এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১২ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১২ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১২ )



গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-১২
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প




-----------------------------------
রিয়াজ ভালোভাবে খেয়াল করে দেখে,প্রথমে ৪ জোড়া চোখ জ্বলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২ জোড়া চোখ জ্বলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ১০ জোড়া চোখ জ্বলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। রিয়াজের এইবার শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের শীতলতা বয়ে যেতে লাগলো।ওরা এখানেও চলে এসেছে।

ভয়ে রিয়াজ দ্রুত এম্বুলেন্স থেকে বেরিয়ে লাশের পরিবারকে ভিতরে যেতে বলে। আচমকা চেঁচামিচি হওয়ায়,সেই চোখ জ্বলা অবয়বগুলা তেড়ে আসতে লাগলো। রিয়াজ লাশের পরিবারকে এম্বুলেন্স এ ঢুকিয়ে পিছনের ঢাকনা আটকে দেয়। এরপর গলা থেকে সেই রক্ষাকবজ খুলে অবয়বদের সম্মুখে তুলে ধরে।কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছেনা। রিয়াজ চোখ বন্ধ করে এইবার চিৎকার দিয়ে বলে," কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ"। এইভাবে বার বার রিয়াজ সূরা ইখলাস পাঠ শুরু করে। এদিকে চোখ জ্বলা অবয়বগুলার চিৎকার ভেসে আসে রিয়াজের কানে। রিয়াজ যতটুকু বুঝতে পারে,ওদের চিৎকার চিকন স্বরের। কিচিমিচি করে তাদের চিৎকার যেনো সুইয়ের মত কানে ঢুকে যাচ্ছে। রিয়াজ তবুও মনোবল প্রগাঢ় রেখে বলে যাচ্ছে," কুল হুয়াল্লাহু আহাদ। আল্লাহুচ্চামাদ...."। এইভাবে বার বার সূরা ইখলাস পাঠ শুরু করে। এবং আচমকা রিয়াজ ওদের চিৎকার আর শুনতে পায় না।

চারপাশে শুনশান উপলব্ধি করতে পারলেও,রিয়াজ চোখ বন্ধ করে সূরা পড়েই যাচ্ছে। তবে এইবার ধীরে ধীরে। কিছুক্ষণ পর রিয়াজ চোখ খোলে। আর দেখে,ওর সামনে একজন বৃদ্ধ লোক দাঁড়িয়ে আছে। রিয়াজ উনার চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখে,কোনো হুজুর হবে। সাদা বড় দাড়ি আর সাদা পাঞ্জাবী। লোকটা রিয়াজের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল," ভয় নেই বাছা। ওরা চলে গেছে"। রিয়াজ এখনো সেই রক্ষাকবজ হাতে রেখে,হাত লম্বা করে আছে। বিব্রত হয়ে রিয়াজ হাতটা নামিয়ে সেই বৃদ্ধকে বলে," আপনি কে? আর ওরা কোথায় গেছে? আপনি তাড়িয়েছেন?"। রিয়াজের কথা শুনে বৃদ্ধ লোকটা আবার হেসে বলে," আমি পাশের মসজিদের ইমাম। দোকানটার পিছনেই আমার বাসা। তোমার চিৎকার শুনে বেরিয়ে এলাম। আর এসে দেখি এই অবস্থা। তাই আমিও কিছু সূরা পাঠ করে ওদের তাড়ালাম। তুমিও আল্লাহ্‌র বাণী সহীহ শব্দে উচ্চারণ করেছো। হয়তো রব তোমার দোয়া কবুল করে ওদের আটকে দিয়েছে"। লোকটার কথাগুলা রিয়াজের মন ছুঁয়ে যাচ্ছিলো। অনেক মিষ্টি কন্ঠ উনার। কথাগুলা একদম শান্ত। রিয়াজ উনাকে দেখে এইবার সাহস পায় কিছুটা। তাই উনাকে সবটা বলে। বৃদ্ধ রিয়াজের কথা শুনে বলে," এ নাও, পানির বোতলটা"। কথাটা বলে তিনি রিয়াজের দিকে একটা পানির বোতল এগিয়ে দেয়। রিয়াজ বোতলটা হাতে নিয়ে বলে," কি এইটা?"। বৃদ্ধ আবারো মুচকি হেসে বলতে লাগলো," এই বোতলের পানি পবিত্র। তুমি এম্বুলেন্স নিয়ে সামনে যত এগিয়ে যাবে,তত বিপদ আসতে পারে । তাই এই বোতল থেকে কিছু পানি এম্বুলেন্সে ছিটিয়ে দাও। বাকি পানি তোমার কাছে রেখে দাও। কাজে দিবে তোমার"। রিয়াজ উনার কথা শুনে খুশি হয় বেশ।বৃদ্ধ আবার রিয়াজের উদ্দেশ্যে বলে," আমার তাহাজ্জুদ এর সময় হয়ে গেছে। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে যাও তুমি। ইনশাআল্লাহ, রব চাইলে আবার দেখা হবে"। রিয়াজ উনাকে এইবার একটা সালাম দেয়। হুজুর সালামের উত্তর দিয়ে চলে যায় দোকানের পিছনে। অর্থাৎ উনার বাড়িতে। এরপর আর দেরি না করে,রিয়াজ এম্বুলেন্স এর চারপাশে সেই পানি ছিটিয়ে দেয়। পানি বেশি খরচ না হলেও,রিয়াজ যখন পানি ছেটাচ্ছিলো। তখন একটা মিষ্টি ঘ্রাণ সেই পানি থেকে আসছিলো। সু-ঘ্রাণটা এতোটা মিষ্টি ছিলো যে,যা যে কারো মন ছুঁয়ে দিবে। যেনো কোনো দামী একটা পারফিউম।

