এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৪ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৪ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৪ )



গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-১৪
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প




----------------------------------
করিম সাহেব আবার বলে," স্যার, এতো মাস পর কি আবার কিছু হইবো?"। জয়নাল সাহেব কিছুটা শান্ত হয়ে বলে," কোন এম্বুলেন্সে করে লাশ আনা হবে। তাড়াতাড়ি সেই ড্রাইভারের নাম্বার যোগাড় করো। তাকে কোনোভাবেই ঐ বিলের রাস্তা দিয়ে আসতে দেওয়া যাবেনা। আমি পারবো না ওসব ভূত/জ্বীনের কেস হাতে নিতে"।

এদিকে রিয়াজ হসপিটালের নিচে আসে। শাহরুখ লাশ এম্বুলেন্সে তুলে নেয়। কফিন এইবার ভালোভাবে লক করেছে।যাতে খুলে না যায়। হসপিটালের সামনে রিয়াজ একটা সিগারেট ধরিয়ে ফোন টিপছে। কিছুক্ষণ বাদে হসপিটাল থেকে বের হয় লাশের পরিবার। সবার চোখে কান্নার চাপ। শাহরুখ রিয়াজের কাছে এসে বলে, " ভাই, আত্মহত্যা করা লাশ। এই লাশ নিতে গেলে কি কি হয় কে জানে। সাবধানে যাইয়েন"। শাহরুখের কথা শুনে রিয়াজ ভ্রু-কুচকে তাকায়। শাহরুখ রিয়াজের তাকানো দেখে বলে, " আমি জানি আপনি কি ভাবছেন। কিন্তু আমার আজকেই গ্রামের বাড়ি যেতে হবে। মা অসুস্থ। বসকে বলেছি অন্য একজন হেল্পার দেওয়ার জন্য। বস বলল আপনাকে একা যেতে। লাশের পরিবারের লোকজন বেশি। যেতে নাকি সমস্যা হবেনা"। হেল্পারের কথা শুনে রিয়াজ কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। হেল্পার লজ্জায় মাথা নিচু করে নেয়। রিয়াজ সিগারেটে শেষ টান দিয়ে বলে," আন্টিকে আমার সালাম দিস। এ নে,এখানে ২ হাজার টাকা আছে। আন্টির জন্য ফল-ফ্রুট নিয়ে যাইস"। কথাটা বলে রিয়াজ শার্টের পকেট থেকে ২ হাজার টাকা বের করে দেয়। হেল্পার অবাক হয়ে রিয়াজের দিকে তাকায়। রিয়াজ একটা মুচকি হাসি দিয়ে টাকাটা আরো এগিয়ে দেয়। শাহরুখ টাকাটা হাতে নিয়ে রিয়াজকে জড়িয়ে ধরে বলল," আপনি আমার বড় ভাইয়ের মত। এখন মনে হচ্ছে,আপনি আমার আপন ভাই"। রিয়াজ শাহরুখকে শান্তনা দিয়ে নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়।এরপর শাহরুখকে বিদায় দিয়ে চলে যায় এম্বুলেন্স এর দিকে।

এম্বুলেন্সে উঠে দেখে সামনে একটা লোক বসে আছে। যুবক লোক,তবে হুজুরের মতো দেখতে।মুখ ভর্তি দাড়ি,আর গায়ে পাঞ্জাবী। রিয়াজ দরজা খুলে গাড়িতে উঠতেই লোকটা রিয়াজকে সালাম দেয়। রিয়াজ সালামের উত্তর নিয়ে এম্বুলেন্স স্টার্ট করে দিলো। এম্বুলেন্স এর পিছনে লাশের মা, বাবা আর কাজিন আছে। সামনে বসেছে লাশের মামাতো ভাই। রিয়াজ এম্বুলেন্স স্টার্ট দিয়ে কিছুদূর যেতেই লাশের মামাতো ভাই বলে," এতো লাশ নিয়ে যে চলাফেরা করেন। আপনাদের সাথে অতিপ্রাকৃত কিছু ঘটেনা?"। উনার কথা শুনে রিয়াজ গম্ভীর স্বরে উত্তর দেয়," অভ্যাস হয়ে গেছে। এম্বুলেন্স ড্রাইভার আমরা। ওসবের শিকার তো হতেই হয়"। রিয়াজের কথা শুনে সেই লোকটা বলল," আমি মসজিদের ইমাম। তবে ইমামতি করার পাশাপাশি প্যারানরমাল নিয়ে অনেক শিখেছি। আমার জীবনে অনেক কিছু ঘটেছে। মানুষের উপকার করতে গিয়ে আমার কত যে বিপদ গেলো। হিসাব ছাড়া"। রিয়াজ উনার কথাগুলা শুনে একটা মুচকি হাসি দেয়। এরপর পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে ধরায়। লোকটা রিয়াজের সিগারেট খাওয়া দেখে কিছুটা বিরক্ত হয়েছেন, তা রিয়াজ বুঝে নেয়। তাই জানালা খুলে দিয়ে ধোয়া বাহিরে ছেড়ে রিয়াজ বলে," আপনার আর আমার সূত্র একই। আপনিও মানুষের উপকার করেন,তাই তাদের সম্মুখীন হোন। আর আমিও লাশদের তাদের ঠিকানায় নিয়ে যাই। এতে আমিও ওদের সম্মুখীন হই। কিন্তু একজন পড়াশুনা করা লোককে যদি এসব বলা হয়। সে হেসে উড়িয়ে দিবে। বলবে কিসব কথা শুনাচ্ছি। এসব বনোয়ারী হেনতেন শুনাবে। অথচ আমরা জানি এসবের সত্যতা"।

