এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৯ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৯ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৯ )




গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-০৯
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প




-----------------------------------
আমি দ্রুত গাড়ি থেকে নেমে লাশ তাদের হাতে বুঝিয়ে দিলাম। কিন্তু কালাম ভাই,বিশ্বাস করুন।লাশ রেখে আসার সময় যা হয়েছে,তা অনেক ভয়ংকর ছিলো। আমি যেনো মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে এসেছি"।

এই কথাটা বলতেই,রিয়াজের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। কালাম সাহেব কিছুটা বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকায় রিয়াজের দিকে।আগ্রহাতিশয় হয়ে আছেন তিনি। রিয়াজ তখন আবার বলতে থাকে," লাশ রেখে যখন আমি বাড়ি থেকে বের হই। তখনি আমার এম্বুলেন্স এ আবার কেও পেটাপেটি শুরু করে। যে লাশ আমি মাত্র নামিয়ে এলাম। সেটি আবার কিভাবে এম্বুলেন্সে এলো বুঝতে পারছিলাম না। কিন্তু অস্বাভাবিক কিছু হচ্ছে,সেটির তো সন্দেহ নেই মনে। আমি কোনোদিকে খেয়াল না রেখে এম্বুলেন্স চালিয়ে যাচ্ছিলাম। কোনোভাবে ফেনী শহরে যখন এম্বুলেন্স প্রবেশ করাই। তখন কেও পেটাপেটি করেনি। আমার একটা সন্দেহ ছিলো,হয়তো ফেনী থেকে বের হতে না হতে আবার আক্রমণ করবে। যা ভাবা,তাই হলো। ফেনী শহর থেকে বের হতেই,আমি স্পষ্ট বুঝতে পারছি কেও এম্বুলেন্স পেটাপেটি করছে। মনে হচ্ছে পিছনে লাশটা প্রচুর রেগে। এবং সে এম্বুলেন্স ভেঙ্গে বের হয়ে যাবে। ছোট বেলায় কয়েকটা সূরা শিখেছি। সূরা ইখলাস পড়তে শুরু করি আমি। যখনি মুখ থেকে উচ্চারণ করলাম, " কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ"। তখনি পেটাপেটি বন্ধ করে দেয়। আমার কপাল বেয়ে ঘামের স্রোত নেমে যাচ্ছিলো প্রচুর। আবার যখন উচ্চারণ করলাম," আল্লা-হুসসামাদ"। সেই মুহুর্তে একটা অস্পষ্ট কন্ঠ ফিসফিস করে আমার কানের কাছে বলতে থাকে," তুই অনেক বড় ভুল করেছিস"। আমি ভয়ে আবার পড়তে লাগলাম," লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ"। আমার মুখে আরবি শব্দ শুনে এইবার এম্বুলেন্সে একজন না,যেনো ১০-১২ জন পেটাপেটি শুরু করেছে। আমার এম্বুলেন্স হেলেদুলতে শুরু করে। একবার ডানে,একবার বামে। যেনো তারা লাথি মেরে আমার এম্বুলেন্স ফেলে দিতে যাচ্ছে। আমার কন্ট্রোল হারিয়ে যাচ্ছিলো। এম্বুলেন্স নাড়াচাড়া করার কারণে রাস্তার এদিক-সেদিক করছিলাম আমি। তবুও মনে সাহস সঞ্চয় করে বলতে লাগলাম," ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ"। সূরার শেষ লাইন বলতেই,সীটের নিচ থেকে একটা কালো কুচকুচে হাত বেরিয়ে আসে। এবং আমার গলা টিপে ধরে। মুহুর্তে আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। পুরো শরীর ঘেমে একাকার। একে তো এম্বুলেন্স কন্ট্রোল করতে পারছিলাম না,তার উপর এখন শ্বাসরোধ শুরু হয়। যেটুকু শক্তি ছিলো,সেইটুকু শক্তিতে আমি আবার চিৎকার দিয়ে বলতে শুরু করি," কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।আল্লা-হুসসামাদ।লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ"। এইভাবে জোরে জোরে চিৎকার করে সূরা পাঠ করতে লাগলাম। আল্লাহ্‌র বাণী বার বার শুনতে পেয়ে,সেই কালো হাতটা আমার গলা ছেড়ে দেয়। তবুও আমি সূরা পাঠ করেছি আর এগিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমার এম্বুলেন্স এর পিছনে পেটাপেটি আর ঐ মেয়ের চিৎকার শুনা যাচ্ছিলো। গলা ছাড়ার প্রায় ৩-৪ মিনিট পর ফজরের আযানের ধ্বনি আমার কানে ভেসে আসে। আযানের শব্দ শুনতেই পেটাপেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতক্ষণ মনে হচ্ছিলো আমার গায়ে কিছু একটা ভর করে ছিলো। কিন্তু আযানের পর,পুরো শরীর হালকা হয়ে যায়। আর কিছু হয়নি আমার। একটু শান্ত হই আমি। কপালের ঘাম আর গলা,দুইটাই পরে শুকিয়ে গেছে। তারপর হেল্পারের কাছে নেমে,গলা ভিজানোর জন্য চা খেয়ে ঢাকায় ফিরেছি"।

