জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৬ ) - রিয়াজ রাজ

শঙ্কা - পর্বঃ ০১
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৬ ) - রিয়াজ রাজ
জ্বীনের খাটিয়া ( পর্ব-০৬ ) - রিয়াজ রাজ

গল্প- জ্বীনের খাটিয়া
পর্বঃ-০৬
লেখকঃ - রিয়াজ রাজ
প্রকাশকালঃ জুলাই-২০২৩
অনলাইন প্রকাশ
ক্যাটাগরীঃ হরর,থ্রিলার
ধারাবাহিক গল্প

৫ম পর্বের পর থেকেঃ
---------------------------------------
{getButton} $text={৫ম পর্ব পড়ুন} $icon={preview}


কেটে যায় ৯ মাস ২৮ দিন।


৯ মাস ২৮ দিনের দিন চলে আসে,সেই দিনটা। যে দিনটার জন্য সবাই আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী'কে নিয়ে যাওয়া হয় হসপিটালে। আজ উনার বাচ্চা ডেলিভারি করার দিন। কিন্তু রমিজ মিয়া আছেন বেশ চিন্তায়। এই বাচ্চা কি কোনো অস্বাভাবিক বাচ্চার মত হবে? নাকি সেই জ্বীনের কোনো প্রভাবে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে। জ্বীনটা কি বাচ্চাকে নিয়েই যাবে? ভাবতেই গায়ের লোম দাঁড়ায় রমিজ মিয়ার।

মরীচিকাময় ভালোবাসা পর্বঃ-১৫
তবে,

প্রচলিত কথায় যেটি শুনা যায়,প্রার্থনার ফল সুমিষ্ট হওয়ার স্বাধ ভিন্ন। কোনো ঝামেলা ছাড়াই রোকেয়া বেগম জন্ম দেয় একটা ছেলে। গোল চেহারা,মায়াবি চোখ আর ছোট দেহটাকে দেখে যে কারো মায়া জন্মানো বাধ্য। রমিজ মিয়া যখন শুনলেন,উনার বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিক আছে। খুশিতে তিনি সেখানেই শুকরিয়া করতে লাগলেন। রোকেয়া বেগমও স্বাভাবিক রয়েছে। রমিজ মিয়া দুই চোখ বন্ধ করে বাচ্চা কান্না লাগিয়ে দেন। এটি দেখে কিছু লোক রমিজ মিয়াকে শান্ত করে যাচ্ছিলেন।

২ দিন হসপিটালে থাকার পর রমিজ তার বাচ্চা এবং স্ত্রীকে নিয়ে চলে আসেন বাড়িতে। ইমাম সাহেবের শরণাপন্ন হয়ে রমিজ মিয়া সবটা স্পষ্ট করলেন। কিন্তু এইবার ইমাম সাহেবকে কিছুটা নারাজ দেখা যাচ্ছে। কেমন একটা মনমরা স্বভাবে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।রমিজ মিয়া জিজ্ঞেস করলেন,' ইমাম সাহেব। আপনাকে তো স্বাভাবিক লাগছেনা। কিছু হয়েছে?"। রমিজ মিয়ার কথা শুনে ইমাম সাহেব একটু গলা ঝাকিয়ে বলে," যেদিন আপনার বাচ্চার জন্ম হয়েছে। সেদিন ঐ কালো কুচকুচে জ্বীনটা আমার স্বপ্নে এসেছে। আর আমাকে স্পষ্ট করে বলেছে,সে নাকি সময় ব্যাতিত হামলা করবেনা। যদিও আমি তার সাথে লড়াই করতে প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু কিছু সময় পার করার পর বুঝেছি,এই জ্বীন অনেক শক্তিশালী। আমাকে নারাজ দেখছেন এই জন্যেই যে,আমার বাম হাত এখন অচল। সেদিন রাত থেকে আমি বাম হাত নাড়াতে পারছিনা। নামাজ পড়ার সময় ডান হাত টেনে এনে বাম হাত স্থানে রাখি। আপনাকে সাহায্য করার ছোট্ট শাস্তি তার এইটাই ছিলো। আবার কোনো সাহায্য করলে,সে আমার পুরো পরিবারকে শেষ করার হুমকি দিয়েছে। তাই আমি বলবো,আপনি অন্য কোনো কবিরাজ দেখান। ততদিনে আমার দেওয়া তাবিজগুলা যত্নে রাখেন"।
হৃদয়ের নিকুঞ্জ নীড়ে- পর্ব ১৩

