এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৩ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৩ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১৩ )


গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-১৩
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প



--------------------------------------
এই ভাষা আগে কখনো কোথাও শুনেওনি। কেমন যেনো একটা অদ্ভুত ভাষা। হুজুররা আবার কথার ছলে হাসাহাসিও করছে। রিয়াজের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। সাথে হেল্পারও বুঝে যায় সব। রিয়াজ তাকায় হেল্পারের দিকে,আর হেল্পার তাকায় রিয়াজের দিকে। দুজনের চোখেই প্রচন্ড ভয়ের চাপ।

বলা হয় যেখানে বাঘের ভয়,সেখানেই রাত হয়। ব্যাপারটা সেই রুপ নিতে দেরি করেনি। রিয়াজ যখন হেল্পারের দিকে চোখাচোখি করেছে। সেই কয়েক মুহুর্ত রাস্তা থেকে রিয়াজের নজর সরে যায়। তৎক্ষণাৎ হেল্পার চিৎকার দিয়ে বলে," ভাই সামনে দেখেন"। রিয়াজ হুট করে সামনে তাকাতে তাকাতে, একটা খালের মধ্যে এম্বুলেন্স পড়ে যায়।

চারপাশে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। স্পষ্ট রিয়াজ আবারো সেই ভাষা শুনতে পাচ্ছে। ভাষার শব্দ স্পষ্ট হলেও,অর্থ অস্পষ্ট। রিয়াজ মাথায় হয়তো কিছুটা আঘাত পেয়েছে। মাথার ডান পাশটা কিছুটা ব্যাথা। মাথায় হাত দিয়ে রিয়াজ ধীরে ধীরে চোখ খোলে। আর দেখতে পায়,এম্বুলেন্স রাস্তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে। আর সেই হুজুরদের কথোপকথনের শব্দ পিছন থেকে আসছে। রিয়াজ হুট করে পিছনে তাকায়,দেখে হুজুররা এখনো আড্ডায় মেতে রয়েছে। রিয়াজের মাথায় কিছুই ঢুকেনা। মাত্রই তো এম্বুলেন্স খালে পড়ে গেছে। তাহলে এটি কিভাবে সম্ভব। ভাবনার মাঝে আচমকা হুজুর রিয়াজকে বলে," কি ব্যাপার বাবা। আচমকা এম্বুলেন্স থামিয়ে ঘুমাচ্ছো কেনো। দেখো পুরো ২ ঘন্টা ঘুমিয়েছো। যাবেনা নাকি?"। রিয়াজ হুজুরের কথা শুনে যেনো আকাশ থেকে পড়ে। তড়িঘড়ি করে মোবাইল ফোনে সময় দেখে,রাত ১২:৫১ মিনিট। অর্থাৎ ০১:০০ টার কাছাকাছি। এখনো ভালুকা রোডে গাড়ি প্রবেশও করেনি। রিয়াজ বুঝতে পারেনা করবে কি। পিছনের হুজুররা কি রিয়াজকে সাহায্য করছে? নাকি ক্ষতি চায়। অংক মিলাতে থাকে রিয়াজ।ভাবতে থাকে শুরু থেকে। এই হুজুর গতকাল রাতেও রিয়াজের সাহায্য করেছে। এখানে ঘাবলা তো আছেই।হুজুরের দেওয়া পানি এতো সু-ঘ্রাণ ছড়িয়েছে কেনো। এর আগে তো এমন কোনো ঘ্রাণ রিয়াজ পায়নি। ভাবতে ভাবতে অংকটা রিয়াজের মাথায় ঢুকে যায়। অর্থাৎ রিয়াজ বুঝে যায়,এরা জ্বীন। গতকালকেও এই জ্বীন এসে রিয়াজকে সাহায্য করেছে।যাওয়ার সময় রিয়াজকে আবার দেখা হবার ইঙ্গিতও দিয়েছে। কিছুক্ষণ আগে পড়া খাল থেকে এম্বুলেন্স এরাই তুলেছে। অর্থাৎ রিয়াজকে তারা সাহায্য করছে। তাহলে কেন রিয়াজ তাদের ভয় পাচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়েই যায়। এরা কেনো রিয়াজকে সাহায্য করছে। উদ্দেশ্য কি? রিয়াজকে এমন হতাশ দেখে পিছনের হুজুর আবার বলে," ভেবে লাভ নেই বাবা। যারা রাস্তায় তোমার ক্ষতি করতে চায়। তুমি তো তাদেরও কোনো ক্ষতি করোনি। তাহলে তারা কেনো ক্ষতি করে? সব কিছুতে উদ্দেশ্য খুঁজতে নেই"। হুজুরের কথা শুনে রিয়াজ আয়নার দিকেও তাকায় নি। হেল্পার এখনো অজ্ঞান। রিয়াজ আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে এম্বুলেন্স আবার চালু দেয়।

