এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১১ )

এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১১ )
এম্বুলেন্স রহস্য ( পর্ব-১১ )



গল্পঃ এম্বুলেন্স রহস্য
পর্বঃ-১১
লেখকঃ রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ এপ্রিল-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
গল্পের বিভাগঃ রহস্য গল্প




---------------------------------------
রিয়াজ এইবার এম্বুলেন্স এর গতি আরো জোরে বাড়িয়ে সে লাশ আর পরিবারের উপর উঠিয়ে দেয়। কিন্তু এতে যেনো তুফান আরো বেড়ে গেলো। এম্বুলেন্স এর ভিতরে থাকা লাশটি,বক্সের ভিতর থেকে নাড়াচাড়া শুরু করেছে। লাশের পরিবার নিজেদের মৃত ছেলেকে বক্সে নড়াচড়া করতে দেখে ভয়ে চিৎকার শুরু করে। এদিকে লাশটি যেনো বক্সে ভেঙ্গে বেরিয়ে আসবে এখন।

রিয়াজ তার গলার রক্ষাকবজ চেক করে নেয়। সেটি ঠিকঠাক আছে। এদিকে এম্বুলেন্স এ থাকা বক্সটা লাফালাফি শুরু করেছে। লাশের পরিবার ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার লাগাচ্ছে তো লাগাচ্ছে। রিয়াজ এম্বুলেন্স এর গতি আরো বাড়িয়ে দেয়। রাস্তার মাঝে বুলেট গতিতে এম্বুলেন্স এগিয়ে যাচ্ছে। চারপাশে শাঁইশাঁই বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এই জঙ্গলের মত রাস্তাটাও যেনো ভয়ানক রুপ নিয়েছে। দুই পাশের গাছগুলা নিজে থেকে যেনো হেলে পড়ে যাচ্ছে রাস্তায়। কিন্তু বাহিরে যা হবার হোক,গাড়ির ভিতরে যে বক্সটা লাফাচ্ছে,মূল ভয় সেখানে। লাশ কি উঠে যাবে..?

মুখে সিগারেট আর মাথায় ক্যাপ। রাস্তার উপর কড়া নজরে এম্বুলেন্স চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াজ। পিছনের সবাই আল্লাহ্‌কে ডাকতে লাগলো। আর বক্স তো তার মতো লাফালাফি করেই যাচ্ছে। রিয়াজ এম্বুলেন্স চলন্ত অবস্থায় রাস্তায় খেয়াল করে দেখে,রাস্তার দুই পাশে কয়েক হাজার চোখ দেখা যাচ্ছে। রাস্তার দুই পাশেই হাজারটা চোখ জ্বলজ্বল করছে। চোখগুলা একবার জ্বলছে,আবার বন্ধ হচ্ছে,তা যেনো স্পষ্ট। রিয়াজের কপাল বেয়ে এইবার ঘাম বের হতে লাগলো। এ তো ভৌতিক শহরে চলে আসার মতো দৃশ্য। তবে যত কিছুই হয়ে যাক,রিয়াজ এম্বুলেন্স এর গতি থামাচ্ছেনা। আরো কিছুদূর যাবার পর,আবার এম্বুলেন্স এর ছাদে কিছু একটা পড়ার শব্দ। সেটি পড়ার সাথে সাথে পুরো এম্বুলেন্স যেনো নড়ে উঠলো। রিয়াজ এই নড়ায় কন্ট্রোল হারাতে যাচ্ছিলো,কিন্তু বহু কষ্টে আবার এম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। নিয়ন্ত্রণে এনে রিয়াজ একবার লুকিং গ্লাসে তাকায়। আর তাতে যে দৃশ্য দেখে রিয়াজ,তা হাড় হিম করে দেওয়ার মত।
পিছন থেকে কয়েক হাজার চোখ তেড়ে আসছে। অন্ধকারে তাদের দেহ দেখা না গেলেও,জন্তুর মতো তারা লাফিয়ে আসছে,তা বুঝা যায় স্পষ্ট। অর্থাৎ রাস্তার দুই পাশে যে চোখগুলা দেখা যায়,তারা এম্বুলেন্স এর পিছু নিয়েছে। ভয়ে রিয়াজ জমে যাবার উপক্রম। আর তখনি লাশের বক্স থেকে একটা কাট ভেঙ্গে যায়।