এইভাবে দুজনে আলাপ করতে করতে পাড়ি দিচ্ছে পথ। হেল্পার না থাকলেও রিয়াজ একজনকে পেলো। ড্রাইভিং অবস্থায় গল্পে মেতে থাকলে চোখের ঘুম কম ধরে। ব্যাপারটা রিয়াজের জন্য ভালোই হয়েছে। এই ড্রাইভটা লং হবে। প্রায় ১০ ঘন্টার মত লাগবে। এখন তারা ঢাকাতে। এখান থেকে আগে টাঙ্গাইলে যাওয়া লাগবে। টাঙ্গাইল থেকে বগুড়া। এরপর গৌবিন্দগঞ্জ,ফুলবাড়ি,সৈয়দপুর, নীলফামারী পার করে পঞ্চগড়। এতো লম্বা জার্নিতে পাশে একজন গল্প করার লোক প্রয়োজন বটেই। ঢাকা থেকে রিয়াজ যখন বের হয়। তখনো লোকটা তার লাইফের ঘটনাগুলা শেয়ার করতে থাকে। রিয়াজ উনার কথাগুলা শুনছে,আর এম্বুলেন্স চালিয়ে যাচ্ছে। পিছনে লাশের বাকি পরিবার শুয়ে, বসে আছে। তাদের মেয়ে মরেছে। ব্যাপারটা তাদের জন্য অবশ্যই বেদনাময়। যদিও রিয়াজের এসবে কিছু আসে-যায়না। লাশ আনা-নেওয়াই তার কাজ। কারো জন্য আপসোস হবার ফীলটা এখন আর কাজ করেনা। লাশের মামাতো ভাইয়ের নাম মো: আব্দুল্লাহ। রিয়াজের সাথে বেশ মিশে গেছে সে। রিয়াজও তার সাথে আলাপ করে ভালো সময় পার করছে। এইভাবে গল্প করতে করতে তারা চলে যায় টাঙ্গাইল। টাঙ্গাইল শহরে এম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে রিয়াজ বের হয়। আব্দুল্লাহ রিয়াজকে বলে," কি ভাই। যাচ্ছেন কোথায়"। রিয়াজ এম্বুলেন্স থেকে নেমে আগে পিছনে যায়। এরপর ঢাকনা খুলে লাশের পরিবারকে বলে," কিছু খেয়ে নিতে হবে। দুপুর হয়ে গেছে। আপনারাও খেতে চাইলে আসুন"। আব্দুল্লাহ রিয়াজের কথাটা শুনে নিজেও বের হয়। এরপর সবাই মিলে রাস্তার পাশে একটা হোটেলে বসে ভাত খেয়ে নেয়।

