জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৮ ) - রিয়াজ রাজ

জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৮ ) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৮ ) - রিয়াজ রাজ

গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০৮
লেখকঃ - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প



৭ম পর্বের পর থেকেঃ
---------------------------------------



এটি করার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে রমিজ মিয়া দেখেন,পুরো রাস্তা ফাঁকা। মানে একটা কাকপক্ষীও নেই। রমিজ মিয়া এই নিয়ম সম্মন্ধে জানলেও,এইটা জানেনা তারপর কি করতে হবে।।বৃত্তের মাঝেই বসে থাকা লাগবে? নাকি বাড়িতে চলে যেতে হবে। উপায় না পেয়ে ভয়ে কাঁপছেন তিনি।

কিন্তু মূল কথা হচ্ছে এখান থেকে ভেগে যাওয়া। এই স্থানটাই হচ্ছে ভয়ানক। লুঙ্গি আর পরনে না পড়ে,হাতে নিয়েই রমিজ মিয়া এক দৌড় লাগান বাড়ির দিকে। শীতের কুয়াশা ভেদ করে উনার গতিবেগ প্রচুর ছিলো। কুয়াশার তরল পানীয়জল মুখে লেপ্টে যায়। কিন্তু থেমে থাকার নাম মুখে নেই। যত জোরে পারলো,দৌড় দিয়েই গেলো।

দৌড়াতে দৌড়াতে শেষে এসে তিনি বাড়িতে উপস্থিত হলেন। দরজার সামনে এসে " রোকেয়া" বলে এক চিৎকার দেন।ভিতর থেকে সবাই দৌড়ে এসে দেখলেন,রমিজ মিয়া উলঙ্গ অবস্থায় চিত হয়ে শুয়ে আছে। অর্থাৎ উনার পিঠের সাইডটা স্পষ্ট দেখা যায়। কাজের লোক জাহাঙ্গীর মিয়া দৌড়ে এসে রমিজ মিয়ার লুঙ্গিটা ঠিক করে দেন। এরপর সবাই মিলে ধরাধরি করে উনাকে নিয়ে যান রুমে।

রমিজ মিয়ার গায়ে আবার প্রচুর জ্বর। জ্ঞান হারিয়ে শুয়ে থাকলেও,জ্বরে গা কেঁপে যাচ্ছে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী রমিজ মিয়ার কপালে জলপটি লাগিয়ে দেন। জাহাঙ্গীর মিয়াও কিছুটা আঁচ করতে পারছেন। কারণ বাড়িতে রোকেয়া বেগম প্রায় এদের সাথে ওসব বলতো। ব্যাপারটা স্পষ্ট সবার কাছে। জাহাঙ্গীর মিয়া দেরি না করে,চলে গেলেন ইমাম সাহেবকে ডাকতে।

অর্ধেক রাস্তায় আসতেই জাহাঙ্গীর মিয়ার মনে হলো,একজন অবয়বকে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ যে পথে জাহাঙ্গীর মিয়া যাচ্ছেন,সেই পথ দিয়ে কেও তার দিকেই আসতেছে। কুয়াশার জন্য তেমন বুঝা না গেলেও,জাহাঙ্গীর মিয়া অবয়বকে দেখে যাচ্ছে। মনে ঢুকে যায় ভয়, এইটা যদি জ্বীন হয়?

কিন্তু জাহাঙ্গীর মিয়ার ভয়কে কাটিয়ে উপস্থিত হলেন ইমাম সাহেব। অর্থাৎ ইমাম সাহেব নিজেই রমিজ মিয়ার বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। জাহাঙ্গীর মিয়া ইমাম সাহেবকে দেখেই বললেন," ব্যাপার কি ইমাম সাহেব। কোথায় যাচ্ছেন"। ইমাম সাহেব জাহাঙ্গীর সাহেবের দিকে তাকিয়ে একটু সন্দেহভাজন চোখে তাকিয়ে বললেন," আপনি কোথায় যাচ্ছেন। আমি তো রমিজ মিয়ার কাছেই যাচ্ছিলাম"। কাজের লোক ইমাম সাহেবের কথা শুনে বলে," আমিও আপনার কাছে যাচ্ছিলাম। সাহেবের অবস্থা খারাপ"। কাজের লোকের কথা শুনে ইমাম সাহেব ধীর স্বরে বলল," আগেই জানতাম। এমন কিছু হবার ভয় ছিলো,আর হয়েও গেছে। চলুন,রমিজ মিয়ার কাছে যাওয়া যাক"।