লাশের পরিবার একটা কাট ভাঙ্গতে দেখে ভয়ে দেয় চিৎকার। কাট ভঙ্গার স্থান দিয়ে লাল রক্ত বের হচ্ছে। যেনো ভিতরে লাশটা নাড়াচাড়া করতে করতে দেহ ছিঁড়ে ফেলেছে। লাশের পরিবার চিৎকার দিয়ে ব্যাপারটা রিয়াজকে জানায়। রিয়াজ মনোবল ঠিক রেখে লাশের পরিবারকে বলে," চিন্তা করবেন না। আর অল্প একটু গেলেই আমরা গ্রামে প্রবেশ করবো"। রিয়াজের কথায় শান্তনা নিয়ে লাশের পরিবার আবার দোয়া-কালাম পড়তে থাকে। রিয়াজ এইবার চিৎকার দিয়ে বলতে শুরু করে," বক্সের উপরে চাপ দিয়ে রাখুন। যাতে লাশ বের হতে না পারে"। রিয়াজের কথামতো লাশের বাবা তার নিজের মৃত ছেলের উপর চাপ দেয়। অর্থাৎ বক্সের ঢাকনার উপর। ভয়ের মাত্রা যদি এখানেই শেষ হতো,তবে হয়তো ভালো হতো। ভয় মাত্র শুরু...।

রিয়াজ সবকিছুর উর্ধে গিয়ে এম্বুলেন্স চালানো বন্ধ করেনি। উল্টো গতি বাড়িয়ে এগিয়ে যায়।একটা সময় রিয়াজ দেখে,এম্বুলেন্স এর লাইট ছাড়াও,রাস্তার উপর কিছুর আলো দেখা যাচ্ছে। তখনি লাশের পারিবার চিৎকার দিয়ে বলে," ড্রাইভার সাহেব,এগুলা কি?"। রিয়াজ তাদের কথা শুনে পাশে তাকায়। এইবার দেখে,কালো কুচকুচে কিছু মানুষ। যাদের চোখ জ্বলজ্বল করছে। এরা দেখতে তো মানুষের মত,কিন্তু এম্বুলেন্স এর সাথে গতি মিলিয়ে জানোয়ারের মত দৌড়াচ্ছে। ধীরে ধীরে পুরো রাস্তা এইবার হয়ে যায় সাদা। এই কালো কুচকুচে মানুষগুলার চোখের আলোতে,চারপাশে আলো সৃষ্টি হয়। তাও একটা দুইটা না। হাজার হাজার অবয়ব এম্বুলেন্স এর সাথে দৌড়াচ্ছে। এম্বুলেন্স এর লাইট যদি রিয়াজ বন্ধও করে দেয়,তবুও রাস্তা স্পষ্ট দেখা যাবে। এক কথায়,এম্বুলেন্স এর লাইটের চেয়ে,বেশি আলো হচ্ছে এদের চোখ থেকে। এদিকে এম্বুলেন্স এ তো,লাশের বক্স লাফিয়ে যাচ্ছেই। রিয়াজ আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে এগিয়ে যায়,এম্বুলেন্স চালানো বন্ধ করেনি তবুও।

