জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৫) - রিয়াজ রাজ

মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-১০+১১
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৫) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৫) - রিয়াজ রাজ


গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০৫
লেখকঃ - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প



৪র্থ পর্বের পর থেকেঃ
-----------------------------------

রমিজ মিয়া হা করে রইলেন। একটা কথা বলার মতোও শক্তি নেই তার। এই ধন-দৌলত দিয়ে কি হবে,যদি উনি বেঁচেই না থাকেন। বা তার স্ত্রীকে যদি নিয়ে যায়।তবেও তার শান্তি কোথায়। ভাবতে ভাবতে রমিজ মিয়ার চোখ ঝাপসা হতে থাকে । ভয় আর ডিপ্রেশন মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। মুখ দিয়ে শুধু বলে," ইমাম সাহেব, বাঁচান আমাদের"। এইটুকু বলে সেখানেই জ্ঞান হারায় রমিজ মিয়া।
তোর সমীপে || গল্পকন্যা - পর্ব-০৫

" রমিজ মিয়া। আপনি ঠিক আছেন এখন? শরীর কেমন লাগছে"। কারো এই অস্পষ্ট শব্দে চোখ খোলেন রমিজ মিয়া। দেখতে পান,ইমাম সাহেব উনার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।আর এই মুহুর্তে রমিজ মিয়া নিজের বাসার বিছানায়। রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগে ইমাম সাহেব জানালেন," মস্তিষ্কে মাত্রাধিক চাপ সৃষ্টি হবার কারণে আপনার এই হাল হয়েছে। তবে আমি ঘর বন্ধ করে দিয়েছি। আর দুইটা তাবিজও দিয়ে গেছি। এই তাবিজ খুলবেন না হাত থেকে। যত কিছুই হয়ে যাক। এটি যাতে হাতে থাকে"। এইটুকু বলে ইমাম সাহেব চলে গেলেন। ইমাম সাহেব যাওয়ার পর রমিজ মিয়া জানতে পারে,ইমাম সাহেব নিজেই রমিজ মিয়াকে বাসায় এনেছিলেন। পানি পড়া ছিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বাসায় কিসব দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে গেছেন। রমিজ মিয়া একটু শান্ত হয়। রমিজ মিয়ার স্ত্রী এসে রমিজ মিয়াকে জড়িয়ে ধরে। এই বড়লোকির চাপে না তাদের জীবন চলে যায়। যেনো এসব ধন নয়,অভিশাপ।

অভিশাপ নামক এই শব্দটিকে প্রায় ভুলতে শুরু করলেন রমিজ মিয়া ও তার স্ত্রী।হুজুরের তাবিজ দেওয়ার পর প্রায় ৭ মাস কেটে যায়। কোনো অস্বাভাবিক কিছু হয়নি ওদের সাথে। রমিজ মিয়া দোতলা বাড়ি বানিয়ে ফেলেছে। এলাকাতে মোটামুটি নামকরা একজন ব্যক্তি হয়ে যায়। মানুষকে দান - সদকা দিচ্ছে। বলতে গেলে, একটা জমিদারি ভাব চলে আসে উনার মধ্যে।

রাতে রমিজ মিয়া বাহিরের ঝামেলা শেষ করে বাসায় আসলেন। স্ত্রীকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বললেন, " এইবার এলাকার সবাই আমাকে চেয়ারম্যান বানাতে চায়। আজকের এই দিনটা অনেক খুশি লাগছে আমার। চলো,আজ পুরো রাত বিছানা গরম করি"। রমিজ মিয়ার কথা শুনে উনার স্ত্রী একটু লাজুক হেসে বললেন," বিছানা গরম করতে করতে তো ভাত পুড়ে ফেললেন"।রমিজ মিয়া আচমকা হাসি থামিয়ে ফেললো। রোকেয়া বেগম মুচকি হেসে আবার বললেন," আপনি বাবা হতে চলছেন"।
পুতুল খেলা ( পর্বঃ ১২ ও শেষ )

