এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৮ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৮ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৮ )



গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-১৮
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প



--------------------------------------

কথাটা বলে রিয়াজ মুচকি হাসতে হাসতে বাসার দিকে চলে যায়।

একটি বন্ধ রুম,রুমের ঠিক মাঝে একটি মেয়ে বসে আছে। তার চুলগুলা ছেড়ে দেওয়া। সব চুল মেয়েটার মুখের উপর ঢেকে রাখা। মেয়েটির ঠিক পিছনে দাঁড়িয়ে আছে একটি শয়তান। শয়তানের দেহের উচ্চতা বিশাল। পুরো সিলিং এ শয়তানের মাথা লেগে আছে। মেয়েটি চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। আউলাঝাউলা চুলে পুরো পাগলের মত লাগছে। এদিকে পিছনে থাকা শয়তানটার চেহারা ছিলো ভয়ানক। যেনো পুরো মুখ তার পুড়ে গেছে।শয়তান পিছন থেকে মেয়েটির দিকে লোভনীয় দৃষ্টিতে তাকায়। এরপর তার বিকৃতরূপ চেহারাটা নড়ে উঠে। মুহুর্তে শয়তানটা তার মুখ খোলে। একদম রবারের মতো তার মুখটা বড় হতে লাগলো। যেনো মেয়েটি পুরো তার মুখে ঢুকে যাবে। দেখতে দেখতে শয়তান এতো বড় হা করেছে,যা সাধারণ একজন মানুষ দেখলে, ভয়ে সেখানেই মারা যাবে। ধীরে ধীরে শয়তানটা তার মাথা নিচের দিকে নামায়। এরপর মেয়েটির মাথা বরাবর শয়তান তার মুখ এনে একটা লোভনীয় শব্দ ছাড়ে। মেয়েটি যেনো কিছুই জানেনা। সে নিস্তেজ হয়ে বসে রইলো। দেখতে দেখতে শয়তান মেয়েটির মাথা তার মুখের ভিতর প্রবেশ করাতে থাকে। মেয়েটির কোনো রিয়েকশন নেই। আস্তে আস্তে শয়তান মেয়েটিকে গিলতে শুরু করলো।

আচমকা লাফ মেরে উঠে রিয়াজ। কি ভয়ানক স্বপ্নটা ছিলো। রিয়াজের হাত পা কাঁপতে শুরু করে। কপালে ঘাম ঝরা শুরু হয়। বার বার চোখের সামনে,মেয়েটির মাথা গিলে খাওয়ার দৃশ্য ভাসছিলো রিয়াজের।

চারপাশে তাকানোর পর রিয়াজ দেখে,সন্ধ্যা হয়ে গেছে। সেই সকালে এসে যে ঘুম দিলো, এক ঘুমে উঠেছে সন্ধায়। চোখ কচলাতে কচলাতে রিয়াজ ফোন হাতে নেয়। আর দেখে,কালাম সাহেবের ৩৬ টা মিসকল। হুমড়ি খেয়ে রিয়াজ ফোন ব্যাক করে। কালাম সাহেব ফোন রিসিভ করেই বলেন," সেই কখন থেকে কল দিচ্ছি। তাড়াতাড়ি আসো"। কথাটি বলে কালাম ভাই কল কেটে দেন। রিয়াজ তাড়াহুড়ো করে বিছানা থেকে উঠে। এরপর জামা-কাপড় নিয়ে রওনা করে হসপিটালে।

