জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৭ ) - রিয়াজ রাজ

মরীচিকাময় ভালোবাসা পর্বঃ-০২
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৭ ) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৭ ) - রিয়াজ রাজ


গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০৭
লেখকঃ - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প



৬ষ্ঠ পর্বের পর থেকেঃ
---------------------------------------


রমিজ মিয়াকে মেইন গেটে দেখে সবার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। মাত্রই তো তিনি বেডরুমে গেলেন বাচ্চাকে নিয়ে। তাহলে বাহির থেকে তিনি কিভাবে এলেন। ভিতরে যিনি বাচ্চা নিয়ে গেলো,ওটা আসলেই রমিজ মিয়া?
মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-০৭

খাবারের থালা ছুঁড়ে মেরে, রোকেয়া বেগম সহ সবাই রুমে দৌড় দেয়। কিন্তু এইবার দেরি হয়ে গেছে। বাচ্চাকে সেই জ্বীন কামড়ে খেয়ে ফ্লোরে ফেলে রেখে চলে গেছে।

কি ভাবছেন ? ঘটনা এখানেই শেষ? অপেক্ষা করুন,ঘটনা মাত্র শুরু।

রমিজ মিয়ার বাচ্চার মৃত্যুর পর,কেটে যায় আরো ১ বছর। তবে এই এক বছরে রমিজ মিয়া ও তার স্ত্রী বাচ্চা জন্ম দেওয়ার চিন্তা করেনি। প্রথম বাচ্চা যেহেতু মারা গেছে,দ্বিতীয় বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সাহসটুকু সেখানেই হারিয়েছে। এই এক বছরে তেমন কোনো সমস্যাও হয়নি। কদিন মন খারাপ থাকলেও,একটা সময় রমিজ মিয়া আর তার স্ত্রী রোকেয়া সবটা মেনে নেয়।

প্রায় ১ বছর পর,রমিজ মিয়াকে আবার মনে করিয়ে দেয় সব। হুম,সেই জ্বীনের আগমন।

ব্যাবসায়ী হয়ে যাওয়ায় রমিজ মিয়ার ব্যস্ততা বেড়েছিলো প্রচুর। একদিন কারখানা বন্ধ করে বাসায় আসার সময় দেখেন,গাড়িটা স্টার্ট নিচ্ছেনা। এদিকে রাতটাও গভীর হয়ে গেছে। গ্রামের গভীর রাত মানেই ১০ টা। ঘড়ির সময় ১০ টায় এলে,যেনো মৃতদের শহর হয়ে যায়। দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে,গাড়ির গ্যারেজ অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থাৎ হাতে উপায় নেই। হেটে যাওয়া ছাড়া।

এইটা রমিজ মিয়ার জন্য নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। মাঝে মাঝেই ইঞ্জিন ঠান্ডা কিংবা তেলের টাঙ্কিতে বাতাস জমলে এমম হয়। গাড়ি কারখানায় রেখে রমিজ মিয়া দরজা লাগিয়ে দিলেন। এরপর বাজার থেকে হাটা ধরেছেন বাড়ির উদ্দেশ্যে।

শঙ্কা - পর্বঃ ০২
রমিজ মিয়ার সেই পুরাতন অভ্যাস আজও আছে। হাতে একটা সিগারেট আর এক হাতে লুঙ্গি ধরে চলাফেরা করা।মোবাইলের ফ্ল্যাশ দিয়ে বাজার পার করে যখন তিনি গ্রামের রাস্তায় প্রবেশ করলেন। তখন আচমকা রমিজ মিয়ার শরীরটা ভারি হয়ে যায়। বলে রাখা ভালো,এই সময়টা ছিলো শীতকাল। চারপাশে ঘন-কুয়াশা আর শীতল আবহাওয়া। তবে শীতের প্রভাব কম থাকায়,রমিজ মিয়া একটা সাদা শার্ট আর সাদা লুঙ্গি পড়েছেন। শীতের মাত্রা কম থাকলেও,কুয়াশা ছিলো প্রবল।

রমিজ মিয়া গ্রামের রাস্তা ধরে কিছুদূর হেটে আসার পর মনে হলো,একটা কিছু উনার পিছন পিছন আসছে। ব্যাপারটা নোটিশ করতেই তিনি হুট করে পিছনে তাকান। কিন্তু,ঝাপসা কুয়াশা ছাড়া কিছুই নজরে আসেনা। মনের ভুল ভেবে রমিজ মিয়া আবার হাটতে লাগলেন সামনের দিকে।

আরো কিছুদূর যাওয়ার পর,কিছু একটার পায়ের শব্দ রমিজ মিয়ার কানে ধাক্কা খায়। খচ খচ একটি শব্দ। যেমন,কিছু শুকনো পাতার উপর আপনি হাটলে যে আওয়াজ হবে। ঠিক তেমনি একটা শব্দ,খচখচ।

রমিজ মিয়ার কিছুটা সন্দেহ লাগে এইবার। বরাবরের মতো তিনি আবারো পিছু ফিরে তাকান। আর দেখতে পান,একটা কালো কুচকুচে কুকুর দাঁড়িয়ে আছে। রমিজ মিয়ার হাতে থাকা মোবাইলের আলো কুকুরের চোখে পড়তেই,কুকুরটা এক দৌড়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায়।

