জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০১) - রিয়াজ রাজ

জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৪) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০১) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০১) - রিয়াজ রাজ


গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-
০১
লেখক -
রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ
জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ
হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প



- ছাড়েন।আর কতক্ষণ।
- না হইলে কি করতাম।

রমিজ মিয়া তার স্ত্রীর সাথে যখন বিছানায় মেতে ছিলেন। তখনি কারো চিৎকারে পুরো বাড়ি গরম হয়ে যায়। রমিজ মিয়া বউয়ের উপর থেকে উঠে লুঙ্গি নামিয়ে নেয়। এরপর দৌড়ে বের হয় বাহিরে। রমিজ মিয়ার বউ নিজেও শাড়ি ঠিক করে বেরিয়ে আসে। উনারা বের হতে হতে বাড়ির আরো লোকজনও বের হয়। সবাই নিজেদের সাথে নিজেরা বলাবলি করছে। কার চিৎকার হতে পারে তা।
ভাব - রিয়াজ রাজ
 
আচমকা একটা ছেলে বলে," চিৎকার তো ইমাম সাহেবের মত শুনাইছে"। ছেলেটার কথা শুনে সবার মাথায় এতক্ষণে এলো যে,ইমাম সাহেব এখন আযান দিতে আসার কথা।বাড়ির সবাই দৌড়ে যায় মসজিদের সামনে( মসজিদ বাড়ির সামনেই)। মসজিদের সামনে আসতেই সবাই দেখে,ইমাম সাহেব অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন মাটিতে। এবং সবচেয়ে বড় কথা,মসজিদের সামনে একটা লাশের খাটিয়া ( যে পালকি করে কবরে লাশ নেওয়া হয়) । তবে পুরো খাটিয়ার উপরে একটা কালো চাদর দেওয়া। এতে বুঝা যায়না ভিতরে কি আছে। এতো রাতে হুজুর লাশের খাটিয়া নিয়ে কি করছিলেন,সেটা সবার মাথায় প্রশ্ন ঢুকে যায়। তার উপর হুজুর জ্ঞান হারিয়ে কেন পড়ে আছে। ভাবনার মাঝে আচমকা নড়ে উঠে লাশের খাটিয়া। এমন দৃশ্য দেখে পুরো বাড়ির মানুষ চমকে উঠে। লাশের খাটিয়া নড়ার কারণ কি,ভিতরে কেও আছে? তাছাড়া এলাকায় তো কেও মারাও যায়নি। এই খাটিয়া এখানে কিভাবে। সবার মধ্যে রমিজ মিয়া এগিয়ে যায়। দেখতে চায় খাটিয়াতে কি আছে। রমিজ মিয়াকে এগিয়ে যেতে দেখে আরো দুইটা লোক সাথে আসে।রমিজ মিয়া লাশের খাটিয়ার কাছে গিয়ে,যখনি কালো কাপড়টা সরান। দেখতে পান, একটা লাশ কাফনে মোড়ানো সেখানে। খাটিয়াতে লাশ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু এইভাবে এই পরিস্থিতিতে লাশ থাকাটা অস্বাভাবিক। রমিজ মিয়া হুট করে আবার পর্দা ঢেকে দিয়ে পিছনে চলে আসে।
সাইবার ক্রাইম কি এবং কেন? কিভাবে নিজেকে সাইবার ক্রাইম থেকে রক্ষা করবেন?
 
এদিকে কয়েকজন লোক যেয়ে ইমাম সাহেবের জ্ঞান ফিরিয়ে আনে।ইমাম সাহেব উঠেই বলে," তাড়াতাড়ি সিদ্দিক সাহেবকে ডেকে আনেন কেও। এইটা একটা জ্বীনের লাশ"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে বাড়ির লোকজন একটা চিৎকার মারে। মহিলারা দৌড়ে চলে যায় বাড়ির সামনে। উপস্থিত শুধু রমিজ মিয়া আর কিছু লোক। সিদ্দিক সাহেব হচ্ছেন কবিরাজ। জ্বীন ভুত নিয়ে উনার অভিজ্ঞতা ভালো। রমিজ মিয়া সিদ্দিক সাহেবকে খবর পাঠান। বাড়ির কয়েকটা ছেলে গিয়ে,উনাকে ডেকে নিয়ে আসেন। সিদ্দিক সাহেব লাশের সামনে এসে ইমাম সাহেবকে বলে," হয়েছে কি"। সিদ্দিক সাহেবের কথায় ইমাম সাহেব বললেন," হুজুর। আমি ফজরের আযান দেওয়ার জন্য মসজিদে আসি। অজু করার জন্য পুকুরের দিকে যেতে চাচ্ছিলাম,তখনি কবরস্থান থেকে কারো কথাবার্তার শব্দ শুনি আমি। পুকুর থেকে উঠে আমি যখন কবরস্থানের পাশে যাই,তখন দেখি সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত কিছু লোক কবরস্থানের মাঝে। আমার বুঝতে বাকি রয়নি এরা কারা। কিন্তু বুঝার আগে একজন আমার পিছন থেকে বলে," আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওর জানাযা পড়িয়ে দিন"। আওয়াজটা শুনে আমি পিছনে তাকাই,আর দেখি একটা লোক। সারা গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। মুখটা ধবধবে সাদা। একটা সাদা আলো বের হচ্ছিলো উনার দেহ থেকো। চোখ দুইটাই ভয়ংকর রকমের সাদা। লাইটের আলোর মত জ্বলছে। এই দৃশ্য দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি।জ্ঞান হারাই"।
পারলে ঠেকাও ( পর্বঃ ০৬ ) - দিশা মনি
 
ইমাম সাহেবের কথা শুনে সিদ্দিক কবিরাজ সেই খাটিয়ার দিকে এগিয়ে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।