স্ত্রীর এই নিউজটা শুনে রমিজ মিয়া খুশিতে যেনো গড়াগড়ি খাবে। বউকে কোলে নিয়ে পুরো বাড়ি দৌড় শুরু করে। কাজের মানুষগুলা সবাই বেরিয়ে এসে রমিজ মিয়ার কাহিনী দেখছে।রমিজ মিয়া যখন দেখলেন সবাই উপস্থিত। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, " সবার জন্য সুখবর রয়েছে। আমি বাবা হতে চলেছি। অনুষ্টানের ব্যবস্তা করো। পুরো গ্রামের মানুষকে খবর দাও"। হুট করে ধনী ব্যাক্তি হলে যা হয় আরকি। রাজা বাদশাদের মত হুকুম দিয়ে পুরো এলাকার মানুষকে নিয়ে আসেন তিনি। ডেকোরেশন আর লাইটিং এনে পুরো বাড়ি সাজান। ডিজে বক্সের তালে তালে এলাকার মুরুব্বিরা সহ সবাই নাচানাচি শুরু করে দিলেন। গরু ৩ টা জবাই করে দিলেন খাওয়ানোর জন্য। এটিকে হাস্যকরও বলা যেতে পারে,আবার বলাও যায়না। মানুষের ব্যক্তি হিসেবে ভিন্ন ইচ্ছে। যার সামর্থ্য নেই,সে ভাবে টাকা হলে পুরো দেশ ঘুরবে। আর যার আছে,সে ২ মিনিট সময় বের করে প্রিয়জনকে সময় দেয়ার সময়টাও বের করতে পারেনা। রমিজ মিয়ার ক্ষেত্রেও সেটি হলো । ইচ্ছে ছিলো ভরপুর,টাকাও এসেছে আচমকা। ধরে রাখে কে।

আরো পড়ুনঃ


ভোর ৪ টায় শেষ হয় অনুষ্টান। খাওয়া-দাওয়া করে যে যার বাড়ি চলে যান। রমিজ মিয়া বউকে নিয়ে যান রুমে। এর পরেরটা তো বলতে হবেনা। আমি জানি আপনারা পাকা পেপে।
ঈশপের গল্প/ একতা

আযান হবার সাথে সাথে রমিজ মিয়া গোসলে যেয়ে গোসলটা সেরে নিলেন। এরপর চলে গেলেন মসজিদে। নামাজ আদায় করে ভোরে যখন বের হয়। দেখা হয় ইমাম সাহেবের সাথে। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়াকে ঐ অনুষ্টানের ব্যাপারে বুঝালেন। যেহেতু এটি হারাম। তাই এইভাবে অনুষ্টান করাতে তিনি নারাজ। ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়াও কিছুটা লজ্জিত হন। তিনি মাথা নিচু করে বললেন," উত্তেজিত হয়ে করে ফেলেছি। আর এমন ভুল করবোনা হুজুর"। ইমাম সাহেব মুচকি হেসে পরে বললেন," যাইহোক, শুভকামনা রইলো। আপনার ঘর এইবার আলোকিত হতে যাচ্ছে"। রমিজ মিয়া একদিকে খুশি হলেও,অন্যদিকে লজ্জাও পাচ্ছিলেন কিছুটা।

ভোরে বাসায় এসে তিনি শুয়ে যান বিছানায়। যেহেতু সারা রাত ঘুমায়নি।তাই চোখের পাতাগুলা আর সায় দিচ্ছিলোনা। একটু তো ঘুম যেতেই হবে। বিছানায় গা হেলিয়ে দিয়ে যখন রমিজ মিয়া ঘুমের ঘোরে চলে গেলেন। তখনি উনার স্বপ্নে সেই কালো কুচকুচে জ্বীনটা এসে গম্ভীর স্বরে বলে,' আমি এই দিনের জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম। আমার খাদ্য আসতেছে। তাকে নিয়ে যাবো। তুই কিছুই করতে পারবিনা"।

