এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৭)

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৭)
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৭)




গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-০৭
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প




------------------------------------
গোসল সেরে রিয়াজ ওয়াশরুমের বাহিরে আসতেই,দেখে কালাম সাহেব রিয়াজের দিকে ভয়ানক চাহনিতে তাকিয়ে আছে। রিয়াজ ভ্রু-কুচকে কালাম সাহেবকে বললেন," কি ব্যাপার ভাই। এইভাবে তাকিয়ে আছেন কেনো"। কথাটা শেষ করতেই রিয়াজ দেখে,কালাম সাহেব তার প্যান্টের পিছন থেকে একটা ছুরি বের করলেন। চোখে অনেক রাগ আর হিংস্র চাহনি।যেনো, রিয়াজ উনার বড় কোনো ক্ষতি করে দিলো।

রিয়াজ কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই কালাম সাহেব ছুরিটা নিয়ে তেড়ে আসে রিয়াজের দিকে। রিয়াজ চোখের সামনে হুট করে দরজা বন্ধ করে দেয়। দরজা লক তো করে নিয়েছে,কিন্তু বাহির থেকে আসা ছুরির আঘাতে দরজা ছিদ্র হয়ে গেলো। রিয়াজ বাথরুমের ভিতরে ঢুকে ভাবছে শুধু। আচমকা কালাম সাহেবের এমন আচরণ কেন হচ্ছে। এদিকে দরজার বাহির থেকে কালাম সাহেব ছুরি বের করে নেয়। রিয়াজ কিছুক্ষণ চুপচাপ ওয়াশরুমে দাঁড়িয়ে রইলো। কালাম সাহেবের কোনো নাড়াচাড়া নেই। একটু পর রিয়াজ বের হবার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বের হবার আগে,দরজার ছিদ্র দিয়ে চেক করে নিলো। দেখে কালাম সাহেব রুমে লম্বা হয়ে শুয়ে আছে। রিয়াজ আর কিছু না ভেবে,দরজাটা খোলে। এরপর দেখে, কালাম সাহেবের পাশে চুরি।দেখতে জ্ঞান হারা অবস্থায় ফ্লোরে পড়ে আছে।রিয়াজ দৌড়ে গিয়ে আগে ছুরিটা হাতে নেয়। কালাম সাহেবের কোনো রিয়েকশন নেই। রিয়াজ ছুরিটা দূরে ছুঁড়ে মেরে কালাম সাহেবকে ডাকতে লাগলেন। কালাম সাহেব জ্ঞান হারা থাকলেও,অনেক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে আসে। উনি উঠেই বেকুবের মত এদিক-সেদিক তাকান।সর্বশেষে মাথা ঘুরিয়ে নিজের বুকের দিকে তাকালেন। রিয়াজও উনার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। কালাম সাহেব রিয়াজ আর দরজার অবস্থা দেখে বুঝে যান সব। এরপর নিচের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। রিয়াজ কালাম সাহেবের দিকে বিচলিত দৃষ্টিপট করে যাচ্ছে। কালাম সাহেব ধীর স্বরে বললেন রিয়াজকে," আমি জানি কি হয়েছিলো। এম্বুলেন্স ড়্রাইভার। জীবনে অনেকের আগমন ঘটে। কেও জীবিত, কেও মৃত। টেবিলের উপর একটা তাবিজ রাখা আছে। ওটা একটু এনে দাও"। রিয়াজ কালাম সাহেবের কথা শুনে টেবিলের কাছে যায়। সেখানে রাখা লাল রঙ্গের কাপড়ে বাঁধা তাবিজটা হাতে নিলো। রিয়াজ যখন তাবিজটা স্পর্শ করে। তখন একটা ভিন্ন অনুভূতি কাজ করে ওর মধ্যে। মনে হচ্ছিলো,তাবিজটা থেকে একটা গরম তাপ বের হচ্ছে। রিয়াজ এদিকটা আমলে না নিয়ে,তাবিজটা এনে কালাম সাহেবকে দেন। কালাম সাহেব তাবিজটা গলায় পড়ে গেঞ্জির ভিতর লুকিয়ে নেয়। রিয়াজ উনার দিকে এখনো তাকিয়ে আছে। এই তাকানোর মাঝে রহস্য জানার উদ্দেশ্য। কালাম সাহেব বসা থেকে উঠে দাঁড়ান। এরপর লুঙ্গি আর গামছা নিয়ে চলে যান ওয়াশরুমে। রিয়াজ আর সেদিকটায় নজর না দিয়ে, নতুন কিনে দেওয়া কাপড় পরিধান করে নিচ্ছে।