বহু কষ্টে সেই গাছের জঙ্গল পেরিয়ে রিয়াজ একটা গ্রামের রাস্তায় এম্বুলেন্স নিয়ে আসে। গ্রামের রাস্তায় এম্বুলেন্স প্রবেশ করতেই,হুট করে সব আলো বন্ধ হয়ে যায়।এম্বুলেন্স এর ভিতরে লাশের বক্সটাও নাড়াচাড়া বন্ধ করে দেয়। নিমিষে হয়ে যায় পরিবেশ শান্ত। রিয়াজ আল্লাহ্‌র কাছে শুকরিয়া আদায় করে এম্বুলেন্স আরো জোরে চালাতে থাকে। প্রায় ১০-১২ কিলো,মানে অনেকদূর গিয়ে রিয়াজ একটা দোকান দেখতে পায়। গ্রামের রাস্তার পাশে একটা দোকান। অনেক্ষণ কোনো আলো দেখতে পায়নি। কিন্তু এই দোকানের সামনে একটা বড় লাইট জ্বলছে। রিয়াজেরও দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো। দেহের আঘাতের চেয়ে,এই মনের আঘাত মারাত্মক।
রিয়াজ দোকানের সামনে গিয়ে এম্বুলেন্স ব্রেক করে। পাশে তাকিয়ে দেখে,শাহরুখ খান জ্ঞান হারিয়ে পড়ে আছে।ভয়ের দৃশ্য দেখে হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে,তাই এতক্ষণ ওর কোনো আলাপ পাওয়া যায়নি। রিয়াজ সিটের পাশ থেকে হাতুড়ি নিয়ে এম্বুলেন্স থেকে বের হয়। লাশের দেহ থেকে প্রচুর রক্ত যাচ্ছে। হাতুড়ি নিয়ে রিয়াজ পিছনে আসে। এরপর এম্বুলেন্স এর ঢাকনা খুলে লাশের পরিবারকে বলে," নামুন,বক্সটা মেরামত করতে হবে। নয়তো আবার লাশ লাফিয়ে উঠলে ঝামেলা"। লাশের পরিবার নিজেদের ছেলেকেই এখন ভয় পাচ্ছিলো। তারা এম্বুলেন্স থেকে নেমে যায়। ওদের নামিয়ে রিয়াজ নিজে এম্বুলেন্স এ প্রবেশ করে। লাশের বক্সের ঢাকনা প্রায় খুলে যাচ্ছিলো। সব পেরাক বেরিয়ে নিচে পড়ে আছে। লাশের বাবা চাপ দিয়ে ধরায় হয়তো ঢাকনা খোলেনি। রিয়াজ বক্স থেকে ঢাকনাটা সরিয়ে বক্সে তাকায়। বক্সে রিয়াজের চোখ যেতেই,রিয়াজ হিমশিম খেয়ে গেলো। দাপনের কাঁপন পুরো ভিজে লাল হয়ে গেছে। মাথার সাইডে দেওয়া বাধনটাও খোলা। রিয়াজ বাধন আটকানোর জন্য যখনি লাশের মাথার উপর হাত রাখে। তখন আবার রিয়াজের গা শিওরে উঠে। মাথার স্থানে লাশের মাথা নেই। হিমশিম খেয়ে রিয়াজ দ্রুত দাপনের কাঁপন সরায়। আর দেখে, লাশের পুরো মাথাটা কেও খেয়ে ফেলেছে।

রিয়াজের যেনো এইবার বমি চলে আসবে। বক্সের ভিতরে ওরা লাশ খেয়ে গেছে। তারমানে লাশ লাফায়নি,অদৃশ্য তারা বক্সের ভিতরে লাশ খাচ্ছিলো। দ্রুত রিয়াজ দাপনের কাঁপন আটকাতে যাবে। তখনি রিয়াজের মনে হলো,এম্বুলেন্স এর পিছে কিছু রয়েছে। রিয়াজ হুট করে মাথা ঘুরিয়ে যা দেখে,তা দেখে পুরো দেহ তার শীতল হয়ে যায়।

রিয়াজ দেখে,লাশের পরিবার রিয়াজের দিকে তাকিয়ে আছে।সবার চোখে পানি,ভয়ে তারা নিরব কান্না করছে। কিন্তু তাদের পিছনে,অর্থাৎ প্রায় ৫০ হাত দূরে কিছু চোখ দেখা যাচ্ছে। রিয়াজ ভালোভাবে খেয়াল করে দেখে,প্রথমে ৪ জোড়া চোখ জ্বলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২ জোড়া চোখ জ্বলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। তারপর ১০ জোড়া চোখ জ্বলে আবার বন্ধ হয়ে যায়। রিয়াজের এইবার শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের শীতলতা বয়ে যেতে লাগলো।ওরা এখানেও চলে এসেছে।

( জ্বর আর সর্দি,তাই ভেবেছি আজ গল্প দিবোনা। তবুও অসুস্থ দেহ নিয়ে আপনাদের জন্য লিখতে হলো। আজ এইটুকুই থাক)




চলবে..........?



গল্প- #এম্বুলেন্স_রহস্য ( পর্ব-১১ )
লেখক- #রিয়াজ_রাজ

[ জানাবেন,আপনার অনুভূতি এখন কেমন।গল্পের কোথায় কোথায় ভয় অনুভব করেছেন।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।