এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৩ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৩ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০৩ )


গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-০৩
লেখকঃ - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প



---------------------------------

অন্ধকার রাস্তায় এতো জোরে গাড়ি কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে,তার কোনো মাপকাঠি নেই। উপায় না পেয়ে ড্রাইভার হার্ড ব্রেক করে। তখনি শুনা যায় পিছনের দরজা খোলার শব্দ। ড্রাইভার তাড়াহুড়া করে মোবাইলের আলো মেরে দেখে,আসিফের লাশটাকে কারা যেনো টেনে নিয়ে গেলো। আসিফের মা বাবা অজ্ঞান অবস্থায় সিটে পড়ে আছে। গাড়ি আচমকা ব্রেক করায় ইয়াসিন সাহেবও মাথায় আঘাত খায়।উনি জ্ঞান হারা। ড্রাইভার একা এই বিলের মাঝ রোডে।


চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকার। যেনো বড়সড় একটা ঝড় বয়ে গেছে। এম্বুলেন্স ড্রাইভার ফোনের আলো জ্বালিয়ে চারপাশে মেরে যাচ্ছে। দরজা আর গ্লাস বন্ধ থাকায়, নিজেকে সেভ ভাবছেন উনি। আসিফের চাচা জ্ঞান হারানো। মা- বাবাও পিছনে লাশের মতো পড়ে আছে। এম্বুলেন্স ড্রাইভারের বুকের ধুকপুকানির শব্দ, চারপাশে যেনো ছুটাছুটি করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে ভেবে উনি আবার এম্বুলেন্স স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করে। কয়েকবার স্টার্ট দেওয়ার পরেও,ব্যর্থ চেষ্টা হয় উনার। একদিকে ভয়,অন্যদিকে এখানে ফেঁসে যাবার রাগ। দুইটাই উনার মস্তিষ্কে ঘুরপাক খাচ্ছে। জেদ করে তিনি আরো কয়েকবার এম্বুলেন্স স্টার্ট দেওয়ার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কোনোমতে কোনো কাজ হচ্ছিলো না। বাহিরে তাকিয়ে দেখে,চারপাশে কোনো জনবহুল নেই।আবারো ডানেবামে নজরবাজ করতে করতে উনার চোখ আটকে যায় সেই গ্রামে। অর্থাৎ, যেটি রাস্তার ডান পাশের বিলের পর। ছোট একটা লাইট দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভার সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছেন,এক দৌড়ে সেই গ্রামে যাবেন। আবার ভাবেন, গাড়ি থেকে নামলেই যদি কিছু হয়ে যায়। উপায়ন্তর না পেয়ে ড্রাইভার এইবার আসিফের চাচাকে ডাকতে শুরু করলেন। কয়েকবার ডাকার পরেও জ্ঞান ফেরার কোনো নামগন্ধ নেই।এরপর এম্বুলেন্স ড্রাইভার ফোনের আলোতে, সিটের পাশ থেকে পানির বোতলটা বের করলো। বোতল হাতে নিয়ে,ফোন রাখলেন পায়ের উপর। কাঁপাকাঁপা হাতে তিনি বোতলের মুখ খুললেন। এরপর সজোরে সব পানি নিক্ষেপ করলেন আসিফের চাচার মুখে। আচমকা পানির স্পর্শ পেয়ে আসিফের চাচা লাফ মেরে উঠলেন। উঠেই তিনি কান্না শুরু করে দেয়," এ কি হয়ে গেলো রে,, আমার ভাতিজার লাশটা নিয়ে গেছে শয়তানগুলা"। কান্না দেখে ড্রাইভার উনাকে শান্ত করার জন্য বলে," চাচা। কান্না করে কোনো লাভ নেই। এখন আমাদের নিজেদেরকে বাঁচাতে হবে। ঐ দেখুন সামনে একটা গ্রাম। বিলটা পার হয়ে আমরা যদি সেই গ্রামে যেতে পারি। তবে রাতটা কাটিয়ে দিতে পারবো। আসুন"। ড্রাইভারের কথায় আসিফের চাচা হ্যাঁ সম্মতি দিলেন। ড্রাইভারও এইবার মোটামুটি সাহস পাচ্ছেন। তিনি হুট করে দরজাটা খুলেই দৌড়ে যান পিছনে। ড্রাইভার মূলত এসেছিলো আসিফের বাবা-মা কে তোলার জন্য। কিন্তু পিছনে আসতেই উনি দেখেন,এম্বুলেন্স থেকে কিছুটা দূরে রাস্তার মাঝে। আসিফের লাশ পড়ে আছে। এবং সেই লাশের উপর ৪-৫ টা কালো অবয়ব।