নতুন জামা পড়ে রিয়াজ বিছানায় বসে রইলো।ওয়াশরুমের ভিতরে কালাম সাহেব গোসল করছে। রিয়াজ উনার অপেক্ষা করতে করতে আচমকা লাফিয়ে উঠে। টেবিলের উপর কালাম সাহেবের ফোনে রিংটোনের আওয়াজ শুনে লাফিয়েছে। রিয়াজ ফোনের দিকে তাকিয়ে রইলো,বসের ফোন। এদিকে কালাম সাহেবও ওয়াশরুমে। তাই রিয়াজ একটু এগিয়ে এসে ফোন হাতে নেয়। এরপর রিসিভ করতেই বস বলে," হ্যালো কালাম ভাই। রিয়াজকে দ্রুত হসপিটালে পাঠান। এই মুহুর্তে ফেনী একটা লাশ নিয়ে যেতে হবে। আপনি সারা রাত ডিউটি করেছেন। আপাতত রিয়াজকে পাঠান"। কথাটা শেষ হবার পর রিয়াজ ধীর স্বরে বলে," বস, কালাম ভাই গোসলে। আমি আসতেছি একটু পর"। রিয়াজের কণ্ঠস্বর শুনে বস একটু উত্তেজিত হয়ে বলে," হ্যাঁ তাড়াতাড়ি আসো। লাশ গাড়িতে উঠানো আছে। অফিসে এসে আমার থেকে ঠিকানা নিয়ে যাও"। রিয়াজ ফোনটা কেটে দিয়ে টেবিলে রাখে। এরপর বাথরুমের সামনে এসে দাঁড়ায়। কালাম সাহেব টিউবওয়েলের পানি বালতিতে ভরছে। রিয়াজ বাহির থেকে উনাকে ডেকে বললেন, " কালাম ভাই। বস আমাকে ডেকেছে। আমি বের হলাম"। কালাম ভাই কথাটা শুনেই তাড়াতাড়ি মুখ ধুয়ে নেয়। এরপর দৌড়ে এসে দরজা খোলে। কিন্তু রিয়াজ নেই,নেমে গেছে নিচে। পরনে লুঙ্গি আর ভেজা শরীর। তাই উনি আর বের হননি।একটা ভয়ার্ত মনোভাব নিয়ে বললেন," আল্লাহ্‌, ছেলেটাকে রক্ষা করো"।

হসপিটালের নিচে এসে রিয়াজ গেটে ঢুকতে যায়। দারোয়ান রিয়াজের পথ আটকিয়ে বলে," কি ব্যাপার ভাই। ড্রেস আনতে ভুলে গেলেন। এখানকার রুলস কড়া। অন্য হসপিটালের মত যা ইচ্ছে পোষাক পড়া যায়না"। দারোয়ান কথাটা শেষ করতে না করতে বস নিজেই সেখানে উপস্থিত হোন।দেখতে বেশ চিন্তিত মনে হলো তার। বস সোজা এসে রিয়াজের হাতে এক গুচ্ছ ছাবি ধরিয়ে দিয়ে বলল, " আমি তোমার নাম্বারে টেক্সট করে দিয়েছি। তবুও বলি, ফেনী চরচান্দিয়া এলাকার, হাসেম মাস্টারের বাড়ি যাবে এই লাশ। আমি হেল্পার দিচ্ছি একটা তোমাকে। আর শুনো,হেল্পারের কাছে একটা মোবাইল ফোন দিচ্ছি তোমার জন্য। ওটা তোমার। তোমার পুরাতন মোবাইলটা কাওকে দিয়ে দাও। নতুন ফোনে সিম সেট করে নাও। লোকেশন জানতে সুবিধা হবে"। কথাটা বলে বস দৌড়াদৌড়ি করে উপরে চলে যান। আজ হসপিটালে রোগী বেশি। তাই রোগীর চেয়ে হসপিটাল কর্মীরা ব্যস্ত। রিয়াজ গাড়ির চাবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গেটে। ২-৩ মিনিটের মাথায় সেখানে উপস্থিত হয় শাহরুখ খান। না,আপনি ভুল ভাবছেন। হেল্পারের নাম শাহরুখ খান।