খাওয়া-দাওয়া শেষ করে রিয়াজ সোজা চলে আসে এম্বুলেন্সে। আব্দুল্লাহ বিল দিয়ে এসে দেখে,রিয়াজ বসে সিগারেট টানছে। লাশের বাকি পরিবার এম্বুলেন্সে উঠে ঢাকনা আটকে দেয়। আর রিয়াজকে যেতে বলে।টাঙ্গাইল থেকে বের হতে হতে বেজে যায় বিকেল ৪ টা।
এখন উদ্দেশ্য বগুড়া। বগুড়া যেতে যেতে সন্ধ্যা পার হবে। নেমে আসবে রাত। রিয়াজ সিটের পাশে হাত নিয়ে চেক দেয়,হুজুরের দেওয়া পানিগুলা আছে এখনো। যদিও সব লাশ টানায় এতো ঝামেলা হয়না। আবার আজ তেমন ভয় পাচ্ছেনা রিয়াজ। কারণ রিয়াজের বাড়িও বগুড়াতে। মনে হচ্ছে নিজের গ্রামে যাচ্ছে সে। মনে মনে চিন্তাও করে নেয়,লাশ নামিয়ে এসে ভাবির সাথে মিট করে নিবে। বহুদিন ভাই- ভাবির সাথে দেখা হয়না তার।

টাঙ্গাইল পার করে যখন এম্বুলেন্স সিরাজগঞ্জ আসে। তখনি আসে একটা বিপদের ইঙ্গিত। আচমকা একটা কাক রিয়াজের এম্বুলেন্সের সামনে এসে যায়। এম্বুলেন্স গতিতে থাকায়,সামনের গ্লাসে কাকটা আঘাত খায়। আর বাতাসের চাপে গ্লাসেই লেগে থাকে। রিয়াজ সবকিছু কন্ট্রোলে আনার আগেই হয়ে যায় এটি। সাথে সাথে ব্রেক করে রিয়াজ। আব্দুল্লাহ রিয়াজের দিকে তাকিয়ে রইলো। রিয়াজ এম্বুলেন্স থেকে নেমে দেখে,কাকটা রাস্তায় পড়ে আছে। রিয়াজ কাকের ডানা ধরে উপরে তুলে দেখে,মরে গেছে পাখিটা। রিয়াজ কিছুটা আপসোস করে পাখিটাকে রাস্তার পাশে রেখে দেয়। এরপর যখনি এম্বুলেন্সের দিকে আসবে। তখনি আরেকটা কাক নিজে থেকে উড়ে রিয়াজের পায়ের কাছে পড়ে যায়। রিয়াজ হুট করে দাঁড়িয়ে নিচে তাকায়। আব্দুল্লাহ এক দৃষ্টিতে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে থাকে। পুরো ঘটনা আব্দুল্লাহ পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছে। রিয়াজও কিছুটা আচঁ করতে পারে। কালাম ভাই একদিন বলেছিলো,মৃত কাক যদি সামনে পড়ে। তবে বিপদের আশঙ্কা থাকে।এর এরকম কিছু হলে যেনো রিয়াজ এম্বুলেন্স নিয়ে রাতে না যায়। এখন দিনের আলো। রিয়াজ কিছুক্ষণ ভেবে সিদ্ধান্ত নেয়,সন্ধার আগে বগুড়াতে যাবে। আর রাতটা নিজেদের বাড়িতে কাটাবে। লাশের পরিবারকেও সবটা খুলে বলবে। ভাবনা শেষে রিয়াজ ২য় কাকটাও রাস্তার পাশে রাখে। আর এম্বুলেন্সে চলে আসে। আব্দুল্লাহ রিয়াজের দিকে তাকিয়েই রইলো। রিয়াজ আবার নিজের মত এম্বুলেন্স স্টার্ট দেয়। আর রওনা করে। এদিকে কয়েক মিনিট যাবার পর আব্দুল্লাহ বলে,

- ড্রাইভার সাহেব। আমার মনে হয় আমাদের রাতটা কোথাও পার করা উচিৎ। লাশ নিয়ে রাতে যাওয়া যাবেনা।
- আমিও সেটি ভাবছি। ইঙ্গিতটা ভালো দেখায়নি।
- হুম আমি খেয়াল করেছি। কোনো পিচাশ হবে।
- মানে?
- জোড়া মরা কাক। তাও আপনাকে নিয়ে। বাধা দিচ্ছে না যেতে। সামনের কোনো হোটেলে রাত কাটাতে হবে।
- আমার বাসা বগুড়াতে। আমি আমাদের বাসায় থাকার জন্য ভেবেছি।
- হুম,তা করা যায়।