ইমাম সাহেবের মুখে পুরো কথা শুনে রমিজ মিয়া হাবা হয়ে যান। যেনো ঘাড় থেকে বিপদ নামেনি,আরো দ্বিগুণ চেপে বসেছে। কিছুক্ষণ ভাবনা করার পর রমিজ মিয়া আবার বললেন," সিদ্দিক কবিরাজকে ডাকি তাহলে। হয়তো উনি কিছু করতে পারবে"। রমিজ মিয়ার মুখে সিদ্দিক কবিরাজের কথা শুনে ইমাম সাহেব আবার চমকে উঠলেন। রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবের চেহারায় তাকিয়ে বুঝেন,ঘাবলা এখানে প্রচুর রয়েছে। ক্ষণিক বাদে ইমাম সাহেব আবার বললেন," এইজন্যই বেশি ভয় পাচ্ছি। আর আমার শাস্তিটাকেও হালকা করে নিচ্ছি। যেদিন আপনি আপনার স্ত্রী কে নিয়ে হসপিটাল গেলেন।সেদিনি সিদ্দিক কবিরাজকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাও সাধারণ মৃত্যু দেয়নি। সিদ্দিক কবিরাজের পা ছিলো উপরে। বাকি কোমর সহ অর্ধেক শরীর মাটির ভিতরে। আপনি হসপিটাল ছিলেন,তাই আপনাকে জানানো হয়নি। এমন না যে এই জ্বীনকে জব্দ করা যাবেনা। যাবে,কিন্তু তেমন কবিরাজ লাগবে। যারা এই জ্বীনকে আটকাতে সক্ষম। আমরা এসব নিয়ে বেশি আমল জানিনা। তাছাড়া এই জ্বীনের বয়স প্রায় ৩৮২ এর বেশি। অনেক শক্তিশালী। এবং আপনি চমকে যাবেন এইটা শুনলে যে,ওটা কোনো পুরুষ জ্বীন না।একটা মহিলা জ্বীন। বৃদ্ধ মহিলা"।

রমিজ মিয়ার হুশ উড়ে যাবার উপক্রম। ভাবছে কি আর হচ্ছে কি। ঘটেছে কি আর ঘটবে কি। বলতে গেলে ভালো একটা ঘোরেই ঢুবে যান তিনি। এদিকে ইমাম সাহেবও লজ্জিত হয়ে চলে যান। রমিজ মিয়া একলা দাঁড়িয়ে ভাবছে। সেই জ্বীনের কথাটা উনার মনে পড়ছে। যেকোনো মূল্যে সে তার খাদ্যকে নিবে,এবং কেও আটকাতে পারবেনা।