এক লাফ মেরে রমিজ মিয়া উঠে যান ঘুম থেকে। সূর্যের আলো প্রখরভাবে রুমে পড়ছে। অর্থাৎ দুপুর হয়ে গেছে। রমিজ মিয়ার সারা গা দিয়ে ঘাম ঝরতে থাকে। স্বপ্নে যা দেখলেন,সেটির কারণ কি হতে পারে? কোন খাদ্যের কথা বলছিলো সে। কোনোভাবে রমিজ মিয়ার বাচ্চার কথা বলা হয়নি তো?। রমিজ মিয়া ভয়ে কাঁপতে শুরু করে দিলেন। সব তো ঠিকি ছিলো। যে অভিশাপের কথা প্রায় ভুলে গিয়েছে। সেই অভিশাপ আবার নেমে এলো। একটা বড় কারণ নিয়ে এলো, অনেক বড় একটি সুখ কেড়ে নিতে এলো।
নিয়ম – বেন বোভা

রমিজ মিয়া তাড়াহুড়ো করে উঠে বের হয়ে যান বাসা থেকে। রওনা করেন ইমাম সাহেবের কাছে। প্রায় ৭ মিনিট অতিক্রম করে রমিজ মিয়া সোজা ইমাম সাহেবের কাছে আসলেন। এবং এই স্বপ্নের ব্যাপারে জানালেন। ইমাম সাহেব কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে বললেন," আপনাদের যে দুইটা তাবিজ দিয়েছিলাম। সেই দুইটা তাবিজ সাবধানে রাখুন। ভুলেও হাত থেকে খুলবেন না। নয়তো বড়সড় কিছু হয়ে যাবে"। রমিজ মিয়া যতটুকু বুঝলেন,এখন হাতে আর কোনো উপায় নেই। এই তাবিজ ছাড়া কোনো গতি নেই পালাবার। যত কিছুই হোক। তাবিজকে সামলে রাখতে হবে।

রমিজ মিয়া চলে আসেন বাড়িতে। স্ত্রীকে সবটা স্পষ্ট না বললেও,তাবিজের ব্যাপারে একটু নাড়া দিয়েছেন। এই তাবিজ যেকোনো কিছুর বিনিময়ে যেনো হাতেই থাকে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী ভেবেছে,হয়তো বাচ্চা নিয়ে রমিজ মিয়ার ভয় তাই এমন বলছে। কিন্তু স্বপ্নে যে আসলেই বাচ্চাকে নিয়ে যাবার ইঙ্গিত দিয়েছে। তা রোকেয়া বেগমের অজানা।


৫ মাস পর.....

যখন রোকেয়া বেগম ৫ মাসের গর্ভবতী। তখন কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে। ফুলা পেট নিয়ে রোকেয়া বেগম ঘুমাচ্ছিলেন।রমিজ মিয়া পাশেই ঘুমাচ্ছেন। রাত আনুমানিক ২ টার দিকে রমিজ মিয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিছু একটা শব্দ উনার কানে এসে স্থগিত হচ্ছিলো। চোখ মেলার পর জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলোতে তিনি দেখেন,রোকেয়া বেগমের পেটে কিছু নড়ছে। রমিজ মিয়া হা করে তাকিয়ে আছে। পেটের মধ্যে যদি বাচ্চা নড়েও,এইভাবে তো স্পষ্ট দেখা যাবার কথা নয়। রমিজ মিয়া আরো একটু খেয়াল করে দেখলেন, ছোট বাচ্চাদের একটা হাত পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। চামড়া দ্বারা স্পষ্ট হাতটি দেখতে পান রমিজ মিয়া। এদিকে হাতটা ধীরে ধীরে ক্রমাগত প্রেশার দিয়ে যাচ্ছে। রমিজ মিয়া রোকেয়া বেগমের পেটে হাত রেখে পেটের ভিতরের হাতটাকে ঠেলতে চাইলে,আচমকা পেটের ভিতর থেকে হাতটা চামড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। রমিজ মিয়া কিছু বুঝে উঠার আগেই,বাচ্চা হাতটি রমিজ মিয়ার হাত ধরে নেয় শক্ত করে। রমিজ মিয়া ভয়ে জোরে এক চিৎকার দিয়ে খাট থেকে পড়ে যান। উনার চিৎকারে রোকেয়া বেগম নিজেও উঠে যায়। রমিজ মিয়া ফ্লোরে বসে চিৎকার মেরেই যাচ্ছিলেন। রোকেয়া বেগম রুমের লাইট অন করে, রমিজ মিয়াকে শান্ত করে যাচ্ছেন।
প্রাক্তন (পর্ব ১২)