হেল্পার এসে রিয়াজের দিকে হাত বাড়িয়ে বলে," এম্বুলেন্স ড্রাইভার তো হার কয়ি হোতা হে। লেকিন সব, আশলি সাহসী নেহি হোতে"।
রিয়াজ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। হেল্পার হ্যান্ডশেক করার জন্য অলরেডি হাত বাড়িয়ে রেখেছে। রিয়াজ ওর দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে," তুমি হেল্পার? মাথায় তেল দাও না? চুলের এই হাল কেন। আর শাহরুখ খানের ডায়লগটাও মেরে দিলা। শাহরুখ হবার ইচ্ছে নাকি"। হেল্পার লজ্জা পেয়ে আর হ্যান্ডশেক করলো না। হাতটা মাথায় নিয়ে একটু চুল নাড়িয়ে বলে," প্রথমত আমার আগে আপনার মাথায় দেখেন। আপনার মাথাতেও তেল নাই। দ্বিতীয়ত এই নিন ফোন। বস আপনাকে এইটা দিয়েছে। এন্ড লাস্ট টল্ক,ইয়ু নেহি জানতে,আই এম শাহরুখ খান। নট হেল্পার। কামিং মাই এম্বুলেন্স "। বলে সে এম্বুলেন্স এর দিকে যেতে থাকে। রিয়াজ বেকুবের মত দাঁড়িয়ে ভাবে," পড়াশুনা করিনি ঠিক আছে। কিন্তু এই ছেংরা তো ইংরেজির পিছন মেরে দিলো। হিন্দি বাংলা উর্দু এক সাথে। কাকে নিয়ে যে যাচ্ছি"। ভেবে রিয়াজও এম্বুলেন্স এর দিকে আসে।

ড্রাইভিং সিটে বসে রিয়াজ পুরাতন ফোন থেকে সিম বের করে। এরপর নতুন ফোনে সিম সেট করতে করতে বলল," রোগীর সাথে কে যাবে"। হেল্পার রিয়াজের কথা শুনে বলে, " ওটা রোগী না,লাশ। আর লাশের সাথে আমার বন্ধু যাচ্ছে"। রিয়াজ অবাক হয়ে হেল্পারের দিকে তাকিয়ে বলে, " বন্ধু মানে?"। হেল্পার বলে,"পিছনে তাকিয়ে দেখেন। শা-লা মদের বোতল নিয়ে বসে আছে। ওর চাচাতো বোন মারা গেছে। তাই লাশ নিয়ে গ্রামে যাচ্ছে। ফোন টিপতেছে কিভাবে দেখেন। মনেই হচ্ছেনা ওর পাশে লাশ শুয়ে আছে"। রিয়াজ পিছনে তাকিয়ে দেখে,সত্যিই। যেনো ছেলেটা এসি রুমে আরাম করতে বসলো। পুরোটা দেখে রিয়াজ বলে, " এইটা তোমার বন্ধু?"। হেল্পার গাল ভেঙ্গে মুচকি হেসে বলে,
- হ ভাই। যার কাছে মদের বোতল,সে আমার জানের জান। অতএব, দেখা মেনে মদের বোতল,পেয়ার হুয়া হে বোতলচে জানাম।
- হয়েছে। মাফ চাই। তুমিও ফোন টিপো।

