এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৫ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৫ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৫ )



গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-১৫
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প



-------------------------------------
রিয়াজ জানালা খুলতেই রিয়াজের চোখ সেই পিচাশের চোখ বরাবর পড়ে। যেনো পিচাশটা অপেক্ষা করছিলো জানালা খোলার। রিয়াজ চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলেও,গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছিলোনা। পুরো শরীর রিয়াজের অবশ হয়ে যায়। এদিকে পিচাশটি রিয়াজের দিকে তাকিয়ে,একটা পৈশাচিক হাসি দেয়।

ভয়ে রিয়াজের শরীর জমে যায়। এক দৃষ্টিতে রিয়াজও সেই পিশাচের দিকে তাকিয়ে থাকে। পিশাচটা ধীরে ধীরে জানালা দিয়ে তার হাতটা রুমের ভিতর ঢুকিয়ে দেয়। রিয়াজ না পারছে নড়তে,আর না পারে চিৎকার দিয়ে। এদিকে হাতটা আসতে আসতে রিয়াজের গলা চেপে ধরে। রিয়াজ ধড়ফড় শুরু করলেও,জানালা দিয়ে চোখ যায় এম্বুলেন্সের দিকে। এম্বুলেন্সের ঢাকনা খোলা। তারমানে লাশটার সাথে কিছু না কিছু করে নিয়েছে। এদিকে রিয়াজ হাত উঠিয়ে পিশাচের হাতটাও ধরতে পারেনা। পুরো শরীর অবশ তার। পিশাচ রিয়াজের গলা ধরে চাপ দিতেই,রিয়াজের গলার হাড় যেনো ভেঙ্গে যাচ্ছিলো।রিয়াজ ধীরে ধীরে সেই পিশাচের বসে চলে যাচ্ছে। পিশাচ রিয়াজের গলা ধরলেও,রিয়াজ নিজেও নিজের বুকে আঘাত করতে শুরু করে। প্রচুর গতিতে নিজের বুকে নিজে আঘাত করায়,রিয়াজের মুখ থেকে রক্তও বের হওয়া শুরু হয়। কিন্তু রিয়াজের জ্ঞান আছে,রিয়াজ সব বুঝতে পারছে,দেখতে পারছে। তবে হাতটা নিজের কন্ট্রোলে নেই। যেনো হাতটা রিয়াজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেই রিয়াজকে আঘাত শুরু করে। সেই মুহুর্তে লাশের মামাতো ভাই,অর্থাৎ আব্দুল্লাহ বিছানায় বসে জোরে জোরে একটা আয়াত পড়তে শুরু করলো। আব্দুল্লাহ এর মুখে আয়াত শুনে পিশাচটা ভয়ংকর রকমের একটি চিৎকার মারে। আব্দুল্লাহ ভয় না পেয়ে আবার শুরু করে আয়াত পড়া।যেমন সুরা ফাতেহার সব আয়াত।এরপর সুরা বাকারার ১-৫, ১৬৪, ২৫৫-২৫৭, ২৮৫-২৮৬। সুরা আলে ইমরানের ১৮-১৯ নম্বর আয়াত। সুরা আরাফের ৫৪-৫৬ নম্বর আয়াত। সুরা মুমিনুনের ১১৫-১১৮ নম্বর আয়াত। সুরা সফফাতের ১-১০ নম্বর আয়াত। সুরা আহকাফের ২৯-৩২ নম্বর আয়াত। সুরা আর রাহমানের ৩৩-৩৬ নম্বর আয়াত। সুরা হাশরের ১২-২৪ নম্বর আয়াত। সুরা জিনের ১-৯ নম্বর আয়াত। সুরা হুমাজাহর ১-৭ নম্বর আয়াত।এই আয়াতগুলা উচ্চারণ করার পর পিশাচ রিয়াজের গলা ছেড়ে দিয়ে হাত বের করে নেয়। রিয়াজও হুট করে নিচে পড়ে যায়। এরপর আব্দুল্লাহ সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পাঠ করতে করতে রিয়াজের কাছে আসে। এই ৩টা সূরার আগের আয়াতগুলা উচ্চারণ করায় জ্বীন রিয়াজকে বশ করা থেকে ছেড়ে যন্ত্রণায় গায়েব হয়ে যায়। আর পুরোপুরি রিয়াজকে বশ থেকে হালকা করার জন্য শেষের ৩টি সূরা উচ্চারণ করে।