হসপিটালের সামনে আসতেই রিয়াজ দেখে,চায়ের দোকানের সামনে একজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। উনার সামনেই কালাম ভাই। রিয়াজ কালাম ভাইয়ের কাছে গিয়ে দাঁড়ায়। কালাম ভাই রিয়াজকে দেখে বললেন," একটা সরকারি কলেজে তোমার ব্যাপারে কথা বলেছি। আমি তো অত ভালো বুঝিনা এসব। জাফর ভাই তোমাকে সব সাহায্য করবে"। রিয়াজ সকালে রোমান্টিক মুড থাকলেও,ব্যাপারটা এখন অন্যভাবে নিচ্ছে। যে ঠিকমতো বর্ণমালাও জানেনা,সে কি কলেজে পড়বে। কিন্তু কথা যেহেতু দিয়েছে,তখন তো কিছু করার থাকেনা। এখন রিয়াজকে পড়াশুনা শুরু করতে হবে। কোনো প্রাইভেট টিচার খোজা জরুরী। ওদের সামনে দাঁড়িয়ে রিয়াজ এসব ভেবে যাচ্ছে। এদিকে লোকটা কালাম ভাইকে টাকার সংখ্যাটা জানিয়ে দেয়। যেহেতু ফেক সার্টিফিকেট দিয়ে ভর্তি হতে হবে। চার্জ একটু বেশি নিবেই। কালাম ভাইও চায় রিয়াজ পড়াশুনা করুক। তাই উনি লোকটার কথায় সায় দেয়। কথোপকথনের মাঝে কালাম ভাই রিয়াজকে বলে," হসপিটালের একজন রোগী আছে। ৭ টার দিকে তোমার ডিউটি। রোগীকে তার বাড়ি দিয়ে আসতে হবে"। আচমকা কালাম ভাইয়ের কথা শুনে রিয়াজ চমকে উঠে। কালাম ভাই কিছুটা আঁচ করেন,যে রিয়াজ চিন্তায় আছে। রিয়াজ তবুও মিথ্যে একটি হাসি দিয়ে বলে," শহরের বাহিরে?"। রিয়াজের কথায় কালাম ভাই বলে," না,ঢাকাতেই"। রিয়াজ কালাম ভাইয়ের কথায় হ্যাঁ সম্মতি জানায়। কালাম ভাই লোকটাকে বিদায় দিয়ে হসপিটালে চলে যান। রিয়াজ চায়ের দোকানে বসে একটা চা,আর একটা সিগারেট ধরায়।

০৭:৩২ মিনিট......
অফিসের বস রিয়াজকে কল দিয়ে,সেই রোগীকে নিয়ে যেতে বলে। রিয়াজ কলটা কেটে চলে আসে হসপিটালে। গেটের সামনে প্রবেশ করতেই রিয়াজ দেখে,ইসরাত একজন বৃদ্ধ মহিলাকে নিয়ে বের হচ্ছে। রিয়াজের তো চোখ কপালে। এই মেয়ে এখানে কেন। রিয়াজ কিছু বুঝে উঠার আগে ইসরাত বলল,' ধরেন না কেন। দাদিকে গাড়িতে তুলুন"। রিয়াজ সকালের মতো আবার হ্যাং হয়ে যায়। পুরো পৃথিবী যেনো ঝাপসা হয়ে গেছে,শুধু ইসরাতকেই স্পষ্ট দেখে রিয়াজ। ইসরাত আবার ডাক দিয়ে বলে,"এম্বুলেন্সের দরজা খোলেন"। এইবারের ডাকে রিয়াজের হুশ আসে। পিছনে তাকিয়ে দেখে,ইসরাত অলরেডি এম্বুলেন্সের কাছে চলে গেছে। তারমানে রিয়াজ এতক্ষণ ইসরাতকে তার সামনে স্লো-মোশনে কল্পনা করে যাচ্ছিলো। তাড়াহুড়ো করে রিয়াজ দৌড়ে এসে দরজা খোলে। ইসরাত তার দাদিকে এম্বুলেন্সের সিটে শুইয়ে দিয়ে,আবার বের হয়। রিয়াজ পিছনেই দাঁড়িয়ে আছে। ইসরাত রিয়াজকে বলে," দরজা বন্ধ করেন,আর সামনে আসুন"। রিয়াজ তো হতভাগ। এই মেয়ে দাদির সাথে না বসে রিয়াজের পাশে বসবে? খুশিতে রিয়াজ দরজা বন্ধ করে চলে আসে সামনে।ইসরাত আগে থেকে গিয়ে এম্বুলেন্সের সামনে বসে আছে। রিয়াজ নিজের সিটে বসে এম্বুলেন্স চালু করতেই ইসরাত বলে," হাতিরঝিলের দিকে যান"। রিয়াজ ইসরাতের কথা শুনে বলে," আপনার বাসা ওখানে?"। ইসরাত রিয়াজের দিকে ভ্রু-কুচকে তাকিয়ে বলে," কেনো,কাগজে দেখেন নি? বাসা মিরপুরেই। আপনি হাতিরঝিলে যান"।যেহেতু পড়তে পারেনা" তাই রিয়াজ আর কোনো কথা না বলে এম্বুলেন্স চালাতে শুরু করে। যদিও রিয়াজ প্রশ্ন করতে চেয়েছে। কিন্তু মূল বিষয়,রিয়াজ লজ্জা পাচ্ছে।