অন্ধকার হওয়ায় শয়তানগুলাকে স্পস্ট দেখা যাচ্ছিলো না। তবে ড্রাইভার এইটুকু খেয়াল করেন,ওদের দেহটা আকারে অনেক বড়। ৫-৬ জন মানুষকে একত্রিত করলে যতটা লম্বা হবে। ঠিক ততটা গায়ের গঠন। ড্রাইভার সরাসরি তাদের দেখতে পেয়ে হুশ হারিয়ে ফেলে। মূর্তির মতো সেখানেই দাঁড়িয়ে যায়। এদিকে সেই বিশাল আকারের শয়তানগুলা আসিফের দেহ ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে। আসিফের চাচা তখন বেরিয়ে এসে বলে," কি করছেন আপনি"। কথাটা শেষ হতে না হতে,উনিও দেখেন ঐ অশরীরীদের। কিন্তু এতক্ষণ ঠিকি ছিলো। এখন আসিফের চাচার কণ্ঠস্বর শুনে সেই অশরীরীরা তাদের দিকে তাকায়।এম্বুলেন্স ড্রাইভার প্রায় কান্না করে দিচ্ছিলো। বাঁচার যেনো আর কোনো উপায় বাকি রইলো না।

ওদের চোখটা সাদা বর্ণের। পুরো দেহে শুধু চোখ দুইটা জ্বলজ্বল করছে। সেই মুহুর্তে ড্রাইভারকে চমকে দিয়ে আসিফের চাচা চিৎকার মেরে বললেন," আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ,দূর হয়ে যা শয়তান"। এইভাবে আল্লাহ্‌র কালাম উচ্চারণ করতে করতে আসিফের চাচা এগিয়ে আসে। তখনি চোখের সামনে সেই অশরীরী গুলা কেমন বিরক্ত হয়ে যায়। রাস্তার ঠিক মাখখানে তারা আসিফের দেহটাকে ছিঁড়ে খাচ্ছিলো। আসিফের চাচার মুখে আল্লাহ্‌র কালাম শুনে তারা বিদঘুটে এক চিৎকার দেয়। এটি সেই চিৎকার, যা তারা কিছুক্ষণ আগে শুনেছিলো।অর্থাৎ গরুর গায়ের উপর এম্বুলেন্স তোলার পর যে ভয়ানক চিৎকার শুনেছে। ঠিক সেই শব্দ। ড্রাইভার ভয়ে এইবার নিজে জ্ঞান হারানোর উপক্রম। জীবনে সে অনেক অশরীরী দেখেছে। এম্বুলেন্স ড্রাইভিং বয়সে হাজার কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এমন দৃশ্য,এমন পরিস্থিতি, এমন ভয় তিনি কখনো পাননি। এদিকে অশরীরী গুলা চিৎকার দিতে দিতে আসিফের লাশটাকে ধরে টানতে থাকে। নিয়ে যেতে থাকে রাস্তার বাম পাশে। অর্থাৎ বাম পাশের বিলের দিকে। এই সুযোগে আসিফের চাচা দৌড়ে এসে ড্রাইভারকে ডাক দেয়। কিন্তু ড্রাইভার হয়ে আছে পুরো মূর্তির ন্যায়।