কিছুক্ষণ চালানোর পর ভালুকা রোডে এম্বুলেন্স প্রবেশ করে। রিয়াজ রাস্তার উপরে নজর রেখে এম্বুলেন্স চালাচ্ছে। যখন সেই বিশাল গাছের রোডে প্রবেশ করলো। তখনি রিয়াজ দেখতে পায় সেই চোখগুলা। রিয়াজ এইবার আর ভয় পাচ্ছেনা।পিছনে কে আছে,তা রিয়াজ ভালোই জানে। মনে জোর খাটিয়ে রিয়াজ এম্বুলেন্স তার গতিতেই চালাচ্ছে। কিন্তু একটা ব্যাপার রিয়াজ খেয়াল করে,সেই চোখগুলা এইবার আর সামনে আগায় না। এম্বুলেন্স যত সামনে আসে,চোখগুলা জঙ্গলের দিকে তত চলে যায়। তারা যেনো এম্বুলেন্স দেখে ভয় পাচ্ছে। রিয়াজ অনুমান করে নেয়,এরা এম্বুলেন্স দেখে নয়। জ্বীনদের উপস্থিতি দেখে ভয় পাচ্ছে। যদিও জ্বীনদের সাহায্য পেয়ে রিয়াজের মনোবল বেড়েছে।তবুও ভিতরে একটি ক্ষুদ রয়েই যায়। আপনি ভাবুন,আপনার পিছনের সিটে কয়েকটা জ্বীন বসে আছে। হোক সে ভালো। কিন্তু সে জ্বীন।কিছুটা ভয় তো হবেই।

অবশেষে ভালুকা রোড পার করে রিয়াজ গাজীপুর প্রবেশ করলো। গাজীপুর মেইন টাউনে ঢুকার আগে একটা বটতলা পড়ে। সেই বটতলার নিচে আসতেই,রিয়াজের এম্বুলেন্স অটোমেটিক বন্ধ হয়ে গেলো। রিয়াজ আবার এম্বুলেন্স স্টার্ট করতেই যাবে,তখনি পিছন থেকে হুজুর বলে উঠে," আমাদের স্থান এসে গেছে। এগিয়ে দেওয়ার জন্য শুকরিয়া"। কথাটা শেষ হতে না হতে রিয়াজের জানালার পাশ থেকে একটা শব্দ আসে," শুনো"। রিয়াজ হুট করে জানালার দিকে তাকায়। গ্লাস আটকানো,তবুও শব্দটা ক্লিয়ার রিয়াজের কানে এসেছে। তাছাড়া মাত্র সবাই পিছনে ছিলো,হুট করে জানালার পাশে চলে আসায় রিয়াজ ভয় পায়। যেহেতু তারা রিয়াজের ভালো চায়,তাই রিয়াজ স্বচ্ছন্দ মনে জানালা খোলে। বাহির থেকে হুজুর বলে," সাবধানে যেও"। রিয়াজ হুজুরের কথায় পাল্টা প্রশ্ন করে বসে," হুজুর,আমি যাদের ক্ষতি করিনি। তারা রাস্তায় আমার ক্ষতি করতে আসেনা শুধু। তারা লাশ নিতে আসে। কিন্তু আপনাদেরও আমি কোনো উপকার করিনি। আপনারা আমার থেকে কি নিতে এসেছেন?"। রিয়াজের প্রশ্নে হুজুরদের চোখগুলা কেমন যেনো জ্বলজ্বল করে উঠে। হালকা লাল হয়ে যায় চোখ । হয়তো তারা কিছুটা বিরক্ত হলেন রিয়াজের প্রশ্নে। তবুও সেই হুজুর শান্ত হয়ে বললেন," সময় তোমাকে সব বলে দিবে"। রিয়াজ হুজুরের কথায় আবার কিছু বলতে যাবে,তার আগে একটা ট্রাকের হরণ বেজে উঠলো। হরণের শব্দে রিয়াজ সামনে তাকায়,কিন্তু কোনো ট্রাক দেখতে পায়নি। আবার যখন জানালায় তাকায়,দেখে কেও নেই।