২৮ মিনিট বাদে এম্বুলেন্স হাতিরঝিল আসে। লেকের পাশে যে রাস্তা,সেখানেই রিয়াজ এম্বুলেন্স দাড় করায়। ইসরাত পুরো পথে একটা কথাও বলেনি। রিয়াজও সরমে বলেনি কিছু। এম্বুলেন্স দাঁড় করানোর পর ইসরাত বলে,"নেমে আসুন"। রিয়াজ শুধু ইসরাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। ইসরাত গাড়ি থেকে নেমে চলে যায় লেকের পাড়ে। পিছন পিছন রিয়াজও আসে। ইসরাত লেকের দিকে তাকিয়ে কি যেনো ভাবছে। ল্যাম্পপোস্টের আলোর ছিটকা সোজা ইসরাতের মুখে। বাতাসে ইসরাতের চুলগুলা হাওয়ায় হেলে-দুলে যাচ্ছে। রিয়াজ যেনো ডুব দিতে যায় এই রুপে। কিন্তু রিয়াজের মুডকে গোল্লায় নিয়ে ইসরাত বলে, " আমার মা-বাবা কে আমি জানিনা। কোনোদিন দেখিওনি। আমার পরিবারে যারা আছেন। এরা নাকি আমার মা-বাবা না। আপনার সাথে যে জ্বীনদের দেখা হলো। ওরা আমাকে ছোট থেকে আগলে রেখেছে। কখনো আমার বিপদ আসলে,উনারাই আমাকে রক্ষা করে। আর ঐ জ্বীনদের কথা শুধুমাত্র আমি জানতাম। এখন আপনিও জানেন। কিন্তু বর্তমানে আমার মা-বাবা পরিচয়ে যারা আছে। এরা আমার আসল পরিবার না হলেও, নিজের সন্তানের মত মানুষ করেছে আমাকে।উনারা জানেও না যে,আমি সব সত্যটা জানি। জ্বীনের ব্যাপারেও তাদের বলিনি কিছু। গতকাল রাতে জ্বীন চাচা আমাকে বলার পর আমি আপনার কাছে গিয়েছি ঠিকি। কিন্তু আপনার অবস্থান দেখে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছি। জানিনা কেনো জ্বীন চাচা আপনাকে চয়েজ করেছে। কিন্তু আমার বর্তমান পরিবার আপনাকে কখনো মেনে নিবেনা। প্রথমত আমি জানি আপনার সার্টিফিকেট ফেক। দ্বিতীয়ত আপনি মাত্র কলেজে ভর্তি হচ্ছেন। তৃতীয়ত আপনি একটা এম্বুলেন্স ড্রাইভার। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।তবে আমার পরিবারকে তো রাজি করাতে হবে। আপনি এই এম্বুলেন্স ছেড়ে দিন। আমি আপনাকে পড়াশুনা শিখাবো"।

এক দমে ইসরাত কথাগুলা বলেছে। রিয়াজ ইসরাতের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। নিজেকে কখনো মূর্খ বলতে রিয়াজের গায়ে লাগেনি। কিন্তু ইসরাতের মুখে কথাটা শুনে আজ রিয়াজ উপলব্ধি করে,মূর্খের দাম সামান্য। বলতে গেলে একটুও নেই। ইসরাত ভালোভাবে খেয়াল করে দেখে,রিয়াজের চোখে পানি জমাট বেঁধেছে। ইসরাত রিয়াজের এই হাল দেখে,এক দৌড়ে এসে রিয়াজকে জড়িয়ে ধরে।




চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-১৮)
লেখক- #রিয়াজ_রাজ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।