ইমাম সাহেব আর কাজের লোক চলে যান রমিজ মিয়ার বাসায়। বাড়ি এসে যখন ইমাম সাহেব রমিজ মিয়ার কাছে বসলেন। তখনি রমিজ মিয়ার জ্বর বেড়ে যায় দ্বিগুণ। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়ার উপর কিছু একটা পড়ে ফুঁ দেন। তার কিছুক্ষণ পর জ্বর ভালো না হলেও,রমিজ মিয়ার জ্ঞান ফিরে আসে। অস্পষ্ট দৃশ্যান্তর হয়ে রমিজ মিয়া চোখ খোলেন। চারপাশে ঝাপসা,যেনো শরীরটা বহু ক্লান্ত। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়াকে বলে," আপনার শরীর তেমন ভালো না। আর আপনাকে একটা সংবাদ দিতে এসেছি আমি"। ইমাম সাহেবের চেহারা স্পষ্ট না দেখলেও,রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবের কন্ঠ স্পষ্ট শুনতে পান। মুখ খুলে অস্পষ্ট স্বরে রমিজ মিয়া বললেন," কিসের সংবাদ"।ইমাম সাহেব এইবার রমিজ মিয়াকে বলতে লাগলেন," গত ১ বছর আগে আপনার সাথে কি হয়েছিলো সবটাই তো জানি আমি। এবং আপনাকে মুক্ত করার জন্য যা যা করার দরকার ছিলো। সবি করেছিলাম। এতে আমার কি কি সমস্যা হয়েছে,সেটাও আপনি জানেন। তাছাড়া সিদ্দিক কবিরাজের পরিণতি কি হলো,ওটাও জানেন। কিন্তু একটা বিষয় আমি গোপন রেখেছিলাম। কেনো রেখেছি সেটাও বলি। আপনার এই সমস্যা সমাধান আমি না করতে পারলেও,সঠিক কেও না কেও তো আছে। তারা পারবে। এ ভেবে আমি খোঁজ করে যাচ্ছিলাম। আপনার প্রথম বাচ্চাকে যখন তারা নিয়ে যায়। তখন হয়তো আপনি ভেবেছেন সব ঠিক হয়ে যাবে। তবে সব ঠিক হয়নি,সেটা আমি জানি। যতদিন না ঐ জ্বীনদের ফাঁদে অন্য কেও পা দিবে। মানে খাটিয়া সহ নিয়ে গিয়ে কবর খুঁড়ে পুরস্কার না নিবে। ততদিন এই জ্বীন আপনাদের উপর নজর রাখবে। অবশেষে আমি খোঁজ পেয়েছি একজনের। আর এসে দেখি,আপনি আগে থেকেই আহত"।

ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া আবার বললেন,' নাম কি সেই তান্ত্রিকের "। ইমাম সাহেব মুচকি হেসে বললেন," তান্ত্রিক আবির"।

ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া আবার চোখ বন্ধ করতে করতে বললেন," ঠিক আছে। সেই কবিরাজকে আগামীকাল সকালে আসতে বলুন। যত টাকা লাগে আমি দিবো। কিন্তু জ্বীনদের এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে চাই"।

ইমাম সাহেব চলে গেলেন বাড়িতে। রমিজ মিয়া শান্ত হয়ে শুয়ে আছেন। রোকেয়া বেগম উনার মতো করে সেবাযত্ন চালিয়ে যাচ্ছেন।


রাত-২ টা।
ঘুমের মাঝে রমিজ মিয়ার স্বপ্নে সেই জ্বীন আসে। কালো কুচকুচে চেহারা,আর চোখ দুটি ধবধবে সাদা। রমিজ মিয়ার উদ্দেশ্যে সে গম্ভীর স্বরে বলতে থাকে,' তোর আরো একটা বাচ্চা লাগবে আমার। এরপর আমি তোকে ছেড়ে দিবো। তোকে বিরক্ত করবো না। তোর স্ত্রী এখন গর্ভবতী। কালকের মধ্যেই জানতে পারবি এইটা। এই বাচ্চাটাকে জন্ম দেওয়ার ২১ দিন পর বারান্দায় রেখে যাবি।আমরা নিয়ে যাবো। তবে রাত ১২ টার পর রাখবি। আর একটা কথা,ইমাম সাহেবের জানাযা পড়ে আসিস সকালে"।

