এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০২ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০২ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-০২ )


গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-০২
লেখকঃ - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প


-----------------------------------


২ মাস পর....... 

বাইক এক্সিডেন্ট করা আসিফের খারাপ অবস্থা। সন্ধায় এক্সিডেন্ট করেছে। মৃত্যুর সাথে লড়াই করে যাচ্ছে সে। পরিবারের লোকজন স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে,আসিফকে ঢাকা হসপিটাল নিয়ে যাচ্ছে একটি এম্বুলেন্সে করে। ঢাকা যেতে আরো ৩ ঘন্টা লাগবে। তাদের এম্বুলেন্সটা,মাত্র সেই বিলের রোডে প্রবেশ করেছে.....


আসিফের মা এবং বাবা আসিফের পাশে বসে আছে। আসিফের চাচা এম্বুলেন্স এর সামনে ড্রাইভারের পাশে। আসিফের চেহারা ভয়ংকর রকমে আঘাত খেয়েছে। মুখের এক পাশ,অর্থাৎ একটা গালের চামড়া ছিঁড়ে রক্তাক্ত হয়ে আছে। ঠোঁটের নিচে থেথলে যায় অনেকটা। বাঁচার সম্ভাবনা খুবি কম। আসিফের বাবা মাথায় হাত দিয়ে চোখ ভেজাচ্ছেন। আর আসিফের মা আসিফের দিকে তাকিয়ে এক স্বরে কেঁদে যাচ্ছেন। ড্রাইভারের পাশে বসা আসিফের চাচার চোখও ভেজা। আদরের ভাতিজা ছিলো। শুরু থেকে আসিফকে বাইক না দেওয়ার জন্য উনি রেগেছিলেন। তবুও আসিফের অনেক বায়নায় বাইক কিনে দিতে বাধ্য হলো সবাই। আজ সেই বাইক আসিফকে মৃত্যু অব্দি নিয়ে এসেছে।


 রাত ১১:২১ মিনিট। শুনশান বিলের মাঝখান দিয়ে যাচ্ছে এই এম্বুলেন্স। আর এম্বুলেন্স এর ভিতরে লুকিয়ে আছে নানান বেদনানাশক গল্প। কিছুদূর আসার পর এম্বুলেন্স ড্রাইভার খেয়াল করে,দুইজন মহিলা বোরকা গায়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। অনেকটা দূরে।তারা গাড়ি সিগন্যাল দিচ্ছে। ওদের দেখে আসিফের চাচা বলে," আহারে,দুইজন মহিলা এতো রাতে রাস্তার কিনারায় দেখো। ওদেরকেও তুলে নাও। হয়তো কোনো বিপদে পড়েছে"। আসিফের চাচার কথা শুনে ড্রাইভার বলল," চাচা, ওদিকে না দেখার ভান করুন"। কথাটা বলেই এম্বুলেন্স ড্রাইভার গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেয়। আসিফের চাচা অবাক হয়ে ড্রাইভারের দিকে তাকায়। ড্রাইভার পুরো স্পিডে সেই মহিলাদের ওভারটেক করে চলে যায়। আসিফের চাচা কিছুটা বিরক্তিভাজন হয়ে বলল," আরে আজিব তো? ওদের সাহায্যের দরকার ছিলো"। ড্রাইভার মুচকি হেসে বলে, " সামনে তাকান"। ড্রাইভারের কথায় আসিফের চাচা সামনে তাকায়। আর তখন তিনি যা দেখেন,তা উনার শরীরের রক্ত চলাচল যেনো বন্ধ করে দিচ্ছিলো। সেই দুইজন মহিলা, গাড়ি সিগন্যাল দিচ্ছে। অথচ কিছুক্ষণ আগে এম্বুলেন্স তাদের ফেলে এসেছে। তারা আবার সামনে কিভাবে এলো। ড্রাইভার এখানেও এম্বুলেন্স এর গতি বাড়িয়ে, সেই দুইজন মহিলাকে ওভারটেক করলেন। আসিফের চাচা এতক্ষণ পর ব্যাপারটা আমলে নেন। উনি তড়িঘড়ি করে একটা সিগারেট বের করেন। আর সেটিতে আগুন জ্বালান। ড্রাইভার মুচকি হেসে আসিফের চাচাকে বললেন," আপনার নাম কি"। আসিফের চাচা সিগারেটে টান দিয়ে শান্ত স্বরে বলল, " ইয়াছিন"। ড্রাইভার এম্বুলেন্স এর গতি আবার স্বাভাবিকে এনে ইয়াছিন সাহেবকে বললেন," গত ৫ বছর এম্বুলেন্স চালাই। অনেক কিছু দেখা আছে আমার। অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমাদের একটা রুলস আছে। রাতে এম্বুলেন্স চালাকালীন,যদি সত্যিকারের মানুষও গাড়ি সিগন্যাল দেয়। তবে থামানো যাবেনা। এরা অনেক ভয়ানক হয়"। কথাটা শেষ করতেই, আচমকা এম্বুলেন্স জোরে একটা ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে।