রিয়াজ হাসিখুশি এইবার এম্বুলেন্স এ যায়। এরপর বোতলটা সিটের পাশে রেখে রওনা করে ময়মনসিংহ, এরপর নেত্রকোনা তেরি বাজার।

চারপাশ শান্তশিষ্ট। শীতল বাতাসের মাঝে রিয়াজ তার এম্বুলেন্স এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। গাড়ির বাহিরে যে পানি ছিটিয়েছিলো। সেটির ঘ্রাণ যেনো পুরো এম্বুলেন্স এ ভরে যায়। রিয়াজ সেই সুগন্ধ উপভোগ করতে করতে পৌঁছে যায় ময়মনসিংহ।

এরপর ডান পাশের মোড় ঘুরে রওনা করে নেত্রকোনা।নেত্রকোনার রোডে প্রবেশ করতেই হয়ে যায় ফজরের আযান। রিয়াজ আরেকটি সিগারেট ধরিয়ে তার রাস্তা শেষ করায় ব্যস্ত।

সকাল ৯ টা।
রিয়াজ তেরি বাজার এসে নবীন বাড়িতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ যে লাশ নিয়ে রিয়াজ এসেছে,সেটি নবীন বাড়ির একটা ছেলের। গাড়ি থেকে নেমে রিয়াজ পিছনের ঢাকনা খোলে। লাশের পরিবার সবাই বের হয় এম্বুলেন্স থেকে। এদিকে বাড়ির মানুষজন এসেও হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলো। রিয়াজ সামনে গিয়ে হেল্পারকে কয়েকটা ডাক দিতে থাকে," এই শাহরুখ, উঠ। চলে আসছি"। রিয়াজের ডাকাডাকিতে হেল্পার ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠে। চারপাশে তাকিয়ে দেখে একটা বাড়িতে তাদের এম্বুলেন্স। অর্থাৎ কখন এলো আর কখন সকাল হলো কিছুই জানেনা সে। ঘুম থেকে উঠে আলাভোলা হয়ে শাহরুখ বলে," রাতে ওসব কি ছিলো ভাই?"। রিয়াজ শাহরুখকে চুপ করতে বলে গাড়ি থেকে নামায়। এরপর হেল্পার সহ লাশের বক্স বের করে উঠানে রাখে। যদিও লাশের পরিবার ভালোভাবেই জানে যে লাশের মাথা নেই। তাই উনারা বক্স খুলতে না দিয়ে আত্মীয়দের সাইডে ডাকে। এবং সবটা জানায়। রিয়াজ এম্বুলেন্স এর দরজা বন্ধ করে বের হতেই যাবে,তখনি লাশের মামা রিয়াজকে ডাক দেয়। রিয়াজ উনার ডাক শুনে এগিয়ে গেলে উনি বলে," আমার বোন আপনার ব্যাপারে সব বলেছে আমাদের। আপনার সাহসিকতা আর প্রচেষ্টার জন্য হয়তো একটা লাশ বাড়িতে এসেছে। নয়তো আমার বোনদেরও কোনো ক্ষতি হতে পারতো। আল্লাহ্‌ আপনাকে উছিলা হিসেবে পাঠিয়েছিলেন হয়তো। মরা বাড়ি,কি আর আপ্পায়ন করবো। তবুও আমি