রিয়াজের মুখে পুরো বর্ণনা শুনে কালাম সাহেব হা করে তাকিয়ে রইলেন। রিয়াজ চায়ের কাঁপে আবার চুমক দেওয়ার পর,কালাম সাহেব বলেন," কিভাবে রিয়াজ? এ তো সত্যিই মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসার মতো ঘটনা। তোমার সাহস আছে বলতে হবে"। রিয়াজ সিগারেটে টান দিয়ে মুচকি হেসে বলল," সাহস আছে নাকি নেই জানিনা। কিন্তু আমার প্রচুর টাকা লাগবে ভাই। হাতে আর ৬ দিন আছে। কিভাবে ৫০ হাজার টাকা ম্যানেজ করবো,তা নিয়ে ভেবে যাচ্ছি"। কালাম সাহেব রিয়াজের কথা শুনে একটু হতাশ হলেন। এরপর রিয়াজের কাঁধে হাত রেখে বললেন," সব ঠিক হয়ে যাবে। একটু অপেক্ষা করো। আল্লাহ্‌র উপর ভরসা রাখো। বিপদ থেকে উনিই রক্ষা করবে তোমাকে। উছিলা কেও না কেও তো হবেই "। কথাটা বলে কালাম সাহেব দোকান ত্যাগ করলেন। রিয়াজ আনমনে চা আর সিগারেটে ঢুবে আছে।

এদিকে শাহরুখ খান,অর্থাৎ রিয়াজের হেল্পারকে বস ডাক দিলেন। হেল্পার উনার কেবিনে আসার পর বস বললেন," এইটা তো সত্যিই অবাক করার বিষয়। একজন নতুন ড্রাইভার,প্রথমবারেই এমন একটা কাজ করলো। আমি ভাবতেও পারছিনা"। হেল্পার বসের কথা শুনে বলল," বস। পোলাটা সাহসী আছে। হাতছাড়া কইরেন না। স্যালারি বাড়িয়ে রেখে দেন"। বস একটা মুচকি হেসে বলে," উপর থেকে আমাকে যা দেওয়া হয়।আমি সেটাই তোমাদের দিচ্ছি। তবে আমি কথা বলবো ওর ব্যাপারে। এইরকম ড্রাইভার খুব কম পাওয়া যায়। আর শুনো,রিয়াজকে বলে দাও আজ বাসায় চলে যেতে। ওর ডিউটি রাতে। গতকাল এমনিতেও ঘুমায়নি। ওর ঘুম প্রয়োজন"। শাহরুখ খান হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়িয়ে কেবিন ত্যাগ করে।