হটাৎ  এমন ঝাঁকুনি দেখে ইয়াসিন সাহেব বললেন," এইটা কি ছিলো?"। এম্বুলেন্স ড্রাইভার তখন গম্ভীর স্বরে বললেন," তারা আমাদের পিছু নিয়েছে"। ইয়াসিন সাহেব ড্রাইভারের মুখে ভয় দেখতে পাচ্ছেন। ড্রাইভার গাড়ির গতি বাড়িয়ে আবার চলতে শুরু করে। তখনি আবারো এম্বুলেন্সটা জোরে একটা ঝাঁকুনি দেয়। মনে হচ্ছে কেও বাহির থেকে এম্বুলেন্স এ জোরে জোরে লাথি দিচ্ছে। পিছনে থাকা আসিফের বাবা আর মা ডাক দিয়ে বললেন," কি হয়েছে..? গাড়ি এমন ঝাঁকুনি দিলো কেন"। পিছন থেকে তাদের ডাক শুনে ড্রাইভার উচ্চস্বরে বললেন," কিছু না চাচা। রাস্তা ভাঙ্গা"। ইশারাতে ড্রাইভার মিথ্যে শুনালেন।কিন্তু ইয়াসিন সাহেব তো জানেন সবটা। তিনি ড্রাইভারকে আবার বললেন," কোনো সমস্যা হবে নাতো?"। ড্রাইভার কিছু বলতেই যাবে,এমন সময় দেখে,রাস্তার উপর একটা মরা গরু পড়ে আছে।

ইয়াসিন সাহেব রাস্তার মাঝে মরা গরু দেখে ভয় পেয়ে যায়। আর উচ্চস্বরে ড্রাইভারকে বলে," আরে গাড়ি থামাও। নয়তো আমরা এক্সিডেন্ট করবো"। ড্রাইভার কোনো কথা না বলে, সেই গরুর উপর দিয়ে গাড়ি তুলে দেয়। যখন এম্বুলেন্স গরুর গায়ের উপর উঠেছে,তখন কিছু একটার চিৎকার শুনা গেছে। ইয়াসিন সাহেব নোটিশ করলেন সেই চিৎকার।  তিনি ফিসফাস করে ড্রাইভারকে বললেন," এতো মনে হয় কোনো মহিলার চিৎকার।  এক সাথে অনেক মহিলার চিৎকার ভেসে এসেছে"। ড্রাইভার এইবার ভয় এবং রাগ নিয়ে বললেন, " এতো কথা বলছেন কেন। চুপচাপ আল্লাহ্‌কে ডকুন"। কথাটা বলেই গাড়ির সামনে থেকে একটা পান হাতে নেয়। এরপর পুরো পান ড্রাইভার মুখে গুজে দিয়ে এম্বুলেন্স টানতে থাকে। ড্রাইভারের কপাল বেয়ে ঘামের রেশ ঝরছে। গা দিয়ে গরম উত্তাপ বের হচ্ছে। ইয়াসিন সাহেব ড্রাইভারের হাতের দিকে তাকিয়ে দেখে,হাতটা প্রচুর কাঁপছে ড্রাইভারের। ইয়াসিন সাহেবের মনে দুইটা ভয়। ১- ভৌতিক ২- ভয়ের কবলে পড়ে ড্রাইভার যদি এক্সিডেন্ট করে।