অনুরোধ করবো আপনারা কিছু খেয়ে যান। সারা রাতই তো উপাস ছিলেন"। উনার কথা শুনে রিয়াজ মুচকি হেসে বলে," না না ভাই। আমার সময় নেই। ঢাকায় ফিরতে হবে। অন্য কোনোদিন যদি নেত্রকোনা আসি। নিশ্চয়ই আপনাদের বাসায় বেড়িয়ে যাবো"। রিয়াজের কথা কোনোভাবেই উনারা মানতে নারাজ। অনেক জোরজবরদস্তি করার পর রিয়াজ অবশেষে রাজি হয়। এতো বড় উপকার করলেন,তাই একটু সহানুভূতি দেখানো। রিয়াজ আর হেল্পার নাস্তা পানি খেয়ে স্থীর হয়। এরপর লাশের জানাজা শেষ করে দাফনও করে। এইসবে হয়ে যায় প্রায় বিকেল। লাশের অনেক আত্মীয় আসা বাকি ছিলো। তাই দেরিতে দাফন করা হয়েছে। রিয়াজ বিকেলে সবাইকে বিদায় দিয়ে হেল্পারকে নিয়ে রওনা করে দেয়।

নবীন বাড়ি থেকে বেরিয়ে রিয়াজ তেরি বাজার আসে। এরপর রওনা করে ময়মনসিংহ। রিয়াজের চোখে কিছুটা ঘুম। তাই ধীরে ধীরে গাড়ি চালাচ্ছিলো। যেহেতু সারারাত ঘুমায়নি। তাই এক্সিডেন্ট এর ভয়ে এম্বুলেন্স ধীর গতিতে নিয়ে আসছে। ময়মনসিংহ পার করতেই রিয়াজের নাম্বারে কল আসে একটা। রিয়াজ ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে কালাম ভাই বলে,"

- কোথায় তুমি?
- ময়মনসিংহ। ভালুকা রোডের দিকে যাচ্ছি।
- কাজটা তুমি করেছো তাইনা?
- কিসের কাজ কালাম ভাই?
- এমপির ছেলেগুলাকে কেও হত্যা করেছে।
- তো আমাকে কেন বলছেন?
- রিয়াজ, আমি জানি ওদের উপর তোমার রাগ ছিলো। ফেনীতে যে মেয়ের লাশ নিয়েছো। সে মেয়ের খুনিদের তথ্য তুমি পাবার সাথে সাথে রেগে ছিলে। আমি তোমার চোখে রাগ দেখেছি। কেন করলে?
- কালাম ভাই,আমি কেনো খুন করতে যাবো বলেন? ওদের মেরে আমার কি লাভ।তাছাড়া খুন ব্যাপারটা আমার মাঝে আসবে,আপনি ভাবলেন কিভাবে।
- তোমার বিছানার নিচে আমি ওদের ৫ জনের ছবি পেয়েছি।
- ওটা তো আপনিই রেখেছিলেন। আমাকে দিয়ে বললেন ফাইলটা রাখতে। এটি মেয়ের খুনিদের দোষারোপ কারীর ছবি। তাই আমি যত্নে রেখেছি।
- আমি দিছিলাম? কবে?
- এইজে? ৩ মাস আগে।
- ওহ,মনে নেই হয়তো। বস নিশ্চয়ই দিয়েছিলো আমাকে। যাইহোক, ওগুলা সরাতে হবে। নইলে পুলিশ শুধু শুধু আমাদের ধরবে।
- সেটাই।আমি বাসায় এসে সরাচ্ছি। আপনি ডিউটি করুন।