আসিফের চাচা ড্রাইভারকে কয়েকটা ধাক্কা দিতেই ড্রাইভার হুশে আসে। এরপর দুজন মিলে এম্বুলেন্স এর ভিতরে ঢুকে। আসিফের চাচা জোরে জোরে দোয়াদরুদ পড়ে যাচ্ছে। আর আসিফের মা-বাবাকে ধাক্কাচ্ছে। ড্রাইভারও আসিফের মা-বাবাকে তোলার জন্য ডেকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ ডাকাডাকি আর ধাক্কাধাক্কি করে,সফল হয় তারা। উনারা উঠেই ভয়ে চিৎকার শুরু করলেন।ড্রাইভার এইবার নিজের ফোন বের করে। এরপর লাইটের আলোতে উনাদের বলে," তাড়াতাড়ি চলুন। নয়তো আমাদের সবার প্রাণ যাবে"। আসিফের মা-বাবা বুঝে যায় সব। উনারাও তড়িঘড়ি করে এম্বুলেন্স থেকে নামে। আসিফের চাচার মুখ থেকে আল্লাহ্‌র কালাম বন্ধ হচ্ছেনা। তিনি জোরে জোরে সূরা পড়ছেন,আর সবাইকে বের করছেন। রাস্তায় নেমে ড্রাইভার দেখিয়ে দেয় ডান পাশের বিল। বিলের মাঝে সরু একটা পথ আছে। যা ওপাড়ের গ্রামের দিকে গেছে। আসিফের বাবা তার স্ত্রীকে ধরে সেই বিলের দিকে নেমে যান। আর ছুটতে লাগলেন ওপাড়ের দিকে। আসিফের চাচাও দৌড় লাগান। যেহেতু ড্রাইভারের হাতে ফোন, তাই সে সবার পিছনে রয়ে গেলো।কারণ বিলেও প্রচুর অন্ধকার। আলোর অপশন শুধু এই একটা ফোন। যদি এখান থেকেই সব শেষ হতো,তবে হয়তো ভালো হতো। আক্রমণ তো তাদের উপর মাত্র শুরু হলো।


বিলের সরু পথে কিছুদূর আসার পর পরই পিছনে আবার সেই বিদঘুটে শব্দ শুনা যায়। ড্রাইভার এক নজর পিছনে তাকিয়ে দেখে,এম্বুলেন্স এর ঠিক সামনে একটা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। না,সাধারণ মানুষের মতো ছোট নয়। কিছুক্ষণ আগে যাদের দেখেছিলো, তাদের চেয়ে ১০ গুন বড়। অর্থাৎ পুরো ২০ তলা বিল্ডিং এর সমান লম্বা একজন মানুষ। মাথা যেনো তার আকাশে ছুঁয়ে গেছে। ড্রাইভার এমন দৃশ্য দেখে নিজেকে পারেনি কন্ট্রোল করতে।ব্যালেন্স হারিয়ে ধপাস করে বিলের মধ্যে পড়ে যায়। ফোন যেহেতু ড্রাইভারের হাতে ছিলো,তাই বাকিরাও পথভ্রষ্ট হয়ে গেলো। দৌড়ের মাঝে আচমকা আলোর অভাবে সবাই নিচে পড়ে গেলো। ড্রাইভার তাড়াহুড়ো করে নিজের ফোন খুঁজতে যাচ্ছিলো,তখনি ধান গাছের ভিতর থেকে কিছু হাত ড্রাইভারকে আক্রমণ করতে লাগলো। ড্রাইভারের পিঠে আঁচড় কাটতে শুরু করল। ওদের বড় বড় নখ ড্রাইভারের পিঠের চামড়া ছিলে দিচ্ছে।ড্রাইভার যন্ত্রণায় জোরে চিৎকার দিয়ে বলে, " আল্লাহ্‌রে,,,, রক্ষা করো আল্লাহ"। ড্রাইভারের মুখে আল্লাহ্‌র নাম শুনতেই,হুট করে হাতগুলা ধান গাছের ভিতরে চলে যায়। ড্রাইভারের মনে হচ্ছিলো তার গায়ে অসংখ্য পেরেক মারা হয়েছে।তবুও জান বাচানোর জন্য সে ফোনটা বের করে। মুখে আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে উঠে দেখে,অন্ধকারেই আসিফের মা,বাবা আর চাচা দৌড়াচ্ছে। অনেকদূর চলে যান তারা।ড্রাইভার আর তাকায়নি পিছনে। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে গায়ে যত শক্তি আছে,সব শক্তিতে দৌড় দেয়। বিলটা যেনো ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা থেকে মনে হচ্ছিলো ৫ মিনিটে ওপাড়ে যেতে পারবে। কিন্তু এখনো ড্রাইভারের মনে হচ্ছে আরো ৫ মিনিট দৌড়াতে হবে। ড্রাইভার অনেক কষ্টে দৌড়ে,অবশেষে আসিফের চাচার পিছনে আসে। তখনি ড্রাইভারকে পিছন থেকে আসিফের চাচা ডেকে বলে," ভাই,,,,আমাদের জন্য দাড়াও"। ড্রাইভার পিছনে আসিফের চাচার ডাক শুনে থমকে দাড়ায়। আসিফের চাচা পিছনে হলে, সে কার সাথে দৌড়াচ্ছে। ড্রাইভার এক নজর পিছনে তাকিয়ে দেখে,আসিফের পরিবার দৌড়ে আসতেছে। এরপর আবার ড্রাইভার সামনে তাকায়,দেখে কেও নেই। সামনে পুরো বিল খালি।