রিয়াজ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে থাকে। এদিকে বাড়ির সবাই দৌড়ে এসে রিয়াজদের রুমে জড়ো হয়। আব্দুল্লাহ রিয়াজকে কোলে নিয়ে উঠায় বিছানায়। মূল কথা হচ্ছে,আব্দুল্লাহ এর সুরা পাঠ,আর পিশাচের চিৎকার পুরো বাড়ির মানুষ শুনেছে। রিয়াজ জ্ঞান হারা অবস্থায় বিছানায়। আব্দুল্লাহ রিয়াজের পাশে বসে রিয়াজকে বাতাস করছে,আর হাতে পায়ে তেল মালিশ করছে। যদিও তেলগুলা দোয়া পড়া তেল। এদিকে লাশের কাজিন দৌড়ে এসে বলে," এম্বুলেন্সে লাশ নেই। ঢাকনা খোলা"। কাজিনের কথা শুনতেই আব্দুল্লাহ দৌড়ে যায় বাহিরে। বাড়ির মানুষজন এইবার ভয় পেয়ে যায়। সবার মাঝে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক। ঐ বাড়ির কিছু ছেলেরা লাইট নিয়ে বের হয় লাশ খোঁজার জন্য। যেহেতু এইটা তাদের কর্তব্যে পড়ে। মহিলাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে রিয়াজের ফিরে আসে হুশ। জ্ঞান ফিরে আসতেই রিয়াজ লাফিয়ে উঠে। আর এটি দেখে লাশের মা রিয়াজকে সবটা খুলে বলে। রিয়াজ তৎক্ষণাৎ বিছানা থেকে এক দৌড়ে যায় এম্বুলেন্সের দিকে। এম্বুলেন্সের দরজা খুলে রিয়াজ আগে হুজুরের দেওয়া বোতলটা বের করে। এরপর কিছু পানি হাতে নিয়ে নিজের গাঁয়ে ছিটিয়ে দিলো। বাড়ির মহিলারা রিয়াজের কান্ড দেখছিলো শুধু। রিয়াজ গায়ে পানি ছিটিয়ে নিজের ফোন বের করে। এদিকে আব্দুল্লাহ সহ সবাই বাড়ির পিছনে আর খালের সাইডে লাশ খুঁজতে চলে যায়। রিয়াজ ফোনের ফ্ল্যাশলাইট অন করে বাড়ির বাহিরে দৌড় দিতে যাবে,তার আগেই এম্বুলেন্সের ভিতর থেকে রিয়াজকে কেও ডাক দিয়ে বলে," রিয়াজ। গাড়ির নিচে লাশ। ওদিকে কোথায় যাচ্ছো?"। রিয়াজ হুট করে দাঁড়িয়ে পিছনে তাকায়। আর দেখে,এম্বুলেন্সের ভিতরে সেই হুজুর বসে আছে,যে রিয়াজকে এই পানি দিয়েছে। অর্থাৎ সেই জ্বীন। রিয়াজ উনার কথা শুনে আবার দৌড়ে এসে উঠোনে হাটু ফেলে বসে। তারপর গাড়ির নিচে ফ্ল্যাশলাইটের আলো দিয়ে দেখে,লাশ গাড়ির নিচে। রিয়াজ অবাক হয়ে আবার উঠে দেখে,এম্বুলেন্সে সেই হুজুর নেই। রিয়াজ বাড়ির সবাইকে ডাক দিয়ে লাশের ব্যাপারে বলে। বাড়ির মহিলারাও "লাশ পাওয়া গেছে লাশ পাওয়া গেছে" বলে চেঁচাচেচি শুরু করে। উনাদের উচ্চস্বরে দৌড়ে আসে বাহিরের মানুষও।

সবাই এসে ধরাধরি করে লাশ বের করে। ভাগ্যিস লাশের দেহে কোনো ক্ষত নেই। পুরো লাশ পরিপূর্ণ। রিয়াজ সহ সবাই লাশটাকে আবার কফিনে ভরে পেরাক মেরে দেয়। আব্দুল্লাহ ভাইও ছুটে আসে রিয়াজের কাছে। পুরো বাড়িতে রিয়াজের গায়ে দেওয়া পানির গন্ধটি ছড়িয়ে গেছে। আব্দুল্লাহ ঘ্রাণ পেয়েই বুঝে যায়,এটি কাদের দেওয়া জিনিষ। সে বুঝেও না বুঝার ভান ধরে বলে," সারা রাত লাশ পাহারা দিতে হবে। নইলে আবার আক্রমণ শুরু করবে"।
আব্দুল্লাহ এর কথা শুনে রিয়াজ বলে," কিছু হবেনা। আমাদের শুধু রাতটা পার করতে হবে। লাশের ক্ষতি হবেনা আর"। কথাটা বলে রিয়াজ এম্বুলেন্সের ঢাকনা আটকে দিয়ে উঠোনের সাইডে চলে যায়। আর একটা সিগারেট ধরায়। এদিকে বাড়ির ছোট-বড় সবাই উঠোনে এসে জড়ো হয়। ওরা বলাবলি করছে," মরা মানুষ কিভাবে গাড়ির নিচে যায়। নিশ্চয়ই এইটা লাশ না,ভুত"।

যাইহোক, সারা রাত এইভাবে পার হয়ে যায়। বাড়ির কেও ঘুমায়নি আর। ভয়ে সবাই উঠোনে জড়ো থেকে রাত পার করে দেয়। ফজরের আযান হতেই,আব্দুল্লাহ নামাজে যায়। আর নামাজ শেষ করে এসে রিয়াজকে জানায়। রিয়াজও গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সবাইকে ডাকে।বাড়ির মানুষকে বিদায় দিয়ে, আবার রওনা করে সবাই বগুড়ার দিকে।

এইবারে কোনো সমস্যা হয়নি। বগুড়া পেরিয়ে ওরা পঞ্চগড় যায়। লাশ নামায়,রিয়াজ সবাইকে বিদায় দিয়ে আবার ব্যাকও করে। এসবে হয়ে যায় প্রায় বিকেল। পঞ্চগড় থেকে বের হবার আগেই রিয়াজকে কেও পিছন থেকে বলে," কাজটা ঠিক করিস নি"। রিয়াজ হয়ে যায় অবাক,সবাইকে তো নামিয়ে দিলো। গাড়িতে রিয়াজ একাই আছে।তাহলে পিছনে কে। রিয়াজ হুট করে আয়নায় তাকায়,আর দেখে চাদর পড়া সেই বৃদ্ধ লোকটা এম্বুলেন্সের পিছনে বসে আছে। যিনি রিয়াজকে এর আগেও এট্যাক করেছিলো। রিয়াজ সেদিকটাতে তাকাতে তাকাতে করে বসে এক্সিডেন্ট। তাও ইন্সপেক্টর জয়নাল সাহেবের গাড়ির সাথে।




চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-১৫ )
লেখক- #রিয়াজ_রাজ

[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।