কলটা কেটে রিয়াজ আবার এম্বুলেন্স চালানোতে মন দেয়। হেল্পার রিয়াজের দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে," ভাই? কালাম ভাই কখন দিলো ফাইলগুলা। ওগুলা তো আপনি আমাকে দিয়ে যোগাড় করেছিলেন"। রিয়াজ হেল্পারের কথা শুনে বলে," কালাম ভাই পুরাতন কিছু কথা মনে করতে পারেনা। মাঝে মাঝে এই সমস্যা হয় উনার। তাই মিথ্যে বলেছি। যাতে উনি নিজের ভুল ভেবে শান্ত হয়ে যায়"। হেল্পার এইবার আরো অবাক হয়ে বলে," তারমানে খুন আপনিই করেছেন?"। হেল্পারের কথা শুনে রিয়াজ একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে," কাওকে বলিও না"। হেল্পার এইবার উত্তেজিত হয়ে বলে," কিন্তু কেন ভাই? আপনি কেনো এই কাজ করলেন? আর কিভাবে সম্ভব হলো?"। রিয়াজ হেল্পারের কথা শুনে বলে," রোজ স্বপ্ন দেখতাম আমি। ঐ মেয়েটাকে ওরা কিভাবে ধর্ষণ করতো,কিভাবে খুন করেছে। সব দেখতাম। প্রতিদিন দেখতাম। হয়তো মেয়েটা তার প্রতিশোধ নিতে না পারায় আমাকে স্বপ্ন দেখাতো। তাছাড়া ওর লাশ যেদিন ফেনীতে নিচ্ছিলাম। সেদিন সে চিৎকার দিচ্ছিলো। হয়তো আমার কাছে সাহায্য চেয়েছে,কিন্তু আমি বুঝিনি। এরপর থেকে রেগুলার ঐ স্বপ্ন দেখে আমার রাগ দ্বিগুণ বাড়ে। যেনো ঐ মেয়েকে না,আঘাতগুলা আমাকে করেছে। এইজন্য মেরে দিছি। ওদের গোডাউনে ঢুকে ওদের মেরেছি"। রিয়াজের কথা শুনে হেল্পার চোখ বড় করে বলে," ভাই,গোডাউনে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে ওদের"। রিয়াজ একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে," সেই ব্যবস্তা মেয়েটি করেছে। শুন তাহলে,আমি.... "। কথাটা শেষ না করতেই রিয়াজের চোখ যায় রাস্তায়। সেই বৃদ্ধলোক রাস্তার পাশে দাডিয়ে আছেন,যিনি রাতে রিয়াজকে সাহায্য করেছে। উনাকে দেখে বুঝা যাচ্ছে উনি যাবেন কোথাও। বার বার হাতের ইশারায় তিনি গাড়ি সিগন্যাল দিচ্ছে। যদিও এম্বুলেন্স এ কাওকে নেওয়ার নিয়ম নেই। তার উপর এখন সন্ধ্যা টাইম।তবুও বৃদ্ধের প্রতি রিয়াজের কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছে হয়। প্রথম নজরে রিয়াজ বৃদ্ধকে রেখে সামনে চলে গেলেও,আবার এম্বুলেন্স ব্যাক দিয়ে সেই বৃদ্ধ ব্যাক্তির কাছে আসে। হুজুর রিয়াজকে দেখে বলে,

- আরে বাবা,তুমি? এখন ফিরেছো?
- হ্যাঁ হুজুর। লেট হয়ে গেছে একটু।
- আহারে,আমারও বাসের দেরি হয়ে গেছে। এখান থেকে তো রাতে বাস যায়না জানোই। আমার একটু গাজীপুর যেতে হতো।
- তো ভাবছেন কেন। আমার গাড়িতে উঠুন? আমি নামিয়ে দিবো।
- না না বাবা,তুমি যাও। তোমাকে বিরক্ত করে লাভ আছে বলো? আমার সাথে আরো ৪ জন আছে। আমরা কিছু একটা নিয়ে চলে যাবো।
- হুজুর,আমি কেন বিরক্ত হবো বলেন? আপনি আমার উপকার করেছেন। বিনিময়ে আল্লাহ্‌ আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছে। চলুন,নামিয়ে দিই। আমাকে নিষেধ করে লজ্জা দিবেন না।