ড্রাইভার ভয়ে আল্লাহ্‌কে ডাকতে শুরু করে জোরে জোরে।চোখ দিয়ে ভয়ে পানি ঝরতে লাগলো। ততক্ষণে আসিফের পরিবার চলে আসে। ড্রাইভার তাদেরকে নিয়ে দৌড় লাগায় সামনের গ্রামে। এখানেও সব শেষ হলে পারতো। শেষ এখনো হয়নি।

দৌড়াতে দৌড়াতে যখন তারা বিলের অর্ধেক চলে আসে। তখনি আসিফের চাচা জোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠে। যেনো কঠিন আঘাত পেয়েছে উনি। ড্রাইভার ব্যাপারটা বুঝে উঠার আগেই,ড্রাইভারের পিঠে কেও সজোরে চড় মেরে দেয়। এতো জোরে থাপ্পড় মেরেছে। যা একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে সহ্য করা যন্ত্রণাদায়ক। ততক্ষনে ড্রাইভার এটিও বুঝে যায়,আসিফের চাচা কেন চিৎকার দিয়ে উঠেছিলো। কোনো গতি নেই,কোনো উপায় নেই। সেই থাপ্পড়ের যন্ত্রণা নিয়েই প্রাণ বাচাতে দৌড় থামায়নি কেও। কিছুক্ষণ পর পর কেও থাপ্পড় দিচ্ছে। সবার মুখ থেকে এক এক চিৎকার বের হচ্ছে,যা উপলব্ধি করতে গেলে যে কেও কেঁদে দিবে।


১৪ মিনিট পর.....