কেটে যায় আরো ১ মাস।

মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-০৮
" কি গো। আর কোনো কবিরাজ নেই? আমার বাচ্চা কি আমার বুক খালি করে চলে যাবে? কিছু তো করুন"। রোকেয়া বেগমের কথায় কতটা যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিলো। তা হয়তো অন্যদের বুঝার ক্ষমতা নেই। এতো আশা- আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে একটা বাচ্চা হলো। সেটিও কেও কেড়ে নিতে চায়। একজন মায়ের এই যন্ত্রণা আরেকটা মা বুঝে। রমিজ মিয়া মাথা নিচু করে ধীর স্বরে বলল," চাইলাম তো অনেক। এক মাসে হাজারের উপর কবিরাজ আনলাম। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে কই। রাতে সে আমার স্বপ্নে আসে,আর দেখায় আমার বাচ্চাকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি আর কি করবো বলো"। রমিজ মিয়ার কথা শুনে রোকেয়া বেগম আবার বললেন,' এখন উপায় কি"। রমিজ মিয়া কোনো উত্তর দেয়না। রোকেয়ার কোল থেকে তার বাচ্চাকে নিয়ে কপালে একটু চুমু দেয়। আর চোখের পানি ছেড়ে দিয়ে বলে, " আমাদের পাপের শাস্তি এই মাসুম বাচ্চাটা কেন পাবে। শুধু সেটাই ভাবছি"।

অর্থাৎ আতঙ্ক আর অশান্তিজনক সময় পার করছেন রমিজ মিয়া।সাপ্তাহ বাদে একদিন রোকেয়া বেগমের চিৎকারে পুরো বাড়ির মানুষ সজাগ হয়ে যায়। দিন-দুপুরে কি হলো ভেবে,সবাই চলে আসেন রোকেয়া বেগমের রুমে। এসে দেখেন রোকেয়া বেগম বিছানায় বসে চিল্লাচ্ছে। উনার ভাষ্যমতে, বাচ্চাকে দুধ পান করাতে করাতে ঘুমিয়ে গিয়েছিলেন। আর এখন উঠে দেখে বাচ্চা নেই। বাড়ির সবাই চারপাশে খুঁজতে শুরু করে বাচ্চা। এদিকে রমিজ মিয়াকে খবর দেওয়া হয়। উনিও বাজার থেকে ছুটে আসেন বাড়িতে। কিন্তু বেশি দেরি হয়নি, বাড়ির কাজের লোক রমিজ মিয়ার বাচ্চাকে বাড়ির পিছনে পায়। অর্থাৎ মাটিতে ঘুমাচ্ছিলো বাচ্চা।

এই ধপা যাবার পর আর রোকেয়া বেগম একা থাকতেন না। রমিজ মিয়া বাহিরে গেলেই,বাড়িতে থাকা কাজের মহিলারা রোকেয়া বেগমের সাথে থাকতেন।
মেঘ বিয়োগের মৌসুম || তানিয়া মাহি (নীরু) - পর্ব-০৬


আরো ১৪ দিন পর....

আচমকা রমিজ মিয়া সন্ধায় বাসায় চলে আসে। রোকেয়া বেগম সোফায় বসে খাবার খাচ্ছে,আর বাচ্চা উনার কোলেই। বাচ্চাকে কোলে নিয়ে রোকেয়া বেগমের খেতে কষ্ট হচ্ছে দেখে, রমিজ মিয়া বাচ্চাকে কোলে নেন।এরপর আদর করতে করতে রুমের দিকে চলে যায়। তার ঠিক ২ মিনিট পর রমিজ মিয়া মেইন দরজা দিয়ে এসে বলে," রোকেয়া? বাচ্চা কোথায়?"।

রমিজ মিয়াকে মেইন গেটে দেখে সবার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। মাত্রই তো তিনি বেডরুমে গেলেন বাচ্চাকে নিয়ে। তাহলে বাহির থেকে তিনি কিভাবে এলেন। ভিতরে যিনি বাচ্চা নিয়ে গেলো,ওটা আসলেই রমিজ মিয়া?

খাবারের থালা ছুঁড়ে মেরে, রোকেয়া বেগম সহ সবাই রুমে দৌড় দেয়। কিন্তু এইবার দেরি হয়ে গেছে। বাচ্চাকে সেই জ্বীন কামড়ে খেয়ে ফ্লোরে ফেলে রেখে চলে গেছে।

কি ভাবছেন ? ঘটনা এখানেই শেষ? অপেক্ষা করুন,ঘটনা মাত্র শুরু।




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

দয়া করে স্পাম করা থেকে বিরত থাকুন।