হুজুর রিয়াজের কথা শুনে রাজি হয়। পিছন ঘুরে ডাক দিতেই,সেই হুজুরের চারজন লোক আসে। রিয়াজ আর হেল্পার দেখে,ওদের সবার গায়ে সাদা পাঞ্জাবী। চেহারা অনেক মায়াবী,আবার দাড়িগুলাও সাদা লম্বা। তাদের চেহারা দেখলেই যেনো মন শান্তি। হেল্পার গাড়ি থেকে নেমে এম্বুলেন্স এর ঢাকনা খুলে দেয়। এদিকে একে একে সব হুজুর গাড়িতে উঠে। এরপর হেল্পারকে নিয়ে রিয়াজ রওনা করে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে।

কিছুদূর আসার পর রিয়াজ একটা সিগারেট ধরায়। তখনি পিছন থেকে একজন মুরুব্বী বলে," এসব কেনো খাও ছাইঁপাস। ফেলে দাও। উল্টো নিজের শরীরের ক্ষতি"। মুরুব্বীর কথা ফেলে না দিয়ে রিয়াজ সিগারেট পুরোটা বাহিরে ফেলে দেয়। এরপর লুকিং গ্লাসে তাকিয়ে দেখে,বৃদ্ধরা রিয়াজের দিকেই তাকিয়ে। আয়নায় রিয়াজের চোখে চোখ পড়তেই রিয়াজ একটা মুচকি হাসি দেয়। যদিও জোর করে হেসেছে। এরপর আয়না থেকে চোখ নামিয়ে মনে মনে রিয়াজ বলে," আমি মনে হয় জানিনা যে ক্ষতি হবে কি না। এতো অভিনয় করার কি দরকার। শিট,সিগারেট মনে হয়না সহজে খেতে পারবো"। মনে মনে এসব বলে রিয়াজ এম্বুলেন্স ড্রাইভ করেই যাচ্ছে। তখনি রাতের সেই হুজুর বলে," আগেই বলেছিলাম তুমি বিরক্ত হবা। বেশি সমস্যা হলে আমাদের নামিয়ে দিতে পারো"।

আচমকা উনার কথাশুনে রিয়াজ ঘাবড়ে যায়। রিয়াজের মনের কথা উনি কিভাবে বুঝলেন?। কিছুটা অবাক হলেও আবার মিথ্যে হাসি দিয়ে রিয়াজ বলে," না না হুজুর। বিরক্ত কেন হবো। আপনি তো ভালো কথা বলেছেন"। কথাটা রিয়াজ গ্লাসে তাকিয়ে হুজুরের উদ্দেশ্যেই বলে। কিন্তু আয়নায় হুজুরের চাহনি দেখে রিয়াজ কিছুটা ভয় পায়। উনি কেমন যেনো এক দৃষ্টিতে রিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে। উনার চাহনিতে যেনো হাজারটা ভাষা প্রকাশ পায়। রিয়াজ আবার চোখ সরিয়ে গাড়ি চালানোতে মন দেয়। কিছুক্ষণ পর যা হয়,তা ছিলো লোমহর্ষক।
পিছনের হুজুর সব নিজেদের সাথে নিজেরা কি নিয়ে যেনো কথা বলছে। ওদের ভাষাটা অস্পষ্ট এবং গুণগুণ। কিন্তু ওদের স্বর রিয়াজ আর হেল্পারের কান অব্দি ঠিকি আসে,তবে কোন ভাষায় কথা বলছে। তা রিয়াজ আর হেল্পার কেও বুঝেনা। এই ভাষা আগে কখনো কোথাও শুনেওনি। কেমন যেনো একটা অদ্ভুত ভাষা। হুজুররা আবার কথার ছলে হাসাহাসিও করছে। রিয়াজের গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। সাথে হেল্পারও বুঝে যায় সব। রিয়াজ তাকায় হেল্পারের দিকে,আর হেল্পার তাকায় রিয়াজের দিকে। দুজনের চোখেই প্রচন্ড ভয়ের চাপ।



চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-১২ )
লেখক- #রিয়াজ_রাজ

[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন। ]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।