এসব ভাবনার মাঝে এইবার হটাৎ এম্বুলেন্স এর ইঞ্চিন বক্সে কিছু একটার শব্দ হয়। মনে হলো ভিতরের কোনো মেশিন ব্লাস্ট হয়েছে। ড্রাইভার আরো খেয়াল করে দেখেন,এম্বুলেন্স এর ভিতর থেকে ধোয়া বের হচ্ছে। ভয়ে ভয়ে ড্রাইভার তবুও গাড়ি বন্ধ করেনা। ঠিক সেই মুহুর্তে পিছন থেকে আসিফের মায়ের চিৎকার, " আমার ছেলে মারা গেছে রে,,,ও আল্লাহ্‌ রেএ,আমার সব শেষ হয়ে গেলো রে"""। আসিফের মৃত্যুর কথা শুনে আসিফের বাবা মাথা থেকে হাত সরায়। উনিও আসিফের  নাকে হাত দিয়ে দেখে,আসিফ মরে গেছে। চলন্ত এম্বুলেন্স এ শুরু হয় কান্নাকাটি। আসিফের চাচাও কান্না করতে করতে ড্রাইভারকে বলে," আরে আমার ভাতিজা মারা গেছে। এম্বুলেন্স ঘুরাও। আর কোথায় যাবো।আমি আমার ভাতিজাকে দেখবো "। ড্রাইভার দাতে দাঁত কামড়ে ধরে শক্ত হয়ে আছে। ভয়,রাগ,উদ্দেশ্যে নিয়ে গাড়ি সে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ড্রাইভারের চোখ দিয়েও পানি ঝরতেছে। উনার মনে পড়ে যায়,বাড়িতে উনার ছোট ভাই আর স্ত্রী সন্তান আছে। এই এম্বুলেন্স এর ইনকাম দিয়েই পরিবার চলে। এখন উনার কিছু হয়ে গেলে,সবাই না খেয়ে মরবে। তাই শক্ত হয়ে ড্রাইভার গাড়ির গতি আরো বাড়াতেই থাকে। এদিকে এরা তিনজন তো এক নাগাড় কেঁদে যাচ্ছেই। আসিফের চাচা পিছনে যাবার জন্য বার বার বলতেছে গাড়ি থামাতে। ড্রাইভার তাদের কোনো কথাই কানে নিচ্ছেনা। ঠিক তখনি শুরু হয় হামলা। 


এম্বুলেন্স এর চারপাশে পেটাপেটি শুরু হয়। এম্বুলেন্স এর ছাদে,ডানে,বামে সব দিকে কারা যেনো পেটাচ্ছে। আসিফের মা-বাবা ভয়ে চিৎকার দিয়ে বলল," ভূত ভূত ভূত"। ইয়াসিন সাহেবও চিৎকার দিয়ে বলে," তাড়াতাড়ি গাড়ি টানো। ওরা আজ গাড়ি ভেঙ্গে ফেলবে মনে হয়"। এম্বুলেন্স ড্রাইভার এইবার না পারতে কেঁদে দেওয়ার উপক্রম।  সে যত স্পিডে পারতেছে,এম্বুলেন্স নিয়ে যাচ্ছে। তখনি জানালার বাহিরে কাচের উপর ড্রাইভার দেখে,একটা রক্তাক্ত হাত। হাতটা দেখে ইয়াসিন সাহেব জোরে জোরে আল্লাহ্‌কে ডাকতে শুরু করে। ঠিক তখনি এম্বুলেন্স এর ইঞ্জিনে আরো একটা ব্লাস্ট হয়। সেখানেই বন্ধ হয়ে যায় এম্বুলেন্স।  কিন্তু এতে আরো বেশি বিপদ বেড়ে গেলো। গাড়ি অনেক গতিতে ছিলো,সেই গতিতেই গাড়ির লাইট আর ইঞ্জিন বন্ধ হয় গেলো। এতো গতির মাঝে ড্রাইভার হারিয়ে ফেলে গাড়ির কন্ট্রোল। অন্ধকার রাস্তায় এতো জোরে গাড়ি কোথায় যাচ্ছে না যাচ্ছে,তার কোনো মাপকাঠি নেই। উপায় না পেয়ে ড্রাইভার হার্ড ব্রেক করে। তখনি শুনা যায় পিছনের দরজা খোলার শব্দ। ড্রাইভার তাড়াহুড়া করে মোবাইলের আলো মেরে দেখে,আসিফের লাশটাকে কারা যেনো টেনে নিয়ে গেলো। আসিফের মা বাবা অজ্ঞান অবস্থায় সিটে পড়ে আছে। গাড়ি আচমকা ব্রেক করায়  ইয়াসিন সাহেবও মাথায় আঘাত খায়।উনি জ্ঞান হারা। ড্রাইভার একা এই বিলের মাঝ রোডে। 


চলবে..........? 


গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-০২) 


লেখক- #রিয়াজ_রাজ


[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন। ]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।