রিয়াজ ফোনে একবার লোকেশন চেক দিয়ে এম্বুলেন্স স্টার্ট করে। এরপর দ্রুত বের হয়ে যায় হসপিটাল থেকে। এ যেনো শুরু,এক কালো অধ্যায়ের যাত্রা।
পশ্চিমা আকাশে সূর্য লাল বর্ণে ঢুবে যাবে। এখন বিকেল। ঢাকা শহরের রোড কাটিয়ে রিয়াজ বের হচ্ছে। সন্ধ্যায় প্রচুর জ্যাম পড়ে। তাই দ্রুত ঢাকা থেকে বের হতে পারলে,গ্রামে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে। হেল্পার রিয়াজের ড্রাইভিং দেখে বলে," বাহ,সেই গাড়ি চালাচ্ছেন। এখন মাল খেয়ে গাড়িতে ডিজে গান চালানো উচিৎ। সেই ফীল পাবো"। রিয়াজ ওর কথা শুনে কিছুটা বিরক্তি অনুভব করলেও,জবাব না দিয়ে যেতে থাকে।
কিছুদূর আসতেই একটা ট্রাফিক জ্যামে ফেঁসে যায় এম্বুলেন্স। উপরে হর্ণ বাজলেও,এই জনগণ সেটির কদর করেনা। রিয়াজ হেল্পারকে বলে," সিগারেট আছে?"। হেল্পার রিয়াজের কথা শুনে পকেট থেকে প্যাকেট বের করে দেয়। সাথে একটা ১ হাজার টাকার নোট দিয়ে বলে,
- বস বলেছে এইটা আপনাকে দিতাম।মনে আছিলো না। আই এম ভেরি ভেরি...
- থাক। বুঝছি।

হেল্পারকে থামিয়ে দিয়ে রিয়াজ টাকা আর সিগারেটের প্যাকেট হাতে নেয়। টাকা পকেটে ভরে সিগারেট ধরাতেই,জ্যাম খুলে গেলো। রিয়াজ রওনা শুরু করে সিগারেট হাতে নিয়েই।



সন্ধ্যা ০৭:৩৮ মিনিট।
দাউদকান্দি ব্রিজ পার করে রিয়াজ একটু শান্ত হয়। আর জ্যামের ভয় নেই। গাড়ির গতি কিছুটা কমিয়ে রিয়াজ এগিয়ে যেতে থাকে ফেনীর উদ্দেশ্যে। এই সময়টাতে গরম পড়লেও,রাতটা যখন নেমে আসে। আবহাওয়াটা কেমন যেনো কিছুটা শীতল হয়ে উঠে। আর যদি সেটি হয় রানিং গাড়িতে। তবে তো বক্তব্য আলাদা। রিয়াজ সেই শীতল বাতাস মুখে মেখে ড্রাইভিং করছে। হেল্পার অনেক্ষন ধরে কার সাথে যেনো চ্যাট চালিয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত প্রেমিকা হবে। রিয়াজ কয়েকবার খেয়াল করে,হেল্পার চ্যাট করার ফাঁকে মুচকি হেসে উঠে। রিয়াজ একটু পর পর সিগারেট জ্বালাচ্ছে। আর এগিয়ে যাচ্ছে। চারপাশে নেমে এসেছে অন্ধকার। ধীরে ধীরে প্রবেশ করে যাচ্ছে গ্রামের দিকে। কুমিল্লা বেশি দূর নয়। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উপস্থিত হবে। এরপর ফেনী।
চলতে চলতে রিয়াজকে জানালা দিয়ে একজন লোক বলে," ভাই,আমাদের একটু নিয়ে যান"। রিয়াজ উনার দিকে তাকিয়ে আবার রাস্তার দিকে তাকিয়ে বলে," এইটা এম্বুলেন্স,বাস না"। কথাটা শেষ করতে না করতে রিয়াজ হুট করে এম্বুলেন্স ব্রেক করলো। হেল্পারের হাত থেকে মোবাইল উড়ে গিয়ে, সামনের গ্লাসে ধাক্কা খায়। সাথে হেল্পার নিজেও একটা ঝাটকা খেয়েছে। পিছন থেকে ঐ ছেলেটা চিৎকার দিয়ে বলে, " কিরে ব্যাটা ঐ,পাগল নাকি। এইভাবে ব্রেক করলি কেন"। রিয়াজের সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। রিয়াজ শুধু ভাবছে,চলন্ত এম্বুলেন্সের জানালায় সে কে ছিলো।