ঈগল সন্ধি ১ম খন্ড - রাজনীতি গল্পের লিংক
রমিজ মিয়ার গা এইবার অনেকটা ভারি হয়ে যায়। কুকুরের পায়ের শব্দ তো এমন হবার কথা নয়। ঐ শব্দটা বড় কোনো পায়ের ছিলো। যেমন মানুষের পায়ের মতো।রমিজ মিয়া আবার সামনে ঘুরে দ্রুত হাটা ধরলেন। কয়েক সেকেন্ড বাদে রমিজ মিয়ার আবার মনে হলো,পিছনে কেও আছে। মানে আবার নিয়েছে পিছু। রমিজ মিয়ার সাহস হচ্ছিলো না পিছন ঘুরে তাকানোর। আল্লাহ্‌র নাম জব্দ কর‍তে করতে এগিয়ে যাচ্ছেন সামনে। এদিকে পিছন থেকে হেটে আসার শব্দটা ক্রমাগত রমিজ মিয়ার কাছাকাছি চলে আসতেছে। যেনো মাত্র ২ হাত পিছনেই সে রয়েছে। রমিজ মিয়া এইবার আরো জোরে হাটতে লাগলেন। কিন্তু এতে লাভ হচ্ছেনা। হাটার শব্দটা যেনো এইবার একদম রমিজ মিয়ার পিঠের কাছে। রমিজ মিয়া উপলব্ধি করতে পারছে,তার ঘাড়ে কারো শীতল নিশ্বাসের ছোঁয়া। হুট করে আবার রমিজ মিয়া পিছনে তাকায়।

না, এইবার কোনো কুকুর বা দানব নয়। একটা বিড়াল ছিলো। সে এক দৌড়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায়। এতো ঠান্ডার মাঝেও, রমিজ মিয়ার সাদা শার্ট ভিজে গায়ের সাথে লেগে গেছে ঘামে। এসব হচ্ছে কি। দোয়া-কালাম পডা ধরে রমিজ মিয়া আবার যখন সামনে ঘুরে তাকায়। দেখে,কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। এবং তাদের কাঁধে একটা খাটিয়া। লাশের খাটিয়া।

রমিজ মিয়ার শিড়দাড়া দিয়ে একটা ভয়ের শিহরণ নেমে আসে। এইটা কি সেই জ্বীনের খাটিয়া? ফোনের আলোতে রমিজ মিয়া খেয়াল করলেন,ওদের সবার চেহারা কালো। মানে সেই ১ বছর আগে যে জ্বীনদের দেখেছিলেন। তারাই।

চুলকানি দিয়ে শুরু – রবার্ট শেকলে
যেহেতু এই জ্বীনদের ব্যাপারে রমিজ মিয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। তাই তিনি জ্ঞান হারাবার মতো অবস্থায় যান নি। এদিকে গতবারের মতো সামনে থাকা একটা জ্বীন খাটিয়ে ছেড়ে পিছনে চলে যায়। রমিজ মিয়া বুঝে যায়,এখন তারা কি বলবে। হয়তো এদের মধ্যে লম্বা যে আছে,সে এসে বলবে খাটিয়া ধরার জন্য। কিন্তু ঘটেছে তার ঠিক উল্টো।

খাটিয়া ধরা বাকি ৩ জন খাটিয়া রাস্তায় নামায়।এবং রমিজ মিয়াকে গম্ভীর স্বরে বলে," আসুন। আপনার দাপন কাজ সম্পুর্ন করতে হবে"। রমিজ মিয়া পড়ে যায় বিপদে। উনি এখনো জীবন্ত। আর এরা উনাকে দাপন করার কথা বলছে? রমিজ মিয়া উপায় না পেয়ে সাথে সাথে লুঙ্গিটা খুলে দিলেন। এবং প্রস্রাব করার জন্য প্রস্তুতি নেয়।


( গ্রাম্য ভাষায় এই কাজটা একটি প্রচলিত কাজ। রাতে যদি কেও অন্য জগতের এসব জ্বীনের নাগালে পড়ে। তবে উলঙ্গ হয়ে প্রস্রাব করতে হয়। কিন্তু প্রস্রাব হতে হবে বৃত্তের মতো। মানে,যে প্রস্রাব করবে। সে গোল করে চারপাশে প্রস্রাব করবে। এবং মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকবে। এতে নাপাক এই অবস্থা দেখে,তারা ভেগে যায়। যারা গ্রামে থাকেন,এই নিয়মটা অবশ্যই শুনেছেন। চলুন ফিরে যাই ঘটনায়)

রমিজ মিয়া প্রস্রাব শুরু করে একটা ঘুরা দেয়। এতে চারপাশে গোল বৃতের মতো রেখা হয়ে যায়। এটি করার ৫ সেকেন্ডের মধ্যে রমিজ মিয়া দেখেন,পুরো রাস্তা ফাঁকা। মানে একটা কাকপক্ষীও নেই। রমিজ মিয়া এই নিয়ম সম্মন্ধে জানলেও,এইটা জানেনা তারপর কি করতে হবে।।বৃত্তের মাঝেই বসে থাকা লাগবে? নাকি বাড়িতে চলে যেতে হবে। উপায় না পেয়ে ভয়ে কাঁপছেন তিনি।
চন্দ্রাবতী ( পর্ব ০৪ )




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।