নিচে রিয়াজ বসে আছে দোকানে। হেল্পার রিয়াজের কাছে এসে এক টানা বলল," বস বলল আপনার ছুটি। যদিও আমি রিকুয়েস্ট করে আপনার ছুটি নিয়ে দিছি। একজন বলিউড হিরো আমার নাম বিক্রি করে খায়। আমার রিকুয়েস্ট তো রাখতে বাধ্যই। যান বাসায় যান। রেস্ট করুন। রাত ৮ টা থেকে সকাল অব্দি আপনার ডিউটি"। কথাটা বলে হেল্পার কানে হেডফোন গুঁজে দেয়। আর চলে যেতে থাকে। রিয়াজও প্রচুর ক্লান্ত। তাই দোকান বিল পে করে,চলে যায় বাসার দিকে।

বাসায় এসে রিয়াজ ঠাস করে বিছানায় শুয়ে পড়ে। গোসল না করে ঘুমানোর মতলব। ক্লান্ত শরীর নিয়ে আর দুই পা এগিয়ে যাওয়ার শক্তি নেই। তখনি সেই অস্পষ্ট ফিসফিস করা শব্দে কেও বলল," এসে গেছিস?"। রিয়াজ শব্দটা শুনে লাফ মেরে উঠতে চায় বিছানা থেকে। কিন্তু কোনো একটা অদৃশ্য শক্তি যেনো রিয়াজকে খাটের সাথে চেপে ধরেছে। রিয়াজ বহু শক্তি লাগানোর পরেও,উঠতে পারেনা। এমতাবস্থায় খাটের নিচে কারো হাসার শব্দ। চিকন একটা ভয়ানক কণ্ঠস্বর। সে যেনো খাটের নিচে প্রচুর মজা পাচ্ছে। রিয়াজ কোনোভাবে মাথাটা তুলে পায়ের দিকে তাকায়। দেখে,খাটের নিচ থেকে একটা বাচ্চা ছেলের কালো কুচকুচে হাত বেরিয়ে আসে। অনেক ছোট বাচ্চার হাত। যেমন ২-৩ মাসে বাচ্চাদের যেমন হাত হয়। রিয়াজ সেই কালো হাতটা দেখে চিৎকার করতেই যাবে,তখনি রিয়াজের বালিশটা থেকে রক্ত বের হতে থাকে। রিয়াজ কিছু বুঝে উঠার আগেই,বাসার দরজা জানালা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেলো। পুরো রুম হয়ে যায় অন্ধকার। অন্ধাকারের মধ্যে সেই বাচ্চা ছেলেটা খাটের নিচ থেকে বের হয়। পুরো রুমে অন্ধকার হলেও,ঝাপসা দৃষ্টিতে রিয়াজ সেই বাচ্চাকে দেখতে পায়। একদম ছোট একটা বাচ্চা। এক লাফে বাচ্চাটি খাটের উপর উঠে রিয়াজের দিকে তাকায়। রিয়াজ ওর চেহারার দিকে তাকালেও,স্পষ্ট দেখতে পায়নি। পুরো মুখে শুধু ওর চোখ দুইটা দেখা যাচ্ছিলো। লাল বর্ণের দুইটা চোখ,ভয়ানক অনেক। রিয়াজের দিকে তাকিয়ে সে একটা হাসি দেয়। এরপর এক লাফ দিয়ে দরজার দিকে চলে যায়। রিয়াজ দেখে,দরজা না খুলে,সে বাতাসের মত দরজার কাঠ ভেদ করে বের হয়ে গেছে। আশ্চর্যজনকভাবে আবার সেই বাচ্চাটা খাটের নিচ থেকে বের হয়। এবং এক দৌড়ে দরজার কাঠ ভেদ করে বের হয়ে যায়। এইভাবে একের পর এক বাচ্চা খাটের নিচ থেকে বের হচ্ছে,আর দরজার দিকে চলে যাচ্ছে। রিয়াজ ভয়ে জমে গেছে। তখনি রিয়াজের মনে হলো,রুমের কোনায় একটা বিশাল কালো অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে।

[ অসুস্থ আর ব্যস্ত। এক সাথে দুইটাই আমার বন্ধু হয়ে গেলো। তাই দেরি এবং ছোট হয়েছে। আগামী পর্ব বড় করার ট্রাই করবো]




চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-০৯)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ



[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।