রিয়াজ আরো একবার জানালার দিকে তাকায়। কেও নেই। অথচ মাত্রই সে একটা লোককে দেখতে পেয়েছে। এইটা কিভাবে সম্ভব, তা ভেবে যাচ্ছে। এতো গতিতে চলা এম্বুলেন্সের সাথে কেও দৌড়াবেও না। এই লোকটাকে দেখে মনেও হয়নি সে দৌড়াচ্ছে। রিয়াজের স্পষ্ট খেয়াল আছে,সে নরমাল লোকদের মত দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করেছে। রিয়াজ হুট করে এম্বুলেন্স এর দরজা খোলে। এরপর বাহিরে এসে চারপাশে তাকিয়ে দেখে,কিছু নেই। চারদিকে দূ-দূ মাঠ আর অন্ধকার। যারা কুমিল্লার আগের রাস্তাটায় সফর করেছেন,তাদের ধারণা আছে নিশ্চয়ই।
এদিকে হেল্পার,পায়ের নিচ থেকে ফোনটা নিয়ে গাড়ি থেকে বের হয়। রিয়াজের কাছে এসে সে বলে," তেরা সমস্যা কেয়া হে। বাহির হইলেন কেন"। রিয়াজ ওর কথায় কান না দিয়ে ওখানে আরেকটা সিগারেট ধরায়। ততক্ষণে পিছন থেকে লাশের সাথে আসা লোকটা সেখানে আসে। সে এসে রিয়াজকে রাগম্বিত স্বরে বলে," এইডা কি করলি তুই? দেখ আমার বোতলের উপরেরটা ভেঙ্গে গেছে। অর্ধেক মাল পড়ে গেছে আমার"। রিয়াজ ওর দিকে তাকিয়ে ত্যাড়া স্বরে বলে, " যে অর্ধেক আছে ওটা খেয়ে নিলেই তো হয়"। লোকটা রিয়াজের কথা শুনে রেগেমেগে বলে, " আরে ব্যাটা এইটা আমি বাড়িতে নিচ্ছিলাম। এলাকায় খাওয়ার জন্য। সবার ন্যাকা কান্না দেখবো নাকি ওখানে। দিলি তো সব জলে ডুবিয়ে"। রিয়াজ আর কথা না বলে এম্বুলেন্স এর দিকে এগিয়ে যায়।গাড়িতে উঠতে উঠতে বলে," ভিতরে এসে খেয়ে নিন। আপনার লাশ নামিয়ে আমাকে ফিরতে হবে"। রিয়াজের ত্যাড়ামি দেখে লোকটা দাঁত কড়মড় করে কিছুক্ষণ। এরপর নিজেই গিয়ে এম্বুলেন্সে উঠে যায়। হেল্পারও এসে গাড়িতে উঠার পর রিয়াজ এম্বুলেন্স স্টার্ট দেয়। কিন্তু কথায় তো আছে,"যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত হয়"। ৪-৫ হাত সামনে যেতেই রিয়াজ বুঝে,গাড়ির চাকা লিক হয়েছে। রিয়াজ আবার এম্বুলেন্স অফ করে নিচে নামে। চাকা চেক করে দেখে,পিছনের চাকাটায় হাওয়া নেই।
আবার গাড়ির সামনে এসে রিয়াজ হেল্পারকে বলে,"চাকা গেছে। আরেকটা চাকা বের করো। বদলাতে হবে"। রিয়াজের আদেশে হেল্পার এক্সট্রা চাকা বের করে নিয়ে আসে।