এতটুকু দেখেই রমিজ মিয়া লাফ দিয়ে উঠে বসে। শরীর থরথর করে কাঁপছে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় দ্বিগুণ। জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে চেয়েও,বুকে আটকে যাচ্ছে সেটি।রোকেয়া বেগম পাশেই বসা ছিলো। যদিও সেবা করতে করতে তিনি ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু রমিজ মিয়ার ছটফটানি অনুভব করতে পেরে তিনিও উঠে যান। রমিজ মিয়া না পারছে কথা বলতে,আর না পারে কিছু বুঝাতে। বুক ধরে শ্বাস নিতে নিতে তিনি আবার জ্ঞান হারায়।

ভোর রাতে রমিজ মিয়া আবার উঠেন লাফ দিয়ে। এইবার দেখতে পায়,চারপাশে লোকজনের ভিড়। রমিজ মিয়ার অবস্থা শুনে পুরো এলাকার মানুষ চলে আসছে। রমিজ মিয়া সেসবের তোয়াক্কা না করে বিছানা থেকে উঠে দৌড় দেন। এবং একবার জোরে চিৎকার দিয়ে বলে," ইমাম সাহেবের বাসায় আসুন সবাই"।

রমিজ মিয়ার পিছন পিছন পুরো এলাকার মানুষ দৌড় লাগায়। কারো হাতে লাইট আবার কারো হাতে হারিকেন। দিক-বেদিক হয়ে সবার দৌড় শুরু হয় ইমাম সাহেবের বাড়িতে।কিছুক্ষণ বাদে যখন সবাই ইমাম সাহেবের উঠোনে যায়। তখন যে দৃশ্য দেখে,এটি ছিলো অনেক বেদনাহত।

ইমাম সাহেবের বাড়ির সামনে একটা বিশাল আমগাছ রয়েছে। সেই আম গাছের সাথে ফাঁসি দিয়ে মারা যান ইমাম সাহেব। সবাই এটি না জানলেও,রমিজ মিয়া জানেন ইমাম সাহেব ফাঁসি দেয়নি। তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। ইমাম সাহেবের লাশ ঝুলে থাকতে শুনে এলাকার মেম্বার সহ অনেকে চলে আসে। পুলিশে কল দিতে চাইলে রমিজ মিয়া বলেন," লাভ নেই। কোথাও কল দিবেন না কেও।এইটা সেই জ্বীনের কাজ। সবাই ধরে লাশ নামান। আমরা জানাযা পড়ে কবর দিবো"।

রমিজ মিয়ার কথা ফেলে দেওয়ার সাহস কারো নেই। ইমাম সাহেবের লাশ নামিয়ে নেয় এলাকাবাসী। অন্য মসজিদের এক ইমাম এসে জানাযা সম্পূর্ণ করলে,দাপন করা হয় ইমাম সাহেবকে।

বাড়ি এসে রমিজ মিয়া শুনতে পায়,তার স্ত্রী বমি করতে করতে জ্ঞান হারায়। রমিজ মিয়া জাহাঙ্গীর মিয়াকে বলে," ও গর্ভবতী। ডাক্তার বাসায় নিয়ে আসেন। সামনে খারাপ কিছু হবে হয়তো"। এ বলে রমিজ মিয়া রুমে চলে যান। আর একভাঁড় চিন্তা নিয়ে ভাবতে থাকে। ইমাম সাহেব তো মারা গেলেন। এখন এই তান্ত্রিক আবিরকে কোথায় খুঁজবেন তিনি। 

( তান্ত্রিক আবিরকে রমিজ মিয়া না পেলেও,আপনি কিভাবে পাবেন।তা মনে আছে তো? যারা তান্ত্রিক আবিরের ব্যাপারে জানতে চান। তারা শুরু করে দিন)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।