশ কোথায় গেলো। এখানেই তো ছিলো"। রমিজ মিয়ার কথায় সিদ্দিক কবিরাজ বললেন," হয়তো জ্বীনরা নিয়ে গেছে। জানাযা তো হয়েই গেলো। তারাই হয়তো দাফন করে দিবে। আসুন,আমরা ফজরের নামাজ শেষ করি।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর শাবলতলার মাঠ


১২ দিন পর......
এই ঘটনা পুরো এলাকায় বেশ প্রচলিত হয়ে যায়। যেমন একটা জ্বীনের লাশ আসা,খাটিয়াতে মসজিদের সামনে থাকা। সিদ্দিক কবিরাজ জানাযা পড়া,এরপর খাটিয়া গায়েব হয়ে যাওয়া। যদিও এই ঘটনা তেমন প্রকাশ পেতো না। এসব নিয়ে আলোচনা করা ভালো নয়। ঐজে? মহিলা টিম ছিলো। ওরা তো সব দেখেছে। মহিলাদের পেটে কথা হজম তো কোনো যুগেই হয়নি। এই যুগে হবে কিভাবে। উনারা আত্মীয়দের কল দিয়েও বলে," ভাবিইই,জানেন কি হইছে?"। এরপর হিস্ট্রি বলা শুরু। এইভাবে পাশের বাড়ি, পাশের এলাকা,পাশের অঞ্চল, সবখানেই এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি কেও কেও বলে বেড়ায়," চাচি গো,এই ঘটনা তো আমাদের বাড়িতে হয়েছে"। অর্থাৎ যার মুখেই শুনা যায়,তাদের মুখেই ব্যাতিক্রম বাড়ির নাম শুনা যাচ্ছে। মূল বাড়ির নাম গুজবে গেছে হারিয়ে।
প্রেমের উড়ান (পর্ব-০২) - দিশা মনি

১২ দিন পর যখন চারদিকে রটে যায় এই নিউজ। তখন রমিজ মিয়ার এলাকায় ঘটে আরো একটি দুর্ঘটনা। রমিজ মিয়া সহ এলাকার কিছু লোক দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলো। সময়টা বর্ষার। আকাশটা মেঘের ছায়ায় রাতটাকে আরো অন্ধকার করে দেয়। দোকানের আড্ডায় হয়ে যায় রাত। রমিজ মিয়া ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত ১১ টা বাজে। গ্রাম অঞ্চলে ১১ টা মানে গভীর রাত। মানুষজন সবাই ঘুমে বিভোর। রাতজাগা যে মানুষগুলা এলাকায় বসবাস করে,শুধু এরাই বুঝে কতটা নিস্তেজ থাকে গ্রামটা রাতে। দোকানদার দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই পথে সবাই বাড়ি যাবে। অর্থাৎ দোকানে থাকা লোকজন আর দোকানদার,এরা সবাই পাশাপাশি বাড়ির লোক। দোকানদার দোকান বন্ধ করে যখন বের হয়। রমিজ মিয়া একটা সিগারেট ধরিয়ে যাত্রা আড্ডা শুরু করে। মানে কথাবার্তার ছলে বাড়ি যাওয়া। এই বাজার হচ্ছে একটা লোকালয়ের মাঝেই। কিন্তু রমিজ মিয়ার বাড়ির রাস্তায় যাবার সময়,একটা বিরাট বিলের পাশ দিয়ে যেতে হয়। বিলের ডান পাশে রাস্তা,আর রাস্তার ডান পাশে ঘনজঙ্গল ( গাব গাছ,বটগাছ, বিভিন্ন জঙ্গলমুখি গাছ)। রমিজ মিয়া সহ সবাই যখন সেই রাস্তাটার উপর আসে। তখনি শুরু হয় বৃষ্টি। ওদের মধ্যে থাকা করিম সাহেব বললেন," দৌড়াতে থাকলে তো ভিজে যাবো। একটা গাছের নিচে দাড়াই"।
তিন পাহাড়ের কোলে - শক্তি চট্টোপাধ্যায়
করিমের কথায় সবাই একটা বড় তালগাছের নিচে দাঁড়ায়। বৃষ্টির বেগ বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। রমিজ মিয়া একবার ভাবছে দৌড়ে চলে যাবে। কিন্তু রাস্তা পাকা না,সম্পুর্ন মাটির রাস্তা। কাঁদা সহ ভিজা মাটিতে পড়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি। এখানেও তেমন একটা সমস্যা হচ্ছেনা। অনেকগুলা তালগাছ থাকায় হালকা বৃষ্টির ফোটা আসছে শুধু। দাঁড়িয়ে থাকার অনেক্ষণ পর একজন বলে উঠে," ওগুলা কি? "। ওর কথাটা শুনে সবাই তাকায় বিলের দিকে। এবং স্পষ্ট সবাই দেখতে পায়,অনেকগুলা লোক একসাথে হেটে আসছে। বিলের সারি বেয়ে তারা এগিয়ে আসতেছে।সবার গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, এবং তা জ্বলজ্বল করছে। তাদের মুখে মরা মানুষকে কবরে নেওয়ার দোয়াও শুনা যাচ্ছে। এবং বড় কথা,ওদের কাঁধে একটা লাশের খাটিয়া।
হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে-পর্ব ০৪