রিয়াজ চটাস করে দরজা খুলে বের হয়।পুরো রাস্তা ফাঁকা। নেই কোনো হুজুর,আর নেই কোনো ট্রাক। চারপাশে ভালোভাবে দেখে,কোনো সাড়াশব্দও নেই। ধ্যাত বলে রিয়াজ পকেট থেকে একটা সিগারেট বের করে। আর সেখানেই ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে সিগারেট টানে। কিন্তু কোনো কিছুর হুদিশ মিলেনি।রিয়াজের মাথায় ঢুকে যায় হুজুরের শেষ কথাটা। সময় কি বলে দিবে রিয়াজকে। কোথাও সে ফেঁসে যায়নি তো? হুজুরদের কোনো না কোনো উদ্দেশ্য তো রয়েছে। কি সেই উদ্দেশ্য। এসব ভাবনার মাঝে সিগারেট শেষ হয়। রিয়াজ হতাশ হয়ে আবার এম্বুলেন্স এ উঠে বসে। এরপর আরেকটা সিগারেট ধরিয়ে,রওনা করে ঢাকার দিকে।

প্রায় ৩ ঘন্টা পর রিয়াজ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। হসপিটালের সামনে এম্বুলেন্স দাঁড় করিয়ে হেল্পারকে ডাকতে থাকে। হেল্পার ঘুম থেকে উঠেই চিল্লাচিল্লি শুরু করে দেয়। রিয়াজ হেল্পারকে থামিয়ে বলে, " কিরে,চেঁচাচ্ছিস কেন। হসপিটালে এসেছি,নরকে না"। হেল্পার নিজেই কনফিউজড। হুট করে পিছনে তাকিয়ে আবার রিয়াজকে বলে," জ্বীনগুলা কই"। রিয়াজ হেল্পারকে বলে," জানামতে তো কোনো নেশা করিস নি। জ্বীন পেয়েছিস কোথায়। কোনো স্বপ্ন দেখেছিস হয়তো"। রিয়াজের কথা শুনে এইবার হেল্পার আরো কনফিউজড হয়। কি যেনো ভেবে হেল্পার রিয়াজকে আবার বলে," হ্যাঁ,স্বপ্নই হবে। নইলে খালে এম্বুলেন্স পড়ার পর কিভাবে এখানে আসবো। জানেন রিয়াজ ভাই! আমি স্বপ্ন দেখেছি কয়েকজন হুজুর...."। কথাটা শেষ হবার আগে রিয়াজ হেল্পারকে বলে," পরে বলিস। আমার ঘুম পাচ্ছে। ঘুমাবো। আর শুন,এম্বুলেন্স ভালোভাবে ধুয়ে নিস। বাসায় যাচ্ছি আমি। কালাম ভাইকে এমপির ছেলেগুলার ব্যাপারে কিছু বলিস না"। রিয়াজের এই কথা শুনে হেল্পার আবার বলে," হ্যাঁ, ময়মনসিংহে যখন আপনি কালাম ভাইয়ের সাথে এসব বলছিলেন। ঠিক তখনি আমি স্বপ্নটা দেখেছি। কয়েকজন হুজুর..."। আবার রিয়াজ হেল্পারকে থামিয়ে বলে," মসজিদে গিয়ে হুজুরকে একটা সালাম দিয়ে আয়। কাজে দিবে। ভোর হয়ে গেছে। আমি ঘুমাচ্ছি গিয়ে। দেখি কোনো হুজুর স্বপ্নে আসে কিনা"। কথাটা বলে রিয়াজ এম্বুলেন্স থেকে নেমে যায়। হেল্পার চিন্তায় পড়ে যায়। এতো বাস্তবিক স্বপ্ন সে কিভাবে দেখলো।সবটা রিয়েল মনে হচ্ছে তার। কিন্তু হেল্পার তো জানেনা,আসলেই সবটা বাস্তবিক।

এম্বুলেন্স থেকে নেমে রিয়াজ চায়ের দোকানটায় যায়। একটা চা আর সিগারেট খেয়ে রওনা দেয় বাসার দিকে। বাসা বেশি দূরে না। হসপিটাল থেকে হেটে গেলে মাত্র ৭ মিনিটের পথ। বাসায় ঢুকে দেখে,কালাম ভাই ফজরের নামাজ আদায় করছে। রিয়াজ বাসায় ঢুকে আগে গোসল করে নেয়।কালাম ভাই নামাজ শেষ করেই চলে যায় ডিউটিতে।সুযোগ পেয়ে রিয়াজ ফাইলগুলাকে ( এমপির ছেলেদের ছবি) বারান্দায় নিয়ে পুড়ে ফেলে। আর বিছানায় এসে লম্বা হয়ে শুয়ে যায়।

চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। রিয়াজ হাতে একটা ছুরি আর মাস্ক মুখে নিয়ে গোডাউনে ঢুকে। ভিতরে ৫ জন ছেলে বসে মদ খাচ্ছে। গোডাউনে সিকিউরিটি গার্ড নেই। গার্ড হিসেবে এমপির ছেলেগুলাই থাকে। রিয়াজকে দেখে ছেলেগুলা বলে উঠে," এই পোলা,কেরে তুই? গোডাউনে কি করতে এসেছিস"। ওদের কথার জবাব রিয়াজকে দিতে হয়নি। আচমকা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলায় আগুন ধরে যায়। এমপির ছেলেগুলা সেদিকে তাকাতেই,রিয়াজ এক দৌড়ে এসে একজনের গলায় ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। বাকি ৪ জন এই দৃশ্য দেখে ভয়ে দৌড় লাগায়। রিয়াজ দৌড়ে দৌড়ে সবগুলাকে ধরে। এবং প্রত্যেকের গলার ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। একজন একজন ৫ জনকে হত্যা করার পর,আচমকা রিয়াজের সামনে একটা আলো সৃষ্টি হয়ে গেছে। রিয়াজ সেই আলোর দিকে তাকিয়ে দেখে,খুন হওয়া মেয়েটি রিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলে," আজ আমার প্রতিশোধ পূরণ হয়েছে"। এরপরেই আলোটা গায়েব।

লাফ মেরে রিয়াজ ঘুম থেকে উঠে বসে ।

এতক্ষণ স্বপ্ন দেখছিলো সে। নেত্রকোনা লাশ নেওয়ার আগেরদিন রাতে ঠিক এইভাবে রিয়াজ ওদের খুন করেছিলো। মেয়েটির আত্মাকে মুক্তি দিয়েছে। কিন্তু আবার সেই স্বপ্ন কেন দেখলো রিয়াজ। জানালার দিকে তাকিয়ে দেখে,সূর্যের লাল আলো রুমে প্রবেশ করছে। রিয়াজ মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে দেখে,সন্ধ্যা হয়ে গেছে অলরেডি। অর্থাৎ সকালে এসে ঘুমানোর পর রিয়াজ আর উঠেনি।একেবারে এই স্বপ্ন দেখে উঠেছে। বিছানা ছেড়ে রিয়াজ ফ্রেশ হতে যায়। ততক্ষণে কালাম ভাই চলে আসে রুমে। উনি এসে রান্নাবান্না করার পর,রিয়াজ সহ বসে খাওয়া-দাওয়া করে নেয়। এরপর আবার রিয়াজ চলে যায় ডিউটিতে।

২ মাস পর....
গত ২ মাস রিয়াজের সাথে অস্বাভাবিক কিছুই ঘটেনি। এই দুই মাস না দেখেছে ঐ স্বপ্ন। আর না দেখেছে কোনো হুজুর। কিন্তু ২ মাস পর রিয়াজের একটা ভাড়া আসে। ভাড়াটা নিতে হবে পঞ্চগড় এলাকায়। অর্থাৎ যে এলাকায় রিয়াজের ভাই পঙ্গু হয়েছে। সেই এলাকাতে রিয়াজ লাশ নিয়ে যাবে।

এদিকে পঞ্চগড় এলাকায় ইন্সপেক্টর জয়নাল সাহেব বসে বসে চা খাচ্ছে। জয়নাল সাহেবের সহকর্মী করিম সাহেব এসে বলে," স্যার, আমাদের পাশের এলাকার একটা মাইয়া মারা গেছে ঢাকায়। আজ ঐ মেয়ের লাশ আনা হইবো"। করিম সাহেবের কথা শুনে জয়নাল সাহেবের মুখ থেকে চা বেরিয়ে যায়। উনার চোখে ভয়ের চাপ। করিম সাহেব আবার বলে," স্যার, এতো মাস পর কি আবার কিছু হইবো?"। জয়নাল সাহেব কিছুটা শান্ত হয়ে বলে," কোন এম্বুলেন্সে করে লাশ আনা হবে। তাড়াতাড়ি সেই ড্রাইভারের নাম্বার যোগাড় করো। তাকে কোনোভাবেই ঐ বিলের রাস্তা দিয়ে আসতে দেওয়া যাবেনা। আমি পারবো না ওসব ভূত/জ্বীনের কেস হাতে নিতে"।



চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-১৩ )
লেখক- #রিয়াজ_রাজ



[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।