রমিজ মিয়া সেদিনও তার স্ত্রীকে কিছু বলেনি। কারণ পরবর্তীতে রোকেয়া বেগমের পেট স্বাভাবিক ছিলো। না ছিলো কোনো ছেঁড়া চামড়া। আর নেই কোনো হাতের ইশারা। পুরোপুরি স্বাভাবিক। রোকেয়া বেগম ভয়ে যদি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সেই ভয়ে কিছু জানালেন না তিনি। শুধুই একটা বাজে স্বপ্ন বলে আবার শুয়ে পড়েছিলেন।

কিন্তু সেদিন থেকে রমিজ মিয়ার সাথে অনেক কিছুই ঘটে যায়।মাঝরাতে রুমে কোনো বাচ্চার কান্নার শব্দ স্পষ্ট শুনেন তিনি। কখনো কখনো একটা ১ বছরের বাচ্চাকে রুমের কোনায় দেখা যায়। তবে স্বাভাবিক বাচ্চা নয়। গভীর রাতে কালো কুচকুচে একটি বাচ্চা আসে। রুমের কোনায় কোনায় সে দৌড়াদৌড়ি করে। রমিজ মিয়া সব দেখলেও,আবার চোখ বন্ধ করে নেয়। অর্থাৎ না দেখার ভান। কারণ হাতে তাবিজ আছে। আর ইমাম সাহেবের কথা অনুযায়ী, এই তাবিজ থাকা অবস্থায় জ্বীনটা কিছুই করবেনা।

রেগুলার এই ভয়ের মধ্যেও যদি সব সীমাবদ্ধ থাকতো। তও হয়তো ঠিক ছিলো। রমিজ মিয়া যখন ভাত খেয়ে বসেন।তখন স্পষ্ট দেখতে পান,ভাতের মধ্যে কিছু বিচ্ছু( পোকা) হাটাচলা করছে। ভাতে এমন বিচ্ছু দেখে উনি চিৎকার মারলে,সবাই দৌড়ে আসেন। এবং জানতে চান কি হয়েছে। রমিজ মিয়া সবার চেহারা দেখে এইটুকু বুঝে যান যে,ভাতে উনি যা দেখছেন।এইটা কেও দেখছেনা। রমিজ মিয়া খাবার রেখে তৎক্ষণাৎ উঠে যায়।

রাতে যখন বাথররুমে যায় ফ্রেশ হবার জন্য। তখন রমিজ মিয়া দেখেন, বাথরুমের ফ্লোরে অনেকগুলা সাপ দৌড়াদৌড়ি করছে। ভয়ে রমিজ মিয়া সেখানেই দরজা বন্ধ করে দেয়। দিন দিন সেই জ্বীনের অত্যাচার বেড়েই যাচ্ছিলো।

এইভাবে কেটে যায় ৯ মাস ২৮ দিন।

প্রাক্তন (পর্ব ৩ ও ৪)
৯ মাস ২৮ দিনের দিন চলে আসে,সেই দিনটা। যে দিনটার জন্য সবাই আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী'কে নিয়ে যাওয়া হয় হসপিটালে। আজ উনার বাচ্চা ডেলিভারি করার দিন। কিন্তু রমিজ মিয়া আছেন বেশ চিন্তায়। এই বাচ্চা কি কোনো অস্বাভাবিক বাচ্চার মত হবে? নাকি সেই জ্বীনের কোনো প্রভাবে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে। জ্বীনটা কি বাচ্চাকে নিয়েই যাবে? ভাবতেই গায়ের লোম দাঁড়ায় রমিজ মিয়ার।




চলবে......?


[ পরবর্তী পর্ব পেতে জানান,কেমন হচ্ছে]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।