এইভাবে আবার কথা বলতে বলতে রিয়াজ এম্বুলেন্স এগিয়ে নিয়ে যায়। প্রায় ১ ঘন্টা পর আচমকা এম্বুলেন্স একটা ঝাকি দিয়ে উঠে। রিয়াজ "শিট "বলে এম্বুলেন্স বন্ধ করে দেয়। আর রাস্তার পাশে এম্বুলেন্স দাঁড় করায়। আব্দুল্লাহ কিছু বলার আগে রিয়াজ বলে," টায়ার লিক হয়ে গেছে। অসময়ে সবসময় বিপদই ঘটে। আমাকে হেল্প করুন,আসুন টায়ার বদলাতে হবে"। রিয়াজের কথায় আব্দুল্লাহ সায় দেয়। রিয়াজ এম্বুলেন্সের পিছনে গিয়ে ঢাকনা খোলে। আর সিটের নিচ থেকে টায়ার বের করতে যায়। কিন্তু ঘুরেফিরে কথা সেটিই। অসময়ে বিপদ ঘটে বেশি। সিটের নিচে কোনো চাকা নেই। রিয়াজ রাগে ফোন বের করে। আর কল দেয় হেল্পারকে। কিছুক্ষণ রিং হবার পর হেল্পার কল ধরে বলে,

- জ্বী রিয়াজ ভাই,বলুন।
- এক্সট্রা চাকা কোথায় গাড়িতে।
- ওহহ শিট,মনে ছিলোনা আমার। ওটা কাজ করে সিকিউরিটি রুমে রেখেছিলাম।
- এগুলাই করিও। এখন মাঝ রাস্তায় এই লাশ নিয়ে আমি কোথায় যাবো?
- সরি ভাই। আমার সত্যিই মনে ছিলো না। প্লিজ ভাই বসকে কিছু বলিয়েন না। নাহলে আমার কি পানিশমেন্ট হবে, তা তো জানেনই।
- হুম ঠিক আছে। রাখো।

কলটা কেটে দিয়ে রিয়াজ আশেপাশে তাকায়। যেখানে রিয়াজ দাড়িয়েছে। সেই রাস্তার বাম পাশে একটা খাল। আর ডান পাশে কিছু জনবহুল। একটা খেলার মাঠ আর কিছু দোকানও আছে। আচমকা এম্বুলেন্স দাড়াতে দেখে,কয়েকজন ছোট বাচ্চাও দেখতে আসে। রিয়াজ সামনে এগিয়ে একটা দোকানে যায়। আর একজন বৃদ্ধকে বলে," আশেপাশে কি চাচা কোনো গ্যারেজ আছে? চাকার লিক সারানোর জন্য"। লোকটা রিয়াজকে জানায়," না।তবে টাঙ্গাইল যেতে হবে। ওখানেই পাবে। সামনের গ্যারেজ অনেকদূর "। রিয়াজ হতাশ হয়ে আবার গাড়ির কাছে আসে। ততক্ষণে এলাকার আরো কিছু লোক এসে এম্বুলেন্সের পাশে জড়ো হয়। রিয়াজ স্থানীয় লোকদের সাহায্য নিয়ে একটা ছেলেকে রাজি করায়। তাকে টাকা দিলে,সে টাঙ্গাইল গিয়ে চাকার লিক সারিয়ে আবার আনবে। তড়িঘড়ি করে রিয়াজ তাদের সাহায্য নেয়। আর এম্বুলেন্সের টায়ার খোলে। আব্দুল্লাহ ভাই সহ লাশের পরিবার পাশেই দাঁড়িয়ে রইলো। রিয়াজ ছেলেটাকে টায়ার সারানোর টাকা,আর বখশিশ ৫০০ টাকা দিয়ে টাঙ্গাইলে পাঠায়। ততক্ষন সেখানে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো গতি নেই।