বহু কষ্টে সবাই বিলের এপাড়ে আসে। বিল থেকে রাস্তায় উঠে দেখতে পায় , সামনে একটা বাড়ির গেট। অর্থাৎ সেই হিন্দু বাড়ি। আসিফের চাচা " বাচান,,,,কে আছে বাচান,,,"। বলে সেই গেটের দিকে দৌড় লাগায়। আসিফের চাচার সাথে বাকিরাও ছুটতে লাগলেন। উনাদের চিৎকার শুনে হিন্দু বাড়ির লোক ঘর থেকে লাইট নিয়ে বের হয়। সবাই উঠোনে একত্রিত হতে হতে, আসিফের ফ্যামিলি আর ড্রাইভার বাড়ির গেটে প্রবেশ করলেন। হিন্দু বাড়ির লোকেরা, দৌড়ে এসে উনাদের ধরে। সবাই দেখে,৪ জনই রক্তাক্ত এবং প্রচুর হাঁপাচ্ছে। গায়ে নখের আঁচড়।নখের আঘাতে মুরুব্বির পাঞ্জাবি আর ড্রাইভারের শার্ট অনেকটা ছেঁড়া। কারো বুঝতে বাকি রয়নি,এদের কারা আক্রমণ করেছে। হিন্দু বাড়ির লোকেরা তৎক্ষণাৎ পার্শ্ববর্তী এক ডাক্তারকে কল দেয়। আর উনাদের ধরে ঘরে নিয়ে যান।


পরেরদিন সকাল ০৭:১১ মিনিট।

আলতাব নগর গ্রামের ছোট্ট একটা বস্তি। সেই বস্তির মধ্যে ভাঙ্গা টিন আর প্লাস্টিক দিয়ে বানানো একটা ছোট ঘর। ঘরটার ভিতর শুয়ে আছে রিয়াজ।

কিছুক্ষণ কড়মড় দিয়ে,রিয়াজ ঘুম থেকে উঠে। এরপর বিছানায় বসে বালিশের চিপা থেকে একটা সিগারেটের প্যাকেট বের করলো। প্যাকেট থেকে একটা সিগারেট জ্বলায়। তখনি রিয়াজের ভাবি এসে বলল," মরবি মরবি। এই সিগারেট তোরে আর তোর ভাইরে কবরে লইয়া যাইবো। কত খাইতে পারস। দাত বেরাশ না কইরাই সিগারেট ধরাইয়া দিছত"। ভাবির কথা শুনে রিয়াজ গাল বেকিয়ে বলে," বন্ধ করো তোমার গাউয়া ভাষা। ভাইয়া দুনিয়াতে আর মেয়ে পায়নি? কারে ধরে আনলো। ঠিকমত শুদ্ধ ভাষা জানেনা"। রিয়াজের কথা শুনে ভাবি রেগে বলল,' কিহহ,আমি শুদ্ধ জানিনা না? আইজকা তোর ভাই বাসায় আহুক। বিচার যদি না দিছি,তহন আমারে কইস"। ভাবির কথা শুনে রিয়াজ জিব্বা বের করে ভেংচি মেরে,আবার সিগারেটে টান দেয়। তখনি রিয়াজের নাম্বারে কল আসে একটা। রিয়াজ বিছানা থেকে ফোন তুলে দেখে,তার ভাইয়ের ফোন। লাউড স্পিকারে ফোনটা রিসিভ করে রিয়াজ উচ্চস্বরে বলে, " ভাইয়া..? আপনি কোথায় মরে আছেন বলেন তো? ভাবি আমাকে সারাদিন বকাঝকা করে শুধু। তাড়াতাড়ি বাসায় আসেন"। রিয়াজের কথা শুনে ফোনের ওপাশ থেকে একজন মহিলা বলে, " আপনার ভাই গতকাল এক্সিডেন্ট করেছে। এখন পঞ্চনগড় হসপিটালে ভর্তি। সারা শরীর উনার ক্ষতবিক্ষত। পঙ্গু হয়ে গেছে প্রায়। তাড়াতাড়ি আসুন"। কথাটা শুনেই রিয়াজের হুশ উড়ে যায়। লাউড স্পিকার থাকায়,রিয়াজের ভাবিও কথাটা শুনে ফেলে। আর কি,, শুরু হয় কান্নাকাটি।


কি ভাবছেন,শেষ। না না,ঘঠনা মাত্র শুরু।




চলবে..........?




গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-০৩)




লেখক- #রিয়াজ_রাজ




[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।