রমিজ মিয়া সহ কারো বুঝতে বাকি নেই,এরা কারা। দৌড় দেওয়ারও গতি নেই। বিল থেকে ঐ জ্বীনের দলগুলা রাস্তায় উঠে গেছে প্রায়। সবাই ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে তাদের আসা দেখছে। খানিকবাদে রমিজ মিয়া দেখেন,উনার সাথে থাকা সবাই জ্ঞান হারায়। অর্থাৎ সবাই মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়,রমিজ মিয়া ছাড়া। রমিজ মিয়া এতক্ষণ স্বাভাবিক থাকলেও,এইবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছেন না। হাত পা সব কাঁপছে উনার। এদিকে জ্বীনের দল সোজা চলে আসে রমিজ মিয়ার সামনে। রমিজ মিয়া স্পষ্ট দেখে,ওদের সবার চেহারা কুচকুচে কালো। সারা দেহে সাদা পাঞ্জাবি থাকলেও,চেহারা,হাত,পা সবটাই কুচকুচে কালো। শুধু ওদের চোখ দুইটা সাদা আলোর মতো জ্বলছে। রমিজ মিয়ার রুহটা যেনো বের হবার উপক্রম। তখনি খাটিয়া ধরা একটা জ্বীন সামনে থেকে সরে পিছনের দলে চলে যায়। খাটিয়া ধরা আরেকজন বলল," খাটিয়া ধরুন "। রমিজ মিয়ার হাটু কেঁপে পড়ে যাবার অবস্থা।আর এরা বলছে খাটিয়া ধরতে। উপায়ও নেই। এসব ভাবনার মাঝে সামনের খাটিয়া ধরা লোকটা আবার বলে," আমাদের এই জ্বীন বদ-জ্বীন। ওর দাফন আমরা করতে পারবো না। আপনি আমাদের সাহায্য করুন"। রমিজ মিয়া বুঝেছে,যে উনার সাহায্য করতে হবে। কিন্তু এরা জ্বীন,তাও এমন ভয়ংকর চেহারা। এদের সাহায্য কি করবে,মনের মধ্যেই তো সব ভয়ে খেয়ে ফেলছে।
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০২ )

আচমকা রমিজ মিয়া খেয়াল করে,তার দুইটা পা হাটতে শুরু করে। মানে রমিজ মিয়া নিজে থেকে হাটতে চাচ্ছেনা,নিজে থেকেই দুইটা পা যেনো খাটিয়ার দিকে যাচ্ছে। শেষে উপায় না পেয়ে রমিজ মিয়া পায়ের সাথে তাল মিলাতে থাকে। এইবার অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেয়ে খাটিয়া ধরলেন। জ্বীনের দলগুলা আবার বলতে থাকে," আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারিকালাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু"। রমিজ মিয়া বুঝেন,এরা শাহাদাত পাঠ করছে। তাই উনিও কালিমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করতে করতে এগিয়ে যান।
অধ্যায়-০২ঃ মেধা : জন্মগত, না অর্জিত?
 
৩ মিনিট পর,,,,,,
রমিজ মিয়া বুঝেন,জ্বীনগুলা ডান পাশের জঙ্গলে ঢুকে যাচ্ছে। যেহেতু রমিজ মিয়া নিজেও খাটিয়া ধরে আছেন,তাই ওরা যেদিকে খাটিয়া নিচ্ছে,রমিজ মিয়াকেও সেদিকে যেতে হচ্ছে । রমিজ মিয়া জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে দেখে,ভিতরে যে বড় বড় বটগাছ আছে,সেদিকেই যাচ্ছে এরা। চারপাশে বৃষ্টি পড়ছে ঝিরঝির করে। ব্যাঙ ডাকছে,আকাশে বিজলি চমকাচ্ছে।এই পরিবেশে জ্বীনদের সাথে জঙ্গলে যাচ্ছে রমিজ মিয়া। মনে যদিও ভয় আছে,কিন্তু উপায়ও নেই। হাটতে হাটতে একটা সময় বটগাছের নিচে চলে আসে সবাই। রমিজ মিয়া বুঝে যান,এরা খাটিয়া নামাবে। তাই রমিজ মিয়া নিজেও খাটিয়া নামায়। তখনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ানক জ্বীন এসে বলে,"...
মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-০১



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।