সন্ধার আগ মুহুর্ত,অর্থাৎ ৬ টার দিকে সেই ছেলেটা টায়ার নিয়ে আসে। রিয়াজ সেটিকে এম্বুলেন্সে লাগাতে লাগাতে পার হয়ে যায় সন্ধ্যা। রিয়াজদের বিপদ দেখে এলাকার লোকজন সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিলো। এদিকে আব্দুল্লাহ ভাই রিয়াজকে বলে," ভাই,অন্ধকার নেমে এসেছে। এখন লাশ নিয়ে যাওয়াটা ঠিক হবেনা। অলরেডি অনেক বাঁধা এসেছে। কিছু একটা করুন"। রিয়াজ আব্দুল্লাহ ভাইয়ের কথা শুনে চিন্তিত হয়ে যায়। ওদের কথোপকথন শুনে একজন মধ্যবয়সী লোক এসে রিয়াজকে বলে," আপনাদের দেখে মনে হচ্ছে বিপদগ্রস্ত। যেহেতু সাথে লাশ আছে। তাই এই রাতে রওনা করার দরকার নেই। এম্বুলেন্সে লাশ নেওয়ার অনেক ঘটনা জানা আছে আমার। আমার বাসায় আমার স্ত্রী এবং ৪ বছরের একটা ছেলে আছে। যদি আপনাদের আপত্তি না থাকে। তবে আমার বাসায় রাতটা কাটিয়ে দিতে পারেন"। লোকটার কথা শুনে রিয়াজ সহ সবাই বেশ খুশি হোন। যদিও লাশ নিয়ে এতোটা দেরি করা ঠিক না। কিন্তু বিপদের ইঙ্গিত পেয়েও সতর্ক না হওয়া ঠিক না। কফিনে যথেষ্ট বরফ আছে। লাশ পচন ধরবেনা। আব্দুল্লাহ ভাইও রিয়াজের উপর সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেয়। সব ভেবে রিয়াজ রাজি হয়,উনার বাসায় থাকার জন্য।

ডান পাশের একটা বাড়িতেই লোকটার ঘর। রিয়াজ উনাকে সহ নিয়ে,এম্বুলেন্স সেই বাড়িতে ঢুকিয়ে দেয়। বিশাল বাড়ি। চারপাশে অনেক ঘর,আর মাঝখানে একটা বিশাল উঠোন। উঠোনের মাঝে এম্বুলেন্স দাড় করায় রিয়াজ। সবার টিনের ঘর। তাই ঘর বেশি হওয়ায়, ভয়ের মাত্রা কিছুটা কম লাগছে। বাড়িতে এম্বুলেন্স এসেছে দেখে,বাড়ির লোকজনও জড়ো হয়ে যায়। রিয়াজ কোনোভাবে এম্বুলেন্স সাইড করে,বের হয়।

এ অব্দি সবি ঠিক ছিলো। রিয়াজ সহ লাশের পরিবার ঐ লোকটার বাসায় যায়। অতিথির মত আপ্পায়ন করে লোকটা। খাবার দিয়ে কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে শোয়ার রুম দেখিয়ে দেয়। রিয়াজ, লাশের কাজিন আর আব্দুল্লাহ এক রুমে যায়। অন্য রুমে লাশের মা-বাবা যায়। কোনোভাবে শুধু ভোরের অপেক্ষা। এরপরেই রওনা দিবে সবাই।

রাত ০১:১৭ মিনিট।
আচমকা খাট নাড়াচাড়া করতে দেখে রিয়াজ লাফ মেরে উঠে। আব্দুল্লাহ ভাই আর লাশের কাজিন গভীর ঘুমে ঢুবে আছে। প্রথমে ভূমিকম্প হচ্ছে ভাবলেও,রিয়াজ দেখে শুধু খাটটাই কাঁপছে। আর বাকি সব ঠিক আছে। ঘরের টিন বা ঘরের আলমারি। ওসব ঠিকঠাক। রিয়াজ আব্দুল্লাহ ভাইকে ডাকতে যাবে,সেই মুহুর্তে উঠোন থেকে কিছু একটার শব্দ শুনা যায়। যেনো কেও এম্বুলেন্স খোলার চেষ্টা করছে। রিয়াজ হুট করে জানালা খুলে উঠোনে তাকাতে যায়। কিন্তু তখন যা ঘটে।।তা লোমহর্ষক ছিলো। রিয়াজ জানালা খুলেছে এম্বুলেন্স দেখার জন্য। তবে তার আগে জানালা খুলতেই,জানালার বাহিরে একটা পিচাশকে রিয়াজ দেখতে পায়। যার চুলগুলা অনেক বড় বড়।বাতাসে উড়ছে সব চুল। মুখ ভয়ানক কালো। রিয়াজ জানালা খুলতেই রিয়াজের চোখ সেই পিচাশের চোখ বরাবর পড়ে। যেনো পিচাশটা অপেক্ষা করছিলো জানালা খোলার। রিয়াজ চিৎকার দেওয়ার চেষ্টা করলেও,গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হচ্ছিলোনা। পুরো শরীর রিয়াজের অবশ হয়ে যায়। এদিকে পিচাশটি রিয়াজের দিকে তাকিয়ে,একটা পৈচাশিক হাসি দেয়।




চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-১৪ )
লেখক- #রিয়াজ_রাজ



[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।