লাশের সাথে আসা লোকটা দাঁড়িয়ে আছে এম্বুলেন্স এর পিছনে। রিয়াজ হেল্পারের থেকে চাকা নেয়। এরপর স্ট্যান্ড এর উপরে গাড়ি আলগা করে,আর নষ্ট চাকাটা খুলতে থাকে। হেল্পার রিয়াজের পাশে না থেকে,ঐ লোকটার সাথে কি যেনো আলাপ শুরু করছে। রিয়াজ সেদিকে মন না দিয়ে চাকা খুলতে থাকে।
এদিকে হেল্পার ঐ লোকটাকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে মদের বোতলটা বের করে আনে। এম্বুলেন্স থেকে একটা গ্লাস নিয়ে,হেল্পার আর ঐ লোকটা মদ্য পান শুরু করলো। রিয়াজ চাকা খোলা শেষে সেদিকে তাকায়,আর দেখে হেল্পার সহ লোকটা মদ খাচ্ছে। রিয়াজ বসা থেকে উঠে চলে আসে ওদের কাছে। এরপর মদের বোতলটা হাতে নিয়ে বলে," আমি চাকা খুলেছি। ভালোভাবে নতুনটা লাগিয়ে দাও"। হেল্পার ব্যাপারটা মাইন্ড করেনি। কারণ সে যথেষ্ট খেয়ে নিয়েছে।সে উঠে, চলে যায় চাকা লাগাতে। রিয়াজ মদের বোতল থেকে কিছু মদ গ্লাসে ঢালে।তারপর গ্লাসটি দেয় লোকটার হাতে। লোকটা গ্লাস হাতে নিতে না নিতে,রিয়াজ পুরো মদের বোতল উপরে তোলে। আর গড়গড় করে সব খেতে শুরু করলো। লোকটা হা করে তাকিয়ে আছে রিয়াজের দিকে। হেল্পার নিজেও অবাক। রিয়াজের দিকে দুজনেই বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। রিয়াজ মদের বোতল শেষ করে সোজা হয়ে দাঁড়ায়। এরপর বোতলটা পাশের বিলে ফেলে দিয়ে লোকটাকে বলে," কি! খাবেন না? এদিকে দেন"। বলে উনার হাত থেকে গ্লাসটাও নিয়ে নেয়। আর সেটিও গিলে ফেলে। লোকটা শুধু অবাক হয়ে রিয়াজের কান্ড দেখে গেলো। হেল্পার ধীর স্বরে বলে, " শালা তো পাক্কা মাল খোর"।

হেল্পার চাকা লাগাতে ব্যস্ত। লাশের সাথে আসা লোকটা অভিমান করে রাস্তার পাশে বসে সিগারেট খাচ্ছে। যদিও,সেও প্রচুর মাতাল। রিয়াজ হেলেদুলে রাস্তার পাশে আসে। এরপর একটা সিগারেট জ্বালিয়ে গান গাইতে লাগলো। তখনি ঘটে কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা।
আচমকা হেল্পারের চিৎকার শুনে রিয়াজ দৌড়ে আসে। লাশের সাথে আসা লোকটাও আসে। হেল্পারের চোখে ভয়।মাটিতে শুয়ে আছে আসে। রিয়াজ হেলে-দুলে হেল্পারের কাছে এসে বলে," কি হয়েছে? চিল্লাও কেন"। হেল্পারের চোখের দিকে তাকালেই বুঝা যায় সে কিছু একটা দেখে ভয় পেয়েছে। যেনো তার সব নেশা উড়ে গেলো। ভয়ার্ত স্বরে হেল্পার রিয়াজকে বলে, " এম্বুলেন্স আচমকা নড়ে উঠেছে। আপনারা তো ওখানে। এম্বুলেন্স নাড়ালো কে"। হেল্পারের কথা শুনে রিয়াজ আর ঐ লোকটা বড় বড় চোখ করে তাকায়। হেল্পার এইবার এদের চোখ দেখেই হজম হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ তারা সিরিয়াস ভাবে তাকিয়ে আচমক চিৎকার মেরে হাসতে লাগলো।। হেল্পার ওদের কান্ড দেখে কিছুই বুঝেনা। এদিকে রিয়াজ আর ঐ লোকটা হাসতে হাসতে একজন আরেক জনের সাথে কোলাকুলি শুরু করে। হেল্পার বলে, " ভাই বিশ্বাস করেন। আমি সত্যি বলতেছি। এম্বুলেন্স এর মধ্যে কেও আছে"। হেল্পারের প্রতিটি কথা যেনো জোক্স শুনাচ্ছে। রিয়াজ আর ঐ লোকটা হাসতে হাসতে পড়ে যাবার উপক্রম। কিছুক্ষণ হাসার পর রিয়াজ মাতাল স্বরে বলে," এম্বুলেন্সে তোর বান্ধুবী ছাড়া কেও নাই গাধা। দাঁড়া, তোর বান্ধুবী মরার পর নড়েছে কিনা দেখে আসি"। কথাটা বলে হাসতে হাসতে রিয়াজ এম্বুলেন্স এর পিছনে যায়। আর ঢাকনা খুলে তাকাতেই দেখে, মরা লাশটা সিটে বসে আছে। তাও রিয়াজের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে।

চলবে..........?

গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-০৭)

লেখক- #রিয়াজ_রাজ

[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।